বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৭:০১ পি.এম
ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় উদ্ধারকাজের অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়া।
দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট ও টেলিফোন সেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে স্বজনদের খোঁজ পাওয়া এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানা কঠিন হয়ে উঠেছে।
বিবিসি মুন্দোর সাংবাদিক হোর্হে পেরেজ জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হলেও এবারের জোড়া ভূমিকম্প ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ।
রাজধানী কারাকাসে থাকা তার পরিচিত অনেক মানুষ আতঙ্কে রাতভর ঘুমাতে পারেননি।
তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আগে থেকেই সংকটে ছিল।
প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটত।
ভূমিকম্পের পর সেই সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
ফলে তথ্য আদান-প্রদান এবং যোগাযোগ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লাখো ভেনেজুয়েলানও চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।
যেহেতু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, তারা নিজেদের পরিবার ও স্বজনদের খোঁজ পাচ্ছেন না।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়ার ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক সক্ষমতার মাত্র ৫৯ শতাংশে নেমে আসে।
পরে কিছুটা উন্নতি হলেও তা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
স্থানীয় সময় রাত ৩টা পর্যন্ত সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থার প্রায় ৭৭ শতাংশে ফিরে এসেছে।
নেটব্লকসের মতে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে এই বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, যা উদ্ধার তৎপরতাকেও ব্যাহত করছে।
একই সঙ্গে দুর্গত এলাকার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য অনুসন্ধান মিশন ভেনেজুয়েলার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমের ওপর থাকা সব ধরনের বাধা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, এই সংকটে তথ্যপ্রাপ্তি জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে।
উল্লেখ্য, লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে।
দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৯৭১ জন।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রেকর্ড গড়ার পথে রয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। আগামীকাল তাঁর অভিষেক হতে পারে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, যিনি ভারতের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে এ ম্যাচে খেলতে নামবেন। টিম ইন্ডিয়া বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হবে।
ভারত ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ২৮ জুন, দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শেষে। সূর্যবংশী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের ওই টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে রয়েছেন। এর মানে হচ্ছে, ১৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে ইংল্যান্ড সফরে আলাদা চেঞ্জিংরুম ব্যবহার করতে হবে।
নিউজ সিরিজটি অনুমোদিত ইভেন্ট হওয়ার কারণে আইসিসি এবং ইসিবির সুরক্ষা নীতিমালা কার্যকর থাকবে। এ নীতিমালার মোতাবেক, ১৬ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড়রা প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে একই চেঞ্জিং রুম ব্যবহার করতে পারেন না। কিন্তু ম্যাচ চলাকালে সূর্যবংশী ভারতের ড্রেসিংরুমে থাকতে পারবেন এবং দলের বৈঠকেও অংশ নিলে কোনো বাধা থাকবে না। বিধিনিষেধ কেবল ম্যাচের আগে ও পরে পোশাক পরিবর্তনের সময় প্রযোজ্য হবে।
ইসিবি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এটি একটি আইসিসি ইভেন্ট, এজন্য এখানে সুরক্ষা নীতিমালা কার্যকর থাকবে এবং আমাদের বিষয়টির ওপর এখতিয়ার থাকবে। সুরক্ষা-সংক্রান্ত কোনো ঘটনা ঘটলে, কিছু ক্ষেত্রে তা আইসিসি পরিচালনা করতে পারে। ইসিবির ‘সেইফ হ্যান্ডস’ নীতিও সর্বদা কার্যকর থাকবে।’
ইংল্যান্ডের ক্রীড়াঙ্গনে এমন ব্যবস্থা নতুন নয়। উদাহরণস্বরূপ, ম্যাক্স দোম্যান ১৬ বছর পূর্ণ করার আগে পর্যন্ত আর্সেনাল দলের মূল চেঞ্জিং রুম ব্যবহার করতে পারতেন না। তবে ভারতে এমন নিয়ম প্রচলিত নেই। তাই রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আইপিএলে খেলার সময় সূর্যবংশী সতীর্থদের সঙ্গেই একই চেঞ্জিংরুম ব্যবহার করেছিলেন।
ইসিবি জানিয়েছে যে তারা বিসিসিআই এবং পাঁচটি ভেন্যুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে, যাতে সব সুরক্ষা ব্যবস্থা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়। সূর্যবংশীর বাবা-মাও পুরো সফরে তাঁর সঙ্গে থাকবেন এবং তাদের একই হোটেলে থাকার বিশেষ অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে জাতিসংঘের বাংলাদেশবিষয়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টা টেস বি ব্রেসনান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে, টেস বি. ব্রেসনান বাংলাদেশে অবস্থানরত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারি ও সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। আইজিপি বলেন, বাংলাদেশে কর্মরত জাতিসংঘ এবং বিদেশি অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রম ও দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রবিবার রংপুর নগরীতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে ৮৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্যাপসুল শিশু মৃত্যু কমানো, অন্ধত্ব এবং অন্যান্য রোগ মোকাবেলায় ব্যবহৃত হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর সিটি করপোরেশন মিলনায়তনে প্রশাসক অ্যাড. মাহফুজ-উন-নবী ডন সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান ইবনে তাজ উল্লেখ করেছেন, ভিটামিন এ ক্যাপসুল শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে ও তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। তিনি আরও বলেন যে, সকল ধরনের মৃত্যুর হার শতকরা ২৪ ভাগ হ্রাস পায়। এর মধ্যে হামজনিত মৃত্যুর হার শতকরা ৫০ ভাগ এবং ডায়রিয়া জনিত মৃত্যুর হার শতকরা ৩৩ ভাগ পর্যন্ত হ্রাস পায়। এই ক্যাপসুল ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের, ৫ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের, যাদের ৪ মাসের মধ্যে ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেওয়া হয়েছে এবং অসুস্থ শিশুদের দেওয়ার নির্দেশনা নেই। ভিটামিন এ ক্যাপসুল খেয়ে কোনো শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকে ঘাবড়ে না গিয়ে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ প্রদানের কথাও জানান সিটি কর্পোরেশন।
রবিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া দিনের পুরো ক্যাম্পেইন সফলভাবে সম্পন্ন করতে ৩৩টি ওয়ার্ডের ২৯৭টি কেন্দ্রে স্বাস্থ্য কর্মী, স্বেচ্ছাসেবী, সুপারভাইজার, মনিটরিং ও সুপারভিশন কর্মকর্তাগণ দায়িত্ব পালন করবেন। এতে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুকে নীল রংয়ের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে লাল রংয়ের ক্যাপসুল বিতরণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. পলাশ কুমার রায়সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সীমান্তবর্তী মিশন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
একটি বিশেষ অভিযানে তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিন কেজি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক, ডেটোনেটরসহ সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে ৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজিবির সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৪ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের (৫২ বিজিবি) অধীন প্রধান অভিযানিক দলের একটি দল সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক প্রবেশের তথ্য পাওয়ার পর এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়, যা অধিনায়কের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।
অভিযানের সময় বাজাতে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা রাতের অন্ধকার ও ঘন জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় তিনটি বিদেশি পিস্তল, ২৩টি টিউবে সংরক্ষিত তিন কেজি ‘পাওয়ারজেল-৯০’ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক, ২৪টি ডেটোনেটর, ১৫ মিটার ডেটোনেটর তৈরির তার এবং দুটি কুকরি চাপাতি।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং অন্যান্য সরঞ্জাম তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ