ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাপানে রেকর্ড বৃষ্টিতে বন্যা, নিহত ৪; নারিতা বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী


জাপানে রেকর্ড বৃষ্টিতে বন্যা, নিহত ৪; নারিতা বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী

জাপানের টোকিও-সংলগ্ন চিবা প্রিফেকচারে নজিরবিহীন ও রেকর্ড পরিমাণ ভারী বর্ষণের পর এক আকস্মিক বন্যার কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে অন্তত চারজনের মৃত্যু ঘটেছে এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

ভয়াবহ এই বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় পরিবহনব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে, ফলে হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। জাপানের অন্যতম প্রধান ছুটির মৌসুমে প্রবল বর্ষণের কারণে, টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকা পড়ে রয়েছেন প্রায় সাত হাজার যাত্রী। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে ইতিমধ্যে দেশটির সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে।

রাজধানী টোকিওর পার্শ্ববর্তী চিবা প্রিফেকচারের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৩৬০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা ভারী বর্ষণের ফলে মুহূর্তের মধ্যে রাস্তাঘাট ও রেলপথ তলিয়ে যায়। কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া একটি গাড়ির ভেতরে আটকে পড়ে একজনের মৃত্যু ঘটে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চিবুর গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন একটি পরিস্থিতি। তিনি নিজের অভিজ্ঞতায় নিশ্চিত করেছেন যে, অতীতে বহু দুর্যোগ মোকাবিলা করেছেন, কিন্তু এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনো হননি।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অঞ্চলজুড়ে নাগরিক পরিষেবাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ১১টা পর্যন্ত ওই এলাকায় ২২ হাজারের বেশি পরিবার সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। চিবু শহরের সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। সেখানে সরকারি ভবনগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং শত শত দুর্গত মানুষ ফয়েল ব্ল্যাঙ্কেট মুড়ি দিয়ে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

প্রবল বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে নারিতা বিমানবন্দরে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পরিবহনব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে প্রায় সাত হাজার বিমানযাত্রী টার্মিনালেই আটকা পড়ে আছেন। তবে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও শুক্রবারের নির্ধারিত সকল ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় বিমান সংস্থা ‘জাপান এয়ারলাইন্স’ জানিয়েছে, দুর্যোগের কারণে কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে, তবে এই মুহূর্তে তাদের কোনো ফ্লাইট বাতিলের পরিকল্পনা নেই।

হাইওয়ে পরিচালনাকারী সংস্থা ‘নেক্সকো ইস্ট’ জানিয়েছে, চিবাকে সংযোগকারী বেশ কয়েকটি প্রধান মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়ায় বিকল্প রাস্তাগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ট্রেন পরিষেবা স্থগিত রাখতে হয়েছিল। তবে, নারিতা বিমানবন্দর ও টোকিও শহরের মধ্যে বিশেষ ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় বিমানবন্দর এলাকার উপচে পড়া ভিড় কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

জাপানের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-তে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, গত রাতে বিমানবন্দরে আটক যাত্রীদের মধ্যে শত শত ব্যক্তি কম্বল, পানির বোতল ও হালকা খাবার সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। পরে, তারা টার্মিনাল ভবনের মেঝেতেই রাত কাটানোর ব্যবস্থা করেন।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নারিতা বিমানবন্দরে আটকে পড়া এক মার্কিন পর্যটক এনএইচকে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, জীবনের এই ভয়াবহ ও চরম দুর্ভোগের ভ্রমণের কথা তারা কখনো ভুলতে পারবেন না।

সূত্র: রয়টার্স

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শনিবার অবসর ও কল্যাণের অর্থ পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ এম


শনিবার অবসর ও কল্যাণের অর্থ পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে, অবশেষে আগামীকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) একযোগে অবসর-কল্যাণের টাকা পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষকরা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তাদের অবসর এবং কল্যাণের এই অর্থ পরিশোধে এককালীন ২০৩৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, দীর্ঘ ৪ বছর ধরে জমে থাকা শিক্ষকদের পাহাড়সম বকেয়ার জট কাটাতে আমরা যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছি তারই ধারাবাহিকতায় দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে ২০৩৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা শিক্ষকদের তাদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রেরণ করতে যাচ্ছি।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সিংহভাগ— প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ পরিচালিত হয় আমাদের এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, যেসব শিক্ষক-কর্মচারী তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় দিয়ে আমাদের সন্তানদের নতুন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাদেরই চরম অবহেলা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

দুর্নীতি ও অনিয়মের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, এত বছরের ভেঙে পড়া এবং তছনছ হয়ে যাওয়া শিক্ষাব্যবস্থা একদিনে জাদুমন্ত্রে পুরো ঘুরে দাঁড়াবে না— এটা আমরা জানি। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি সিন্ডিকেট ভেঙে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কঠিন সিদ্ধান্ত এবং সঠিক নীতি প্রয়োজন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই অচল অবস্থা নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষাখাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চরম দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২২ সালের পর যেসব শিক্ষক অবসরে গেছেন, তারা তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক পরিবার জীবনের শেষ সঞ্চয়টুকু না পেয়ে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটিয়েছেন। শিক্ষক সমাজের এই চোখের পানি এবং দীর্ঘশ্বাস আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আমাদের সরকার কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে এই অন্যায়ের অবসান ঘটাতে এসেছে।

শিক্ষার প্রসার, টেকসই উন্নয়ন এবং শিক্ষকবান্ধব নানা উদ্যোগে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অবসর সুবিধা বোর্ডের সূচনা করেন। তিনি চারজন শিক্ষককে ৮ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা নিজ হাতে প্রদান করে অবসর সুবিধা বোর্ডটি প্রতিষ্ঠা করেন। বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষকদের জন্য প্রথমে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন এবং পর্যায়ক্রমে ৮৯ কোটি টাকার ফান্ডের ব্যবস্থা করেন।

তিনি বলেন, ২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূরীকরণ, দুরবস্থা লাঘব এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবসর সুবিধা বোর্ড গঠন করেন। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা আইন, ২০০২’-এর মাধ্যমে তিনি এ অবসর সুবিধা বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও ১৯৯১ সালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করে গেছেন বেগম খালেদা জিয়া।

মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই অর্থ পাঠানোর উদ্যোগ

মন্ত্রী বলেন, ছাড় হতে যাওয়া ২০৩৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য ১,৫৫০ কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ৪৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এতে প্রথম পর্যায়েই ২০২২ সাল থেকে আটকে থাকা অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭০,১১৯ জন (সত্তর হাজার একশত উনিশ) শিক্ষক-কর্মচারী সর্বোচ্চ চার লাখ পনেরো হাজার টাকা পর্যন্ত সরাসরি তাদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন। এছাড়াও, কল্যাণ ট্রাস্টের ৫৩,২০১টি আবেদনের বিপরীতে ৪৮৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা পাবেন। এবার কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের সুযোগ থাকবে না। ম্যানুয়াল ফাইলের নামে ফাইল আটকে রাখার সংস্কৃতি আমরা উপড়ে ফেলেছি। এখন থেকে iBAS++ এবং EFT-এর মাধ্যমে সরাসরি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) যাচাই করে অর্থ পৌঁছে যাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, নীতিহীন সিদ্ধান্ত এবং ব্যাপক দুর্নীতির কারণে আমাদের বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর সুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্ট সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। বিগত আমলে এই দুটি তহবিলের অনিয়ম শিক্ষকদের আমানতের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার অপব্যবহার ও তছরূপে রূপ নেয়। ভুয়া ইনডেক্স নম্বর তৈরি করে অর্থ লুটপাট করা হয়েছে, ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় চরম অনিয়ম করে শিক্ষকদের কষ্টের টাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে না রেখে দুর্বল ব্যাংকে রাখা হয়েছিল— যার ফলে সেই টাকা আটকে পড়ে ক্যাশ ফ্লো সম্পূর্ণ ধসে গিয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে বন্ডে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দ্রুত পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীরা যেন ক্রমান্বয়ে তাদের সকল পাওনা দ্রুততম সময়ে পান, তার জন্য আগামী বাজেটগুলোতে ধারাবাহিকভাবে এ খাতে বরাদ্দের সংস্থান করা হবে। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদে সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন একটি স্বাবলম্বী ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে একজন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পাওনা বুঝে পান। ইতোমধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডকে মোট তিন হাজার আটশ কোটি টাকার এবং কল্যাণ ট্রাস্টকে ৪০০ কোটি টাকার বন্ড প্রদান করা হয়েছে। অবসর ভাতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থার শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা এবং আধুনিকতা ফিরিয়ে আনা আমাদের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষকদের শেষ জীবনের সম্বল বলতে তাদের অবসর বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্টের এককালীন টাকা। শেষ জীবনে শিক্ষকরা হজ করা, নিজের চিকিৎসা, মেয়ের বিয়ে বা ছেলেকে ব্যবসা ধরিয়ে দিতে এই টাকার ওপরেই ভরসা রাখেন। কিন্তু ২০২২ সাল থেকে যেসব শিক্ষক অবসরে গেছেন, তারা অবসর-কল্যাণের টাকা না পেয়ে রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। এই টাকা পেতে তারা দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন। বিএনপি সরকারের মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী টাকা পরিশোধের অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য তার এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছে শিক্ষকসমাজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৯ এম


উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৯

উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

তিনি আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে মো. ইউসুফ (২৬), মো. খোরশেদ (২৫), মো. আরমান (২৬), মোছা. মারজান ওরফে নিপা (২২), শিরিন আক্তার (২৫), তানিয়া আক্তার (২১), মো. রাব্বি (১৯), মো. ফরহাদ (২৬), মো. সোহান রহমান (২৪), মো. হাসান (৩২), মো. মনির হোসেন (২৮), মো. খোরশেদ আলম (৪২), মো. আপন হোসেন (২০), মো. শাকিল (২৯), মো. শাকিল সরকার (২১), মো. তানভীর হাসান রিফাত (২১), মোছা. সাদিয়া (২০), সিয়াম খান (২২) ও মো. জিয়াউর রহমান (২৫) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুমার দিনের বরকত পেতে ১৫টি আমল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ এম


জুমার দিনের বরকত পেতে ১৫টি আমল

জুমার দিন, সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। আল্লাহ তাআলা এই দিনকে অন্য দিনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন।

এ কারণে জুমার দিনে মুমিনদের হৃদয়ে মমতা ও হৃদ্যতার অপার্থিব এক সুখ ফুটে উঠতে দেখা যায়। পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। এই দিনটি বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমলের জন্য পরিচিত, যা মহানবী (সা.)-এর জীবনে দেখা যায়। নিম্নে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো––

১. জুমাবারের ফজরের তিলাওয়াত করা: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৬৮)

জুমার দিনে এই সুরা তিলাওয়াত করতেন, কারণ এই সুরাতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির আলোচনা, পুনরুত্থান এবং কিয়ামতের দিনে সমবেত হওয়ার বিষয়গুলি উল্লেখিত হয়েছে। এই Sসুরা পাঠ করে উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

২. বেশি পরিমাণে দরুদ শরিফ পড়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা জুমার দিন আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।"

কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)

৩. জুমার নামাজ আদায় করা: ইসলামের ফরজ বিধানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল জুমার নামাজ। আরাফার দিবসের পর এই দিনই সবচেয়ে বেশি মানুষ একসাথে সমবেত হন। যারা জুমার নামাজকে অলসতা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তাআলা তাদের হৃদয়ে মোহর মেরে দেন।

৪. গোসল করা: এই দিনে বিশেষভাবে গোসল করার তাগিদ এসেছে। সালিম (রহ.) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যা বলে, "যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে সে যেন গোসল করে আসে।" (তিরমিজি, হাদিস: ৪৯২)

৫. সুগন্ধি ব্যবহার করা: অন্য দিনের তুলনায় এদিন বেশি সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, "আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮০)

৬. দ্রুত মসজিদে যাওয়া: জুমার দিনের ফজিলত লাভের জন্য এই আমলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদিকে বিশেষভাবে মনোযোগী হওয়া উচিত।

৭. ইবাদতে মশগুল থাকা: ইমামের জুমার নামাজে আসার পূর্ব পর্যন্ত নামাজ, জিকির ও তিলাওয়াতে রত থাকা।

৮. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, 'চুপ থাকো' সে একটি অনর্থক কাজ করল।" (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৪০১)

৯. সুরা কাহফ পড়া: আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তীকাল জ্যোতির্ময় হবে।" (আত-তারগিব, হাদিস: ৭৩৫)

১০. জুমার নামাজের নির্ধারিত সুরা পাঠ করা: নুমান ইবনে বশির (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজে ও জুমার নামাজে 'সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা' ও 'হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ' সুরা দুটি পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১৩)

কিছু বর্ণনায় এসেছে, নবী (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা তিলাওয়াত করতেন।

১১. পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কাপড় পরিধান করা: আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তার উৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমার সালাতে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দুজনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করা হয়।" (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস: ১০৯৭)

১২. মসজিদে সুগন্ধি লাগানো: ওমর (রা.) জুমার দিন দ্বিপ্রহরে মসজিদে সুগন্ধি লাগানোর জন্য আদেশ দিয়েছেন।

১৩. ক্ষমা প্রার্থনা করা: এদিন মহান রবের পক্ষে গুনাহ মাফের বারি বর্ষিত হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, "কোনো মুসলিম যদি পবিত্র হয়ে জামে মসজিদের দিকে হাঁটতে থাকে, এরপর ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে, তাহলে এ নামাজ এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা (মোচনকারী) হয়ে যাবে, যদি ধ্বংসকারী তথা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।" (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৩৭২৯)

১৪. মৃতদের জন্য দোয়া করা: জুমার দিন কবরের আজাব মাফ হয়ে যায়। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) জুমার দিন ছাড়া (অন্য দিন) ঠিক দুপুরে নামাজ আদায় করতে অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন, "জুমার দিন ছাড়া (অন্যান্য দিনে) জাহান্নামের আগুনকে উত্তপ্ত করা হয়।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৮৩)

জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার থেকে কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে। এটা এই হাদিস থেকে প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব দেওয়া হবে না, এটা নিশ্চিত নয়।

১৫. বেশি বেশি দোয়া করা: বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "জুমার দিনের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করে, নিশ্চয়ই তিনি তা দান করেন।" তিনি বলেন, সে মুহূর্তটি অতি স্বল্প। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৫৮)

বেশির ভাগের মতে, সে সময়টি আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ মুহূর্ত। (জাদুল মাআদ থেকে সংক্ষেপিত)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সান্তোসকে জেতানোর পর প্রতিপক্ষের ‘হৃদয়ও’ জিতলেন নেইমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ এম


সান্তোসকে জেতানোর পর প্রতিপক্ষের ‘হৃদয়ও’ জিতলেন নেইমার

বল যেন তার কথা শোনে! তা না হলে এমন অবিশ্বাস্য পাসটা কীভাবে দিতে পারেন নেইমার জুনিয়র। এই পাসটি চোখে লেগে থাকা এক বিশেষ পাস।

কনমেবল সুদামেরিকানার শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ক্লাব দেপোর্তিভো মাকারার বিপক্ষে ম্যাচে ফিরতে যখন সান্তোস মরিয়া হয়ে ওঠে। ঠিক তখনই ম্যাচের ৪৪ মিনিটে নেইমার এই অবিশ্বাস্য পাসটি করেন। ডি বক্সের বেশ বাইরে থেকে তিনি সতীর্থর কাছ থেকে পাওয়া বলকে বাঁ পায়ে আলতো টোকা দিয়ে, কয়েকজন খেলোয়াড়ের মাথার ওপর দিয়ে, ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার খেলা শুরু করেন।

ডি-বক্সে ঢুকে ফাঁকা জায়গা পেয়ে গ্যাব্রিয়েল বারবোসা সুবিধামতো বল পান।

এমন অনিন্দ্য পাস পেয়ে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে তিনি জালের পথ দেখান। ফলে সান্তোস ১-১ গোলে সমতায় ফেরে।

৭৬ মিনিটে আবারো একটি অ্যাসিস্ট করেন নেইমার। এবার কর্নার থেকে দেওয়া অ্যাসিস্টে গোল করেন উইলিয়ান আরাও।

সেই গোলে পরে ২-১ ব্যবধানে জয় লাভ করে হাসিমুখে মাঠ ছাড়েন নেইমাররা। লিডটি আরো বড় হতে পারত, যদি না দুটি গোল বাতিল না হতো। এর আগে ম্যাচের ৫ মিনিটে ফ্রাঙ্কো পোজের গোলে লিড নিয়েছিল ইকুয়েডরের ক্লাব মাকারা।

অ্যাসিস্ট করে সান্তোসের হৃদয় জিততে সক্ষম হন নেইমার। ঠিক তেমনি, ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গেও সেলফি তোলার আবেদন মিটিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

রেফারি শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে মাকারার খেলোয়াড়রা লাইন ধরেন ৩৪ বছর বয়সী স্ট্রাইকারের সঙ্গে সেলফি তুলতে। হাসিমুখে সেই আবদার মিটিয়েছেন তিনি। সেলফি তোলার সময় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের মুখে তৃপ্তির হাসি ছিল। দেখে বোঝার উপায় ছিল না কিছুক্ষণ আগে নেইমারের কাছেই তাদের পরাজয় ঘটেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%