০৮:৪২ পি.এম
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীনের পদায়নের আদেশ বাতিলের দাবিতে স্বাস্থ্য ভবন ঘেরাও ও বিক্ষোভ করেছেন জুলাই আন্দোলনের পক্ষের চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারীরা। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা স্বাস্থ্য পরিচালকের কক্ষ অবরুদ্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেন। বিতর্কিত এই পদায়ন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আজ বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বরিশাল স্বাস্থ্য ভবনের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ ও ঘেরাও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্নীতির অভিযোগ ও স্বাচিপের সংশ্লেষ
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় বন বিভাগের ১৩টি গাছ বিক্রি ও কাটার অভিযোগ, থানায় মামলা
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের উপপরিচালক থাকাকালে তৎকালীন পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশে বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন।
তারা আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ওপর রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনার পরও ২ আগস্ট স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) ব্যানারে আয়োজিত তথাকথিত "শান্তি সমাবেশ"-এর অন্যতম প্রধান আয়োজক ছিলেন এই কর্মকর্তা। এ ছাড়া স্বাচিপের ব্যানারে একাধিক দলীয় কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পুনরায় পদায়নে তীব্র ক্ষোভ
বিক্ষোভকারীরা জানান, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে বিতর্কিত ও নেতিবাচক ভূমিকার কারণে তৎকালীন পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের পাশাপাশি উপপরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামানকেও শেবাচিম হাসপাতাল থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি তাকে পুনরায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করায় জুলাই আন্দোলনের অংশীজন, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: রুয়েটে পাইপ চুরির অভিযোগে জয় আটক, অভিভাবকের জিম্মায় হস্তান্তর
অবরুদ্ধ কক্ষ ও লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
আজকের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জুলাই আন্দোলনের ছাত্রনেতা প্রিন্স। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. ফয়সাল আহমেদ, ডা. ইশতিয়াক রিফাত, ডা. রাকিবুল ইসলাম মনি এবং জুলাইযোদ্ধা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্য ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে পরিচালকের কক্ষটি অবরুদ্ধ করেন এবং প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। তারা সাফ জানিয়ে দেন, ডা. এস এম মনিরুজ্জামানের এই বিতর্কিত পদায়নের আদেশ অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করা না হলে তাদের এই লাগাতার কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কোনো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: খালার বাড়িতে বেড়াতে এসে সোমেশ্বরীর স্রোতে প্রাণ গেল ১৬ বছরের সিফাতের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন