০৯:০৯ পি.এম
আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারের সমীকরণে একটি নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার বৃত্ত ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের খবর বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর থেকে জ্বালানি খাতের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত এসেছে, যা তেহরানের অর্থনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি এই সমঝোতা কার্যকর হয় তাহলে ইরান আবারও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও জ্বালানি পণ্য রপ্তানি করার সুযোগ পাবে। গাণিতিক হিসাব এবং বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারদরকে বিবেচনা করে বলা হচ্ছে, ইরান বছরে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে বিপর্যস্ত ইরানের অর্থনীতির জন্য এটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক অক্সিজেন হতে পারে।
ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলা কূটনৈতিক টানাপোড়েন, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই সমঝোতা স্মারকটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও দুই দেশের পক্ষ থেকে এখনো কিছু আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন এর সম্ভাবনা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
এই সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়ার সাথে সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে এর কিছুটা প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যে তেলবাহী কিছু ইরানি ট্যাংকার বন্দর ছেড়ে গেছে এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ রেখা অতিক্রম করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রধানত প্রত্যাশিত রপ্তানি কার্যক্রম শুরুর একটি প্রথম সংকেত।
জ্বালানি খাতের ব্যবসায়ী এবং শিপিং অপারেটররা ইতিমধ্যেই নিজেদের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তারা ধারণা করছেন, যদি এই সমঝোতা চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ইরান তার তেল পুনরায় আন্তর্জাতিক বাজারে অবাধে প্রবেশাধিকার পাবে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের চেইনে ইরানের মতো একটি বড় তেল উৎপাদনকারী দেশের পুনরায় যুক্ত হওয়া বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
তবে এই সমঝোতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া বিদ্যামান। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অন্যান্য প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই চুক্তির সফলতার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। বহু পর্যবেক্ষক প্রশ্ন তুলছেন যে, এই ধরনের সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে এবং তা ইরানের ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হবে।
বিশ্লেষকদের দীর্ঘদিনের মত ছিল যে, যদি ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে পুনরায় প্রবেশাধিকার পায়, তাদের বার্ষিক রাজস্ব আয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। বর্তমান প্রতিবেদনটি ইরানের পূর্বের উৎপাদন সক্ষমতা এবং বর্তমানের বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের দামকে ভিত্তি করে তৈরি। স্বাভাবিক উৎপাদন পর্যায়ে ফিরতে পারলে, তেহরান যে বিশাল অংকের অর্থ অর্জন করতে সক্ষম হবে, এ বিষয়ে অনেকের মধ্যে আশঙ্কা বিদ্যমান যে এটি তাদের আঞ্চলিক প্রভাব এবং সামরিক সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের এই সম্ভাব্য সমঝোতা এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতির জন্য বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে, অন্যদিকে এটি বিশ্ব বাজারে জ্বালানির সরবরাহ এবং দামের ওপরও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় হল, ওয়াশিংটন এবং তেহরান কত দ্রুত এই প্রক্রিয়াকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন