প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ তলা বিশিষ্ট নতুন অ্যাকাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ এখন সম্পূর্ণ থমকে গেছে, এর পেছনে রয়েছে নির্মাণ কাজের গুণগত মান বনাম পার্সেন্টেজ বা ঘুষের দ্বন্দ্ব। ঠিকাদারের অভিযোগ, তিনি ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমিশন (পিসি) না দেওয়ার ফলস্বরূপ প্রকৌশলী অন্যায়ভাবে কাজে বাধা দিচ্ছেন। আর অন্যদিকে, প্রকৌশলীর দাবি, কাজটি বন্ধ রাখা হয়েছে কারণ নির্মাণ সামগ্রী অত্যন্ত নিম্নমানের।
কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের এই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার এই বড় প্রকল্পটি বর্তমানে মাঝপথে ঝুলে রয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
কাজ বন্ধ থাকার বিষয় নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইডেন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রেজাউল আলম সরাসরি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠিয়েছেন। তিনি জানান, তারা সম্পূর্ণ উৎকৃষ্ট মানের বালু ও পাথর সরবরাহ করা সত্ত্বেও তাদের বেজমেন্ট ঢালাইয়ের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, কাজের মোট বাজেটের ৫ থেকে ৭ পার্সেন্ট কমিশন না দেওয়ার কারণে একটি অদৃশ্য কারণে এই বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কাজে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি করা হচ্ছে।
রেজাউল আলম জানান, যদি বালু ও পাথরের মান খারাপ হয় তবে তা পরিবর্তন করে দেওয়ার বিষয়টি তারা আগ্রহী।
অন্যদিকে, ঠিকাদারের আনা ঘুষের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তার দাবি, কাজের মান খারাপ হওয়াতেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নড়াইল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অরুনাভ রায় বলেন, কাজের মান নিয়ে তারা কোনো আপোশ করতে প্রস্তুত নয়। তিনি জানান, ঠিকাদারের সরবরাহ করা সামগ্রী মানসম্মত নয়। যদি তিনি নিয়ম অনুসারে সঠিক মানের সামগ্রী সরবরাহ না করেন, তবে দ্রুতই তার কার্যাদেশ বাতিল করা হবে এবং নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
এদিকে, দুই পক্ষের এই রেষারেষিতে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ জুড়ে তৈরি হয়েছে চরম অসুবিধা। সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের সিংহভাগ জুড়ে দিন দিন পড়ে আছে বালু ও পাথরের বিশাল স্তূপ। এর ফলে দুর্ভোগে রয়েছে বিদ্যালয়ের প্রারম্ভিক সমাবেশ (অ্যাসেম্বলি) এবং এতে বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও অবাধ বিচরণ। সামান্য বাতাসে পুরো মাঠ ধূলিময় হয়ে ওঠায় শিক্ষার্থীরা ধুলোবালির জন্য সমস্যায় পড়ছেন।
এছাড়াও, নতুন ভবনের বেজমেন্ট তৈরির জন্য খনন করা গভীর গর্তে বৃষ্টির পানি জমে কৃত্রিম ডোবার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে যেমন খেলার ছলে শিশুদের পড়ে যাওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, তেমনি জমে থাকা নোংরা পানি পরিণত হয়েছে মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্রে।
বিদ্যালয়ের এই পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন জানান, কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের এই অচলাবস্থার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম বর্তমানে সংকটে পড়েছে। মাঠের এই জটের কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। তিনি শীঘ্রই এই সংকটের সমাধান চেয়ে বলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন