০৯:২৪ এম
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা যখন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ইরান যুদ্ধে আহত মার্কিন সামরিক সদস্যদের সংখ্যা ৭৫৭-এর সাড়ে সাত শ পার হওয়ার ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ। বুধবার পেন্টাগনের যুদ্ধ হতাহতের তথ্যভান্ডার হালনাগাদ করার পর দেখা যায়, গত কয়েক দিনের অন্তরালে নতুন করে ৫০ জনেরও বেশি সেনা আহত হয়েছেন।
সব মিলিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে হতাহতের এই সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালিসিস সিস্টেমের রেকর্ড অনুযায়ী, ‘ওভারসিজ অপারেশন্স’ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র তথ্য একত্রে হিসাব করলে দেখা যায় যে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং বিদেশে আহত হয়েছেন ৭৫৭ জন। পরবর্তীতে তালিকায় যোগ হওয়া নতুন হতাহতদের নিয়ে এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত দীর্ঘ হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকরা জানান, তেহরানের পাল্টা আক্রমণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত অবস্থানে মার্কিন বাহিনীর ওপর টানা হামলার ফলেই হতাহতের সংখ্যা এত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতের আহ্বান
গত মাসে প্রতিরক্ষা বিভাগ তাদের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে ‘ওভারসিজ অপারেশন্স’ নামে একটি নতুন বিভাগ তৈরি করে, যেখানে ৭ জুলাই থেকে নিহত ও আহত হওয়া সেনাদের তথ্য নথিভুক্ত করা শুরু হয়। তবে এই নতুন বিভাগে প্রকাশিত হতাহতরা ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট সংঘাত বা অঞ্চলে আক্রমণের শিকার হয়েছেন—সে বিষয়ে এখনো পেন্টাগন কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেনি। ৭ জুলাই তারিখটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ঠিক এই দিনটিতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্টের আওতায় মার্কিন কংগ্রেসকে অবহিত করেছিল যে ইরানের বিরুদ্ধে এক নতুন পর্যায়ের সংঘাত শুরু হয়েছে।
তথ্য ও পরিসংখ্যান প্রকাশ নিয়ে পেন্টাগনের ভূমিকা ইতিমধ্যে গণমাধ্যম এবং মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো লক্ষ করে যে, ইরানি হামলা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও ড্যাশবোর্ডে নিহতের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। এমনকি রহস্যজনকভাবে চারজন সেনার মৃত্যু এবং ডজনখানেক আহতের তালিকা সেখানে থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল। পরবর্তীতে তীব্র অসন্তোষের মুখে সেই তথ্য পুনরায় তালিকায় ফিরিয়ে আনা হয়। সে সময় সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় পেন্টাগন দাবি করেছিল যে, সাময়িক ডেটা বিপর্যয় বা কারিগরি ত্রুটির কারণে পরিসংখ্যানের এই অসংগতি ঘটেছিল।
তবে যুদ্ধের শুরু থেকেই আহতের সঠিক তথ্য প্রকাশে পেন্টাগনের এই ধীরগতির নীতি নতুন কিছু নয়। এর আগেও মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত গোপনীয়তার দোহাই দিয়ে মার্কিন সামরিক প্রশাসন আহত সেনাদের প্রকৃত তথ্য বারবার চেপে রাখার চেষ্টা করেছে। বুধবার ট্রাম্প দাবি করেন যে ইরানের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত চমৎকার এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে একই সময়ে তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে রণতরি ও তেলবাহী জাহাজের ওপর চরম উত্তেজনা বজায় থাকা বাস্তব পরিস্থিতির সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।
সূত্র: সিএনএন
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের সাংবাদিকতা করার অনুমতি নেই: প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন