০৯:৩৮ এম
অভিনেত্রী তাপসী পন্নু একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকার জন্য প্রস্তুত নন। তিনি নিজেই তাঁর ভাবনা পরিষ্কার করেছেন।
বলিউডে শক্তিশালী ও স্বাধীনচেতা নারী চরিত্রে অভিনয় করে তাপসী পন্নু নিজের জন্য একটি আলাদা স্থান তৈরি করেছেন। ‘পিঙ্ক’, ‘থাপ্পড়’, ‘বদলা’, ‘মুল্ক’, ‘হাসিন দিলরুবা’-র মতো ছবিতে তাঁর চরিত্রগুলো প্রচলিত সামাজিক ধারণাকে বার বার চ্যালেঞ্জ করেছে। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিচয় তাঁর কাছে কিছুটা ‘খাঁচা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি একই ধরনের চরিত্রে বার বার অভিনয় করতে আগ্রহী নন। বরং, পর্দায় নিজেকে আরও বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে চান।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তাপসী জানিয়েছেন, ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনেত্রীদের একটি নির্দিষ্ট ধারার মধ্যে আটকে দেওয়ার প্রবণতা এখনো বিদ্যমান। তিনি বলেন, “গ্ল্যামারাস” চরিত্রের জন্য কিছু নির্দিষ্ট অভিনেত্রীর নাম ভাবা হয়, ঠিক তেমনি কঠিন বা সামাজিক সমস্যাভিত্তিক ছবির জন্যও একটি নির্দিষ্ট তালিকা রয়েছে। এই ‘টাইপকাস্টিং’-এর বিরুদ্ধে তাঁর আপত্তি রয়েছে।
আরও পড়ুন: শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!
তাপসী আবারও বলেন, ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনেত্রীদের একটি নির্দিষ্ট ধারার মধ্যে আটকে দেওয়ার প্রবণতা এখনও রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত।
তাপসীর বক্তব্য, “সবাই নিজের সুবিধাজনক জায়গায় ফিরে যাচ্ছেন, পরীক্ষিত পদ্ধতিই অনুসরণ করছেন।” এমন পরিস্থিতিতে যখন কোনো ছবির প্রস্তাব আসে, গল্প বা চরিত্র পছন্দ না হলে তিনি শুধু ‘না’ বলেই থেমে থাকছেন না। তিনি নির্মাতাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছেন, যদি দর্শক আগেই ছবির পরিণতি আঁচ করতে পারেন, তাহলে সেই ছবিতে তাঁকে নেওয়া ছবিটির জন্য ভালো হবে না। এমনকি, কিছু ছবিতে তিনি নিজেকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ডি-সেল’ করেছেন, অর্থাৎ নির্মাতাদের নিরুৎসাহিত করেছেন তাঁকে নেওয়ার জন্য।
তবে এই পরিস্থিতির পেছনে তাঁর অভিনয়জীবনের শুরু দিনগুলিও রয়েছে। তাপসী দাবি করেছেন, বলিউডে পা রাখার সময় তথাকথিত ‘নায়িকাকেন্দ্রিক’ পরিচিত চরিত্রের সুযোগ তাঁর সামনে খুব একটা ছিল না। ফলে, তাঁকে অন্য ধরনের, তুলনায় কঠিন চরিত্র বেছে নিতে হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই ছবিগুলো জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় তাঁর সেই পরিচয় আরও পাকাপোক্ত হয়েছে।
একই ধরনের চরিত্রে পর পর অভিনয় করা মানসিকভাবে স্বাস্থ্যকর নয় বলে মনে করেন তাপসী। ছবি: সংগৃহীত।
আরও পড়ুন: জাপান বাংলাদেশে সাড়ে ৭৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা
তাপসীর কথায়, “এটা অনেকটা তুষারগোলকের মতো। কেরিয়ারের শুরুতে নিয়মমাফিক, চেনা ছকের চরিত্রের কোন বিকল্প আমার সামনে ছিল না। তাই আমি অন্য ধরনের চরিত্র বেছে নিয়েছিলাম। ভাগ্যক্রমে সেই ছবি ও চরিত্রগুলো পরে মূলধারায় জায়গা করে নেয়।”
একই ধরনের চরিত্রে পর পর অভিনয় করা মানসিকভাবে স্বাস্থ্যকর নয় বলেই তিনি মনে করেন। তাই এবার চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও বেশি বৈচিত্র চান তিনি। ২০২৪-এর ‘খেল খেল মে’-র মতো হালকা মেজাজের, মজার ছবিতেও অভিনয় করতে তাঁর আপত্তি নেই।
বর্তমানে তাপসীর দৃষ্টি তাঁর নতুন ছবি ‘গান্ধারী’-তে। নেটফ্লিক্সে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাবে ছবিটি। সেখানে তাঁকে দেখা যাবে বাণীর চরিত্রে—এক মা, যার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। মেয়েকে উদ্ধার করতে তিনি এক বিপজ্জনক, নিরলস অভিযানে নেমে পড়েন। ফের শক্তিশালী চরিত্র হলেও, তাপসীর সাম্প্রতিক বক্তব্য স্পষ্ট—একটি নির্দিষ্ট ছকে তাঁকে আর বেঁধে রাখা যাবে না। অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর পরবর্তী চ্যালেঞ্জ, সেই ছক ভেঙে নতুন নতুন চরিত্রে নিজেকে আবিষ্কার করা।
আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দরে লাগেজ হারানো যাত্রীদের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি বার্তা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন