প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা উপসাগরীয় অঞ্চলের সিআইএর একাধিক স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনায় তদন্ত করে দেখছেন যে, রাশিয়ার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ কিংবা উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহে। চারটি সূত্র বিষয়টির সাথে পরিচিত হয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। নিরাপত্তার জন্য স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তবে হামলার লক্ষ্যভেদের সঠিকতা, কার্যকারিতা তথা মস্কোর ইরানের প্রতি দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে, রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর ওপর ইরানের হামলায় রাশিয়া লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়েছিল। কিন্তু সিআইএ-এর স্থাপনাগুলোর ক্ষেত্রে হামলায় মস্কোর ভূমিকা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত এবারই প্রথম প্রকাশ্যে এসেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চে অন্তত দুটি সিআইএ স্থাপনায় হামলা হয়েছে। একটি ছিল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশন এবং অপরটি ছিল ইরাকের পূর্বাঞ্চলের একটি স্থাপনা। কিছু সূত্র দাবি করছে, অন্য আরও কয়েকটি সিআইএ স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের অবস্থান বা বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। গোয়েন্দা নথিতে রাশিয়ার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একটি পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, আঞ্চলিক সিআইএ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে রাশিয়ার ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়ে অবগত উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদিতে হামলায় রাশিয়ার প্রযুক্তিতে উন্নত করা ইরানের দুটি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করার ধারণা রয়েছে। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ড্রোনটি দূতাবাস ভবনের বাইরের দেয়ালের তুলনামূলক দুর্বল অংশে আঘাত করে একটি বড় ছিদ্র সৃষ্টি করে। এরপর দ্বিতীয় ড্রোনটি সেই ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করে বিস্ফোরিত হয়। তবে এই ঘটনায় কোনো ব্যক্তি নিহত বা আহত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা নতুন নয়। কিন্তু সিআইএ-এর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করতে সহায়তা হলে, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম ব্যাহত করার জন্য মস্কোর আরও প্রত্যক্ষ ভূমিকার নির্দেশক হতে পারে। বিশেষ করে, যখন ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ সমাপ্ত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। গত সপ্তাহের শেষে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর রাশিয়া তেহরানকে লক্ষ্যবস্তু-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করছে কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। হোয়াইট হাউসের কাছে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিষয়টি সিআইএর কাছে পাঠানো হয়। তবে সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জাতিসংঘে ইরানের মিশন, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সৌদি সরকারও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সূত্রগুলোর দাবি, রাশিয়া ইরানের শাহেদ ড্রোনের লক্ষ্যভেদ সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা দিয়েছে। তাদের ধারণা, রিয়াদের হামলায় ওই উন্নত ড্রোন ব্যবহার হয়েছিল। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া ইরানকে ‘কমেটা-এম’ নামে একটি স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা দিয়েছে, যা শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থার তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিং মোকাবেলায়ও কার্যকর। গত মার্চে দ্য ওয়াল স্ট্রি জার্নালে প্রথম এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল, তবে ক্রেমলিন সেটিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। বিদেশে সিআইএর কার্যক্রমের আওতায় শুধু দূতাবাসভিত্তিক স্টেশনের নয়, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, লজিস্টিক হাব, নজরদারি কেন্দ্র এবং বিভিন্ন গোপন অপারেশনের স্থাপনার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এসব স্থাপনার অবস্থান অত্যন্ত গোপন থাকে। সূত্রগুলো হামলার শিকার স্টাপনাগুলোর সংখ্যা বা অবস্থান প্রকাশ করেনি। একজনের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত স্থাপনার সংখ্যা ‘একটির বেশি, তবে এক ডজনের কম’। অন্য একজন জানিয়েছেন, একাধিক স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দারা বিশেষভাবে তদন্ত করছেন যে, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার সময় ইরান রাশিয়ার দেওয়া তথ্য ব্যবহার করেছিল কি না। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র সতর্ক করে বলেছে, ইরানের মূল লক্ষ্য হয়তো পুরো মার্কিন দূতাবাস ছিল এবং ঘটনাক্রমে সিআইএ স্টেশনটিও হামলার শিকার হয়েছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ছাড়া অনেক কম দেশই এ ধরনের সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুতে তথ্য সংগ্রহ এবং সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহারের সক্ষমতা ও আগ্রহ রাখে। সাবেক সিআইএ স্টেশন প্রধান ও আন্ডারকভার অপারেশন কর্মকর্তা ড্যানিয়েল হফম্যান বলেন, যদি মস্কো তেহরানকে সিআইএর স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করতে সহায়তা করে থাকে, তাহলে তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। তার ভাষায়, ‘রাশিয়া ও ইরান— উভয়েই নিজেদের প্রভাববলয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমিয়ে দেওয়া, অথবা পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন