০৪:৩১ এম
অ্যাজমার সমস্যার বিষয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন থাকে—কিছু খাবার কি তাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যাকে বৃদ্ধি করতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতানুসারে, খাবার সরাসরি অ্যাজমার কারণ নয়। তবে কিছু নির্দিষ্ট খাবার সংবেদনশীল লোকেদের ক্ষেত্রে উপসর্গ বাড়িয়ে তুলতে পারে। আবার, কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার ফুসফুসের স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। অতএব, কোন খাবার উপকারী এবং কোনটি এড়িয়ে চলা উচিত, সে বিষয়ে সচেতন থাকলে অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারে।
অ্যাজমা একটি দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসনালীর রোগ, যেখানে শ্বাসনালীতে প্রদাহ এবং সংকোচনের কারণে শ্বাস নেওয়ার সমস্যা হয়। যদিও খাদ্যাভ্যাস এই রোগের কারণ নয়, কিছু মানুষের জন্য নির্দিষ্ট খাবার উপসর্গের ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যাদের সালফাইটে সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের শুকনো ফল, ওয়াইন বা কিছু প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করার সময় সতর্ক থাকা উচিত। একইভাবে, প্রিজারভেটিভযুক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংস যেমন হট ডগ, সসেজ, হ্যাম, পেপারোনি বা টিনজাত মাংস—এগুলোকে সীমিত পরিমাণে খাওয়াই উত্তম। অতিরিক্ত, যেসব খাবারে ব্যক্তি নিজে অ্যালার্জি অনুভব করেন, যেমন দুধ, ডিম, চিনাবাদাম, শেলফিশ, সেগুলোও নিরাপদভাবে এড়িয়ে চলা উচিত।
চিকিৎসকদের মতে, যদি কেউ নিজের অ্যাজমার ট্রিগারগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো থেকে দূরে থাকেন, তবে রোগ নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হয়।
আরও পড়ুন: শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ৮ দর্শনীয় স্থান
আরও পড়ুন: কানের ভেতর ভনভন শব্দ, কী এই ‘গ্লোবাল হাম’? খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব নিয়ে সমীক্ষা কী বলছে? ২০২০ সালে Nutrition Reviews সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, উদ্ভিদভিত্তিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শরীরের প্রদাহ ও জারণজনিত চাপ কমাতে এবং অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। ফলস্বরূপ, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাজমার উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব প্রদান করতে পারে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল ও শাকসবজি খাওয়া, প্রাণিজ খাবার তুলনামূলকভাবে কম গ্রহণ করা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া কমাতে সহায়ক।
ফুসফুসের সুস্থতায় উপকারী খাবারসমূহের মধ্যে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি রাখা অত্যন্ত হিসাবী। বেরি, কমলা, পালং শাক, ব্রোকলি ও গাজর এর মধ্যে ইঙ্গিত দেওয়া যেতে পারে, যেগুলো প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, স্যামন, সার্ডিন, আখরোট ও ফ্ল্যাক্স সিডের মতো ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবারও ফুসফুসের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়।
এছাড়া ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার, পূর্ণ শস্য, ডাল এবং ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার—যেমন বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও কুমড়ার বীজ—সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেও ধারণা করা যেতে পারে। তবে খাদ্যাভ্যাস কখনোই অ্যাজমার চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে না। উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ ও নিয়মিত ফলোআপই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: মেঘমুক্ত আকাশে পঞ্চগড় থেকে দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘা, উচ্ছ্বসিত প্রকৃতিপ্রেমীরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন