০৫:১২ পি.এম
জামালপুরের সাংবাদিক মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি সহ বিভিন্ন হুমকি দেওয়ার অভিযোগের তদন্তের নির্দেশের পর তদন্ত শুরু করেছে জামালপুর সদর থানা পুলিশ। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ৩ টায় সদর থানার এএসআই খোকন মিয়া জানিয়েছেন, হুমকি দাতার নাম যাচাই বাচাই করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন। গত সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে জামালপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান এই আবেদনটি গ্রহণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। মাসুদুর রহমান বর্তমানে দৈনিক সংবাদ সারাবেলা পত্রিকার জামালপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন এবং দৈনিক আলোচিত জামালপুর পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদকও।
জানা যায়, গত ৪ জুলাই মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিঝুড়ি পশ্চিমপাড়া এলাকার লেবু মিয়ার ছেলে তামিম আহমেদ সবুজ (ওরফে পিচ্চি সবুজ) (৩৫)-কে নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক মাসুদুর রহমান। ওই সংবাদটিতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী তথা নিজেকে জাতীয়তাবাদী তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের সভাপতি পরিচয়দানকারী তামিম আহমেদ সবুজের দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়। তিনি মাদারগঞ্জ এ.এইচ.জেড. সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও পরিচিত। ‘স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর ভিডিও ভাইরাল, চলছে আলোচনা-সমালোচনা’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই সংবাদটি বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সাংবাদিক মাসুদুর রহমানের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়। পরদিন ৫ জুলাই বিষয়টি মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নজরে আসলে, দলটির পক্ষ থেকে তামিম আহমেদ সবুজকে দলীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
জিডির তদন্ত আবেদনে অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ হয়ে ৫ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ২৬ মিনিটে জামালপুর শহরের মালগুদাম রোড এলাকায় অবস্থানকালে তামিম আহমেদ সবুজ তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৬১৭-৮২২৮৪৫ থেকে সাংবাদিক মাসুদুর রহমানের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৯৭৮-৫০৫২৪৪-এ কল ও বার্তা পাঠিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এই ঘটনায় সাংবাদিক মাসুদুর রহমান ৫ জুলাই জামালপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৩৫২, তারিখ: ০৫/০৭/২০২৬) করেন।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত
উল্লেখ্য যে, অভিযুক্ত তামিম আহমেদ সবুজের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষ ও নারীদের মারধর, ব্ল্যাকমেইল করে ভিডিও ধারণের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের মতো বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহার করে তাদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করারও অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপি তামিম আহমেদ সবুজকে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারণে মানছেন না তিনি এবং দলের নাম ভাঙিয়ে এখনো বিভিন্ন অপকর্মে যুক্ত রয়েছেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক মাসুদুর রহমান বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তামিম আহমেদ সবুজ আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে বারবার কল ও মেসেজ দিয়ে সংবাদ ও ফেসবুক পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন এবং বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। আমি তাকে জানাই, সংবাদ বা পোস্ট সরানো সম্ভব নয়। যদি তার কোনো বক্তব্য বা প্রতিবাদ থাকে, তাহলে তা মাদারগঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু পরদিন তিনি আমাকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং মেসেজের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে আমি জামালপুর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করি।” তিনি আরও জানান, “থানার পক্ষ থেকে এএসআই খোকন মিয়া বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।” এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: নাজমুস সাকিব বলেন, তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন