বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:৪২ পি.এম
বাংলাদেশে ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা শিশুদের পুনর্বাসনে জাতীয়ভাবে কর্মসূচি পালন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সুনির্দিষ্টভাবে ২২ জুলাই বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত 'ঢাকায় স্মাইল এশিয়ার ৮ম আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডশিপ মেডিকেল মিশন উপলক্ষে গালা ডিনার' অনুষ্ঠানে তিনি এই প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন।
সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের উদ্যোগে স্মাইল এশিয়া, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ঢাকা ব্যাংক ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের 'নতুন হাসির অঙ্গীকারে' শীর্ষক সফল কর্মসূচি উপলক্ষে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে ঠোঁট ও তালুকাটা মোট ৬৯ জন শিশুকে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা প্রদান কালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, জন্মগতভাবে ঠোঁটকাটা বা তালুকাটা সমস্যা নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের অসহায়ত্ব ও আবেগ দেখে যে কারও হৃদয় কেঁদে ওঠে। তবে অভিজ্ঞ চিকিৎসক, অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও নার্সদের একটি গঠিত দল এই শিশুদের মুখে আবার হাসি ফুটিয়ে তুলেছে। সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের পূর্ণ সহযোগিতায় বিদেশি বিশেষজ্ঞ দলটি ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা শিশুদের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছে।
মন্ত্রী স্মাইল এশিয়া ও সাজেদা ফাউন্ডেশনকে পুনরায় এই ধরনের কর্মসূচি হাতে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের পরবর্তীতে (স্মাইল এশিয়া) সরকারের পক্ষ থেকে একটি জাতীয় কর্মসূচিতে রূপ দেওয়া হবে, যাতে আরও বৃহৎ আকারে দেশের মানুষের সেবা করা যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ওসমান এরশাদ ফয়েজ, সাজেদা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহেদা ফিজ্জা কবির, স্মাইল এশিয়ার মহাসচিব অভিমন্যু তালুকদার, ঢাকার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আ. রাজ্জাক সরকার প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা উপসাগরীয় অঞ্চলের সিআইএর একাধিক স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনায় তদন্ত করে দেখছেন যে, রাশিয়ার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ কিংবা উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহে। চারটি সূত্র বিষয়টির সাথে পরিচিত হয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। নিরাপত্তার জন্য স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তবে হামলার লক্ষ্যভেদের সঠিকতা, কার্যকারিতা তথা মস্কোর ইরানের প্রতি দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে, রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর ওপর ইরানের হামলায় রাশিয়া লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়েছিল। কিন্তু সিআইএ-এর স্থাপনাগুলোর ক্ষেত্রে হামলায় মস্কোর ভূমিকা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত এবারই প্রথম প্রকাশ্যে এসেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চে অন্তত দুটি সিআইএ স্থাপনায় হামলা হয়েছে। একটি ছিল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশন এবং অপরটি ছিল ইরাকের পূর্বাঞ্চলের একটি স্থাপনা। কিছু সূত্র দাবি করছে, অন্য আরও কয়েকটি সিআইএ স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের অবস্থান বা বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। গোয়েন্দা নথিতে রাশিয়ার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একটি পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, আঞ্চলিক সিআইএ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে রাশিয়ার ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়ে অবগত উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদিতে হামলায় রাশিয়ার প্রযুক্তিতে উন্নত করা ইরানের দুটি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করার ধারণা রয়েছে। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ড্রোনটি দূতাবাস ভবনের বাইরের দেয়ালের তুলনামূলক দুর্বল অংশে আঘাত করে একটি বড় ছিদ্র সৃষ্টি করে। এরপর দ্বিতীয় ড্রোনটি সেই ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করে বিস্ফোরিত হয়। তবে এই ঘটনায় কোনো ব্যক্তি নিহত বা আহত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা নতুন নয়। কিন্তু সিআইএ-এর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করতে সহায়তা হলে, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম ব্যাহত করার জন্য মস্কোর আরও প্রত্যক্ষ ভূমিকার নির্দেশক হতে পারে। বিশেষ করে, যখন ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ সমাপ্ত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। গত সপ্তাহের শেষে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর রাশিয়া তেহরানকে লক্ষ্যবস্তু-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করছে কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। হোয়াইট হাউসের কাছে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিষয়টি সিআইএর কাছে পাঠানো হয়। তবে সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জাতিসংঘে ইরানের মিশন, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সৌদি সরকারও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সূত্রগুলোর দাবি, রাশিয়া ইরানের শাহেদ ড্রোনের লক্ষ্যভেদ সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা দিয়েছে। তাদের ধারণা, রিয়াদের হামলায় ওই উন্নত ড্রোন ব্যবহার হয়েছিল। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া ইরানকে ‘কমেটা-এম’ নামে একটি স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা দিয়েছে, যা শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থার তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিং মোকাবেলায়ও কার্যকর। গত মার্চে দ্য ওয়াল স্ট্রি জার্নালে প্রথম এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল, তবে ক্রেমলিন সেটিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। বিদেশে সিআইএর কার্যক্রমের আওতায় শুধু দূতাবাসভিত্তিক স্টেশনের নয়, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, লজিস্টিক হাব, নজরদারি কেন্দ্র এবং বিভিন্ন গোপন অপারেশনের স্থাপনার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এসব স্থাপনার অবস্থান অত্যন্ত গোপন থাকে। সূত্রগুলো হামলার শিকার স্টাপনাগুলোর সংখ্যা বা অবস্থান প্রকাশ করেনি। একজনের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত স্থাপনার সংখ্যা ‘একটির বেশি, তবে এক ডজনের কম’। অন্য একজন জানিয়েছেন, একাধিক স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দারা বিশেষভাবে তদন্ত করছেন যে, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার সময় ইরান রাশিয়ার দেওয়া তথ্য ব্যবহার করেছিল কি না। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র সতর্ক করে বলেছে, ইরানের মূল লক্ষ্য হয়তো পুরো মার্কিন দূতাবাস ছিল এবং ঘটনাক্রমে সিআইএ স্টেশনটিও হামলার শিকার হয়েছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ছাড়া অনেক কম দেশই এ ধরনের সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুতে তথ্য সংগ্রহ এবং সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহারের সক্ষমতা ও আগ্রহ রাখে। সাবেক সিআইএ স্টেশন প্রধান ও আন্ডারকভার অপারেশন কর্মকর্তা ড্যানিয়েল হফম্যান বলেন, যদি মস্কো তেহরানকে সিআইএর স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করতে সহায়তা করে থাকে, তাহলে তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। তার ভাষায়, ‘রাশিয়া ও ইরান— উভয়েই নিজেদের প্রভাববলয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমিয়ে দেওয়া, অথবা পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের সিকিমের নামচি জেলায় এনএইচপিসির তিস্তা-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের পর ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। গত ২০ জুলাই হেডরেস টানেলে হঠাৎ সন্দেহজনক মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণ ও নির্গমনের ফলস্বরূপ এই বিপর্যয়টি ঘটে।
প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, সুড়ঙ্গের ভেতর আটকে থাকা অবশিষ্ট অন্তত আরও ৩ জন শ্রমিককে উদ্ধারে বর্তমানে উদ্ধারকারী দলগুলো অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সিকিমের নামচি জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অনুপা তামলিং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এখন পর্যন্ত মোট ২২টি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই বিশেষজ্ঞ দলগুলো রাত দিন এক করে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গত বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত অনুসন্ধান অভিযান পরিচালিত হয়। উদ্ধারকাজে গতি আনতে ও কয়লা খনি অঞ্চলে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দল হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ আসানসোলের 'ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড'-এর দ্বিতীয় একটি বিশেষ রেসকিউ টিম ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধারকার্যে অংশ নেয়।
ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রায়ত্ত জলবিদ্যুৎ সংস্থা এনএইচপিসি-র পক্ষ থেকে এই দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য ৫ লাখ রুপি করে আর্থিক অনুদানের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে এনএইচপিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে উদ্ধার তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ বুধবার একটি বড় প্রতিরক্ষা নীতি বিল অল্প ব্যবধানে পাস করেছে। যদিও ডেমোক্র্যাটরা বিলটির বিপুল ব্যয়, ইরান যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে পেন্টাগনের সম্পর্ক আরো জোরদার করার কিছু বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন, তবুও বিলটি অনুমোদন পেয়েছে।
২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন (এনডিএএ) এর অধীনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য রেকর্ড ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ২১৬-২১২ ভোটে পাস হয়েছে। ভোটাভুটি মোটামুটি দলীয় লাইনে হয়েছে, যেখানে সাতজন রিপাবলিকান ছাড়া বাকি সবাই বিলটির পক্ষে ভোট দান করেন।
অন্যদিকে, ছয়জন ডেমোক্র্যাট ছাড়া দলের প্রায় সবাই বিলটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটের মতে, সামাজিক কর্মসূচিতে ব্যয় কমানোর সময় পেন্টাগনের জন্য এত বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেয়া যুক্তিসংগত নয়। তারা ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।
রিপাবলিকানদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনা এবং সেনাসদস্যদের বেতন বৃদ্ধি করার জন্য এই বিপুল ব্যয় অপরিহার্য। বিলটিতে সৈন্যদের জন্য সর্বাধিক ৭ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, নতুন ব্যারাক এবং পারিবারিক আবাসন নির্মাণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
যাইহোক, ডেমোক্র্যাটরা বিলটির একটি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা আরো বিস্তৃত করবে। তাদের মতে, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনির বেসামরিক নাগরিক মৃত্যুর কারণে অনেক মার্কিন নাগরিক, বিশেষভাবে বামপন্থিরা, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এড়ানোর প্রস্তাব দিচ্ছেন।
এদিকে, কংগ্রেসে দীর্ঘ সময় ধরে সহজেই পাস হওয়া এই ‘অবশ্যই পাসযোগ্য’ প্রতিরক্ষা বিলটি ২০২৬ সালে অনুমোদন পেতে আরও বেশি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। মার্কিন জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন (এনডিএএ) দীর্ঘকাল ধরে কংগ্রেসে একটি ‘অবশ্যই পাসযোগ্য’ বিল হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। গত ৬৫ বছর ধরে এটি নিয়মিতভাবে কংগ্রেসে পাস হয়ে আইনে পরিণত হয়েছে।
তবে এবার বিলটি বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। সামরিক বাজেটের বিশাল আকার, ইরান যুদ্ধ, ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে সহায়তা এবং ট্রান্সজেন্ডার সেনাসদস্যদের অধিকার সহ বিভিন্ন ইস্যুতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র মতভেদ রয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, কারণ রিপাবলিকানরা বিলটির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ যুক্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
এই আইনটি ভোটদানের নিয়ম আরো কঠোর করার প্রস্তাব দেয়। তবে সিনেটে এটি পাসের জন্য পর্যাপ্ত সমর্থন না থাকায় এনডিএএ-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত সপ্তাহে সিনেটের ডেমোক্র্যাটরা এনডিএএ-এর সিনেট সংস্করণ আটকে দেন। তবে রিপাবলিকান নেতারা আগস্টের বিরতির আগে বিলটি আবারও এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার অঙ্গীকার করেছেন।
এনডিএএ পাসের প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি বছর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট আলাদাভাবে নিজেদের সংস্করণ পাস করে। এরপর উভয় কক্ষের আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা সংস্করণ তৈরি করা হয়, যা পরে আবার প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ভোটের জন্য তোলা হয়। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বিলটি কংগ্রেসে পাস হলে তা অনুমোদন বা ভেটোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টেকসই কৃষি উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং মাটি, পানি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বালাইনাশকের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে একটি সমন্বিত নীতিমালা (পলিসি গাইডলাইন) প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি কৃষি মন্ত্রণালয় গঠন করেছে।
কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিদ্যমান বালাইনাশক আইন, বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যালোচনা করে একটি সমন্বিত পলিসি গাইডলাইন প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপকরণ-২ শাখা থেকে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব। সদস্য-সচিব হিসেবে থাকবেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন- কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআই)-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সিটি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউশন অব ফুড প্রফেশনালস এবং বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরাও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিদ্যমান বালাইনাশক আইন, বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যালোচনা করে একটি সমন্বিত পলিসি গাইডলাইন প্রণয়ন করতে হবে।
এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হবে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা; বালাইনাশকের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিদ্যমান দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান।
কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে বালাইনাশক ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সমস্যা বিশ্লেষণ, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও করণীয় বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি বা বিশেষজ্ঞদের কো-অপ্ট করার সুযোগ।
কৃষি মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা বর্তমানে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এ কারণে বালাইনাশকের ব্যবহার যেন বিজ্ঞানসম্মত, পরিমিত ও পরিবেশবান্ধব হয়, এ বিষয়ে একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন।
নতুন এই বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বালাইনাশক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নীতিগত সংস্কার আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ