প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজবাড়ীর মোকারম হোসেন দুই যুগ ধরে সমাজসেবার ব্রতে নিজেকে নিযুক্ত রেখেছেন।
সমাজের হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো তার কাছে নেশায় পরিণত হয়েছে। গ্রামের নারীদের নিয়ে টুপি সেলাই, নকশী কাঁথা সেলাই, ঠোঁটকাটা, তালুফাঁটা রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান, চোখের ছানি অপারেশন, প্রতিবন্ধিদের জন্য সাদাছড়ি এবং হুইল চেয়ার প্রদান, ছাগল-পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলার মতো নানা উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি মানব সেবার কাজ করে আসছেন। মোকারম হোসেন রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার অলংকারপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মোকারম হোসেন জীবিকার তাগিদে ১৯৮০-৮১ সালে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান এবং সেখানে কিছুদিন পর মালয়েশিয়াতে চলে যান। দেশে ফিরে এসে বাবার পৈত্রিক সম্পত্তিতে চাষাবাদ শুরু করেন। ২০০০ সালে তিনি তার নিজ বাড়িতে এলাকার গরীব ও অসহায় নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টুপি সেলাই ও নকশী কাথা সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, পাশাপাশি নিজের অর্থায়নে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।
তিনি সমন্বিত প্রমিলা মুক্তি প্রচেষ্টা নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রথমদিকে নিজের গ্রামে কর্মসূচি শুরু করেন এবং পরে আশপাশের গ্রামসহ জেলা ও অন্যান্য জেলায় কার্যক্রম বিস্তৃত করেন। সমাজের অবহেলিত ও হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী পরিবারকে বাছাই করে সাবলম্বী করতে তিনি বেশ কিছু ভিক্ষুককে ছাগল প্রদান করেছেন এবং তাদের জন্য মুদিখানার মালামাল সরবরাহ করেছেন।
তারপর তিনি ঠোঁটকাটা ও তালুফাঁটা রোগীদের বাছাই করে বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা করেছেন। এ যাবৎকাল পর্যন্ত তিনি ২৭৯২ জন্মগত ঠোঁটকাটা তালুফাঁটা রোগীর অপারেশন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করেন। এছাড়া তিনি ২৫২ জনকে চোখের ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করেছেন। ডোম, মুচি, হরিজন, ঋষি সম্প্রদায়ের বিশেষ মানুষের সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করতে আইনগত প্রশিক্ষণ, কুঠির শিল্প সম্প্রসারণসহ নানা ভাবে সহযোগিতা করেন। তাদের জীবনের মানোন্নয়নে ২০১৪ সালে হায়দ্রাবাদের বালা বিকাশায় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন এবং সেই প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে সমাজসেবামূলক কাজ করেন। ধূমপান বিরোধী কার্যক্রম ও তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করার কাজও করেন তিনি।
সমন্বিত প্রমিলা মুক্তি প্রচেষ্টার পরিচালক মোঃ মোকারম হোসেন বলেন, '২০০০ সাল থেকে কাজ শুরু করি। এখন আমার যেন নেশায় পরিণত হয়েছে। ভালো কাজ করতে না পারলে ভালো লাগে না।' তিনি আরও বলেন, 'সমাজসেবামূলক এই কর্মকাণ্ডকে বেগবান করতে বিভিন্ন ধরনের কর্মশালা ও সেমিনারের আয়োজন করা হচ্ছে। সমাজের অবহেলিত কেউ যেন বাদ না পড়ে এ কর্মকাণ্ড থেকে, সেজন্য আমার আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন