ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাইবান্ধায় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল তরুণের


গাইবান্ধায় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল তরুণের

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া রেলস্টেশনে আন্তনগর ট্রেনের ধাক্কায় দীপঙ্কর রাম (২৩) নামে এক তরুণের মৃত্যু ঘটে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কামারপাড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। মৃত দীপঙ্কর দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ভান্ডারা এলাকার ভুট্ট রামের ছেলে।

কামারপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার রফিক মিয়া জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে সান্তাহার থেকে ছাড়া বুড়িমারীগামী আন্তনগর করতোয়া ট্রেনের সঙ্গে কামারপাড়া রেলস্টেশনে আন্তনগর দোলনচাঁপা ট্রেনের ক্রসিং চলছিল। এ সময় অসাবধানতাবশত রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় করতোয়া ট্রেনের ধাক্কায় দীপঙ্কর রাম ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তার মরদেহ মাথায় গুরুতর আঘাত, একটি পা ভাঙা এবং ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: রাজশাহী কাটাখালিতে গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডল সহ দুই কুখ্যাত মাদক কারবারী গ্রেফতার

ঘটনার পর গাইবান্ধার বালাসীঘাট রেলওয়ে পুলিশ খবর পেয়ে ওই তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাইবান্ধার বালাসীঘাট রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাহেব গণি জানান, মৃত দীপঙ্কর রাম দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তিনি বলেন, পেটের দায়ে আয়-উপার্জনের জন্য নিজ বাড়ি থেকে দোলনচাঁপা ট্রেনে করে বালাসীঘাট হয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন দীপঙ্কর। পথিমধ্যে কামারপাড়া রেলস্টেশনে ট্রেন দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু ঘটে।

এ বিষয়ে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন হাসান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মোহনপুরে বিপুল পরিমান হেরোইন সহ মাদক কারবারী গ্রেফতার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ এম


জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল

ইসলামের দৃষ্টিতে, পবিত্র জুমা এবং জুমাবারের রাত-দিনের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ তায়ালার কাছে জুমার গুরুত্ব এত বেশি যে, কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাজিল করা হয়েছে।

আল্লাহ তা'আলা কোরআনে ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের আহ্বান জানানো হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে (মসজিদে) এগিয়ে যাও এবং বেচা-কেনা (দুনিয়াবি যাবতীয় কাজকর্ম) ছেড়ে দাও। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর; যদি তোমরা জানতে। (সূরা জুমা- ০৯)।

জুমার দিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হলো—

১. জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা। আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত, হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো—এক. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন। দুই. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে জমিনে অবতরণ করেছেন।

তিন. এই দিনে আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে মৃত্যু দিয়েছেন। চার. এই দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যেকোনো প্রার্থনা করলে তিনি তা দেবেন, যতক্ষণ সে হারাম কিছু প্রার্থনা করবে না। পাঁচ. এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৯৫)

২. জুমার নামাজ আদায়। সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি নিয়ে মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তাঁর দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)

অন্য একটি হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মোচন করে; যদি সেই ব্যক্তি সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৩৩)

৩. জুমার দিন গোসল করা। জুমার দিন গোসল করা এবং আগে আগে মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আউস বিন আউস সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালো করে গোসল করল, দ্রুততম সময়ে মসজিদে গেল ও (ইমামের) কাছাকাছি বসে মনোযোগসহ (খুতবা) শুনল, তাঁর জন্য প্রতি কদমের বদলে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব থাকবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৫)

৪. মসজিদে প্রথমে প্রবেশ করা। জুমার দিন মসজিদে আগে প্রবেশ করা ও মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, অতঃপর প্রথমে মসজিদে গেল, সে যেন একটি উট কোরবানি করল। যে এরপর মসজিদে গেল, সে যেন একটি গরু কোরবানি করল। আর যারা এরপর ঢুকল, তারা যেন ছাগল এবং মুরগি কোরবানি করল। অতঃপর ইমাম খুতবার জন্য এলে ফেরেশতারা আলোচনা শোনা শুরু করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৪১)

৫. জুমার দিন দোয়া কবুল হয়। জুমার দিনে একটি সময় আছে, যখন মানুষ আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে ভালো কিছুর দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দেন। তোমরা সময়টি আসরের পর অনুসন্ধান কোরো।’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ১০৪৮)

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যদি কোনো মুসলিম এ সময় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এই মুহূর্তটি তোমরা আছরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান কোরো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)

৬. সুরা কাহাফ পাঠ। জুমারের অন্যতম আমল হচ্ছে সুরা কাহাফ পাঠ করা। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে, তা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার জন্য আলোকিত হয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি এই সুরার শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে, অতঃপর দাজ্জাল বের হলে, তার জন্য কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (সহিহ তারগিব, হাদিস : ১৪৭৩, আল মুসতাদরাক : ২/৩৯৯)

৭. গুনাহ মাফ হয়। সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তাঁর দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)

৮. দরুদ পাঠ। জুমার দিনে নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা কর্তব্য। আউস বিন আবি আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং এই দিনে সবাইকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর বেশি পরিমাণ দরুদ পড়ো। কারণ জুমার দিনে তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ সাহাবারা বললেন, আমাদের দরুদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে, অথচ আপনার দেহ একসময় নিঃশেষ হয়ে যাবে? তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ জমিনের জন্য আমার দেহের ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ায় স্কুলবাস খাদে পড়ে শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ এম


বগুড়ায় স্কুলবাস খাদে পড়ে শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু

বগুড়ায় বীট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুলবাস নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে খাদে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে কানিজ ফাতেমা সোহা (১৪) নামের এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় বাসের হেলপারসহ দশজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থার ক্রমশ অবনতি ঘটছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঘটনা ঘটে বগুড়া সদরের মাটিডালী-পীরগাছা সড়কের পল্লীমঙ্গল ইটভাটার নিকট। নিহত কানিজ ফাতেমা সোহা বীট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির নিবন্ধিত শিক্ষার্থী ছিলেন।

সূত্রে জানা যায়, বগুড়া শহরের বিসিক এলাকা থেকে বীট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুলবাসটি বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৫টার সময় স্কুল ছুটির পর পীরগাছা ও সাবগ্রামের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বের হয়। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পল্লীমঙ্গল ইটভাটার কাছে পৌঁছানোর সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে কানিজ ফাতেমা সোহা বাসের ভেতরেই মৃত্যুকে বরন করে। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় বাসের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের তুলে আনা হয়। আহতদের দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে বাসের হেলপার একরামুল হক এবং শিক্ষার্থী সামিউল মাহি ও সিনথিয়া মিমির অবস্থা গুরুতর।

স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক মণ্ডল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলের পাশে একটি ইটভাটা রয়েছে। ইটভাটায় থেকে আনা ইট সড়কের ওপর রেখে ভাঙার কাজ চলছিল। এই কারণে সড়কের একটি অংশ সংকুচিত হয়ে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

দুর্ঘটনার খবর শুনে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে আসেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মরদেহটি পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিমকে কাছে টেনে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপদ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ এম


কিমকে কাছে টেনে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপদ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করার চেষ্টা দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি করেছে। দুই দেশের যৌথ বার্ষিক সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নির্ধারিত সময়ের আগে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা এবং যৌথ বাহিনীর অতিরিক্ত ১১টি মিত্র দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মহড়াটি মাত্র অর্ধেক সম্পন্ন হতেই স্থগিত করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সামরিক উপস্থিতি ও বাজেট কমানোর এই আদেশে সিউলসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোতে বিশাল উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই হঠাৎ সিদ্ধান্তের পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নতুন ঘোষণা রয়েছে। ট্রাম্প পেন্টাগনকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চলমান মহড়ার পরিধি ‘উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস’ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই প্রশিক্ষণকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি উসকানিমূলক ও অহেতুক ব্যয়বহুল হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং কূটনৈতিক পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার কথাও তুলে ধরেন। তিনি ইঙ্গিত করেন যে, চলতি বছরের শেষের দিকে কিম জং উনের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতে বসার ইচ্ছা রয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানের বিরুদ্ধে সিউল সামরিক সহায়তা না দেওয়ায় ওয়াশিংটনের যে হতাশা ছিল, সেই মহড়া কাটছাঁটের সিদ্ধান্তের সাথে সেটাও যুক্ত দেখা হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে রাখতে একে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বাস্তবে ট্রাম্পের আকস্মিক সিদ্ধান্তে সিউল যে হতবাক হয়েছিল তা গোপন রাখা সম্ভব হয়নি। সামরিক মহড়ার এই আকস্মিক সমাপ্তি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব এশীয় নিরাপত্তা বলয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সুরক্ষায় নির্ভরশীল তাইওয়ান ও জাপানের মতো জাতিগুলোও ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতিতে সন্দেহ প্রকাশ করতে শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যবর্তী সামরিক জোটের অন্যতম মূল স্তম্ভ হল এই যৌথ সামরিক মহড়া। সিউলের জন্য এটি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির প্রকাশ। পূর্ববর্তী সময়ে পিয়ংইয়ংকে আলোচনার টেবিলে আনতে সামরিক অনুশীলন সীমিত বা স্থগিত করা হলেও, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে একতরফাভাবে এই সামরিক সহযোগিতা হ্রাস করার সিদ্ধান্ত দক্ষিণ কোরিয়াকে আস্থাহীনতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন হয়তো সিউলে মোতায়েন থাকা ২৭ হাজার মার্কিন সেনার সংখ্যা বাড়াতে পারে অথবা সিউলকে উপেক্ষা করে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অবস্থানে কোনও চুক্তি করতে পারে।

এদিকে, সিউলের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগের মাঝে কৌশলগতভাবে উত্তর কোরিয়া এখন অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে এবং তাদের সংবিধানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অধিকার যুক্ত করেছে। এছাড়া, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তারা রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে, যাতে তার হাজার হাজার সৈন্য ও বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর সমর্থ হয়েছে। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল বা সামাজিক মাধ্যমে কিমের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা প্রচার করলেও, কিম জং উনের ক্ষমতাধর বোন কিম ইয়ো জং বিষয়টিকে গুরুত্বহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, যৌথ মহড়া কমানো উত্তর কোরিয়ার নীতির উপর কোনও প্রভাব ফেলবে না এবং তারা কখনো তাদের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ক্ষমতা পরিত্যাগ করবে না।

মার্কিন প্রশাসনের এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপে কৌশলগত সংকট দেখা দেওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার অভ্যন্তরে নতুন নিরাপত্তার পথ অনুসন্ধানের দাবি জোরালো হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী সিউলভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক সেজং ইনস্টিটিউটের শীর্ষ বিশেষজ্ঞরা সিউলকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট বজায় রাখতে পাশাপাশি নিজস্ব পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা পারমাণবিক বোমার সক্ষমতা অর্জনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। দেশের অধিকাংশ জনগণ নিজস্ব পারমাণবিক ক্ষমতা অর্জনের পক্ষে থাকলেও, সরকার এর আগে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এবং মিত্রদের সম্পর্ক বিবেচনায় রাখার কারণে সেই পথ থেকে বিরত ছিল। তবে, যদি ওয়াশিংটন এশিয়া থেকে সামরিকভাবে সরে যায়, তবে সিউলের পুরোনো ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তিত হতে বাধ্য।

অবশ্য, পরিস্থিতির সামাল দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মাইয়ুং ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় তিনি ট্রাম্পের উদ্যোগকে শান্তির উদ্দেশ্যে নেওয়ার একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তবে ট্রাম্পের অনিশ্চিত নীতি এবং একের পর এক বাণিজ্যসমূহের সাথে জাতীয় সুরক্ষাকে সম্পর্কিত করে দেখার প্রবণতা স্পষ্ট যে, দক্ষিণ কোরিয়াকে এই দক্ষিণ কোরিয়াকে কূটনৈতিক নাটকের মাঝে পড়ে শেষ পর্যন্ত একটি বড় মূল্য দিতে হতে পারে।

বিবিসির বিশ্লেষণ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আইকনিক ১০’ নিয়েই পেশাদার ফুটবলে ফিরলেন রোনালদিনহো, কবে মাঠে নামছেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩১ এম


‘আইকনিক ১০’ নিয়েই পেশাদার ফুটবলে ফিরলেন রোনালদিনহো, কবে মাঠে নামছেন?

অবসরের দীর্ঘ বিরতি ভেঙে ৪৬ বছর বয়সে আবার পেশাদার ফুটবলে ফিরছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল জাদুকর রোনালদিনহো। তিনি ইতালির তৃতীয় বিভাগের ক্লাব রাভেনার হয়ে খেলার ঘোষণা দিয়েছেন, সাবেক এই বিশ্বসেরা তারকা।

নতুন এই ইনিংস শুরুর পর, ক্যারিয়ারের ৩০০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার স্বপ্ন বুনছেন সাবেক পিএসজি, বার্সেলোনাসহ খ্যাতনামা সব ক্লাবে খেলা প্লেমেকার।

রোনালদিনহোর আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে সমুদ্রসৈকতে আয়োজন করা হয় ‘রোনালদিনহো ডে’। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার ভক্ত সেখানে ভিড় জমান তাদের প্রিয় তারকাকে একনজর দেখার জন্য। ২০১৫ সালে বুট জোড়া তুলে রাখা এই মহাতারকা রাভেনা ক্লাবের শেয়ারহোল্ডার হিসেবেও যুক্ত হচ্ছেন।

নতুন অধ্যায় নিয়ে উচ্ছ্বসিত রোনালদিনহো বলেন, ‘পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে এখানে আসতে পেরে দারুণ লাগছে। মাঠে আমাকে নামানো হবে কি না, তা কোচই ভালো বলতে পারবেন। তবে ইতালিতে ফিরতে পেরে দুর্দান্ত লাগছে, আমি সতীর্থদের জেতাতেই এসেছি। ফিটনেস নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, শতভাগ ফিট আছি।

যদি ৩০০তম গোলটি পেয়ে যাই, তবে তা হবে অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি।’

২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই ফরোয়ার্ড ২০০৫ সালে জিতেছিলেন ব্যালন ডি’অর। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ অফিসিয়াল ম্যাচটি খেলেছিলেন তিনি। এতদিন পর তার মাঠে ফেরার বিষয়টি প্রথম গুঞ্জন হিসেবে সামনে এনেছিলেন ক্লাব মালিক ইগনাজিও চিপ্রিয়ানি।

রাভেনার মালিক স্পষ্ট করে জানান, এই উদ্যোগ কেবল কোনো বাজারজাতকরণ বা চমক দেওয়ার চেষ্টা নয়, বরং ফুটবলের এক রোমান্টিক প্রত্যাবর্তন।

তবে আগামী সোমবার সেরি সি-র উদ্বোধনী ম্যাচে রেগিয়ানার বিরুদ্ধে দেখা যাবে না এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তিকে। তাই কিংবদন্তিকে মাঠে দেখতে আপাতত কিছুদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফুটবল ভক্তদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%