মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
০৯:০৪ পি.এম
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় ইয়াবা সেবনের অভিযোগে এক যুবককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে উপজেলার মাইনী সেতু সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন ও দীঘিনালা থানা পুলিশ। এ সময় ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় মো. ফারুক হোসেন (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
আটক ফারুক হোসেন উপজেলার উত্তর মিলনপুর এলাকার বাসিন্দা এবং আব্দুল খালেকের ছেলে।
পরে ঘটনাস্থলেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত মাদক সেবনের দায়ে তাকে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক সেবন ও কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ড যেতে লন্ডন থেকে উড়াল দেন সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ। দুবাইয়ে ট্রানজিটের সময় বাধে বিপত্তি। বিমানবন্দরে এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হন তিনি। পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ইন্টারপোলের তথ্যে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছে ছিল একাধিক দেশের পাসপোর্ট এবং আমিরাতের বৈধ রেসিডেন্সি পারমিট।
দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে বহুদিন ধরেই মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি হিসেবে চিহ্নিত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। তাকে দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে। দেশের সীমাহীন দুর্নীতির প্রতীক হয়ে ওঠা বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে আছেন এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের বিভিন্ন মামলায় তাকে দেখানো হয় ফেরারি হিসাবে।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় তাকে দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তবে বারবার তার অবস্থান পরিবর্তন করার কারণে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে।
দুবাইয়ে গত কয়েকদিনে বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা জানান, লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। তার পরিকল্পনা ছিল দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে গন্তব্যে পৌঁছানো। তবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ক্যামেরায় ধরা পড়ে যাত্রার শেষ গন্তব্য হয়ে দাঁড়ায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক এআইভিত্তিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত হওয়ার পর ইন্টারপোলের তথ্যভান্ডার মিলিয়ে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দুবাই পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বেনজীর লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হন। নির্ধারিত ফ্লাইটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটে নামার পর তিনি অন্য যাত্রীর মতোই ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আসেন।
ইন্টারপোলের সেই নোটিশের সূত্র ধরেই দুবাই বিমানবন্দরে এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়ার পর দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ১২ জুন দুবাইয়ের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। জানা গেছে, গ্রেফতারের সময় তার কাছে ছিল একাধিক দেশের পাসপোর্ট ও আমিরাতের বৈধ রেসিডেন্সি পারমিট।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সীমাহীন দুর্নীতির প্রতীক হয়ে ওঠা সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে আছেন- এ বিষয়ে মানুষের মুখে মুখে নানা আলোচনা চলছে। সেখানে নামে বেনামে অঢেল সম্পদের কথা বলেও নানা গুঞ্জন বিদ্যমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় সুমন রেজা নামের এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নিজের শ্যালিকাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকে বগুড়া জেলা পুলিশে কর্মরত এই কনস্টেবল পলাতক রয়েছেন। এজন্য তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (১২ জুন) সুমন রেজার স্ত্রী লাবণ্য আক্তার বাদী হয়ে বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
রোববার (১৪ জুন) শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল সুমনের বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন বিকেল ৩টার দিকে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে সুমনের ১২ বছর বয়সী শ্যালিকা বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাসায় ফিরে আসেনি। নিখোঁজের পরদিন ৮ জুন পরিবার থেকে শাজাহানপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, প্রাইভেটে যাওয়ার পথে কনস্টেবল সুমন রেজা মোটরসাইকেলে ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে যান। এই ঘটনার পর থেকে সুমন রেজা এবং তার শ্যালিকা দুজনই নিখোঁজ রয়েছেন।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অভিযুক্ত কনস্টেবল সুমন রেজার বিরুদ্ধে এর আগে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মের অভিযোগ উঠেছিল। গত ১৫ মে সুমন রেজাসহ তিন কনস্টেবল গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পরিচয়ে বগুড়া চতুর্থ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কার্যালয়ে যান। সেখানে কর্মরত এপিবিএন সদস্য তানজিমকে ডেকে তার মোটরসাইকেলটি চোরাই বলে দাবি করেন এবং সেটি ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান। পরে মোটরসাইকেলটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় তানজিম বগুড়ার পুলিশ সুপারের কাছে মৌখিক অভিযোগ করলেও পরবর্তীতে লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় সেবার সুমন রেজার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র আতোয়ার রহমান জানান, কনস্টেবল সুমন রেজা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। শ্যালিকাকে অপহরণের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার এবং নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, নারী শিক্ষা প্রসার, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী-সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ছোট ও দুগ্ধপোষ্য সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপনের বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রাশেদা বেগম হীরার টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি জানান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ডে কেয়ার সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। ড. মিলন বলেন, অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও পর্যায়ক্রমে ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সক্ষমতা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চাহিদা, প্রশাসনিক সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নারীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা, কাউন্সেলিং সেবা এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার সম্প্রসারণের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, নারী শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ আরও সহজ ও কার্যকর করতে সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নারীবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ