বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:১৬ এম
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে গুরুতর আহত এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এই ঘটনার ফলে ওই এলাকায় মাত্র দুই দিনের মধ্যে দুজনের মৃত্যু ঘটল। নিহত যুবকের পরিবার অভিযোগ করেছে যে, গুরুতর আহত অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে হাসপাতালে থেকে থানায় নিয়ে যায়, যার ফলে তার চিকিৎসা বিলম্বিত হয়।
নিহত যুবকের নাম নিশাত মিয়া (২৭)। তিনি পিকআপ চালক ছিলেন এবং যাত্রাবাড়ীর বিবিরবাগিচার সুতিখাপার এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক তাজমুল করিম এই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঘটনার শুরু হয় গত মঙ্গলবার ভোরে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিবিরবাগিচার ৪ নম্বর গেটসংলগ্ন ডেমরা সড়ক এলাকায় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে। এই সময় স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করে দুই যুবককে আটক করে গণধোলাই দেন। এতে ঘটনাস্থলেই জনি (৩২) নামের এক যুবকের মৃত্যু ঘটে। গুরুতর আহত নিশাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে নিহতের বোন শারমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আরাফাত নামের এক ব্যক্তি ফোন করে জনিকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান। পরে জনিকে বিবিরবাগিচার একটি ক্লাবের কক্ষে নিয়ে সাত-আটজন মিলে মারধর করেন। এরপর নিশাতকেও একই স্থানে ডেকে নিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে নিশাতের বাবাকেও আক্রমণ করা হয়।
নিশাতের পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মেহেদির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাসপাতাল থেকে নিশাতকে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের দাবি ছিল, নিশাতের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের একটি মামলা রয়েছে এবং হাসপাতাল তাকে হেফাজতে নেওয়ার উপযোগী বলে সনদ দিয়েছে। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও তাকে থানায় নিয়ে করিডরের মেঝেতে বেঁধে রাখা হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু ঘটে।
যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক হাসান কবির জানান, নিশাতের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ছিনতাইয়ের একটি মামলা ছিল। হাসপাতাল থেকে ‘ফিট’ সনদ পাওয়ার পরই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। থানার মেঝেতে বেঁধে রাখার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই সময় তিনি থানায় উপস্থিত ছিলেন না।
নিশাতের বন্ধু অপনের দাবি, বিবিরবাগিচা এলাকায় ৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। এসব ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করলে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নিশাত ও জনি সত্যিই ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, তাও যাচাই করা যাবে।
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়রকে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছে দেশটির ক্রীড়া বিচার ট্রাইব্যুনাল। সান্তোসের অধিনায়ক এই শাস্তি পেয়েছেন প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে তর্কের সময় মুখ ঢেকে রাখার কারণে।
বুধবার ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট অব স্পোর্টস জাস্টিস (এসটিজেডি) এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। শনিবার ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে বাহিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে সান্তোস। ম্যাচে বাহিয়ার মিডফিল্ডার রদ্রিগো নেস্তরের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে ৩৪ বছর বয়সী নেইমার লাল কার্ড দেখেন।
ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাঠে বিবাদের সময় মুখ ঢেকে রাখার নিয়ম ভঙ্গ করেছেন তিনি। ফুটবলারদের এমন আচরণ ঠেকাতে চালু হওয়া এই নিয়মটি ‘ভিনিসিয়ুস জুনিয়র রুল’ নামে পরিচিত।
ম্যাচের রেফারির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লাল কার্ড দেখার পর নেইমার প্রতিপক্ষের বেঞ্চের দিকে ছুটে যান। সেখানে তিনি নেস্তরের মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু পরে সতীর্থরা তাকে থামান।
এই ঘটনার পর নেইমারের শাস্তির বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে উত্থাপিত হয়। শুনানি শেষে মুখ ঢেকে তর্ক করার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে তাকে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
নেইমারের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সান্তোসের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে পড়বে। বুধবার পালমেইরাসের বিপক্ষে লিগের ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন না। তিনটি হলুদ কার্ড পাওয়ার কারণে এই ম্যাচে নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি।
নতুন দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা যোগ হওয়ায় সান্তোসের পরবর্তী তিনটি ম্যাচে নেইমার খেলার সুযোগ পাবেন না। তবে নেইমার ও সান্তোসের আপিল করার সুযোগ রয়েছে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।
সাবেক ব্রাজিল অধিনায়কের মাঠে ফেরার সম্ভাব্য সময় নভেম্বরের শেষ ভাগে হতে পারে। তবে আপিলের ফল এবং পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর তার প্রত্যাবর্তনের সময় নির্ভর করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবলের দুই মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং লিওনেল মেসির মধ্যে প্রতিযোগিতায় আবারও এগিয়ে গেলেন রোনালদো। এবার ব্যালন ডি’অর জয়ীদের মধ্যে সেরাকে বেছে নেওয়ার ভোটে পর্তুগিজ তারকা মেসিকে পরাজিত করেছেন।
উয়েফা এবং ফ্রান্স ফুটবল যৌথভাবে ‘বোট’ (BOAT) নামে একটি পুরস্কার চালু করেছে। এই পুরস্কারের পুরো অর্থ হচ্ছে ‘বেস্ট অব অল টাইম’। পুরস্কারটি ব্যালন ডি’অর অন্তত দুবার জয়ী ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে। তাদের সেরা মৌসুম কোনটি, সেটি নির্বাচিত করা হয়েছে।
সমর্থকদের ভোটে প্রথম স্থান দখল করেছেন রোনালদো। তার ২০০৮ মৌসুমটি এই তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মেসি, যার ২০১২ মৌসুম এই স্থান অর্জন করেছে। তৃতীয় স্থানে আবারও রোনালদো, তবে এবার তার ২০১৭ সালের ব্যালন ডি’অর জয়কে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।
২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জিতে রোনালদো এই ভোটে প্রথম স্থান লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০১৩, ২০১৪, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালেও পুরস্কারটি জেতেন। এর মধ্যে শেষ চারটি জয় আসে রিয়াল মাদ্রিদে খেলার সময়।
অন্যদিকে, মেসি ২০১২ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। আর্জেন্টাইন এই তারকা রেকর্ড আটবার পুরস্কারটি জিতেছেন, যেখানে রোনালদো পেয়েছেন পাঁচবার।
এই ভোটে অংশ নিতে সমর্থকদের প্রতিটি ভোটের জন্য ১ ইউরো দিতে হয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবারের মধ্যবর্তী রাতে ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে ভোট গ্রহণ শেষ হয়।
ভোটদাতাদের জন্য ছিল আরেকটি সুযোগ। উয়েফা জানিয়েছে, ভোটে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ২০২৭ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের দুটি টিকিট জিততে পারেন।
এই ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন ব্যালন ডি’অর অন্তত দুবার জেতা ১০ জন কিংবদন্তি ফুটবলার।
তালিকায় ছিলেন আটবারের জয়ী মেসি এবং পাঁচবারের জয়ী রোনালদো। এছাড়া ছিলেন তিনবারের জয়ী মার্কো ফন বাস্তেন, মিশেল প্লাতিনি এবং ইয়োহান ক্রুইফ।
দুবার করে ব্যালন ডি’অর জেতা রোনালদো নাজারিও, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, কেভিন কিগান, আলফ্রেডো দি স্তেফানো এবং কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগেও ছিলেন এই তালিকায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের তারকা হামজা চৌধুরীর উদ্যোগের মাধ্যমে গাজার শিশুদের জন্য ১ লাখ পাউন্ডেরও বেশি তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেছেন।
এই অর্থটি গাজার অসহায় শিশুদের চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরের কাজে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
হামজা চৌধুরী জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের সফলতা অর্জনে যারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন, অর্থ প্রদান করেছেন এবং সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন নুজুম স্পোর্টসকে, যেটি এই আয়োজন বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে আসছে।
সংগৃহীত অর্থটি ‘চিলড্রেন নট নাম্বার্স’ নামের একটি সংস্থার কাছে যাবে। এই প্রতিষ্ঠান গাজায় শিশুদের জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করে। সংস্থাটির মাধ্যমে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
যদিও এই উদ্যোগ সফল হয়েছে, হামজা মনে করেন, গাজার শিশুদের দুর্ভোগের তুলনায় এই সহায়তা খুবই সামান্য। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, অনেক কিছু করার প্রয়োজন রয়েছে। তার মতে, ছোট উদ্যোগও মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে।
পোস্টের শেষাংশে হামজা ফিলিস্তিনের মানুষের জন্য প্রার্থনা করেছেন। তিনি তাদের কষ্ট দূর করার পাশাপাশি শক্তি, ধৈর্য এবং স্থায়ী শান্তির কামনা করেছেন বাংলাদেশের এই ফুটবলার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাসেম জানিয়েছেন, ইসরাইলের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তাদের কোনো উদ্বেগ নেই। তিনি বলেন, নির্বাচনে যেই ক্ষমতায় আসুক, প্রতিবেশী দেশটির বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধ’ অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীর প্রধান।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নাঈম কাসেম উল্লেখ করেন, ‘ইসরাইল কে শাসন করছে, তা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না। তবে পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, ইসরাইল তার দখলদারিত্ব অব্যাহত রাখতে পারে না। আমাদের ভূখণ্ড ছেড়ে তাদের চলে যেতেই হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিরোধ সংগ্রাম চলবে। আমাদের এবং লেবাননের বিরুদ্ধে চালানো আগ্রাসনের মোকাবিলা করা হবে। যত দিন দখলদারিত্ব ও আগ্রাসন চলবে, তত দিন হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।’
গত জুনে লেবানন এবং ইসরাইলের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি সই হয়। এই চুক্তির লক্ষ্য হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা, লেবাননের যেসব এলাকা ইসরাইলের দখলে রয়েছে সেখান থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার এবং ওই এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা।
তবে দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের দখলে থাকা এলাকা ও এর আশপাশে ইসরাইল এখনো মাঝে মাঝে হামলা ও স্থাপনা ধ্বংসের অভিযান চালাচ্ছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে গোষ্ঠীটি।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ