ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কানের ভেতর ভনভন শব্দ, কী এই ‘গ্লোবাল হাম’?


কানের ভেতর ভনভন শব্দ, কী এই ‘গ্লোবাল হাম’?

 

আমরা আমাদের আশপাশের অনেকেকেই বলতে শুনি, তাদের কানের ভেতর কেমন একটা ভনভন শব্দ হয়। গত প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষগুলি এই অদ্ভুত এবং রহস্যময় শব্দের সম্মুখীন হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, এটি এক ধরনের ‘অবিরত গুঞ্জন বা ভনভন’ শব্দ। তবে সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, যিনি এটি শুনছেন, তার আশেপাশের অন্য কেউই এই শব্দ শুনতে পারেন না।

বিশ্বজুড়ে ‘গ্লোবাল হাম’ নামে পরিচিত এই ঘটনাটি দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানের অন্যতম জটিল রহস্য হয়ে ছিল। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা এই রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই শব্দের উৎস বাইরের কোনো পরিবেশ নয় বরং এটি মানুষের নিজস্ব শ্রবণতন্ত্রের ভেতর থেকেই তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: পুরুষদের চেয়ে নারীরা কেন বেশি দিন বাঁচেন?

জার্মান সেন্টার ফর ভার্টিগো অ্যান্ড ব্যালেন্স ডিসঅর্ডার্স এবং নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকদের একটি যৌথ উদ্যোগে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী পিএলওএস ওয়ান-এ তাদের এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ‘গ্লোবাল হাম’ আসলে বাইরের পরিবেশ থেকে আসা কোনো বাস্তব শব্দ নয়। এটি মূলত ‘লো-ফ্রিকোয়েন্সি টিনিটাস’ বা কম কম্পাঙ্কের এক ধরনের বিরল কানের রোগ হতে পারে।

সাধারণত টিনিটাস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কানে বিভিন্ন ধরনের কাল্পনিক বা ‘ফ্যান্টম সাউন্ড’ শুনতে পান—যার মধ্যে রয়েছে ভনভন করা, গর্জন, ক্লিক বা হিসহিস শব্দ। আমেরিকার মেয়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, এটি অত্যন্ত সাধারণ একটি সমস্যা, যা বিশ্বের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ মানুষকে প্রভাবিত করে। সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

তবে এই গুঞ্জনটি প্রথম বড় আকারে আলোচনায় আসে ১৯৭০-এর দশকে। সে সময় ব্রিটেনের ব্রিস্টল শহরের বাসিন্দারা প্রায় ৫০ হার্টজের একটি কম কম্পাঙ্কের শব্দ শোনার কথা জানান।

আরও পড়ুন: শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ৮ দর্শনীয় স্থান

এর কয়েক বছর পর অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং উত্তর আমেরিকার বেশ কিছু এলাকা থেকেও একই ধরনের অভিযোগ আসতে শুরু করে। আক্রান্ত ব্যক্তিরা জানান, তারা একটানা একটি নিচু স্তরের গর্জন বা গুঞ্জন শুনতে পাচ্ছেন, অথচ তাদের পাশে থাকা ব্যক্তিটি কিছুই টের পাচ্ছেন না।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, শব্দটি নির্দিষ্ট কিছু স্থানে (যেমন রাতে শোবার ঘরে) প্রকট হয়ে ওঠে এবং অন্য জায়গায় গেলে মিলিয়ে যায়। ফলে এর উৎস খুঁজে বের করা বিজ্ঞানীদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

শব্দের উৎস খুঁজতে পরিবেশের দিকে নজর না দিয়ে গবেষকরা এবার নজর দেন ভুক্তভোগী মানুষদের ওপর। এই গবেষণার জন্য এমন ২৮ জন স্বেচ্ছাসেবীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যারা নিয়মিত এই রহস্যময় শব্দ শোনার দাবি করতেন। মূলত দুটি প্রধান সম্ভাবনা যাচাই করতে তাদের ওপর বিভিন্ন পরীক্ষা চালানো হয়:

১. প্রথম সম্ভাবনা: এই ব্যক্তিরা কি সাধারণ মানুষের চেয়ে কম কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল?

আরও পড়ুন: মেঘমুক্ত আকাশে পঞ্চগড় থেকে দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘা, উচ্ছ্বসিত প্রকৃতিপ্রেমীরা

২. দ্বিতীয় সম্ভাবনা: তারা কি তাদের কানের ভেতরেই তৈরি হওয়া কোনো শব্দ শুনছেন? যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘কক্লিয়ার এমিশন’ বলা হয়। এটি মূলত মানুষের কানের ভেতর থেকে তৈরি হওয়া অত্যন্ত মৃদু একটি শব্দ, যা সাধারণ মানুষ সাধারণত টের পায় না।

গবেষণার ফলাফল বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাহ্যিক কোনো পরিবেশগত ত্রুটি নয়, বরং মানুষের শ্রবণতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ এই জটিলতাই ‘গ্লোবাল হাম’ অনুভূতির আসল কারণ।

সূত্র: সামা টিভি

আরও পড়ুন: বুধবার ১২ রাশির অর্থভাগ্যে সতর্কতা, জেনে নিন রাশিফল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন গোলদাতা মেসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৪ এম


বিশ্বকাপে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন গোলদাতা মেসি

কেপ ভার্দের বিপক্ষে চলমান বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে গোল করে আরও একটি অনন্য কীর্তি গড়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০-এ, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সাথে টানা আটটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার বিরল রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।

এই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করা সবচেয়ে বেশি বয়সী দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলারও হয়েছেন মেসি। ৩৯ বছর ৯ দিন বয়সে গোল করে তিনি ভেঙেছেন উরুগুয়ের ওবদুলিও ভারেলার রেকর্ড। ভারেলা ১৯৫৪ বিশ্বকাপে ৩৬ বছর বয়সে এই কীর্তি গড়েছিলেন।

চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির সপ্তম গোল। ফলে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি আরও এগিয়ে গেলেন। বর্তমানে তার গোলসংখ্যা ২০। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল ১৮টি এবং তৃতীয় স্থানে থাকা জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের গোল ১৬টি।

বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা:

লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) — ২০ গোল (৩০ ম্যাচ)

কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স) — ১৮ গোল (১৮ ম্যাচ)

মিরোস্লাভ ক্লোসে (জার্মানি) — ১৬ গোল (২৪ ম্যাচ)

রোনালদো নাজারিও (ব্রাজিল) — ১৫ গোল (১৯ ম্যাচ)

গার্ড মুলার (জার্মানি) — ১৪ গোল (১৩ ম্যাচ)

জুস্ত ফন্টেইন (ফ্রান্স) — ১৩ গোল (৬ ম্যাচ)

পেলে (ব্রাজিল) — ১২ গোল (১৪ ম্যাচ)

চলতি আসরের প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন মেসি। এরপর অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষেও গোল করেন তিনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করে টুর্নামেন্টে নিজের দুর্দান্ত গোল করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

মেসির টানা আট বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার যাত্রা শুরু হয় ২০২২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এরপর নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান এবং সর্বশেষ কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যোগ করলেন আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই ফুটবলার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল বঙ্গোপসাগর

শত শত ফিশিং ট্রলার সুন্দরবন ও বিভিন্ন মৎস্যঘাটে আশ্রয় নিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ এম


শত শত ফিশিং ট্রলার সুন্দরবন ও বিভিন্ন মৎস্যঘাটে আশ্রয় নিয়েছে

সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালসহ উপকূলীয় মৎস্যঘাটগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে শত শত ফিশিংবোট ও ট্রলার। বঙ্গোপসাগরে হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের মুখে টিকতে না পেরে তারা নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। দীর্ঘ ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা (অবরোধ) শেষে সম্প্রতি সাগরে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ ধরতে গিয়েছিলেন জেলেরা। কিন্তু তারা যাত্রা শুরুর পরপরই আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে হতাশা নিয়ে উপকূলে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) খবর নিয়ে জানা যায়, গত দুই দিন ধরে সাগরে প্রবল বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। প্রবল পূবালী বাতাসের কারণে সাগরে বিশাল বিশাল ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে উত্তাল সাগরে অবস্থান করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় ট্রলারগুলো উপকূলের দিকে ছুটে আসে। কিছু ফিশিংবোট সুন্দরবনের দুবলার চরের ভেদাখালী খাল, মেহেরআলী ও আলোরকোলসহ বনের বিভিন্ন নিরাপদ পয়েন্টে নোঙর করেছে। সুন্দরবনের ভেদাখালী খালে আশ্রয় নেওয়া বাগেরহাটের বগা এলাকার ফিশিং ট্রলারের মাঝি নজরুল ইসলাম শুক্রবার দুপুরে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন, সাগরে গত দুদিন ধরে প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে ট্রলার টিকিয়ে রাখা যাচ্ছিল না। তারা জীবন ও সম্পদ রক্ষার্থে দ্রুত সুন্দরবনের নিরাপদ খালে আশ্রয় নিয়েছেন এবং আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করছেন। শরণখোলা উপজেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন জানান, বঙ্গোপসাগর বর্তমানে অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের কারণে টিকতে না পেরে কয়েকশ ফিশিং ট্রলার শরণখোলার রায়েন্দা, মহিপুর, খেপুপাড়া, নিদ্রাসখিনা এবং পাথরঘাটা উপকূলসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে আছে। দীর্ঘ ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বিপুল দাদন ও ধারদেনা করে জেলেরা সাগরে গিয়েছিলেন। কিন্তু শুরুতেই এই দুর্যোগের মুখে পড়তে হলো। শরণখোলার রায়েন্দা মৎস্যঘাটের আড়তদার কবির হোসেন জানিয়েছেন, সাগরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় অনেক ট্রলার সাগরে না গিয়ে গত দুই দিন ধরে রায়েন্দা মৎস্যঘাটেই নিরাপদ নোঙর করে আছে। ফলে ঘাট এলাকায় ট্রলারের জটলা তৈরি হয়েছে। একই বিষয়ে বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানিয়েছেন, জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন। উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে অধিকাংশ ফিশিংবোট ও ট্রলারবহর এখন উপকূলের দিকে ছুটে আসছে এবং যার যার সুবিধাজনক নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো ট্রলারই সাগরে ফিরতে পারছে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আদাবরে বিএনপি নেতা বাদশা হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ২ জন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৪ এম


আদাবরে বিএনপি নেতা বাদশা হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ২ জন গ্রেফতার

ঢাকার আদাবর থানাধীন নবোদয় হাউজিং এলাকায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. সুমন (২৫) এবং কথিত হুকুমদাতা মো. শহীদকে (৫৯) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

শুক্রবার (৩ জুলাই) র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান এ তথ্য জানান।

তিনি জানিয়েছেন, গত ২৯ জুন নবোদয় হাউজিং এলাকায় জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশার পক্ষের সঙ্গে একই এলাকার রিপন ও পারভেজ গ্রুপের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

এরপর ১ জুলাই সন্ধ্যের দিকে দুপক্ষ সালিসে বসলেও কোনো সমাধান হয়নি। রাত ৮টার দিকে সাদ্দাম ও বাদশা সালিসস্থল থেকে চলে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। তাদের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বাদশাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর আসামিদের গ্রেফতারে র‌্যাব-২ গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে জানা যায়, প্রধান আসামি সুমন জামালপুর সদর এলাকায় এবং কথিত হুকুমদাতা শহীদ ময়মনসিংহের নান্দাইল এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে র‌্যাব-২ ও র‌্যাব-১৪-এর যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান আরও জানান, গ্রেফতার সুমনের বিরুদ্ধে এর আগে মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ দুটি মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক দুজন শোয়েব হোসেন সোয়াইব ও মো. কবিরকে শুক্রবার কারাগারে পাঠিয়েছে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাফিজুর রহমান আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডে আটক দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ মিললে তাদের হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে। একই সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে এবং তাদের পরিচয়-ঠিকানা যাচাইয়ের প্রয়োজন থাকায় কারাগারে রাখা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মায়ের স্বপ্ন পূরণে হেলিকপ্টারে গ্রামে ফিরলেন প্রবাসী সন্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৮ এম


মায়ের স্বপ্ন পূরণে হেলিকপ্টারে গ্রামে ফিরলেন প্রবাসী সন্তান

মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যে এবং তার বহুদিনের লালিত একটি স্বপ্ন পূরণ করতে পোল্যান্ডপ্রবাসী ওয়াসিম মুন্সি ব্যতিক্রমী একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিদেশে ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জনের পর, তিনি দেশে ফিরে সড়কপথে নয়, শুক্রবার দুপুরে হেলিকপ্টারে করে তার মাকে সঙ্গে নিয়ে নিজ গ্রামের দিকে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের নন্দিরচরে পৌঁছান। এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের ফলে পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং পুরো গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।

স্বভাবতই, নন্দিরচর গ্রামের বাসিন্দা কাদের মুন্সির ছেলে ওয়াসিম মুন্সি দীর্ঘদিন ধরে পোল্যান্ডে বসবাস করছেন। পোল্যান্ডে তিনি সফলভাবে একটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করছেন। প্রবাসজীবনের ব্যস্ততা সত্ত্বেও, মায়ের একটি স্বপ্ন তিনি ভুলে যাননি। দেশে ফিরে এসে, তিনি সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেন।

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর, ওয়াসিম মুন্সি তার মাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। যেই মুহূর্তে হেলিকপ্টারটি নন্দিরচরের আকাশে উড়তে দেখা যায়, তখন থেকে উশুক মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। শুধু গ্রামের মানুষই নয়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও শত শত মানুষ এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখতে ছুটে আসে।

হেলিকপ্টারটি অবতরণের পর পুরো এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তবে, সবচেয়ে আবেগপূর্ণ মুহূর্ত ছিল একজন মায়ের মুখে ফুটে ওঠা তৃপ্তির হাসি। সন্তানের কাছ থেকে এমন ভালোবাসা ও সম্মানে তিনি আপ্লুত হয়ে পড়েন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন।

ওয়াসিম মুন্সি মায়ের পাশাপাশি বাবা কাদের মুন্সি এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন। তার এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসজীবনের সাফল্যের প্রকাশের পাশাপাশি, বাবা-মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার এক অনন্য নজির ফুটে ওঠে।

স্থানীয় জনগণের মতে, বিদেশে গিয়ে অনেকেই সফল হয়, কিন্তু বাবা-মায়ের স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন হিসেবে নিয়ে তা পূরণ করতে এমন উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। তারা মনে করেন, ওয়াসিম মুন্সির এই আয়োজন কেবল একটি পরিবারের আনন্দ নয়, বরং সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধ ও মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বিদেশ থেকে অনেকেই সফল হন, কিন্তু মায়ের স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন হিসেবে দেখতে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা খুব কম। ওয়াসিমের এই উদ্যোগ আমাদের সবার জন্য একটি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

আরেক গ্রামবাসী জানান, হেলিকপ্টারে মানুষ গ্রামে আসতে দেখেছি, কিন্তু শুধুমাত্র মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য এমন উদ্যোগ সত্যিই বিরল। এটি আমাদের সবার হৃদয়ে একটি প্রভাব ফেলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%