মোঃ শরীফ উদ্দিন | ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৫৫ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে ‘মৌসুমি রাজনীতিবিদ’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। সরাইল থানায় ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাক্বিতণ্ডার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঝিনাইদহ শহরে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খাঁন বলেন, থানায় গিয়ে রুমিন ফারহানা এক ধরনের ‘মব’ করেছেন এবং ওসিকে ‘চোর’ বলে সম্বোধন করেছেন।
রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে রুমিন ফারহানা জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য দিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়ার পর থেকে তিনি দলটির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, রুমিন ফারহানা অনেকটা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছেন। তাঁর দাবি, প্রয়োজন অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করছেন রুমিন ফারহানা এবং পরে সেই দলকে নিয়ে সমালোচনা করছেন।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, “আমার মনে হয় রুমিন ফারহানা আপারা মৌসুমি রাজনীতি করেন। মানে যখন যেদিকে জোয়ার থাকে, সেদিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, রুমিন ফারহানা একসময় মনে করেছিলেন বিএনপি তাঁকে আর দলে ফিরিয়ে নেবে না। এ কারণে আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে ফিরতে পারে—এমন সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে তিনি কয়েকটি গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার বিষয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন।
সরাইল থানায় কী ঘটেছিল?
এর আগে নিরাপত্তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা শতাধিক কর্মী-সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে সরাইল থানায় যান। সেখানে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে তাঁর বাক্বিতণ্ডা হয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে, শুক্রবার ঝিনাইদহ শহরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন রাশেদ খাঁন। এ সময় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি ডা. মো. হাসানুজ্জামানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী লিওনেল মেসির নাম উচ্চারণ করলেই বার্সেলোনায় তার ট্রফি জয়ের অসংখ্য ইতিহাস মনে পড়ে। কিংবদন্তি জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এবং কার্লেস পুয়োলের মতো তার সতীর্থদের সঙ্গে তিনি সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন। তবে এই ফুটবল মহাতারকের কাছে কাতালান ক্লাবটির সোনালি দিনগুলো কেবল ট্রফি জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং সতীর্থদের সঙ্গে কাটানো প্রতিদিনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ।
স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ পুরস্কার গ্রহণের সময় স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা ‘এফে’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে, মেসি তার খেলোয়াড়ি জীবন, বার্সেলোনার প্রতি ভালোবাসা, বিশ্বকাপ জয় এবং প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসিকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন। বর্তমানে ইন্টার মিয়ামিতে খেলা এই আর্জেন্টাইন তারকা বার্সেলোনার ড্রেসিংরুম ও অনুশীলনের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমাদের সবকিছু জেতার সৌভাগ্য হয়েছিল, এবং যে শৈলীতে আমরা জয়ী হয়েছিলাম সেটাও ছিল বিশেষ। আমরা মাঠে নেমে জিততে ভালোবাসতাম, কিন্তু তারচেয়েও বেশি উপভোগ করতাম প্রতিদিনের অনুশীলনের সময়টুকু। সতীর্থদের সাথে কাটানো সেই দিনগুলো ছিল দারুণ আনন্দের।’
ফ্রান্সের পিএসজিতে খেলার পর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেও বার্সেলোনা এখনও তার কাছে ‘প্রাণের ক্লাব’। তিন সন্তানের জন্মও এই শহরে। তাই বার্সেলোনা শহর ও ক্লাবের সঙ্গে তার সম্পর্ককে ফুটবলের সীমা ছাড়িয়ে এক চিরন্তন ভালোবাসার বন্ধন হিসেবেই দেখেন তিনি।
ক্লাব ফুটবলে দ্রুত সাফল্য পেলেও আকাশী-সাদা জার্সিতে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য মেসিকে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সেই স্বপ্নপূরণকে ‘স্বপ্নের চেয়েও বড় কিছু’ বলে অভিহিত করেন তিনি। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালের রোমাঞ্চকর ম্যাচে করা দুটি গোলকে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন উল্লেখ করে মেসি জানান, চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল ও এল ক্লাসিকোর ঐতিহাসিক গোলগুলোর মতোই স্পেশাল ছিল ফাইনালের সেই মুহূর্ত দুটি।
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে গত আগস্টে প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসিকে স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মেসি। ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ সম্মাননা পাওয়ার খবরে তার বাবা দারুণ রোমাঞ্চিত ছিলেন। ব্যস্ত সূচির মধ্যেও ওবিয়েদোয় গিয়ে পুরস্কারটি গ্রহণ করার তাগিদ দিয়েছিলেন বাবাই। বাবার অকালপ্রয়াণে শোক প্রকাশ করে মেসি বলেন, খেলাধুলার অর্জনের বাইরে পাওয়া এই বিশেষ সম্মাননাটি স্বচক্ষে দেখে যেতে পারলে তার বাবা সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হতেন।
ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিনগুলো থেকে বাবা হোর্হে মেসির দেওয়া একটি মূলমন্ত্র আজও হৃদয়ে লালন করেন এই কিংবদন্তি। বাবার স্মৃতি টেনে মেসি বলেন, ‘বাবা সবসময় বলতেন—কখনও চেষ্টা থামাবে না। বল পায়ে নাও এবং আবার চেষ্টা করো। জিতলে বা হারলে সেই মুহূর্তেই আটকে থেকো না, কারণ নতুন করে চেষ্টা করার সুযোগ বারবার আসবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
লোহিত সাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং সৌদি আরবে হুথি বাহিনীর আক্রমণের ফলে অঞ্চলটিতে সংঘাতের আরও বিস্তার ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার আন্তর্জাতিক সময় বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৪০ সেন্ট বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১১৪ ডলার ৫৭ সেন্টে দাঁড়ায়। দিনের শুরুতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৫ ডলারে পৌঁছায়, যা গত ৪ মে-র পর সর্বোচ্চ।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৪৮ সেন্ট বা ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০০ ডলার ৯৫ সেন্টে পৌঁছেছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বাড়তে চলেছে। চলতি সপ্তাহেই এর দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। তবে সপ্তাহ শেষে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশের মতো কম থাকতে পারে।
সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার বাহরাইনের কাছাকাছি উপসাগরীয় অঞ্চলের ধাহরানে অবস্থিত নিজেদের প্রধান কার্যালয় খালি করার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সৌদি আরামকো’।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যাংক ইউবিএসের জ্বালানি বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো মন্তব্য করেন, সংঘাতের আরও বিস্তার ঘটার আশঙ্কা বাজারে প্রবল। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তার মতে, সরবরাহ শৃঙ্খলে অস্থিরতা ও পণ্য পরিবহনের উচ্চ ব্যয়ের কারণে বাজারে সরবরাহের স্পষ্ট ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে হুথিদের সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে চলমান। ইরান-সমর্থিত হুথিরা লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আর্থিক পরিষেবা সংস্থা এক্সএস ডটকমের বিশ্লেষক লিন ট্রান বলেন, সরবরাহে প্রকৃতপক্ষে কতটা বিঘ্ন ঘটছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে কত সময় লাগছে, তা বাজার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ, এসব বিষয়ের ওপরই তেলের চড়া দাম কত দিন স্থায়ী হবে তা নির্ভর করছে।
তিনি আরও বলেন, আক্রমণ যদি এভাবে অব্যাহত থাকে এবং জ্বালানি পরিবহনে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম বজায় থাকার পক্ষে আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে কাতারের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন ও রফতানি ব্যাহত হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে কাতার। মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি চেনিয়ের এনার্জির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির আওতায়, ২০৫৪ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৪০ লাখ টন এলএনজি ক্রয় করবে কাতারএনার্জি। ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মার্কিন কোম্পানি চেনিয়ের এনার্জির দুটি উৎপাদন কেন্দ্র থেকে প্রতি বছর ২০ লাখ টন এলএনজি ক্রয় করবে কাতারএনার্জি। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় অবস্থিত সাবিন পাস এবং টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টি কেন্দ্র থেকে এই গ্যাস সরবরাহ করা হবে। ২০৩০-এর দশকের শুরুতে সরবরাহ শুরু হবে এবং ২০৫৪ সাল পর্যন্ত চলমান থাকবে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে কাতার ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রফতানিকারক দেশ। তবে মার্চে যুদ্ধের প্রথম মাসে ইরানের হামলার ফলে দেশটির রাস লাফান গ্যাস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এই কারণে এশিয়ার ক্রেতাদের সঙ্গে সরবরাহ চুক্তি পূরণ করতে বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এছাড়া, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং বিভিন্ন জাহাজে ইরানের হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
কাতারএনার্জি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত গোল্ডেন পাস এলএনজি রফতানি প্রকল্পের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিক। চলতি বছরের ৩০ মার্চ কেন্দ্রটিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
যদিও কাতারের নিজস্ব উৎপাদন কেন্দ্রে ক্ষতি হয়েছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার সুযোগ পাবে কাতারএনার্জি।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি রফতানি ব্যাহত হওয়ার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গবেষক ইরা জোসেফ মে মাসে মন্তব্য করেছিলেন, "সরবরাহে বিঘ্নের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিযোগীরা চাপে পড়েছে এবং এর ফলে জ্বালানির দাম বাড়ছে। এতে মার্কিন তেল ও গ্যাস উৎপাদকরা বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন।"
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে এশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক এলএনজি আমদানিকারক হয়ে উঠবে। ওই মাসে এশিয়ায় ২০২ বিলিয়ন ঘনফুট মার্কিন এলএনজি সরবরাহ করা হবে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানিতে ইউরোপকে ছাড়িয়ে যাবে এশিয়া।
কাতারের নতুন চুক্তি একদিকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস সরবরাহের বাধ্যবাধকতা পূরণে সহায়তা করবে, অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া পরিবর্তনের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ বাড়াবে।
তথ্যসূত্র: দ্য ক্র্যাডল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুইটি মেগা প্রকল্পের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। এই প্রকল্প দুটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।
আসন্ন ২৫ অক্টোবর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য একনেক সভায় প্রকল্প দুটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেক সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে পুলিশের অপারেশনাল যানবাহন ক্রয়ের সাথে সম্পর্কিত এবং অপরটি বিশেষায়িত যানবাহন ক্রয়ের সাথে সম্পর্কিত। প্রকল্প দুটির আওতায় মোট ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন ক্রয়ের জন্য ৬ হাজার ৬০৮.১৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই বিনিয়োগের মধ্যে ৪,৩২৮ কোটি টাকা ৪,৮২৯টি অপারেশনাল যানবাহন ক্রয়ে ব্যয় হবে এবং ২,২৮০.১৪ কোটি টাকা খরচ হবে ১,০০১টি বিশেষায়িত যানবাহনের জন্য। উভয় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চলতি বছরের অক্টোবর থেকে জুন ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে নির্ধারিত হয়েছে এবং এর সম্পূর্ণ ব্যয় সরকারের পক্ষ থেকে বহন করা হবে।
পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান যানবাহন এবং কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে, যার প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাবিত ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বর্তমানে দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক পুলিশ স্টেশনে ১ হাজার ২৩৭টি যানবাহন রয়েছে। প্রতিটি স্টেশনে গড়ে দুইটিরও কম যানবাহন রয়েছে এবং বিদ্যমান বহরের প্রায় ৬৪ শতাংশ এক দশকেরও বেশি পুরোনো। এই কারণে পুলিশকে নিয়মিত টহল বজায় রাখা, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় স্থানে কর্মী মোতায়েন করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
প্রস্তাবিত বিনিয়োগের ফলে পুলিশের চলাচল সক্ষমতা ও কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে অপরাধ, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পুলিশ আরও কার্যকরভাবে সাড়া দিতে সক্ষম হবে।
বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের আওতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নির্দিষ্ট প্রয়োজন মেটাতে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যানবাহন, দুর্গম এলাকায় চলাচল উপযোগী যানবাহন, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার ও অপরাধস্থল পরিদর্শনের জন্য বিশেষায়িত ভ্যান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব যানবাহন জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনা, মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় এবং ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে আলামত সংগ্রহে সহায়তা করবে।
আধুনিকায়ন পরিকল্পনায় দেশের বিস্তৃত নদীপথে পুলিশি কার্যক্রম জোরদারে স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকা কেনার প্রয়োজনীয়তাও চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জলযানগুলো নৌপথে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং জরুরি উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করবে। যানবাহন কেনার পাশাপাশি প্রকল্প দুটিতে সেগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের অধীনে ৬৫০ জনকে হালকা যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ, ৩০০ জনকে ভারী যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনকে যানবাহন মেরামত বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে ৯১০ জন কর্মীর জন্য ড্রাইভিং ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনের জন্য মেকানিক্স প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। অপারেশনাল প্রকল্পে যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির জন্য দেড় কোটি টাকাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি গত ১৫ অক্টোবর একটি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বিদেশি প্রশিক্ষণ বাদ দেওয়া হয়েছে এবং প্রস্তাবটি বাংলাদেশ গণপ্রশিক্ষণ কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের প্রবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য সংশোধন করা হয়েছে।
একইসঙ্গে, পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পর্যালোচনার পর বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পটি আলাদাভাবে একনেকের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। প্রকল্প দুটির কোনটিই চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি এবং এর বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করছে একনেকের সিদ্ধান্তের ওপর।
মেগা প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেলে দেশজুড়ে পুলিশের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ