০৬:১৮ পি.এম
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সরকার শিশুদের খেলনার জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তার মান নির্ধারণ করেছে।
এখন থেকে দেশে উৎপাদিত এবং আমদানি করা সব খেলনাকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর বাধ্যতামূলক সনদ নিতে হবে।
গত ২৩ জুন শিল্প মন্ত্রণালয়ের গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশে খেলনার জন্য বাধ্যতামূলক জাতীয় নিরাপত্তা মানদণ্ড কার্যকর করার এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: তিউনিসিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ
শিশু অধিকার ও পারিবারিক কল্যাণে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডো।
খেলনার জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তার মান নির্ধারণ শিশুদের ক্ষতিকর রাসায়নিকের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা এবং নিরাপদ খেলনার সহজলভ্যতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
নতুন গেজেট বাংলাদেশের ভোক্তা সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং খেলনার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলবে। ফলে, দেশে উৎপাদিত বা আমদানি করা খেলনা বাজারজাত করার আগে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি বিএসটিআই অনুমোদিত পরীক্ষাগারে পণ্যের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক হবে।
এই সিদ্ধান্ত এসেছে যখন গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া খেলনা ও শিশুদের ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যে সীসা, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, পারদ, আর্সেনিকসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি বারবার তুলে ধরা হয়েছে। এসডোর Toxic Toys (২০১৩), Innocence Touched by Shadows (২০২৩), Silent Poison (২০২৪) এবং Toxic Playtime (২০২৫) শীর্ষক গবেষণাগুলোতে বাধ্যতামূলক খেলনা নিরাপত্তা মানদণ্ড প্রণয়ন ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযানে ইসলামী আন্দোলনের নেতার ক্ষোভ
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এসডো বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রমাণভিত্তিক নীতিগত সুপারিশ, বিএসটিআই ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে আসছে। এছাড়াও নীতিগত সংলাপ, অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ সভা এবং প্রচলিত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নিরাপদ খেলনার দাবিতে নিরলসভাবে একত্রে কাজ করছে। খেলনার জন্য 'আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা মানদণ্ড' নিশ্চিত করা, ক্ষতিকর রাসায়নিকের বাধ্যতামূলক পরীক্ষা, বাজার তদারকি, পণ্যের সঠিক লেবেলিং এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য এসডো ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার ছিল, যাতে অনিরাপদ খেলনা কোনোভাবেই শিশুদের হাতে না পৌঁছায়।
এসডো মনে করে, এই গেজেট বাংলাদেশের শিশু অধিকার, জনস্বাস্থ্য এবং পারিবারিক কল্যাণ নিশ্চিত করার পথে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। নিরাপদ খেলনা শুধু একটি ভোক্তা পণ্য নয়; এটি শিশুদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, শিক্ষা এবং নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করার জন্য একটি অত্যাবশ্যক পদক্ষেপ। প্রতিটি শিশুর নিরাপদ পরিবেশে এমন খেলনা ব্যবহারের অধিকার রয়েছে, যা তাদের স্বাস্থ্য ও বিকাশের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করবে না।
এসডো এই গুরুত্বপূর্ণ অর্জনকে বাংলাদেশ সরকার, বিএসটিআই, বান টক্সিকস, নীতিনির্ধারকসহ উৎপাদক, আমদানিকারক, ভোক্তা অধিকারকর্মী, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে বিবেচনা করে। এই ঐতিহাসিক অর্জন উদযাপনের পাশাপাশি এসডো জোর দিচ্ছে নতুন মানদণ্ডের কার্যকর বাস্তবায়নের উপর। এ লক্ষ্যে নিয়মিত বাজার তদারকি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আমদানি পর্যায়ে কার্যকর মান নিয়ন্ত্রণ, আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছে এসডো, যাতে বাংলাদেশের বাজারে বিক্রিত প্রতিটি খেলনা নির্ধারিত নিরাপত্তা মান পূরণ করে। বাংলাদেশের খেলনা শিল্প যখন দ্রুত বিকশিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারিত হচ্ছে, তখন এই মানদণ্ড বাস্তবায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে। অন্যদিকে ভোক্তাদের আস্থা বৃদ্ধি, পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে 'মেইড ইন বাংলাদেশ' পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও সুনাম আরও শক্তিশালী করবে।
এসডো নতুন মানদণ্ডের কার্যকর বাস্তবায়নে বিএসটিআই, সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজ এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। নিরাপদ, সুস্থ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করতে এসডো তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
আরও পড়ুন: নেছারাবাদে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন