সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৫৯ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হারানো মোবাইল ফোন খুঁজতে গিয়ে পুলিশ স্বামী-স্ত্রীর কাছে চোরাই পণ্যের সন্ধান পেয়েছে। অভিযান পরিচালনা করে তাদের কাছে ৪৭টি পণ্য উদ্ধার করা হয়। স্বামী পালিয়ে গেলেও স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া গ্রাম থেকে আলেয়া বেগম নামের ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই এলাকার খায়েশ মিয়ার স্ত্রী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খাইরুল আলম জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে এক ব্যক্তি একটি মোবাইল ফোন হারানোর বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ফোনের লোকেশন দেখা যায় উপচাপাড়ায় একটি বাড়িতে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই বাড়িটি খায়েশ মিয়া নামক এক ব্যক্তির। তিনি চোরাই মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে থাকেন।
ওসি আরও জানান, খায়েশ মিয়ার স্ত্রীও এই কার্যক্রমে জড়িত। পরে ওই বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় ১৪টি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, ১০টি বাটন মোবাইল ফোন, একটি ট্যাব, ১৩টি টর্চলাইট, পাঁচটি ঘড়ি ও চারটি পাওয়ার ব্যাংক উদ্ধার করা হয়। খায়েশ মিয়া পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী আলেয়া বেগমকে আটক করা হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আলেয়া বেগম জিজ্ঞাসাবাদে জানান- চোর, ছিনতাইকারী ও মাদকাসক্তদের কাছ থেকে তারা কম দামে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতেন। পরে লাভ পেলে বিক্রি করে দিতেন। এর মধ্যে কিছু পণ্য তাদের কাছে টাকার বিনিময়ে বন্ধক দেয়া যেত।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ঢুকে জুয়েল হোসেন নিরব নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রদল নেতা শহিদুল ইসলাম সাহেদকে দল থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক লোকমান হোসেন জয় এবং সদস্য সচিব ইকরাম মাহমুদ ফাহাদ স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাহেদ দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ছাত্রদল নেতা সাহেদ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কক্ষে ঢুকে জুয়েলকে চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে ব্যাপক মারধর করেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মধ্যে জুয়েলকে চেয়ার দিয়ে পেটানোসহ কিল-ঘুসি ও লাথি দিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। এই মারধরের ঘটনা ঘটান ছাত্রদল নেতা সাহেদ এবং তার অনুসারীরা। আহত জুয়েলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জুয়েল লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিকালে সাহেদ এবং জুয়েলদের মধ্যে মোবাইল কেনাবেচা নিয়ে মারামারি হয়। এর ফলে চিকিৎসা নিতে জুয়েল হাসপাতালে আসেন। এ সময় সাহেদ তার অনুসারীদের নিয়ে এসে হাসপাতালেই জুয়েলকে মারধর করেন। একপর্যায়ে মারধর থেকে বাঁচতে জুয়েল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি কক্ষে ঢুকলে সেখানে সাহেদও প্রবেশ করেন। তখন ইমার্জেন্সি কক্ষের ভেতরেই সাহেদ তাকে চেয়ার দিয়ে পিটুনিসহ এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি ও লাথি মেরে রক্তাক্ত জখম করেন।
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা শহিদুল ইসলাম সাহেদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
জেলা ছাত্রদল নেতা হাসিবুর রহমান অভি বলেন, "সাহেদকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে এখন ছাত্রদলের কোনো সম্পর্ক নেই।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় এক গৃহবধূর গোসলের দৃশ্য এবং স্বামী-স্ত্রীর একান্ত মুহূর্তের দৃশ্য গোপনে মোবাইলে ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী রাসেল চৌকিদার অভিযুক্ত মানিক সরদারের বিরুদ্ধে কালকিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সোমবার বিকালে ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অভিযুক্ত মানিক সরদার (৩৮) কালকিনি পৌর এলাকার দক্ষিণ মজিদবাড়ী গ্রামের সোবাহান সরদারের সন্তান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মানিক সরদার পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মানিক সরদার ও রাসেল চৌকিদার একই এলাকায় পাশাপাশি বসবাস করে আসছিলেন। গত ২৪ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে বাদীর স্ত্রী নিজ বাসার পুরোনো টিনের গোসলখানায় গোসল করার সময় অভিযুক্ত মানিক কৌশলে তার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। শুধু তাই নয়, ওই দিনই গভীর রাতে রাসেল চৌকিদার ও তার স্ত্রীর একসঙ্গে ঘুমানোর দৃশ্যও একইভাবে মোবাইলে গোপনে ধারণ করেন মানিক।
পরবর্তীতে ওই গোপন ভিডিও ভুক্তভোগী গৃহবধূকে দেখিয়ে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেওয়া শুরু করে অভিযুক্ত মানিক সরদার। পাশাপাশি ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে প্রতিনিয়ত ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে বাদীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত মানিক সরদার জানালার গ্রিল ভেঙে ঘরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ সময় গৃহবধূর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত মানিক পালিয়ে যায়। অভিযুক্ত তার মনের ইচ্ছা পূরণ করতে না পেরে যাওয়ার সময় বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও সুযোগ পেলে খুন করার হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত মানিক সরদার গাঁজা, ইয়াবাসহ এলাকায় চুরি, ছিনতাই এবং নারীদের গোসলের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নারীদের বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে আসছে। অভিযুক্ত মানিক সরদারের নামে চুরি, ছিনতাই এবং গাঁজা-ইয়াবাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
রাসেল চৌকিদার জানান, "আমার স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে মানিক কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। আমি লম্পট মানিকের বিচার চাই।"
এ বিষয় জানতে চাইলে অভিযুক্ত মানিককে এলাকায় পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কালকিনি থানার ওসি জহিরুল আলম বলেন, "এ ঘটনাটি আমি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বামী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন; এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টঙ্গীতে মাদরাসায় যৌন নিপীড়নের শিকার সেই শিশুর বাবা শাহজালাল রুমি দেশ ছাড়ার খবর প্রকাশ করেছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে তিনি নিজেই এই তথ্য জানান।
আগামীর সময়ের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এক ক্ষুদে বার্তায় রুমি বলেন, “আমি এই দেশে আর নাই। এগুলা নিয়ে আর ভাবছি না, যা হয় হোক, আপনারা ভালো থাকেন।”
তিনি কোন দেশে অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে খুদে বার্তায় কিছু উল্লেখ করেননি।
ওই বার্তায় ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “একজন আলেম হয়েও তিনি অনেক মিথ্যা বলেছেন এবং এখনো বলে যাচ্ছেন।”
এর আগে গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসায় ৭ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার পর মাদরাসার শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনকে মারধর করেন ভুক্তভোগী শিশুর পিতা শাহজালাল রুমি।
পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
এরপর মাদরাসাটির অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে পাল্টা একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে ভুক্তভোগী শিশুর বাবাকে ১৭ লাখ টাকা চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধের আসামি করা হয়।
এই পাল্টা মামলা দায়েরের পর থেকেই মূলত আড়ালে চলে যান শাহজালাল রুমি। আর আজ দেশ ছাড়ার তথ্য জানালেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ