০৬:১৯ পি.এম
মোংলায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষিকা লাঞ্ছনার ঘটনায় করা মামলার বাদী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ও তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মামলা তুলে নিতে তাদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগও করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে না পাঠাতে অভিভাবকদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং মব তৈরির অভিযোগও করছে স্থানীয়রা। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৭ জুন মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের পশ্চিম বাজিকরখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উক্ত হামলার ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে একটি বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় ফারুকুল ইসলাম মৃধা ও জাকির হাওলাদারের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি বিদ্যালয়ে হামলা চালায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: দিরাই থানা রোডের বর্তমান অবস্থা বেশ ভালো, সামান্য যানজটেই মানুষের ভিড়
এসময় তারা অফিস কক্ষে ভাঙচুর চালায় এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তছনছ করে। আসবাবপত্রও ভেঙে ফেলে। বাধা দিতে গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নাজমী খানম (৪৮)-কে লাঞ্ছিত করা হয়। এই আতঙ্কের কারণে শিক্ষার্থীরা বই-খাতা ফেলে বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যায়।
এ ঘটনার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নাজমী খানম মোংলা থানায় মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় ফারুক মৃধাসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
নাজমী খানম অভিযোগ করেছেন, মামলা করার পর থেকেই আসামি ও তাদের সহযোগীরা তাকে এবং তার স্বামীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া, মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ তো রয়েছে। যদি মামলা না তোলা হয়, তবে ভয়াবহ পরিণতির হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন অভিভাবকের মোবাইল ফোনে কল করে সন্তানদের বিদ্যালয়ে না পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ রচিত হয়েছে, যেখানে অনেক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী মো. তরিকুল মৃধার মালিকানাধীন একটি চিংড়িঘেরে হামলা চালানো হয়েছে এবং সেখানে থেকে মাছ লুট করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুমকিতে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তা চান বিএনপি নেতা
তবে মামলার প্রধান আসামি ফারুক মৃধান তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নষ্ট করার জন্য তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বর্তমানে তিনি এলাকার বাইরে থাকেন এবং হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা ভাঙচুরের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, মামলার আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বাদীপক্ষ নতুন করে দেয়ালসহ হুমকির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন