বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:৪৬ পি.এম
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর ৫০০টি শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব।
পরিষ্কার তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এই বিষয়টি জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে সৌদি সরকার বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে রাজনীতি ও অর্থনীতি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সৌদি আরব কিভাবে সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি সৌদি আরবে রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে প্রবেশকে আরো সহজ করা এবং এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এছাড়া হজ ও ওমরাহ, দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের আলাপ হয়।
বর্তমানে সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ৩৮ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশি সৌদি আরবের অর্থনীতি ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। একই সঙ্গে তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বকে আরো শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় সরকার গুরুত্বারোপ করে।
সাক্ষাতে সৌদি প্রতিনিধিদলের পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন ভাইস অ্যাম্বাসেডর খালিদ সাঈদ এম. আল হাদাল এবং ডেপুটি হেড অব দ্যা কনসুলার সেকশন মুহাম্মদ ফাহাদ ধি. আল সুহাইমি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে পর্যাপ্ত পানি থাকার কারণে কেন্দ্রটির সব পাঁচটি উৎপাদন ইউনিট এখন পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। কেন্দ্রটি বর্তমানে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, যা চলতি মৌসুমের জন্য সর্বোচ্চ বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রাঙামাটি কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তা দ্বার দাবি করা হচ্ছে, টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেড়ে গেছে। এখন হ্রদটি কানায় কানায় পরিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পর্যাপ্ত পানি থাকার কারণে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী পাঁচটি ইউনিট চালু রাখার ব্যবস্থা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে পূর্ণ সক্ষমতায়। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল হাসান।
তিনি বলেন, কাপ্তাই হ্রদে সকাল ৯টায় পানির সমতল ১০৩.৭৮ ফুট (এমএসএল) অবস্থানে রয়েছে। বৃষ্টি হলে পানির স্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি স্বাভাবিক একটি ঘটনা বলা যায়। তবে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর এখনও বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। বিপদসীমা ১০৯.০০ ফুট (এমএসএল) হলে তখন বিপদসীমা অতিক্রম করবে এবং বাধার ভারসাম্য রক্ষা করতে কিছু পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়তে হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের বিদায়ি সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সেনা সদর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নৌবাহিনী প্রধানকে একটি গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় সেনা সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে, দুই বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক আস্থা, পেশাদারি এবং আন্তঃবাহিনী সহযোগিতা আরো সুদৃঢ় করার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে নিবিড় সমন্বয়ে কাজ করে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ সবার সম্মানে ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হচ্ছে। যথাযথ মর্যাদায় এই দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রামে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এই কর্মসূচির মধ্যে উপস্থিত ছিল নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও একটি আলোচনা সভা। পাশাপাশি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণে নগরের ষোলশহর রেলস্টেশনের প্রবেশমুখে ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতিস্তম্ভ’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। দুপুর দেড়টার দিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এই স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এর আগে সকালে নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ কর ধির বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। এসময় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
পরে সার্কিট হাউজে এই উপলক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও চট্টগ্রামে নিহত নয়জনসহ সব শহীদকে স্মরণ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে এত বড় গণঅভ্যুত্থান এর আগে কখনো হয়নি। নিহত ও আহত শহীদ জুলাই যোদ্ধারা নেতৃত্ব দিয়েছিলো বলেই যে অপশাসনের ধারার সৃষ্টি হয়েছিলো সেখান থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি।
এছাড়া তিনি বলেন, শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও তাদের অবদানকে যুগ যুগ ধরে অবিস্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে আমাদের সরকারের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই অধিদপ্তরের মাধ্যমে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
সভাপতির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, জুলাই কেবল একটি মাস নয়। জুলাই একটি ত্যাগ, আত্মদান ও রাষ্ট্র সংস্কারের মহাকাব্য। তাই সবাইকে জুলাইকে ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে আসতে হবে।
সভায় মুক্ত আলোচনায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ফয়সল আহমেদ, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি বক্তৃতা করেন। সভার শুরুতেই নিহত জুলাই শহীদদের স্মরণে ১ মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অনিশ্চয়তা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এর আগে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সতর্ক করে জানায়, ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের অবশিষ্ট সমস্ত অবকাঠামো নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে।
দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল সেন্ট্রাল কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়ার মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি মন্তব্য করেন, ‘নির্বোধ শত্রুর জেনে রাখা উচিত, আমাদের জন্য এই মহাকাব্যিক মুহূর্তটি এড়িয়ে যাওয়ার মুহূর্ত নয়। ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার জবাব সমান মাত্রায় হবে না, বরং আরও শক্তিশালী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক হবে।’
হরমুজ প্রণালিকে ইরানের অলঙ্ঘনীয় রেড লাইন উল্লেখ করে তিনি সাফ জানান, ‘যদি ফাঁপা ও অন্তঃসারশূন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইরানের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার সাম্প্রতিক হুমকি কার্যকর করা হয়, তাহলে ইরানের সংযমের কারণে যা কিছু অবশিষ্ট আছে (উপসাগরীয় অঞ্চলের সমস্ত অবকাঠামো) তা ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর আঘাতে এমনভাবে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে যে তার কোনো চিহ্নও অবশিষ্ট থাকবে না। এমনকি মনে হবে, যেন এগুলোর কোনো অস্তিত্বই ছিল না।’
যুলফাগারি আরও বলেন, ‘অপরাধী আমেরিকা এই অঞ্চলে তার আইনশৃঙ্খলাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা অব্যাহত রেখেছে। কোনো অবস্থাতেই ইরান একটি বিদেশি ও বহিঃআঞ্চলিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালিতে হস্তক্ষেপ করতে দেবে না।’
কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা জানাচ্ছে, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী, সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা আরও কঠোর করেছে।
নিরাপত্তা জোরদার করা স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে তেল ও গ্যাস স্থাপনা, বিমানবন্দর এবং সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট।
এদিকে, বাহরাইন জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশও একই ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে।
তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি দীর্ঘস্থায়ী বা আরও বিস্তৃত সংঘাত শুরু হয়, তাহলে কোনো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই দীর্ঘ সময় কার্যকরভাবে সব হামলা ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। সেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতিকেও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এ কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে এনে যুদ্ধের অবসান এবং কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ