মোঃ শরীফ উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
১২:৫০ পি.এম
সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কথিত ব্যক্তিগত ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আলোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।
সম্প্রতি এক ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ ঢাকতে ‘এআই’ প্রযুক্তির অজুহাত বা পরে ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ দাবি করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।
মাওলানা তাহেরী বলেন,
“এই ধরনের ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। যদি কেউ অপরাধ করে থাকে, তাহলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আর যদি কেউ মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থাকে, সেটিও তদন্তে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন,
“কোনো অভিযোগকে ‘এআই’ বলে উড়িয়ে দেওয়া বা পরে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ার বিষয়গুলোও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া দরকার।”
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তাহেরী বলেন,
“আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করুক। সত্য যেটাই হোক, সেটিই দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরা হোক।”
এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টেও তিনি লেখেন:
“সাতক্ষীরার পর্দাশীল এমপি গাজী নজরুলের ঘটনা!
AI—নাকি বিকৃত যৌনাচার?
দ্বিতীয় বিয়ে—নাকি মিথ্যাচার?
খেলা যে চলছে কোন লেভেলে!”
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবির সত্যতা এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আইনগত বা প্রশাসনিক তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভিয়েতনামে দক্ষিণাঞ্চলে চলন্ত একটি যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ আগুন লেগে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। এই বিষয়টি এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে ঘটে এই দুর্ঘটনা।
দেশটির জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৪ আসনের যাত্রীবাহী বাসটি লাম ডং প্রদেশ থেকে বাণিজ্যিক শহর হো চি মিন সিটির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। ভোরে প্রায় আড়াইটার সময় ডং নাই শহরের হুং থিনহ এলাকায় জাতীয় মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে অবস্থিত একটি বাঁধে আঘাত করে।
প্রথম ধাক্কার পর বাসটি আরও কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে দ্বিতীয়বার একটি বাঁধে আঘাত করে এবং তখনই থেমে যায়। এরপর বাসটির নিচ থেকে আগুনের সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং এই ঘটনায় অনেক যাত্রী বাসের ভেতরেই আটকা পড়ে যান।
চালক ট্রান থান হাই যাত্রীদের দ্রুত বাস থেকে নেমে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানালেও, আগুন দ্রুত ছড়ানোর ফলে অনেকেই বের হতে পারেননি।
খবর পাওয়ার সাথে সাথেই দমকল ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুটি বিশেষ অগ্নিনির্বাপণ যান নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় ৩০ মিনিটের দারুণ চেষ্টা করে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
পরে বাসের অভ্যন্তর থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত পাঁচজনকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন প্রাথমিক চিকিৎসা লাভের পর হাসপাতালে থেকে বের হয়ে গেছেন।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আফগানিস্তানের নুরিস্তান প্রদেশে বিধ্বংসী বন্যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। এমন দুর্যোগ সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত আফগান জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে খাদ্যসামগ্রী ও পারিবারিক তাঁবুসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী ভারত পাঠিয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদ সংস্থা খামা প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশের রাজধানী পারুনসহ সংলগ্ন জেলাগুলোতে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে এই আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। ভয়াবহ এই বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া প্রায় ৮০ জন আহত ও ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
তালিবান-শাসিত জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা হাফিজ মোহাম্মদ ইউসুফ হামাদ জানিয়েছেন, নিখোঁজদের উদ্ধার এবং ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে বিশেষায়িত জরুরি ইউনিট কাজ করছে। বন্যার ফলে অসংখ্য ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং কৃষিজমি ধ্বংস হয়ে গেছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকারীরা পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। এতে প্রাণহানির সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কর্তৃপক্ষ।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, এই কঠিন সময়ে আফগান জনগণের পাশে থেকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে এই ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ সম্পর্কিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকে সুপারিশ করেছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ইকোসকের এক বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সর্বসম্মতিক্রমে এ-সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং সাধারণ পরিষদকে এই সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকের সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশ ও নেপালের পক্ষে প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধের পটভূমি, প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এলডিসি থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত প্রস্তুতিকালের প্রয়োজন রয়েছে।
ইতিপূর্বে কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) উভয় দেশের আবেদনের পর্যালোচনা করে মত প্রকাশ করে যে, বাংলাদেশ ও নেপালের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা সমীচীন হবে। সেই অনুযায়ী, ইকোসক সাধারণ পরিষদকে আগামী ২৪ নভেম্বর ২০২৬-এর আগেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছে। বর্তমান সময়ে ওই তারিখেই বাংলাদেশ ও নেপালের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময় নির্ধারিত রয়েছে।
ফলে, সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশের টেকসই এলডিসি উত্তরণের প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাধারণ পরিষদ যদি প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তবে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ এবং সংস্কার বাস্তবায়নের পাশাপাশি এলডিসি-উত্তর পর্বের জন্য দেশের প্রস্তুতি আরো সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, যখনই বাংলাদেশের জনগণ বিপদে পড়েছে, চীন পাশে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জরুরি পরিচালনা কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে ১ লাখ মার্কিন ডলার ত্রাণ সহায়তা হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় ইয়াও ওয়েন বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় চীন বাংলাদেশকে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে যাবে। একইসাথে নদী ব্যবস্থাপনায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান চীনের এই সহায়তাকে দুই দেশের মানবিক অংশীদারিত্বের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ