এস এম সাহান,ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
০৩:০৭ পি.এম
ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে ৪ কেজি গাঁজাসহ সাগর আহমেদ (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার সকাল ৭টা ১৫ মিনিট থেকে ৮টার মধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসি ফরিদপুরের একটি রেইডিং টিম কোতোয়ালি থানার ধুলদী এলাকায় ফরিদপুর-রাজবাড়ী মহাসড়কে এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে সাগর আহমেদের কাছ থেকে ৪ কেজি গাঁজা, একটি বাটন মোবাইল ফোন এবং একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার সাগর আহমেদ কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার মহিষকুন্ডি ডাকঘর এলাকার মাদারপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মোকলেছুর রহমান ও লুৎফুন্নেছার ছেলে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ফরিদপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে নদী উত্তাল থাকায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ তিন দিন ধরে বন্ধ আছে। এতে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে হাতিয়ার নৌ যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন দ্বীপে যাতায়াতকারী লোকজন।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযারী মূলত গত তিন দিন ধরে উপকূলে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত বলবৎ থাকায় হাতিয়া রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। এর বাহিরে নির্দেশনা অমান্য করে ২-১টি চললে সেটি তাদের বিষয়।
স্থানীয়রা জানায়, রোববার সকাল থেকেই হাতিয়ার নলচিরা ও চেয়ারম্যানঘাট এলাকায় শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগের মধ্যে অপেক্ষা করছেন। তবে নদী অত্যন্ত উত্তাল থাকায় সি-ট্রাক, স্পিডবোট, ফেরি ও যাত্রীবাহী ট্রলারসহ কোনো নৌযানই ঘাট থেকে ছেড়ে যায়নি।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল আরও বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত বলবৎ আছে। এ কারণে হাতিয়ার সঙ্গে ঢাকার এবং হাতিয়ার সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। সতর্কতা সংকেত তুলে নেওয়ার পর নৌ যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালে এক ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে জোরপূর্বক ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। সম্প্রতি এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনার সত্যতা যাচাই করে অভিযানে নামে পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি এক ব্যক্তিকে অবরুদ্ধ করে শারীরিক নির্যাতন করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর অণ্ডকোষ চেপে ধরে তাকে একটি ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ওঠে।
ভিডিওটি পুলিশের নজরে এলে তদন্ত শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য, অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে রাখা হবে না। তদন্ত শেষে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে আদালতে সোপর্দ করা হবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শনিবার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রকল্পের বিরুদ্ধে আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছে।
এএফপি সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভটি গত মে মাসের শেষ দিকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক আন্দোলনের ৩৫তম দিনের ঘটনাবলী। এটি এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া সবচেয়ে বড় সমাবেশ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
এই বিক্ষোভটি বলকান অঞ্চলের উপকূলীয় একটি সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প এবং তার স্বামী জারেড কুশনারের সম্পর্কিত একটি বিলাসবহুল হোটেল নির্মাণ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, এই প্রকল্পের বিরোধিতার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন দুর্নীতির অভিযোগ এবং তা জনঅসন্তোষের নতুন কার্যকলাপ হিসেবে পরিণত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা তারা অনেকের সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগ দাবি করেছেন।
বিক্ষোভকারী সমাজের দাবি, আলবেনিয়ার উপকূলীয় সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকায় প্রস্তাবিত এই প্রকল্প পরিবেশের জন্য একটি বড় হুমকি সৃষ্টি করবে।
এই আন্দোলনটি 'ফ্ল্যামিঙ্গো বিপ্লব' নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে, কারণ যেখানে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেই সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকায় গোলাপি 'ফ্ল্যামিঙ্গো পাখির অভিবাসন এলাকা' রয়েছে।
বিক্ষোভকারী আলকেতা আদেমি এএফপিকে জানিয়েছেন, যা ‘ফ্ল্যামিঙ্গো বিপ্লব’ নামে শুরু হয়েছিল, তা এখন ব্যাপক জনঅসন্তোষের রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিয়েছে এবং এটি আর সহ্য করা যায় না।’
তিনি প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের বিষয়ে দাবি করেন।
বিক্ষোভকারীরা আরও বলছেন, জভেরনেকে নির্মাণাধীন আনুমানিক ৪.৬ বিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল হোটেল প্রকল্পটি পরিবেশ এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকির একটি কারণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আঙ্কারা সফরকে কেন্দ্র করে ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কের প্রত্যাশা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মন্তব্য অনুযায়ী, এই সফরের মাধ্যমে তুরস্ক কিছু এফ-১১০ যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন সংগ্রহের পথে অগ্রসর হতে পারে। কিন্তু এর পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘকালীন টানাপোড়েনের বিষয়টি, বিশেষ করে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি সম্পর্কিত বিরোধের সমাধান সম্ভাবনা নেই।
৭ ও ৮ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। সম্মেলনে সামরিক জোটের ৩২ সদস্য দেশের নেতারা উপস্থিত থাকবেন। ইস্তাম্বুল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
গত মাসে, তুরস্কের এফ-১১০ যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন সংগ্রহ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে পুনরায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে ট্রাম্প জানান, তিনি এরদোগানকে 'খুব খুশি' করবেন। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এর অর্থ হতে পারে কেএএএন স্টেলথ যুদ্ধবিমান প্রকল্পে প্রয়োজনীয় যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন সরবরাহের জন্য অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
ইস্তাম্বুলভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইডামের পরিচালক সিনান উলগেন এএফপিকে বলেন, 'কেএএএন যুদ্ধবিমানের জন্য প্রায় ৪০টি এফ-১১০ জিই ইঞ্জিন সরবরাহে সবুজ সংকেত মিলতে পারে। কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল; তবে সেগুলো সম্ভবত দূর হতে শুরু করেছে।'
তিনি আরও জানান, 'তুরস্ক ইতোমধ্যে এফ-১১০ ইঞ্জিন ব্যবহার করে কেএএএনের দুটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে, যা উড্ডয়ন করছে। তবে আরও কেএএন প্ল্যাটফর্ম তৈরির জন্য অতিরিক্ত ইঞ্জিন সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে।' কেএএএন হলো তুর্কির অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (টিএআই) দ্বারা নির্মিত দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট একটি স্টেলথ যুদ্ধবিমান। এটি তুরস্কের বিমানবাহিনীর এফ-১৬ বহরের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়াসহ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান উৎপাদনকারী দেশের কাতারে আঙ্কারার যুক্ত হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। যদিও ভবিষ্যতে এই যুদ্ধবিমানে তুরস্কের নিজস্ব তৈরি ইঞ্জিন ব্যবহৃত হবে। কারণ, এফ-১১০ ইঞ্জিনের স্টেলথ সক্ষমতা নেই। তবে তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের গত সেপ্টেম্বর মাসে জানান, দেশীয় ইঞ্জিন তৈরির প্রকল্প এখনও প্রাথমিক নকশা পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি গত সেপ্টেম্বর মাসে বলেন, 'তুরস্ক প্রথম দফায় ১০টি এফ-১১০ ইঞ্জিন পেয়েছে এবং আরও ৮০টি ইঞ্জিন সংগ্রহের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।' তুরস্কের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জোর দেওয়ার প্রেক্ষিতে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গত সেপ্টেম্বর মাসে বলেন, ২০১৭ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে রাজনৈতিক অনুমোদন না মেলার ফলে ইঞ্জিন সরবরাহ আটকা পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওয়াশিংটন ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় এবং এক বছর পরে 'কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভার্সারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট' (ক্যাটসা) অনুযায়ী তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলো বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। ফিদান আরও উল্লেখ করেন, 'ক্যাটসা-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান জরুরি। এফ-৩৫ এবং কেএএএন; উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কেএএএনের ইঞ্জিন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমাণ।'
তুরস্কের এই বক্তব্য দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। কারণ, আঙ্কারা পূর্বে জানিয়েছিল যে, কেএএএন সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হবে। এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ার ফলে তুরস্ককে আরও বেশি আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের দিকে মনোযোগ দিতে হয়েছে।
আঙ্কারায় জার্মান মার্শাল ফান্ডের প্রধান ওজগুর উনলুহিসারচিকলি বলেন, 'অনেকে মনে করেন, আমাদের এফ-৩৫ কেনা উচিত নয়। বরং সেই অর্থ নিজেদের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করা উচিত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন রপ্তানির সিদ্ধান্তে ঠিক সেটাই ঘটছে।' তিনি আরও বলেন, 'এই ইঞ্জিন ছাড়া তুরস্ক কেএএন যুদ্ধবিমান তৈরি করতে পারবে না।'
এফ-৩৫ ইস্যুতে অচলাবস্থা এখনও বহাল রয়েছে। কেএএন সরবরাহ শুরু হতে অনেক সময় লাগবে। এখনও পর্যন্ত মাত্র ইন্দোনেশিয়া ৪৮টি যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ১০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে। তবে উলগেনের মতে, ন্যাটো সম্মেলনের পরে আরও কিছু দেশের আগ্রহ সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি বলেন, 'জার্মানি-ফ্রান্সের এফসিএএস উদ্যোগের ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে কিছু দেশের আগ্রহ দেখা যেতে পারে। স্পেন সম্ভাব্য অংশীদার হতে পারে, এবং উপসাগরীয় দেশগুলোও আগ্রহী হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এটি বিশ্বাসযোগ্য প্রস্তাব হয়ে উঠতে হলে আরও অনেক বাধা অতিক্রম করতে হবে।'
বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করছেন, এফ-৩৫ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির সম্ভাবনা কম৷ কারণ, ক্যাটসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য কংগ্রেসের সম্মতি প্রয়োজন এবং তুরস্কের এস-৪০০ ব্যবস্থা সরিয়ে ফেলতে হবে, যেটি তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রির জন্য রাশিয়ার অনুমতি প্রয়োজন। আর রাশিয়াকে এই ব্যবস্থা ফিরিয়ে দেওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।
ইস্তাম্বুলের কাদির হাস বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মুস্তাফা আইদিন বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন হয়তো এ বিষয়টি পেছনে ফেলে তুরস্ককে কিছু এফ-৩৫ বিক্রি করতে চাইবে। তবে বিষয়টি কংগ্রেসে যাবে, এবং কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা সহজ হবে না।'
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিক এবং হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ম্যাথিউ ব্রাইজা মনে করেন, ট্রাম্প যদি চান তবে এ সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিতে পারেন। কারণ, এফ-৩৫ কর্মসূচি ছিল নির্বাহী সিদ্ধান্তের বিষয়, যা তিনি সহজেই পরিবর্তন করতে পারেন।
তিনি এএফপিকে বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্যই ঘোষণা করতে পারেন যে, এস-৪০০ ও এফ-৩৫ বিরোধের অবসান ঘটেছে। তবে ক্যাটসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য কংগ্রেসের পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি কংগ্রেসকে রাজি করাতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে এ বিষয়ে তিনি কতটা রাজনৈতিক মূলধন ব্যয় করতে প্রস্তুত।'
তিনি মন্তব্য করেন, গ্রিক ও আর্মেনীয় বংশোদ্ভূত তুরস্কবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এমন পদক্ষেপ নেওয়া ট্রাম্পের জন্য 'রাজনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল' হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ