০৪:৪০ এম
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের বিভিন্ন নদী, ঝরনা, ছড়া বা ঝোড়া থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন ও বন বিভাগের অভিযান সত্ত্বেও দিন ও রাতের আঁধারে একটি প্রভাবশালী চক্র বালু তোলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে, পাহাড়ি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বনাঞ্চল হুমকির মুখে পড়ছে। বন বিভাগের লোকবলের অভাবে বালু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ৪ জুন রাতে ট্রাকসহ বালু আটকের ঘটনায় গজনী বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ ও এক বন রক্ষীর ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে স্থানীয় বালু সন্ত্রাসীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের বনরানী, দরবেশতলা, মালিটিলা ও হালচাটি এলাকাসহ গারো পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বালু ও ছোট ছোট পাথর তোলা হচ্ছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের কারণে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও এক সপ্তাহ ধরে আবার বালু তোলা শুরু হয়েছে। কারণ, জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায়, তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস করেন না। এটি অবৈধ কার্যক্রমকে অপ্রতিরোধ্যভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের লোকজন এই অবৈধ কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তিদের মুখ চিনতে পারেন, তবে রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। যদি এমন না হত, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চলতে পারত না। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বন বিভাগের গজনী বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ খান। তিনি বলেন, "বালু তোলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এ কাজে জড়িত নন। অবৈধ বালু ও পাথর তোলা বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।" এছাড়া তিনি আরও জানান, ২২ জুন ভোরে গজনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে তোলা বালু পরিবহনের সময় মাহিন্দ্র ট্রাক্টরচালিত ছয়টি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা
শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘শাইন্’-এর নির্বাহী পরিচালক মুগনিউর রহমান মনি জানান, নির্বিচারে ও অপরিকল্পিত বালু ও পাথর তোলা এবং গাছ কাটার কারণে গারো পাহাড়ের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। এর ফলে মানুষ এবং পশু-পাখিসহ পরিবেশগতভাবে কেউই এই ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পাবে না। তিনি বলেন, "প্রকৃতিকে তার নিজের নিয়মে চলতে দিতে হবে। তাই এখনই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়াতে হবে এবং গণসচেতনতা তৈরিতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।"
রাংটিয়া রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক তানভীর আহমেদ ইমন বলেন, "অবৈধ বালু তোলার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারপরও যদি বালু তোলা চলে, তাহলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।"
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল আমীন বলেন, "অবৈধ বালু তোলার খবর পাওয়া মাত্রই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও কারাদণ্ড, কোথাও অর্থদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। ড্রেজার মেশিন জব্দ ও পাইপলাইন ধ্বংস করা হচ্ছে। এমন ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।"
আরও পড়ুন: বালিয়াডাঙ্গীতে পতিলাভাষা যুব সমাজের উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন