ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শেরপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি ও বাইসাইকেল বিতরণ


শেরপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি ও বাইসাইকেল বিতরণ

শেরপুরের শ্রীবরদী অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগণের জীবনমান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে বাইসাইকেল, সেলাইমেশিন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ করা হয়েছে। এই বিতরণের ফলে সাইকেল, সেলাই মেশিন ও নগদ টাকা পেয়েছে জানার পর, এই পিছিয়ে পড়া জনগণের মধ্য থেকে অনেকেই খুশি হয়েছে।

শনিবার বিকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।

প্রাথমিক পর্যায়ের ২২ জন শিক্ষার্থীকে ৩ হাজার টাকা করে মোট ৬৬ হাজার টাকা, মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৬৫ হাজার টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ৯ জন শিক্ষার্থীকে ৭ হাজার টাকা করে মোট ৬৩ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও, পাঁচ নারীকে সেলাই মেশিন এবং সাত নারী শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

প্রধান অতিথি মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, "এই এলাকাটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ এলাকা। এখানে জনসংখ্যার একটি বৃহৎ অংশ পিছিয়ে পড়া নৃ-জনগোষ্ঠী। বিএনপি সরকার আগেও সবসময় এর পাশে থেকেছে, আগামীতেও থাকবে।"

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ, থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নুরুল আলম, উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আব্দুর রহিম দুলাল, সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলাল, পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক ফজলুল হক চৌধুরী অকুল, সদস্য সচিব এস.এম সোহান, উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান মোহাম্মদ আলসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং উপকারভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে কৃষি বিষয়ক ‘পার্টনার কংগ্রেস’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ পি.এম


ময়মনসিংহে কৃষি বিষয়ক ‘পার্টনার কংগ্রেস’

জেলায় আজ নিরাপদ কৃষিপণ্য উৎপাদন ও চাষাবাদে প্রযুক্তিগত সহায়তার লক্ষ্যে ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এই ‘পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহাম্মদ খান, উপ-পরিচালক এনামুল হক, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জুবায়রা বেগম সাথী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পার্টনার কংগ্রেসের অংশ হিসেবে ‘পার্টনার অ্যাক্টিভিটি ও ভিশন ডিসপ্লে’ এবং ‘প্ল্যান্ট ডক্টরস ক্লিনিক’ প্রদর্শনীতে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা, গ্যাপ (উত্তম কৃষি চর্চা) এবং রপ্তানিমুখী কৃষি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এছাড়াও স্মার্ট কৃষির অংশ হিসেবে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার, এআই মডেলের মাধ্যমে ফলন পূর্বাভাস বিষয়ে আলোচনা হয়। রোবোটিক হার্ভেস্টিংয়ের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রদর্শনী উপস্থিত কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে।

এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কৃষি বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে এডিপির উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাবসার্সেবল পাম্প বিতরণ করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

ডশক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- অষ্টধর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, বোররচর পূর্ব বনপাড়া দারুস সুন্নাহ নূরাণী হাফিজিয়া মাদরাসা, পরাণগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, অম্বিকাগঞ্জ কলেজ, সিরতা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, মহজমপুর হাফিজিয়া মাদরাসা এতিমখানা, শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঘাগড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়।

এরপর, মৎস চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের ৪টি ছোট মাছ চাষ প্রদর্শনী প্রকল্পে চাষিদের মধ্যে গাছের চারা এবং মৎস খাদ্য বিতরণ করা হয়।

এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন দোকান খোলার প্রতি ঝোঁক বেশি, কারখানার প্রতি কম?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৮ পি.এম


কেন দোকান খোলার প্রতি ঝোঁক বেশি, কারখানার প্রতি কম?

দেশের পৌনে চার কোটি মানুষ বর্তমানে কর্মব্যস্ত রয়েছেন, তবে তাদের মধ্যে বিশাল একটা অংশ জড়িয়ে আছেন কেনাবেচা অথবা সাধারণ চাকরির মতো সেবা খাতে। এর বিপরীতে, বাংলাদেশের উৎপাদন শিল্প বা কারখানার কার্যক্রম চলছে অত্যন্ত ধীর গতিতে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ অর্থনৈতিক শুমারি এমন তথ্য প্রকাশ করেছে যা অর্থনীতিবিদদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিবিএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোট ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের ৯১.২৩ শতাংশই এখন একচ্ছত্রভাবে সেবা খাতের অধীনে, যেমন দোকানপাট, শোরুম, আইটি, হোটেল-রেস্তোরাঁ। অপরদিকে, পণ্য উৎপাদনের প্রকৃত কারখানা বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অবদান মাত্র ৮.৭৭ শতাংশ। একসময় যে অর্থনীতি কৃষি বা অনুচ্চ উৎপাদন খাতের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়েছিল, তা আজ নাটকীয়ভাবে চলে গেছে সেবা খাতের দখলে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, কেন আমাদের তরুণ উদ্যোক্তারা স্থায়ী কারখানা স্থাপন করার চেয়ে দোকান খুলতে বা চাকরির দিকে বেশি ঝুঁকছেন? আমাদের আগামী দিনের অর্থনীতি শুধুই কেনাবেচার প্রেক্ষাপটে থাকবে কি? কী হবে এই ২০ কোটি মানুষের বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ?

অর্থনীতির এই পরিবর্তনের পেছনে প্রকৃত কোনো প্রাকৃতিক অর্থনৈতিক বিকাশ নেই বরং এটি প্রাতিষ্ঠানিক একটি গভীর হতাশার চিত্র তুলে ধরে। আসলে, একটি দেশের শিল্পায়নের পথের সবচেয়ে বড় বাধা হলো সর্বগ্রাসী দুর্নীতি ও চরম অব্যবস্থাপনা। লাইসেন্স পাওয়ার জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সংকট এবং ঘুষের চাহিদা যখন কোনো কারখানা প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকেই বিনষ্ট করে দেয়, তখন উদ্যোক্তাদের বাধ্য হয়ে পিছু হটতে হয়; কখনও বা তারা মাঝপথে প্রকৃত পুঁজির সঙ্গে তাঁদের স্বপ্ন সবই হারিয়ে যান।

এই প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে দেশে দীর্ঘমেয়াদি ও ভারী শিল্প গড়ে উঠছে না। তরুণ উদ্যোক্তারা উচ্চ পুঁজির বিনিয়োগের ঝুঁকি নেওয়ার পরিবর্তে কম পুঁজি দিয়ে দ্রুত মুনাফার সহজ পথ হিসেবে সেবা খাতের দিকে ঝুঁকছেন। দুর্নীতির এই সর্বগ্রাসী বিপর্যয় উস্কে দিতে পারছে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গঠনের ব্যর্থতা, যা আমাদের অজানা উদ্বেগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

উন্নয়ন অর্থনীতির ক্লাসিক্যাল মডেল বা ফিশার-ক্লার্ক থিসিস অনুযায়ী, একটি দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক নিয়মে কৃষি থেকে প্রথমে শিল্পে এবং শিল্প খাতের হাত ধরে উন্নত সেবা খাতে সরে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ এখন উল্টো রথে চড়ে চলেছে। শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটার আগেই অর্থনীতি সরাসরি সেবা খাতে লাফ দিয়েছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ড্যানি রড্রিক এই অবস্থাকে ‘অকাল ডি-ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন’ বা অসময়ে শিল্পায়নের স্থবির হয়ে যাওয়ার নাম দিয়েছেন। তিনি তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন, যখন কোন উন্নয়নশীল দেশ পর্যাপ্ত শিল্পায়ন ছাড়াই সম্পূর্ণভাবে সেবা খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন এটি একদিকে অর্থনীতিকে সাময়িকভাবে প্রাণবন্ত মনে হলেও অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে ‘মধ্যম আয়ের ফাঁদে’ পড়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি করে। কারণ সেবা খাত মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর নির্ভরশীল, ফলে এটি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দিন দিন দুর্বল করে ফেলছে।

কারখানার পরিবর্তে দোকানপাটের আধিক্য আমাদের অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতার স্থবিরতা সৃষ্টি করছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থনৈতিক পলিসি পেপারের তথ্য অনুযায়ী, কারখানায় প্রযুক্তির ব্যবহারে উৎপাদন এক লাফে ১০ গুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব, কিন্তু সেবা খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করার সুযোগ অত্যন্ত কম।

শিল্প খাত মূলত পণ্য উৎপাদন করে, যা বিদেশে রপ্তানি করে দেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার আয় করে। অন্যদিকে, আমাদের সেবা খাতের অধিকাংশই অ-রপ্তানিযোগ্য অভ্যন্তরীণ সেবা, যা দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক চক্রের ঘুরপাক খায়। ফলে, দীর্ঘমেয়াদে দেশ বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি এবং সর্বগ্রাসী মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিতে পড়ে, যা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) তাদের প্রতিবেদনে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছে।

দেশের কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের নাজুক কাঠামোগত দুর্বলতার চিত্র বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি-র সম্মানীয় ফেলো ও আত্নবিশ্বাসী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমানের বিশ্লেষণেও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি মনে করেন, আমাদের কর্মসংস্থানের বড় একটি সমস্যা হলো, নারীদের একটি বড় অংশ এবং বিপুলসংখ্যক বেকার ও প্রশিক্ষণহীন তরুণ শ্রমশক্তি এখনও কর্মসংস্থানের বাইরে রয়ে গেছেন। আবার, যারা কাজ করছেন, তাদের মধ্যে খাতের ভারসাম্যের অভাব রয়েছে। যদিও দোকানপাট বা সেবা খাত সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় নয়, তবে আমাদের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের মাত্র নামমাত্র অবদান দেশের শিল্পায়নের একটি বড় দুর্বলতা বিশেষ করে প্রসঙ্গটিতে।

সবচেয়ে বড় সংকট ও অসঙ্গতি দৃশ্যমান হচ্ছে আমাদের অর্থনীতির শুরুতে ভিত্তি কৃষি খাতে। অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেছেন, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ এখনো কৃষিতে কাজ করছেন, তবে জাতীয় আয়ে এ খাতের অবদান মাত্র ১২ শতাংশ। এর সরল অর্থ হলো, কৃষিতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ নিয়োজিত হওয়ায় শ্রমের উৎপাদনশীলতা মারাত্মকভাবে নিম্নমানের, অর্থাৎ এখানে এক বিশাল ‘প্রচ্ছন্ন বেকারত্ব’ বা ছদ্ম বেকারত্ব উপস্থিত রয়েছে।

এই বন্ধ্যাত্ব কাটাতে হলে আমাদের মূল ভিত্তি অর্থাৎ কৃষিজাত পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানার প্রতিষ্ঠা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করতে হবে। এই উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে একদিকে আমাদের আমদানির ওপর ক্ষতিকর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে এবং অপর দিকে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হতে তা রপ্তানির বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তৈরি পোশাকের বাইরে আমাদের দেশে বড় সম্ভাবনা রয়েছে ওষুধ, সেমিকন্ডাক্টর এবং বিশেষ করে চামড়া ও জুতা শিল্পে। চামড়া খাতের নিজস্ব কাঁচামাল বা চামড়ার মান বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং এর মূল্য সংযোজনের ক্ষমতা তৈরি পোশাকের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু আমলাতান্ত্রিকতা বা প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনার কারণে এই সম্ভাবনাময় খাতটি এখন সংকটের মুখোমুখি। এই খাতের সংকট কাটাতে হলে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও নীতিগত স্থবিরতা অবশ্যই কাটাতে হবে।

ঝুঁকি এবং সংকটের এই বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞের পেছনে দিনরাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন দেশের প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ ৬১ হাজারেরও বেশি মানুষ। এই বিশাল কর্মসংস্থানের মধ্যে পুরুষ ২ কোটি ৫৬ লাখ এবং নারী ৫১ লাখ ২৮ হাজার। একই সাথে মোট কর্মসংস্থানে প্রায় ৭৭.১০ শতাংশ মানুষই নিয়োজিত রয়েছেন বিভিন্ন স্থায়ী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, যা প্রমাণ করে যে, সরকারি চাকরির তুলনায় বেসরকারি বিনিয়োগই বর্তমানে আমাদের মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু এই মানবসম্পদকে আমরা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীল খাতে কাজে লাগাতে পারছি না, যা আমাদের জাতীয় অপচয়ে পরিণত হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সেবা খাতের এই একচ্ছত্র আধিপত্য বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য উচ্চ আয়ের স্থায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এক অর্থে অসম্ভব। একটি পোশাক কারখানা, ওষুধ শিল্প বা ইলেকট্রনিক উত্পাদন কেন্দ্রে যেখানে একসঙ্গে হাজার হাজার তরুণের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং ক্যারিয়ারের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব, সেখানে একটি সাধারণ শোরুম বা দোকানে বড়জোর ৫ থেকে ১০ জনের কর্মসংস্থান হয়, যার পরিধি খুবই সীমিত।

সেবা খাতের এই সাময়িক জয়জয়কারের মাঝে তাই নীতিনির্ধারকদের অলস বসে থাকার সুযোগ নেই। আমাদের আদি এবং মূল ভিত্তি কৃষিনির্ভর শিল্প, কিংবা বিপুল সম্ভাবনার চামড়া শিল্প গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ নীতি সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণের উপকারিতা আনতে হবে।

তবে তার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যবসায়িক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির মতো মারাত্মক ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন করে একটি স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি করা, যেন উদ্যোক্তারা বড় ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে সাহসী হতে পারেন। একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন ক্ষতিকর ভারী শিল্পকে নিরুৎসাহিত করে দেওয়াল উপর আনার লাইনে পরিবেশবান্ধব, কৃষিবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর জনবান্ধব উৎপাদনের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।

যেদিন কাউন্টারের টেবিল এবং দোকানের ঝাঁপ ফেলার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের তরুণেরা শ্রম ও মেধা উৎপাদনমুখী কারখানার আধুনিক যন্ত্রপাতির চাকা ঘোরাতে শুরু করবেন, সেদিনই নির্মিত হবে একটি দীর্ঘমেয়াদি টেকসই অর্থনীতির মজবুত ভিত্তি। তবেই ২০ কোটি মানুষের এই বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যেতে পারবে বলে অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেল থেকে ইরানের ৬০ বিলিয়ন ডলার আয়ের হাতছানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


তেল থেকে ইরানের ৬০ বিলিয়ন ডলার আয়ের হাতছানি

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারের সমীকরণে একটি নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার বৃত্ত ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের খবর বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর থেকে জ্বালানি খাতের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত এসেছে, যা তেহরানের অর্থনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি এই সমঝোতা কার্যকর হয় তাহলে ইরান আবারও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও জ্বালানি পণ্য রপ্তানি করার সুযোগ পাবে। গাণিতিক হিসাব এবং বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারদরকে বিবেচনা করে বলা হচ্ছে, ইরান বছরে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে বিপর্যস্ত ইরানের অর্থনীতির জন্য এটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক অক্সিজেন হতে পারে।

ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলা কূটনৈতিক টানাপোড়েন, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই সমঝোতা স্মারকটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও দুই দেশের পক্ষ থেকে এখনো কিছু আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন এর সম্ভাবনা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

এই সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়ার সাথে সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে এর কিছুটা প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যে তেলবাহী কিছু ইরানি ট্যাংকার বন্দর ছেড়ে গেছে এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ রেখা অতিক্রম করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রধানত প্রত্যাশিত রপ্তানি কার্যক্রম শুরুর একটি প্রথম সংকেত।

জ্বালানি খাতের ব্যবসায়ী এবং শিপিং অপারেটররা ইতিমধ্যেই নিজেদের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তারা ধারণা করছেন, যদি এই সমঝোতা চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ইরান তার তেল পুনরায় আন্তর্জাতিক বাজারে অবাধে প্রবেশাধিকার পাবে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের চেইনে ইরানের মতো একটি বড় তেল উৎপাদনকারী দেশের পুনরায় যুক্ত হওয়া বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তবে এই সমঝোতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া বিদ্যামান। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অন্যান্য প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই চুক্তির সফলতার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। বহু পর্যবেক্ষক প্রশ্ন তুলছেন যে, এই ধরনের সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে এবং তা ইরানের ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

বিশ্লেষকদের দীর্ঘদিনের মত ছিল যে, যদি ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে পুনরায় প্রবেশাধিকার পায়, তাদের বার্ষিক রাজস্ব আয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। বর্তমান প্রতিবেদনটি ইরানের পূর্বের উৎপাদন সক্ষমতা এবং বর্তমানের বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের দামকে ভিত্তি করে তৈরি। স্বাভাবিক উৎপাদন পর্যায়ে ফিরতে পারলে, তেহরান যে বিশাল অংকের অর্থ অর্জন করতে সক্ষম হবে, এ বিষয়ে অনেকের মধ্যে আশঙ্কা বিদ্যমান যে এটি তাদের আঞ্চলিক প্রভাব এবং সামরিক সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের এই সম্ভাব্য সমঝোতা এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতির জন্য বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে, অন্যদিকে এটি বিশ্ব বাজারে জ্বালানির সরবরাহ এবং দামের ওপরও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় হল, ওয়াশিংটন এবং তেহরান কত দ্রুত এই প্রক্রিয়াকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১০ পি.এম


গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে আনুমানিক ৬৫ বছর বয়সী অজ্ঞাতপরিচয় এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণ পাশে মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী ‘জামালপুর কমিউটার’ ট্রেনটি শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা অতিক্রম করার পরপরই রেললাইনের ওপর বৃদ্ধের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় উৎসুক জনতা ও পথচারীরা রেললাইনে ভিড় জমান। তবে পারেনি তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বৃদ্ধের নাম-পরিচয় শনাক্ত করতে।

দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার শামীম উদ্দিন বলেন, 'বিকেল পৌনে ৬টার দিকে জামালপুর কমিউটার ট্রেনটি শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণ পাশে মুক্তমঞ্চের কাছে পৌঁছালে ওই বৃদ্ধ লাইনে কাটা পড়েন। ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আমরা রেলওয়ে পুলিশকে (জিআরপি) খবর দিয়েছি। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করবে।'

জয়দেবপুর রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাইয়ুম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, 'ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করা হবে। নিহতের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%