বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:১০ পি.এম
আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির বড় ছেলে থিয়াগো মেসি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামির অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে মর্যাদাপূর্ণ ‘এমআইসি ফুটবল ২০২৬’ টুর্নামেন্টের শিরোপা অর্জন করেছেন।
ডমিনিকান রিপাবলিকের পুন্তা কানায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের ফাইনালে গট এফসিকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আবির্ভূত হয় ইন্টার মায়ামির যুবারা।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন থিয়াগো। বাবার মতোই ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামা এই তরুণ ফুটবলার তার অবদান দিয়ে দলকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় (এমভিপি) হিসেবে পুরস্কৃত হন।
‘এমআইসি ফুটবল ২০২৬’ টুর্নামেন্টটি ২৪ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত ক্যাপ কানা স্পোর্টস সিটিতে আয়োজন করা হয়। এতে ২০টি দেশের অংশগ্রহণে ১০৩টি দল এবং দুই হাজারেরও বেশি তরুণ ফুটবলার অংশ নেন।
শিরোপা জয়ের পর, থিয়াগোর মা আন্তোনেলা রোকুজ্জো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রফি হাতে ছেলের ছবিটি শেয়ার করে উল্লাস প্রকাশ করেন। তার সেই পোস্টে ভক্তরাও থিয়াগোর ভবিষ্যৎ ফুটবল ক্যারিয়ারের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
মাত্র কিশোর বয়সেই বড় মঞ্চে শিরোপা ও ব্যক্তিগত পুরস্কারে সম্মানিত হয়ে থিয়াগো মেসি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকের আশা, তিনি বাবার পথ অনুসরণ করে ভবিষ্যতে বিশ্ব ফুটবলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের দধিভাঙ্গা বাজার সংলগ্ন একটি খালের স্লুইজ গেট থেকে পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর (আনুমানিক ৪০) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ওই ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দধিভাঙ্গা বাজার সংলগ্ন ওই খালের স্লুইজ গেটে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে মরদেহটি উদ্ধার করেছেন। তবে সেখানে উপস্থিত কেউ ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করার সক্ষমতা দেখাতে সক্ষম হননি।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় ওই নারীর কোমরে একটি ব্যাগ বাঁধা ছিল। ওই ব্যাগটি তল্লাশির পর কিছু নগদ টাকা, চকলেট, আচার, বিস্কুট, বাদাম এবং বিভিন্ন ধরনের ওষুধের প্যাকেট পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া আলামতের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য তদন্ত এবং পরিচয় শনাক্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম জানান, মরদেহটি উদ্ধার করার পর থানায় রাখা হয়েছে এবং পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পরে আগামী ৯ জুলাই তার দাফনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে তেহরান। সম্ভাব্য ঐতিহাসিক জনসমাগমকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে বাসিজ মিলিশিয়া মোতায়েনসহ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পরে দাফনের এই প্রস্তুতির সাথে খামেনির মরদেহ কিভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, সে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতামত অনুযায়ী, ইসলামী রীতির কারণে সাধারণত দ্রুত দাফনের হার বেশি এবং রাসায়নিক পদ্ধতিতে মরদেহ সংরক্ষণ করাকে নিষেধ করা হয়। জর্জ ওয়াশিংটন প্রোগ্রামের চরমপন্থা বিষয়ক ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানিয়েছেন, মরদেহ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষিত হয়নি, বরং বিশেষ শীতলীকরণ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে, যে কারণে এটা প্রায় নিশ্চিত। কারণ ইসলামে রাসায়নিক পদ্ধতিতে মরদেহ সংরক্ষণ নিষিদ্ধ।
তিনি বুঝিয়ে বলেছেন, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে শিয়া আইনে দাফন বিলম্বিত করা এবং শীতলীকরণের মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতির কথা রয়েছে। সর্বোচ্চ নেতার ক্ষেত্রে এমন ধর্মীয় ছাড় পাওয়াও সহজ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের ফরেনসিক মর্গে অনেক সময় আণবিক মরদেহ কয়েক মাস ধরে সংরক্ষণ করা হয়। তাই চার মাস ধরে হিমায়িত অবস্থায় রাখা অস্বাভাবিক কিছু নয় এবং এটি ধর্মীয় ও আইনি মানদণ্ডের অনুসরণ।
যাই হোক, ড. মোহাম্মদ ওমর মনে করছেন, জনসমক্ষে প্রদর্শনের জন্য মরদেহের অধিকাংশ অংশ হয়তো অক্ষত নেই। উল্লেখযোগ্যভাবে, বাঙ্কার বিধ্বংসী হামলায় খামেনি নিহত হন এবং তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য নিহতদেরও কয়েক সপ্তাহ পর উদ্ধার করে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
তার মতে, যদি মরদেহ অক্ষত থাকতো তাহলে বিদায় অনুষ্ঠান বাতিল এবং দাফনের স্থান পরিবর্তন করা কিংবা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাফনের সময় নিশ্চিতে প্রয়োজন পড়তো না। এটি প্রমাণ করে যে, মরদেহ সংরক্ষণের বিষয়টি সম্ভব হলেও তা প্রদর্শনের উপযোগী নয়।
এছাড়া, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় খামেনি নিহত হন। তিনি ৩৬ বছর ধরে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে ব্রাজিল এবং নরওয়ে পরস্পরের বিপক্ষে মাঠে নামবে।
রাউন্ড অব সিক্সটিনের এই ম্যাচটি শুধু মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি একটি তীব্র তাপপ্রবাহের বিরুদ্ধে কঠিন পরীক্ষাও হতে যাচ্ছে।
মেটলাইফ স্টেডিয়াম এলাকার জন্য দেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর সর্বোচ্চ স্তরের আবহাওয়া সতর্কতা (লেভেল ৪) ঘোষণা করেছে।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবো সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস, হিউস্টন বা আটলান্টার স্টেডিয়ামগুলোতে অত্যাধুনিক এয়ার কন্ডিশনিং এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকলেও নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে।
ফলে, বিকেল ৫টার কড়া রোদে এবং ৪৬ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ফুটবলারদের মাঠে নামতে হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রার ওপর এই গরমে ফুটবল খেলার ফলে খেলোয়াড়দের হৃদযন্ত্রের ওপর অত্যাধিক চাপ পড়বে, পেশির সচলতা কমবে এবং মাঠে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একপ্রকার বিঘ্নিত হবে।
চলতি বিশ্বকাপে চরম আবহাওয়া বিষয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক জরিপ অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের অন্তত ৯টি ম্যাচ বহু বিপজ্জনক আবহাওয়ার মধ্যে খেলা হয়েছে।
ফুটবলারদের বৈশ্বিক ইউনিয়ন ‘ফিফপ্রো’ সাফ জানিয়েছে যে, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং সৌর বিকিরণ বিবেচনা করে তৈরি হওয়া বিশেষ ‘ডব্লিউবিজিটি’ সূচক যদি ২৮ ডিগ্রি অতিক্রম করে, তাহলে সেই ম্যাচ অবিলম্বে স্থগিত বা বাতিল করা উচিত।
এই তীব্র দাবদাহ শুধুমাত্র ফুটবলারদের নয়, বরং স্টেডিয়ামে আসা হাজার হাজার দর্শকদেরও বিপদের মুখে ফেলেছে।
পার্কিং লট বা স্টেডিয়ামের দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে থাকা দর্শকদের ডিহাইড্রেশন (পানিশূন্যতা) এবং হিট স্ট্রোকের লক্ষ্যবস্তু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে জার্মানি। তবে অনেকের মতে, মাঠের ফলাফলের চেয়েও বড় একটি সমস্যা হচ্ছে জার্মান ফুটবলের ভেতরের সংস্কৃতি—ব্যর্থতার পর একজন খেলোয়াড়কে দায়ী করে ‘বলির পাঁঠা’ বানানোর প্রবণতা।
২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল জার্মানিকে। তুর্কি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় মেসুত ওজিল ব্যাপক সমালোচনার শিকার হন। এই পরিস্থিতির পর তিনি জাতীয় দল থেকেই অবসর গ্রহণ করেন।
অন্যদিকে, এবারের বিশ্বকাপের সময় প্যারাগুয়ের কাছে হেরে যাওয়ার পর জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন কুর্দি ও ইয়াজিদি বংশোদ্ভূত ফরোয়ার্ড দেনিজ উনদাভকে। তিনি দাবি করেন, ম্যাচের শুরুতেই সহজ একটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি উনদাভ।
কিন্তু জার্মান সমর্থকদের একটি বড় অংশ কোচের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, দলের ব্যর্থতার জন্য একজন খেলোয়াড়কে দোষারোপ করার পরিবর্তে কোচের কৌশল এবং দল নির্বাচন নিয়েই প্রশ্ন তোলা উচিত।
বিশ্বকাপের শুরুতে উনদাভ বদলি হিসেবে নেমে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে জার্মানিকে গ্রুপ পর্ব পার হতে সাহায্য করেছিলেন। তাই অনেকের ধারণা, বিদায়ের দায় একাই তার উপর চাপানো অন্যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, জার্মান ফুটবলের আসল সংকট আরো গভীরে। এক সময় যুব উন্নয়ন, আধুনিক কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিশ্বসেরা দল গড়ে তুলেছিল জার্মান ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু বর্তমানে সেই কাঠামো নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাদের বিকাশে পূর্বের মতো কার্যকর নয় বলেই মত দিচ্ছেন অনেকেই।
তাদের মতে, যদি জার্মানি ভবিষ্যতে আবারও বিশ্বকাপে সাফল্য পেতে চায়, তাহলে একজন খেলোয়াড়কে দোষারোপ করার পরিবর্তে নিজেদের কাঠামোগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ