০৮:২৬ পি.এম
বিগত সরকারের সময় যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত আবুল হাসান ওরফে হাসান নামে পরিচিত শীর্ষ চাঁদাবাজ অভিযোগ করা হচ্ছে যে তিনি নতুন পরিচয়ে ও ভিন্ন কায়দায় চাঁদাবাজির রামরাজত্ব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে আবুল হাসান ওরফে হাসান তাঁর পুরোনো ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেট নিয়ে মতিঝিল, গুলিস্তান ও পল্টন অঞ্চলে নতুনভাবে চাঁদাবাজির জাল বিছিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ওই পরিস্থিতি যে কোনো সময় বড় সংঘর্ষ বা দ্বন্দ্বে রূপ নিতে পারে, এমন আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থাৎ, পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতন ঘটলেও যুবলীগ নেতা আবুল হাসান ওরফে হাসান দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর জেল থেকে জামিন নিয়ে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে তিনি মতিঝিল বিমান অফিস গলিতে নতুন করে তার আধিপত্য বিস্তার করার জন্য আস্তানা গেড়ে বসেছেন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত আবুল হাসান কিছুদিন গা-ঢাকা দেওয়ার পর ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের সময়ে মতিঝিল এলাকায় তার নেতৃত্বে পুরোনো চাঁদাবাজি চক্র আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাইকোর্ট, গুলিস্তান, পুরানা পল্টন ও মতিঝিল এলাকায় পরিচিত পেশাদার চাঁদাবাজ আবুল হাসান বিগত ১৭ বছর ধরে মতিঝিলে একক আধিপত্য বিস্তার করেছেন। তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা সাবেক এমপি ফারুক খান ও এমপি শেখ সেলিমের সহযোগিতায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বিগত ৫ই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী সরকারের পতনের সঙ্গে সাথে আবুল হাসান ও তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক খোলস ব্যবহার করে এবং স্থানীয় এক জামায়াত নেতার প্রশ্রয় নিয়ে তিনি তার পুরোনো সন্ত্রাসী বাহিনীকে মাঠে নামাতে সক্ষম হয়েছেন।
আরও পড়ুন: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের দাবি জানালো নিসচার
মতিঝিলের বিশাল এলাকায় ফুটপাতগুলোতেও প্রতিদিন চাঁদা সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তর থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে। এ চাঁদাবাজির ভাগ-বাটোয়ারা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে আবুল হাসান ওরফে হাসানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। কিন্তু বিগত পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী যুবলীগের পরিচয়ের কারণে তিনি সবসময় পার পেয়ে গেছেন।
মতিঝিল এলাকায় একজন দীর্ঘদিনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা ভেবেছিলাম ৫ই আগস্টের পর শান্তিতে ব্যবসা করতে পারব, কোনো জুলুম থাকবে না। কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি মাত্র মানুষের মুখ বদলেছে, অত্যাচারের নিয়ম বদলায়নি। আবুল হাসান ওরফে হাসান ও তার লোকজন আবার চাঁদার টাকা তোলা শুরু করেছে। প্রতিবাদ করলে মারধর ও উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।"
অন্য একজন ব্যবসায়ী জানান, অতীতে আবুল হাসান ওরফে হাসানের চাঁদাবাজির কারণে বহু মানুষ সর্বস্বান্ত হয়েছেন এবং বিচারকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু উল্টো আবুল হাসান ওরফে হাসানের পালিত গুন্ডাবাহিনীর তোপের মুখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এখন আবারও সেই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
আবুল হাসান গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলায় তার বাড়ি। তিনি পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী যুবলীগের নেতা পরিচয় দিতেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সরকারি দপ্তর বিআরটিসিতে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে তিনি মামলার সম্মুখীন হন।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
এছাড়াও, আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার উপর হামলার কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, "গণ-অভ্যুত্থানের পর যারা ক্ষমতার অপব্যবহার বা দল পরিবর্তন করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটগুলো যদি এখনই দমন না করা হয়, তাহলে সরকারের সুশাসনের মূল স্পিরিট ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভুক্তভোগীদের উচিত ভয় না পেয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা।"
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবুল হাসান ওরফে হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের দাবি হল, মতিঝিল ও পল্টন এলাকাকে চাঁদাবাজমুক্ত করতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবিলম্বে হস্তক্ষেপ দরকার।
আরও পড়ুন: বিমানের দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন