বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:১৪ পি.এম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পরে আগামী ৯ জুলাই তার দাফনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে তেহরান। সম্ভাব্য ঐতিহাসিক জনসমাগমকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে বাসিজ মিলিশিয়া মোতায়েনসহ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পরে দাফনের এই প্রস্তুতির সাথে খামেনির মরদেহ কিভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, সে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতামত অনুযায়ী, ইসলামী রীতির কারণে সাধারণত দ্রুত দাফনের হার বেশি এবং রাসায়নিক পদ্ধতিতে মরদেহ সংরক্ষণ করাকে নিষেধ করা হয়। জর্জ ওয়াশিংটন প্রোগ্রামের চরমপন্থা বিষয়ক ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানিয়েছেন, মরদেহ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষিত হয়নি, বরং বিশেষ শীতলীকরণ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে, যে কারণে এটা প্রায় নিশ্চিত। কারণ ইসলামে রাসায়নিক পদ্ধতিতে মরদেহ সংরক্ষণ নিষিদ্ধ।
তিনি বুঝিয়ে বলেছেন, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে শিয়া আইনে দাফন বিলম্বিত করা এবং শীতলীকরণের মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতির কথা রয়েছে। সর্বোচ্চ নেতার ক্ষেত্রে এমন ধর্মীয় ছাড় পাওয়াও সহজ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের ফরেনসিক মর্গে অনেক সময় আণবিক মরদেহ কয়েক মাস ধরে সংরক্ষণ করা হয়। তাই চার মাস ধরে হিমায়িত অবস্থায় রাখা অস্বাভাবিক কিছু নয় এবং এটি ধর্মীয় ও আইনি মানদণ্ডের অনুসরণ।
যাই হোক, ড. মোহাম্মদ ওমর মনে করছেন, জনসমক্ষে প্রদর্শনের জন্য মরদেহের অধিকাংশ অংশ হয়তো অক্ষত নেই। উল্লেখযোগ্যভাবে, বাঙ্কার বিধ্বংসী হামলায় খামেনি নিহত হন এবং তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য নিহতদেরও কয়েক সপ্তাহ পর উদ্ধার করে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
তার মতে, যদি মরদেহ অক্ষত থাকতো তাহলে বিদায় অনুষ্ঠান বাতিল এবং দাফনের স্থান পরিবর্তন করা কিংবা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাফনের সময় নিশ্চিতে প্রয়োজন পড়তো না। এটি প্রমাণ করে যে, মরদেহ সংরক্ষণের বিষয়টি সম্ভব হলেও তা প্রদর্শনের উপযোগী নয়।
এছাড়া, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় খামেনি নিহত হন। তিনি ৩৬ বছর ধরে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে ব্রাজিল এবং নরওয়ে পরস্পরের বিপক্ষে মাঠে নামবে।
রাউন্ড অব সিক্সটিনের এই ম্যাচটি শুধু মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি একটি তীব্র তাপপ্রবাহের বিরুদ্ধে কঠিন পরীক্ষাও হতে যাচ্ছে।
মেটলাইফ স্টেডিয়াম এলাকার জন্য দেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর সর্বোচ্চ স্তরের আবহাওয়া সতর্কতা (লেভেল ৪) ঘোষণা করেছে।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবো সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস, হিউস্টন বা আটলান্টার স্টেডিয়ামগুলোতে অত্যাধুনিক এয়ার কন্ডিশনিং এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকলেও নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে।
ফলে, বিকেল ৫টার কড়া রোদে এবং ৪৬ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ফুটবলারদের মাঠে নামতে হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রার ওপর এই গরমে ফুটবল খেলার ফলে খেলোয়াড়দের হৃদযন্ত্রের ওপর অত্যাধিক চাপ পড়বে, পেশির সচলতা কমবে এবং মাঠে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একপ্রকার বিঘ্নিত হবে।
চলতি বিশ্বকাপে চরম আবহাওয়া বিষয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক জরিপ অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের অন্তত ৯টি ম্যাচ বহু বিপজ্জনক আবহাওয়ার মধ্যে খেলা হয়েছে।
ফুটবলারদের বৈশ্বিক ইউনিয়ন ‘ফিফপ্রো’ সাফ জানিয়েছে যে, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং সৌর বিকিরণ বিবেচনা করে তৈরি হওয়া বিশেষ ‘ডব্লিউবিজিটি’ সূচক যদি ২৮ ডিগ্রি অতিক্রম করে, তাহলে সেই ম্যাচ অবিলম্বে স্থগিত বা বাতিল করা উচিত।
এই তীব্র দাবদাহ শুধুমাত্র ফুটবলারদের নয়, বরং স্টেডিয়ামে আসা হাজার হাজার দর্শকদেরও বিপদের মুখে ফেলেছে।
পার্কিং লট বা স্টেডিয়ামের দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে থাকা দর্শকদের ডিহাইড্রেশন (পানিশূন্যতা) এবং হিট স্ট্রোকের লক্ষ্যবস্তু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে জার্মানি। তবে অনেকের মতে, মাঠের ফলাফলের চেয়েও বড় একটি সমস্যা হচ্ছে জার্মান ফুটবলের ভেতরের সংস্কৃতি—ব্যর্থতার পর একজন খেলোয়াড়কে দায়ী করে ‘বলির পাঁঠা’ বানানোর প্রবণতা।
২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল জার্মানিকে। তুর্কি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় মেসুত ওজিল ব্যাপক সমালোচনার শিকার হন। এই পরিস্থিতির পর তিনি জাতীয় দল থেকেই অবসর গ্রহণ করেন।
অন্যদিকে, এবারের বিশ্বকাপের সময় প্যারাগুয়ের কাছে হেরে যাওয়ার পর জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন কুর্দি ও ইয়াজিদি বংশোদ্ভূত ফরোয়ার্ড দেনিজ উনদাভকে। তিনি দাবি করেন, ম্যাচের শুরুতেই সহজ একটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি উনদাভ।
কিন্তু জার্মান সমর্থকদের একটি বড় অংশ কোচের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, দলের ব্যর্থতার জন্য একজন খেলোয়াড়কে দোষারোপ করার পরিবর্তে কোচের কৌশল এবং দল নির্বাচন নিয়েই প্রশ্ন তোলা উচিত।
বিশ্বকাপের শুরুতে উনদাভ বদলি হিসেবে নেমে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে জার্মানিকে গ্রুপ পর্ব পার হতে সাহায্য করেছিলেন। তাই অনেকের ধারণা, বিদায়ের দায় একাই তার উপর চাপানো অন্যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, জার্মান ফুটবলের আসল সংকট আরো গভীরে। এক সময় যুব উন্নয়ন, আধুনিক কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিশ্বসেরা দল গড়ে তুলেছিল জার্মান ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু বর্তমানে সেই কাঠামো নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাদের বিকাশে পূর্বের মতো কার্যকর নয় বলেই মত দিচ্ছেন অনেকেই।
তাদের মতে, যদি জার্মানি ভবিষ্যতে আবারও বিশ্বকাপে সাফল্য পেতে চায়, তাহলে একজন খেলোয়াড়কে দোষারোপ করার পরিবর্তে নিজেদের কাঠামোগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় প্রাণবন্ত জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন এবং ভূমিকম্প ঝুঁকির মোকাবেলা করতে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই সভাটি বৃহস্পতিবার নগর ভবনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, ‘নগরীকে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
সভায় পরিষ্কারভাবে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে যে, বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। এ লক্ষ্যে, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবগঠিত কমিটি করপোরেশনের ১০টি অঞ্চলভিত্তিক বৃক্ষরোপণের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিস্তারিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।
সভায় জানানো হয়, পরিবেশ সুরক্ষায় ডিএসসিসি’র ‘জিরো সয়েল’ প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন সড়ক দ্বীপে (মিডিয়ান) প্রায় ১৮ হাজার বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। তাছাড়া, গত ১৬ জুন ডিএসসিসি এলাকায় একযোগে ৬০০টি চারা রোপণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বছরের জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছিল।
এদিকে, নগরীর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের বিষয়টি সভায় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে ভূমিকম্পের মতো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলা করার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, রাজউক এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মধ্যে একটি কার্যকর এবং সুদৃঢ় সমন্বয় গড়ে তোলার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার চাটমোহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল বেলা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে রেলবাজার এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিকেলে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। ওই মিছিলটি চাটমোহর-টেবুনিয়া সড়ক ও রেলওয়ে স্টেশন এলাকা প্রদক্ষিণ করে রেলবাজার মোড়ে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বিএনপি নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, শান্ত চাটমোহরকে অশান্ত ও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
যাদের নেত্রী ভারতে পালিয়ে আছে, তারা কি করে রাজনীতি করার সাহস দেখায়? আগামীতে যদি চাটমোহরের কোথাও আওয়ামী লীগ উঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেবে বিএনপি। আওয়ামী লীগ মিছিল করলে তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। বিএনপি আপনাদেরকে শান্তিতে রেখেছে, আপনারা শান্তিতে আছেন, শান্তিতে থাকেন। গুপ্ত মিছিল করে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইলে আপনাদেরও শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না।
মূলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম লিখন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক লিটন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যক্ষ মাহমুদুল আলম মাহমুদ, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুস আলো, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মুন্তাজ আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক খোকন প্রধান, মূলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস রেজা, ছাইকোলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব এবং মূলগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রনিসহ আরও অনেকে।
প্রসঙ্গত, বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা মিছিলের খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেখানে গিয়ে কাউকে না পেয়ে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় মূলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ