০১:৫০ পি.এম
ছয় বছর আগে সংঘটিত একটি ভয়াবহ ঘটনায় ফরাসি এক নারী পর্যটককে তার তিন সন্তানের সামনে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় দুই পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে আদালত। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা দ্য ডেইলি মেইল দ্বারা এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
আদালত দণ্ডপ্রাপ্তদের নাম উল্লেখ করেছে, তারা হলেন আবিদ মালহি এবং শফকত আলী। বুধবার (৩ জুন) আদালত তাদের আপিল খারিজ করে দিয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে একটি বিশেষ আদালত এই দুই নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের আদেশ দিয়েছিল।
ঘটনাটি ঘটে ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। পাকিস্তানের লাহোর–সিয়ালকোট মহাসড়কে ফরাসি ওই নারী তার তিন সন্তানসহ গাড়িতে ছিলেন। গাড়ির জ্বালানি শেষ হওয়ার কারণে তারা রাস্তার ধারে আটকে পড়েন।
আরও পড়ুন: ভারত-চীন সম্পর্কের বরফ গলছে, তবে উদ্বেগ রয়ে গেছে
এরপর দুর্বৃত্তরা গাড়ির জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং অস্ত্রের মুখে তাকে গাড়ি থেকে নামাতে বাধ্য করে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, তার সন্তানদের সামনে নিপীড়ন করা হয় এবং পরে দুর্বৃত্তরা নগদ টাকা, গহনা ও ব্যাংক কার্ড লুট করে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ঘটনার পর কিছু আক্রমণকারীর বর্ণনা দিতে সক্ষম হন। এর ফলস্বরূপ মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েক দিনের মধ্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনা অভিযুক্তদের সঙ্গে মিল পাওয়ার পর শুনানির সময় ভুক্তভোগী আদালতে তাদের শনাক্ত করেন। একজন অভিযুক্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার কথাও রয়েছে।
বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে দ্রুত বিচার শেষে ২০২১ সালে তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। পরে আসামিরা আপিল করলেও আদালত তা খারিজ করে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ বহাল রাখে।
আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
এই ঘটনার ফলে পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছিল। এছাড়া এই দেশের ধর্ষণ মামলার বিচার ব্যবস্থা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।
লাহোর পুলিশের তৎকালীন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মন্তব্য—নারীটি রাতে কেন একা ছিল—নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও জনরোষ সৃষ্টি হয়। এটি ভুক্তভোগীকে দোষারোপ হিসেবে দেখা হয়।
মানবাধিকারকর্মীরা পাকিস্তানে ধর্ষণের দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটিতে বিচারিক দুর্বলতা এবং তদন্তের ঘাটতির কারণে অনেক ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পান না।
পাকিস্তান এমন একটি দেশ যাতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার তুলনামূলক বেশি। বলা হচ্ছে, বিভিন্ন কারাগার থেকে ফাঁসির মাধ্যমে এই দণ্ড কার্যকর করা হয়।
আরও পড়ুন: এস এম জিলানী: গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টরা নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে
তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি মেইল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন