০১:২১ এম
দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা কিংবা অন্য কোনো কারণে কখনো কখনো জোহরের ফরজের পূর্বে চার রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। জামাত শুরু হলে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান— এখন কি সুন্নত পড়বেন, নাকি জামাতে অংশগ্রহণ করবেন? যদি সুন্নত ছুটে যায়, তবে তা কখন এবং কীভাবে আদায় করা উচিত? রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও দিকনির্দেশনায় এর একটি সুন্দর ও স্পষ্ট সমাধান রয়েছে। জীবনের নানা ব্যস্ততার মধ্যে আমাদের ইবাদত যেন ত্রুটিমুক্ত ও পরিপূর্ণ থাকে, সে বিষয়ে শরিয়তের সহজ নির্দেশনাসমূহ জানা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
দৈনন্দিন ১২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের আগে ও পরের ১২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো বিশেষ ও গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া কখনো এই সুন্নতগুলো ত্যাগ করতেন না এবং সাহাবিদেরও তা নিয়মিত আদায়ের জন্য উৎসাহিত করতেন। এ প্রসঙ্গে উম্মুল মুমিনিন হজরত উম্মে হাবিবা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—
مَنْ صَلَّى فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ: أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاةِ الْفَجْرِ
‘যে ব্যক্তি দিনে ও রাতে (২৪ ঘণ্টায়) ১২ রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করবে, জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হবে। সেই ১২ রাকাত হলো—জোহরের ফরজের পূর্বে চার রাকাত ও পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত, ইশার পরে দুই রাকাত এবং ফজরের ফরজের পূর্বে দুই রাকাত।’ (তিরমিজি ৪৪০)
জোহরের আগের চার রাকাত সুন্নতের গুরুত্ব অপরিসীম। জোহরের ফরজের আগে চার রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। বিশ্বনবী (সা.) এই চার রাকাত সুন্নতের প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন—
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لاَ يَدَعُ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ
‘নবী করিম (সা.) জোহরের (ফরজের) আগের চার রাকাত এবং ফজরের আগের দুই রাকাত (সুন্নত) কখনো ছাড়তেন না।’ (বুখারি ১১৮২)
আরও পড়ুন: সউদী সরকার নিরলসভাবে সারা পৃথিবীতে কুরআনের খেদমত করে যাচ্ছে: রাষ্ট্রদূত
জামাত শুরু হলে সুন্নত নামাজের নিয়ম অনুসরণ করা উচিত। জোহরের আগের সুন্নত যথাসময়ে আদায় করাই মূল নিয়ম। তবে জামাত পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী করণীয় নিয়মগুলো নিচে তুলে ধরা হলো—
ছুটে যাওয়া সুন্নত কখন ও কীভাবে পড়বেন? যদি কোনো কারণে জোহরের ফরজের আগের চার রাকাত সুন্নত আদায় করার সুযোগ না হয়, তবে ফরজ নামাজের পর তা কাজা হিসেবে আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিয়ম হলো— ফরজের পর প্রথমে জোহরের পরের নির্ধারিত ২ রাকাত সুন্নত আদায় করতে হবে, এরপর আগের ছুটে যাওয়া ৪ রাকাত সুন্নত পড়ে নিতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও এভাবে আদায় করতেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত—
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا لَمْ يُصَلِّ الأَرْبَعَ قَبْلَ الظُّهْرِ صَلاَّهُنَّ بَعْدَهَا
‘নবী করিম (সা.) জোহরের আগের চার রাকাত (সুন্নত) পড়তে না পারলে, তা (ফরজের পরবর্তী) দুই রাকাত সুন্নতের পর পড়ে নিতেন।’ (ইবনে মাজাহ ১১৫৮, তিরমিজি ৪২৬)
ইসলাম একটি সহজ ও জীবনঘনিষ্ঠ জীবন বিধান। ফরজ নামাজের পাশাপাশি সুন্নতে মুয়াক্কাদা আদায় করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসা ও জান্নাত লাভের অন্যতম মাধ্যম। কোনো কারণে জোহরের আগের সুন্নত ছুটে গেলে হতাশ না হয়ে বা ছেড়ে না দিয়ে, শরিয়ত নির্ধারিত নিয়মে ফরজের পর তা আদায় করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ মেনে আমল করার মাধ্যমেই আমরা আমাদের ইবাদতকে আরও নিখুঁত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তুলতে পারি।
আরও পড়ুন: চন্দ্রপাড়া দরবারে অসচ্ছলদের সহায়তা ও ওরসের তারিখ ঘোষণা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন