বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:৫৭ পি.এম
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কুড়িগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে এই কর্মসূচিটি জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে হয়, যা প্রদক্ষিণ করে এবং একই স্থানে এসে শেষ হয়। এরপর পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যা জেলা প্রশাসক (রু. দা.) আসাদুজ্জামান এর সভাপতিত্বে পরিচালিত হয়।
এতে অংশগ্রহণ ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ রানা, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মীর্জা মোঃ নাসির উদ্দীন, আলিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাও: নুর বক্ত, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ড. সাইফুর রহমান সরকার, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান, ফ্রেন্ডশিপের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী আব্দুস সালাম, ব্র্যাক এর জেলা সমন্বয়কারী সৈয়দ ফাহিদ হাসান, এএফএডি এর টেকনিক্যাল ফেসিলিটেটর ফাতেমা আক্তার, ওয়ার্ল্ড ভিশন প্রতিনিধি সঞ্জীব গাইনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক এবং সুধীজন।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন কুড়িগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম।
সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এই অবস্থায় কুড়িগ্রামে বৃক্ষরোপণ, নদী-খাল রক্ষা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত।
বক্তাদের আরও বক্তব্য ছিল, পরিবেশ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা স্কুল-কলেজ পর্যায়ে পরিবেশ শিক্ষা ও সচেতনামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান এবং একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন। শেষে, সবাই একযোগে পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের সনদ ও স্মারক প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে সরকার দেশের ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে, এমন তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে 'নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই তথ্য সবার কাছে প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা না করেই নগরবাসী যেন সহজে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পায়, তার উদ্দেশ্যে সরকার কাজ শুরু করেছে। এতে বিশেষভাবে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো আরও সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হচ্ছে। সেইসাথে, ৫০ শয্যা ও জেলা হাসপাতালগুলোতেও ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, নতুন অবকাঠামো, ভবন ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যাতে দেশের কোন গ্রাম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না থাকে। চিকিৎসার অভাবে যাতে কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, সেই লক্ষ্যেও স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর কাজ চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর মোকারম হোসেন দুই যুগ ধরে সমাজসেবার ব্রতে নিজেকে নিযুক্ত রেখেছেন।
সমাজের হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো তার কাছে নেশায় পরিণত হয়েছে। গ্রামের নারীদের নিয়ে টুপি সেলাই, নকশী কাঁথা সেলাই, ঠোঁটকাটা, তালুফাঁটা রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান, চোখের ছানি অপারেশন, প্রতিবন্ধিদের জন্য সাদাছড়ি এবং হুইল চেয়ার প্রদান, ছাগল-পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলার মতো নানা উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি মানব সেবার কাজ করে আসছেন। মোকারম হোসেন রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার অলংকারপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মোকারম হোসেন জীবিকার তাগিদে ১৯৮০-৮১ সালে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান এবং সেখানে কিছুদিন পর মালয়েশিয়াতে চলে যান। দেশে ফিরে এসে বাবার পৈত্রিক সম্পত্তিতে চাষাবাদ শুরু করেন। ২০০০ সালে তিনি তার নিজ বাড়িতে এলাকার গরীব ও অসহায় নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টুপি সেলাই ও নকশী কাথা সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, পাশাপাশি নিজের অর্থায়নে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।
তিনি সমন্বিত প্রমিলা মুক্তি প্রচেষ্টা নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রথমদিকে নিজের গ্রামে কর্মসূচি শুরু করেন এবং পরে আশপাশের গ্রামসহ জেলা ও অন্যান্য জেলায় কার্যক্রম বিস্তৃত করেন। সমাজের অবহেলিত ও হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী পরিবারকে বাছাই করে সাবলম্বী করতে তিনি বেশ কিছু ভিক্ষুককে ছাগল প্রদান করেছেন এবং তাদের জন্য মুদিখানার মালামাল সরবরাহ করেছেন।
তারপর তিনি ঠোঁটকাটা ও তালুফাঁটা রোগীদের বাছাই করে বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা করেছেন। এ যাবৎকাল পর্যন্ত তিনি ২৭৯২ জন্মগত ঠোঁটকাটা তালুফাঁটা রোগীর অপারেশন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করেন। এছাড়া তিনি ২৫২ জনকে চোখের ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করেছেন। ডোম, মুচি, হরিজন, ঋষি সম্প্রদায়ের বিশেষ মানুষের সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করতে আইনগত প্রশিক্ষণ, কুঠির শিল্প সম্প্রসারণসহ নানা ভাবে সহযোগিতা করেন। তাদের জীবনের মানোন্নয়নে ২০১৪ সালে হায়দ্রাবাদের বালা বিকাশায় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন এবং সেই প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে সমাজসেবামূলক কাজ করেন। ধূমপান বিরোধী কার্যক্রম ও তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করার কাজও করেন তিনি।
সমন্বিত প্রমিলা মুক্তি প্রচেষ্টার পরিচালক মোঃ মোকারম হোসেন বলেন, '২০০০ সাল থেকে কাজ শুরু করি। এখন আমার যেন নেশায় পরিণত হয়েছে। ভালো কাজ করতে না পারলে ভালো লাগে না।' তিনি আরও বলেন, 'সমাজসেবামূলক এই কর্মকাণ্ডকে বেগবান করতে বিভিন্ন ধরনের কর্মশালা ও সেমিনারের আয়োজন করা হচ্ছে। সমাজের অবহেলিত কেউ যেন বাদ না পড়ে এ কর্মকাণ্ড থেকে, সেজন্য আমার আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেছারাবাদে একই রাতে তিন বাড়িতে ডাকাতি, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুট প্রায় সাড়ে ২২ লাখ টাকার মালামাল


তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীনের দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংসি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার কারণে বৃহস্পতিবার মৃতের সংখ্যা ৩৯ জনে পৌঁছেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও নয় জন নিখোঁজ রয়েছে।
এছাড়া, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে চলতি সপ্তাহে প্রবল বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে, সপ্তাহান্তে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর দিকে একটি সুপার টাইফুন আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে, রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বলছে যে, এই ঘটনায় লিউলান জলাধারের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ওই এলাকায় এখনও সাত জন নিখোঁজ রয়েছে।
যদিও বন্যার পানি অনেকটা নেমে গিয়েছে, তবুও এএফপি’র প্রতিবেদকরা বুধবার লিউলানে পৌঁছালে সেখানকার সড়ক ও বাড়িঘর এখনও পুরু কাদায় ঢেকে ছিল।
জলাধার থেকে নদীতে তখনও প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। উদ্ধারকারী দল ড্রোন ব্যবহার করে নদীর অপর পাড়ে আটকে পড়া মানুষের কাছে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি এ সপ্তাহের শুরুতে প্রকাশিত ভিডিওতে জলাধারের কংক্রিটের বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি বেরিয়ে আসার স্থিতি দেখা যায়।
এই অবস্থায় লাইফ জ্যাকেট পরিহিত উদ্ধারকর্মীরা ফোলানো নৌকায় করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ