প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ড আসলে দেওয়া উচিত হয়নি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) তাদের একটি পরিপত্রে ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানোর ক্ষেত্রে ভিডিও সহকারী রেফারির ক্ষমতা স্পষ্ট করেছে।
জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই প্রকাশিত ৩৪ নম্বর পরিপত্রে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে আইএফএবি। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এমবোলোর ঘটনার সময় ভিএআর নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে মূল অপরাধই পরিবর্তন করেছিল।
গত ১১ জুলাই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা এবং সুইজারল্যান্ডের মধ্যে ম্যাচের ৭১তম মিনিটে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। এমবোলোর সঙ্গে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সংঘর্ষের পর আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি জোয়াও পিনেইরো।
ভিএআর পরে ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানোর নিয়মে ঘটনাটি পর্যালোচনার জন্য রেফারিকে ডাকে। রিপ্লে দেখে পারেদেসের কার্ড বাতিল করেন পিনেইরো। একই সাথে এমবোলোকে হলুদ কার্ড প্রদানের জন্য নামকরা হয়ে পড়ে যায় যে, তার পড়ে গিয়ে ফাউল আদায়ের চেষ্টা ছিল। ম্যাচে এটি ছিল এমবোলোর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড, যার ফলে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস ফরোয়ার্ডকে।
ম্যাচের স্কোর তখন ১-১ থাকার সময় সুইজারল্যান্ড বাকি সময় ১০ জন নিয়ে নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত সমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়। তবে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনা দুই গোল করে ৩-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে সেমিফাইনালে ওঠে।
আইএফএবির নতুন ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সাধারণ কোনো হলুদ কার্ডের ক্ষেত্রে ভিএআর শুধুমাত্র একই অপরাধের জন্য সঠিক খেলোয়াড়কে শনাক্ত করতে পর্যালোচনা করতে পারে। কিন্তু যে অপরাধের জন্য প্রথম সিদ্ধান্তটি দেওয়া হয়েছিল, সেটিকে বদলে সম্পূর্ণ ভিন্ন অপরাধ নির্ধারণ করার সুযোগ নেই।
অথাত্, ভিএআর পারেদেসের কার্ডটি ভুল কি না, তা দেখতে পারলেও এমবোলোর অভিনয় শনাক্ত করে নতুন করে তাকে হলুদ কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারত না। এমবোলো যদি পড়েই ফাউল আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন কি না, এটি মূল প্রশ্ন নয়। বর্তমান নিয়মের প্রেক্ষিতে ওই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ভিএআরের হস্তক্ষেপের অনুমতি ছিল না।
ম্যাচের পরই সিদ্ধান্তটির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন। তিনি বলেছিলেন, রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত এবং নিয়মটির প্রয়োগ তাদের ম্যাচ ধ্বংস করে দিয়েছে।
বিশ্বকাপে অভিনয়ের ঘটনা শনাক্ত করতে ভুল পরিচয়ের ধারাটি ব্যবহারের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে আইএফএবি। ভবিষ্যতে ভিএআরকে এমন ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে। তবে পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এভাবে অভিনয়ের ঘটনা যাচাই করা যাবে না বলে স্পষ্ট করেছে সংস্থাটি।
নতুন ব্যাখ্যা এমবোলোর বহিষ্কারকে ভুল প্রমাণ করলেও, ম্যাচের ফল পরিবর্তন কিংবা ঘটনাটি নিয়ে অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায়নি আইএফএবি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন