০৪:৫৮ পি.এম
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তিনি বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ বরিশাল জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে চিন্তা-উপস্থাপন করেছেন। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, পাহাড়ি, সমতল কিংবা ভাষা, বর্ণ, লিঙ্গ ও ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে বিভেদ-বিভাজন তৈরি করার কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না, এটিই তাঁর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।
তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, "কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ রাজনৈতিক বা স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চায় কিংবা ধর্মের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে গ্রাস করতে চায়, তাহলে বুঝতে হবে সে সৃষ্টিকর্তা, মানবতা এবং ধর্মের মূল মর্মবাণীর বিরোধিতা করছে।"
তিনি আরো উল্লেখ করেন, রাজনীতি ও ধর্মের ভিন্নতা ব্যাখ্যা করে বললেন, "রাজনীতিতে দর্শন, চিন্তা ও আদর্শ কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়। ধর্মীয় দর্শন আবর্তিত হয় সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তাকে ঘিরে, আর রাজনীতির চিন্তাভাবনা আবর্তিত হয় জনগণের কল্যাণ ও সামাজিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে। রাজনীতির কোনো প্রতীক বা মার্কা দেবত্ব প্রদত্ত নয়; দল বা নেতা কোনো দেব-দেবী নন।"
আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরার সময় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ধর্ম চর্চাকারীরা যখন ধর্মব্যবসায়ীদের চিনতে পারবেন, তখনই প্রকৃত ধর্মচর্চা সার্থক হবে। তিনি বললেন, "কোনো মহল ধর্মীয় অনুভূতিকে সাম্প্রদায়িক পকেটের পরিণত করার ষড়যন্ত্র করলে, ধর্মপ্রাণ মানুষকে সেই ধর্মব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে সোচ্চার হতে হবে।"
তথ্যমন্ত্রী দেশের মানুষের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, "আমরা ইতিহাসের শিক্ষা ভুলিনি। জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণ না করলে ইতিহাস আবার তার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন— ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।"
অনুষ্ঠানে বরিশাল জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা প্রধান বক্তা হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। আলোচনা সভার শুরুতে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
আরও পড়ুন: ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াবে প্রধানমন্ত্রীর আশা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন