ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শনিবার অবসর ও কল্যাণের অর্থ পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা


শনিবার অবসর ও কল্যাণের অর্থ পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে, অবশেষে আগামীকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) একযোগে অবসর-কল্যাণের টাকা পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষকরা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তাদের অবসর এবং কল্যাণের এই অর্থ পরিশোধে এককালীন ২০৩৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, দীর্ঘ ৪ বছর ধরে জমে থাকা শিক্ষকদের পাহাড়সম বকেয়ার জট কাটাতে আমরা যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছি তারই ধারাবাহিকতায় দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে ২০৩৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা শিক্ষকদের তাদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রেরণ করতে যাচ্ছি।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সিংহভাগ— প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ পরিচালিত হয় আমাদের এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, যেসব শিক্ষক-কর্মচারী তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় দিয়ে আমাদের সন্তানদের নতুন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাদেরই চরম অবহেলা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

দুর্নীতি ও অনিয়মের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

আরও পড়ুন: ডিএনসিসি প্রশাসক: ফুটপাতে ব্যবসার পক্ষে কেউ নেই, সড়ক দখল উচ্ছেদে জনগণের সহযোগিতা জরুরি

ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, এত বছরের ভেঙে পড়া এবং তছনছ হয়ে যাওয়া শিক্ষাব্যবস্থা একদিনে জাদুমন্ত্রে পুরো ঘুরে দাঁড়াবে না— এটা আমরা জানি। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি সিন্ডিকেট ভেঙে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কঠিন সিদ্ধান্ত এবং সঠিক নীতি প্রয়োজন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই অচল অবস্থা নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষাখাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চরম দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২২ সালের পর যেসব শিক্ষক অবসরে গেছেন, তারা তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক পরিবার জীবনের শেষ সঞ্চয়টুকু না পেয়ে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটিয়েছেন। শিক্ষক সমাজের এই চোখের পানি এবং দীর্ঘশ্বাস আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আমাদের সরকার কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে এই অন্যায়ের অবসান ঘটাতে এসেছে।

শিক্ষার প্রসার, টেকসই উন্নয়ন এবং শিক্ষকবান্ধব নানা উদ্যোগে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অবসর সুবিধা বোর্ডের সূচনা করেন। তিনি চারজন শিক্ষককে ৮ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা নিজ হাতে প্রদান করে অবসর সুবিধা বোর্ডটি প্রতিষ্ঠা করেন। বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষকদের জন্য প্রথমে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন এবং পর্যায়ক্রমে ৮৯ কোটি টাকার ফান্ডের ব্যবস্থা করেন।

তিনি বলেন, ২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূরীকরণ, দুরবস্থা লাঘব এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবসর সুবিধা বোর্ড গঠন করেন। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা আইন, ২০০২’-এর মাধ্যমে তিনি এ অবসর সুবিধা বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও ১৯৯১ সালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করে গেছেন বেগম খালেদা জিয়া।

আরও পড়ুন: সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু স্থানীয় নির্বাচন উপহার দেবে: মীর শাহে আলম

মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই অর্থ পাঠানোর উদ্যোগ

মন্ত্রী বলেন, ছাড় হতে যাওয়া ২০৩৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য ১,৫৫০ কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ৪৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এতে প্রথম পর্যায়েই ২০২২ সাল থেকে আটকে থাকা অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭০,১১৯ জন (সত্তর হাজার একশত উনিশ) শিক্ষক-কর্মচারী সর্বোচ্চ চার লাখ পনেরো হাজার টাকা পর্যন্ত সরাসরি তাদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন। এছাড়াও, কল্যাণ ট্রাস্টের ৫৩,২০১টি আবেদনের বিপরীতে ৪৮৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা পাবেন। এবার কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের সুযোগ থাকবে না। ম্যানুয়াল ফাইলের নামে ফাইল আটকে রাখার সংস্কৃতি আমরা উপড়ে ফেলেছি। এখন থেকে iBAS++ এবং EFT-এর মাধ্যমে সরাসরি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) যাচাই করে অর্থ পৌঁছে যাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, নীতিহীন সিদ্ধান্ত এবং ব্যাপক দুর্নীতির কারণে আমাদের বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর সুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্ট সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। বিগত আমলে এই দুটি তহবিলের অনিয়ম শিক্ষকদের আমানতের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার অপব্যবহার ও তছরূপে রূপ নেয়। ভুয়া ইনডেক্স নম্বর তৈরি করে অর্থ লুটপাট করা হয়েছে, ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় চরম অনিয়ম করে শিক্ষকদের কষ্টের টাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে না রেখে দুর্বল ব্যাংকে রাখা হয়েছিল— যার ফলে সেই টাকা আটকে পড়ে ক্যাশ ফ্লো সম্পূর্ণ ধসে গিয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে বন্ডে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দ্রুত পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ

আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলাম: আইজিপির দায়িত্ব থেকে দ্রুত সরে যাওয়া উচিত

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীরা যেন ক্রমান্বয়ে তাদের সকল পাওনা দ্রুততম সময়ে পান, তার জন্য আগামী বাজেটগুলোতে ধারাবাহিকভাবে এ খাতে বরাদ্দের সংস্থান করা হবে। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদে সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন একটি স্বাবলম্বী ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে একজন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পাওনা বুঝে পান। ইতোমধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডকে মোট তিন হাজার আটশ কোটি টাকার এবং কল্যাণ ট্রাস্টকে ৪০০ কোটি টাকার বন্ড প্রদান করা হয়েছে। অবসর ভাতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থার শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা এবং আধুনিকতা ফিরিয়ে আনা আমাদের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষকদের শেষ জীবনের সম্বল বলতে তাদের অবসর বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্টের এককালীন টাকা। শেষ জীবনে শিক্ষকরা হজ করা, নিজের চিকিৎসা, মেয়ের বিয়ে বা ছেলেকে ব্যবসা ধরিয়ে দিতে এই টাকার ওপরেই ভরসা রাখেন। কিন্তু ২০২২ সাল থেকে যেসব শিক্ষক অবসরে গেছেন, তারা অবসর-কল্যাণের টাকা না পেয়ে রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। এই টাকা পেতে তারা দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন। বিএনপি সরকারের মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী টাকা পরিশোধের অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য তার এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছে শিক্ষকসমাজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৯ এম


উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৯

উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

তিনি আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে মো. ইউসুফ (২৬), মো. খোরশেদ (২৫), মো. আরমান (২৬), মোছা. মারজান ওরফে নিপা (২২), শিরিন আক্তার (২৫), তানিয়া আক্তার (২১), মো. রাব্বি (১৯), মো. ফরহাদ (২৬), মো. সোহান রহমান (২৪), মো. হাসান (৩২), মো. মনির হোসেন (২৮), মো. খোরশেদ আলম (৪২), মো. আপন হোসেন (২০), মো. শাকিল (২৯), মো. শাকিল সরকার (২১), মো. তানভীর হাসান রিফাত (২১), মোছা. সাদিয়া (২০), সিয়াম খান (২২) ও মো. জিয়াউর রহমান (২৫) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুমার দিনের বরকত পেতে ১৫টি আমল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ এম


জুমার দিনের বরকত পেতে ১৫টি আমল

জুমার দিন, সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। আল্লাহ তাআলা এই দিনকে অন্য দিনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন।

এ কারণে জুমার দিনে মুমিনদের হৃদয়ে মমতা ও হৃদ্যতার অপার্থিব এক সুখ ফুটে উঠতে দেখা যায়। পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। এই দিনটি বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমলের জন্য পরিচিত, যা মহানবী (সা.)-এর জীবনে দেখা যায়। নিম্নে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো––

১. জুমাবারের ফজরের তিলাওয়াত করা: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৬৮)

জুমার দিনে এই সুরা তিলাওয়াত করতেন, কারণ এই সুরাতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির আলোচনা, পুনরুত্থান এবং কিয়ামতের দিনে সমবেত হওয়ার বিষয়গুলি উল্লেখিত হয়েছে। এই Sসুরা পাঠ করে উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

২. বেশি পরিমাণে দরুদ শরিফ পড়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা জুমার দিন আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।"

কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)

৩. জুমার নামাজ আদায় করা: ইসলামের ফরজ বিধানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল জুমার নামাজ। আরাফার দিবসের পর এই দিনই সবচেয়ে বেশি মানুষ একসাথে সমবেত হন। যারা জুমার নামাজকে অলসতা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তাআলা তাদের হৃদয়ে মোহর মেরে দেন।

৪. গোসল করা: এই দিনে বিশেষভাবে গোসল করার তাগিদ এসেছে। সালিম (রহ.) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যা বলে, "যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে সে যেন গোসল করে আসে।" (তিরমিজি, হাদিস: ৪৯২)

৫. সুগন্ধি ব্যবহার করা: অন্য দিনের তুলনায় এদিন বেশি সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, "আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮০)

৬. দ্রুত মসজিদে যাওয়া: জুমার দিনের ফজিলত লাভের জন্য এই আমলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদিকে বিশেষভাবে মনোযোগী হওয়া উচিত।

৭. ইবাদতে মশগুল থাকা: ইমামের জুমার নামাজে আসার পূর্ব পর্যন্ত নামাজ, জিকির ও তিলাওয়াতে রত থাকা।

৮. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, 'চুপ থাকো' সে একটি অনর্থক কাজ করল।" (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৪০১)

৯. সুরা কাহফ পড়া: আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তীকাল জ্যোতির্ময় হবে।" (আত-তারগিব, হাদিস: ৭৩৫)

১০. জুমার নামাজের নির্ধারিত সুরা পাঠ করা: নুমান ইবনে বশির (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজে ও জুমার নামাজে 'সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা' ও 'হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ' সুরা দুটি পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১৩)

কিছু বর্ণনায় এসেছে, নবী (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা তিলাওয়াত করতেন।

১১. পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কাপড় পরিধান করা: আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তার উৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমার সালাতে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দুজনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করা হয়।" (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস: ১০৯৭)

১২. মসজিদে সুগন্ধি লাগানো: ওমর (রা.) জুমার দিন দ্বিপ্রহরে মসজিদে সুগন্ধি লাগানোর জন্য আদেশ দিয়েছেন।

১৩. ক্ষমা প্রার্থনা করা: এদিন মহান রবের পক্ষে গুনাহ মাফের বারি বর্ষিত হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, "কোনো মুসলিম যদি পবিত্র হয়ে জামে মসজিদের দিকে হাঁটতে থাকে, এরপর ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে, তাহলে এ নামাজ এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা (মোচনকারী) হয়ে যাবে, যদি ধ্বংসকারী তথা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।" (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৩৭২৯)

১৪. মৃতদের জন্য দোয়া করা: জুমার দিন কবরের আজাব মাফ হয়ে যায়। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) জুমার দিন ছাড়া (অন্য দিন) ঠিক দুপুরে নামাজ আদায় করতে অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন, "জুমার দিন ছাড়া (অন্যান্য দিনে) জাহান্নামের আগুনকে উত্তপ্ত করা হয়।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৮৩)

জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার থেকে কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে। এটা এই হাদিস থেকে প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব দেওয়া হবে না, এটা নিশ্চিত নয়।

১৫. বেশি বেশি দোয়া করা: বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "জুমার দিনের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করে, নিশ্চয়ই তিনি তা দান করেন।" তিনি বলেন, সে মুহূর্তটি অতি স্বল্প। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৫৮)

বেশির ভাগের মতে, সে সময়টি আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ মুহূর্ত। (জাদুল মাআদ থেকে সংক্ষেপিত)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সান্তোসকে জেতানোর পর প্রতিপক্ষের ‘হৃদয়ও’ জিতলেন নেইমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ এম


সান্তোসকে জেতানোর পর প্রতিপক্ষের ‘হৃদয়ও’ জিতলেন নেইমার

বল যেন তার কথা শোনে! তা না হলে এমন অবিশ্বাস্য পাসটা কীভাবে দিতে পারেন নেইমার জুনিয়র। এই পাসটি চোখে লেগে থাকা এক বিশেষ পাস।

কনমেবল সুদামেরিকানার শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ক্লাব দেপোর্তিভো মাকারার বিপক্ষে ম্যাচে ফিরতে যখন সান্তোস মরিয়া হয়ে ওঠে। ঠিক তখনই ম্যাচের ৪৪ মিনিটে নেইমার এই অবিশ্বাস্য পাসটি করেন। ডি বক্সের বেশ বাইরে থেকে তিনি সতীর্থর কাছ থেকে পাওয়া বলকে বাঁ পায়ে আলতো টোকা দিয়ে, কয়েকজন খেলোয়াড়ের মাথার ওপর দিয়ে, ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার খেলা শুরু করেন।

ডি-বক্সে ঢুকে ফাঁকা জায়গা পেয়ে গ্যাব্রিয়েল বারবোসা সুবিধামতো বল পান।

এমন অনিন্দ্য পাস পেয়ে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে তিনি জালের পথ দেখান। ফলে সান্তোস ১-১ গোলে সমতায় ফেরে।

৭৬ মিনিটে আবারো একটি অ্যাসিস্ট করেন নেইমার। এবার কর্নার থেকে দেওয়া অ্যাসিস্টে গোল করেন উইলিয়ান আরাও।

সেই গোলে পরে ২-১ ব্যবধানে জয় লাভ করে হাসিমুখে মাঠ ছাড়েন নেইমাররা। লিডটি আরো বড় হতে পারত, যদি না দুটি গোল বাতিল না হতো। এর আগে ম্যাচের ৫ মিনিটে ফ্রাঙ্কো পোজের গোলে লিড নিয়েছিল ইকুয়েডরের ক্লাব মাকারা।

অ্যাসিস্ট করে সান্তোসের হৃদয় জিততে সক্ষম হন নেইমার। ঠিক তেমনি, ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গেও সেলফি তোলার আবেদন মিটিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

রেফারি শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে মাকারার খেলোয়াড়রা লাইন ধরেন ৩৪ বছর বয়সী স্ট্রাইকারের সঙ্গে সেলফি তুলতে। হাসিমুখে সেই আবদার মিটিয়েছেন তিনি। সেলফি তোলার সময় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের মুখে তৃপ্তির হাসি ছিল। দেখে বোঝার উপায় ছিল না কিছুক্ষণ আগে নেইমারের কাছেই তাদের পরাজয় ঘটেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজও ঢাকার বাতাস মাঝারিমানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ এম


আজও ঢাকার বাতাস মাঝারিমানের

বিশ্বে জলাবায়ু পরিবর্তন এবং উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকায় দিন দিন বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাংলাদেশ রাজধানী ঢাকার অবস্থান বায়ুদূষণের তালিকায় ২১তম।

ঢাকার বায়ুমান স্কোর ৯০ রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের এই অবস্থার মানকে মাঝারিমানের বলা হচ্ছে। এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবারও ঢাকায় বাতাস ছিল মাঝারিমানের।

এছাড়া, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, বায়ুদূষণের তালিকায় ১৮৬ স্কোর নিয়ে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা দূষণের শীর্ষে রয়েছে, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া ১৭৬ স্কোর নিয়ে মালয়েশিয়ার কুচিং শহর দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা রয়েছে, যার স্কোর ১৭২।

এর পরের অবস্থানে আছে কাতারের দোহা, পাকিস্তানের লাহোর, বাহারীনের মানামা এবং কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা, যা দূষণে ওপরের দিকে রয়েছে।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘অনেক ভালো’ বলে মনে করা হয়। স্কোর ৫১ থেকে ১০০ হলে বায়ুর মান ধরা হয় ‘মাঝারি বা সহনীয়’। আর ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ফলাফল থাকে।

অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে ধরা হয়। তাছাড়া, স্কোর ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%