ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শিবচরে ৬ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে গাভী বিতরণ


শিবচরে ৬ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে গাভী বিতরণ

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ছয়টি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে গাভী বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপকারভোগীদের গাভী পালন ও পরিচর্যা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বাঁশকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (ভিডিএস)-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় বাঁশকান্দী ইউনিয়নের ছয়টি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ছয়টি গাভী বিতরণ করা হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপকারভোগীদের গাভী পালন, পরিচর্যা ও খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে তারা এ সহায়তাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন।

আরও পড়ুন: মহানগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন রাসিক প্রশাসক রিটন

গাভীপ্রাপ্ত উপকারভোগীরা হলেন— ফরিদা খাতুন, মো. কামাল হোসেন, রফিকুল ইসলাম ইদ্রিস, রিনা আক্তার, মিজান মিয়া ও লতা বেগম।

অনুষ্ঠানে ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির পরিচালক এ.বি.এম. মাহবুব হোসেন বাদলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. ইবনে মিজান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. বেল্লাল হোসেন এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান।

বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়বর্ধক কর্মসূচি হতদরিদ্র পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (ভিডিএস) দীর্ঘদিন ধরে শিবচর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।

আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ পি.এম


স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

যশোরের মনিরামপুরে আরিফুর রহমান (৮০) নামে এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছোট স্ত্রী শেফালি বেগমের বিরুদ্ধে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে পারিবারিক কলহের পর তাকে হত্যা করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

শোনা যাচ্ছে, খবর পেয়ে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার সময় মনিরামপুর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের ছোট স্ত্রী শেফালি বেগমকে (৫৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।

নিহত বৃদ্ধ উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের মৃত লাল চাঁদ গাজীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি পাঠাগারের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আরিফুর রহমানের ডান পা পঙ্গু ছিল, যার কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারতেন না। তিনি দুই মেয়ে রেখে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ৩০-৪০ বছর আগে শেফালিকে বিয়ে করেছিলেন। এরপর তার দুই ছেলের জন্ম হয় এবং বর্তমানে তারা বিদেশে কর্মরত।

নিহতের বড় মেয়ের স্বামী আইয়ুব আলী এই ঘটনার বিষয়ে বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আমি শ্বশুরের সাথে কথা বলি। এরপর রাত ১১টার দিকে শুনি শ্বশুর মারা গেছেন। রাতেই এসে দেখি শ্বশুরের মরদেহ বারান্দায় খাটের ওপর পড়ে আছে।’

তিনি আরও জানান, ‘শ্বশুরের ঘরের সামনে রাস্তার অপরপাশে চায়ের দোকান রয়েছে। দোকানের লোকজন বলাবলি করছিল, রাতে শ্বশুর চিৎকার করে বলছিল, “আমারে বাঁচাও।” তবে বাড়ির গেটে তালা দেওয়া থাকায় দোকানের লোকজন এগিয়ে আসতে পারেনি। শ্বশুরের কপালের ওপরে কাটা ক্ষত ছিল। রাতেই আমি বলেছি, আমার শ্বশুরকে মেরে ফেলা হয়েছে। কারণ কিছুক্ষণ আগে যে সুস্থ ব্যক্তি ফোনে কথা বলেছে, তার মৃত্যু হওয়ার কারণ ছাড়া তা সম্ভব নয়। মরদেহের ময়নাতদন্তে হত্যা প্রমাণিত হলে আমরা খুনির উপযুক্ত শাস্তি চাই।’

স্থানীয় মদনপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুনসুর আলী বলেন, ‘আরিফুরের এক ছেলের স্ত্রী বাড়িতে থাকতো এবং সে শ্বশুরের দেখাশোনা করত। তবে সোমবার দুপুরে শাশুড়ির ওপর রেগে সে বাবার বাড়িতে চলে যায়। এরপর আরিফুর তার ছেলের বউকে বাড়িতে থাকতে বলেছেন। এই বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার কারণে তিনি মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন শেফালি।’

তিনি আরও জানান, ‘বিকেলে ঘটনার তিন থেকে চার ঘণ্টা পরে শেফালি বেগম নিহতের এক চাচাতো ভাইকে বিষয়টি জানায়। এরপর ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়। আরিফুর পঙ্গু হওয়ায় তাকে তার স্ত্রী নির্যাতন করতো। কয়েক দিন আগে তার স্ত্রীকে নিয়ে এলাকায় খারাপ কথা ছড়ায়, এরপর থেকেই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।’

মনিরামপুর থানার ওসি আবু সাঈদ এই বিষয়ে বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির কপালে কাটা দাগ রয়েছে। এই আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে কিনা বলা যাচ্ছে না। আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাননীয় সংসদ সদস্য, ৫ আসনের, এডভোকেট আবুল কালাম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণার কাউন্সিল গবর্ণিং বডি সদস্য মনোনীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ নাজির খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধ,

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


মাননীয় সংসদ সদস্য, ৫ আসনের, এডভোকেট আবুল কালাম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণার কাউন্সিল গবর্ণিং বডি সদস্য মনোনীত

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এড. আবুল কালাম বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের গভর্ণিং বডির সদস্য হিসেবে মনোনীত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ সদর-বন্দর বাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এবং স্পিকার মেজর অব: হাফিজ উদ্দিন আহমেদ কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জনসাধারণ।

শুভেচ্ছান্তে, নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) এর সর্বস্তরের জনগণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সততা আর বিবেকের লড়াইয়ে অটল এক গ্রামীণ সাংবাদিকের গল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


সততা আর বিবেকের লড়াইয়ে অটল এক গ্রামীণ সাংবাদিকের গল্প

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার চেয়ে নিজের কাজটিকে নিভৃতে করে যেতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। প্রচার-প্রচারণা, আত্মপ্রচার কিংবা নিজের অর্জন নিয়ে উচ্চকণ্ঠ হওয়া—এসব যেন তার স্বভাবের সঙ্গে যায় না। বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরতে, মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরতে এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়াতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দার পরিচিত সাংবাদিক মিজানুর রহমান বাবু, যিনি সবার কাছে মিজান বাবু নামেই অধিক পরিচিত।

১৯৭৫ সালের ১ আগস্ট ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রামে জন্ম তার। বাবা ছিলেন একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। কিন্তু জীবনের শুরুতেই নেমে আসে বড় এক দুঃখ। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে, ১৯৮০ সালে বাবাকে হারান তিনি। বাবার স্নেহ হারিয়ে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম যেন তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

অভাব-অনটনের মধ্যেও থেমে থাকেননি। শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিয়েছেন নিজের চেষ্টায়। ১৯৯১ সালে নগরকান্দার এম.এন. একাডেমি থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৯৩ সালে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে একই কলেজে বাংলা বিভাগে অনার্সে ভর্তি হলেও নানা বাস্তবতার কারণে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। এরপর প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার আগেই মানুষের কথা বলার এক অদম্য ইচ্ছা তাকে টেনে আনে সাংবাদিকতায়। ২০১০ সালে ফরিদপুরের স্থানীয় দৈনিক কুমার পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু করেন। একই বছর জাতীয় দৈনিক ভোরের ডাক-এর নগরকান্দা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পান।

এরপর একে একে কাজ করেন দৈনিক সংবাদ, সকালের খবর, আলোকিত বাংলাদেশ এবং মানবকণ্ঠ পত্রিকায়। ২০১৬ সাল থেকে তিনি জাতীয় দৈনিক যুগান্তর-এর নগরকান্দা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ এই পথচলায় সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জনই ছিল তার সবচেয়ে বড় অর্জন।

গ্রামীণ সাংবাদিকতার বাস্তবতা সহজ নয়। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, আর্থিক অনিশ্চয়তা, নানা ধরনের চাপ ও ঝুঁকির মধ্য দিয়েই কাজ করতে হয়। তবু মিজান বাবু বিশ্বাস করেন, সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্যনিষ্ঠা। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি বহুবার ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে কলম ধরেছেন।

এই পথচলায় তাকে নানা প্রতিকূলতারও মুখোমুখি হতে হয়েছে। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে হামলা, মামলা, হুমকি—সবকিছুরই শিকার হয়েছেন। অনেক সময় সামাজিক ও পেশাগতভাবে একঘরে করার চেষ্টাও হয়েছে। তবু তিনি থেমে যাননি। কারণ তার বিশ্বাস, সাংবাদিকতা যদি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার না হয়, তবে সেই সাংবাদিকতার মূল্য অনেকটাই কমে যায়।

তার সহকর্মীদের অনেকেই বলেন, মিজান বাবুর সবচেয়ে বড় শক্তি তার স্পষ্টবাদিতা। তিনি যেটিকে সত্য মনে করেন, সেটিই বলতে চেষ্টা করেন। এই স্বভাবের কারণে যেমন অনেকের শ্রদ্ধা পেয়েছেন, তেমনি অনেকের বিরাগভাজনও হয়েছেন। কিন্তু জনপ্রিয় হওয়ার চেয়ে নিজের বিবেকের কাছে সৎ থাকাকেই তিনি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

আর্থিক দিক থেকেও তার জীবন খুব স্বচ্ছল নয়। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেও বিলাসী জীবন তার ভাগ্যে জোটেনি। কিন্তু অর্থকষ্ট কখনোই তাকে নীতির সঙ্গে আপস করতে শেখাতে পারেনি। পরিচিতজনদের ভাষ্য, তিনি কখনো কাউকে ভয় দেখিয়ে, ব্ল্যাকমেইল করে কিংবা কারও দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেননি। সংবাদকে কখনো ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম বানানোর চেয়ে মানুষের আস্থাকে বেশি মূল্য দিয়েছেন।

অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধেও তিনি বরাবরই সোচ্চার। সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল কিংবা সংবাদকে বাণিজ্যের হাতিয়ার বানানোর প্রবণতার সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, একটি সমাজে সাংবাদিকতার প্রতি মানুষের আস্থা টিকিয়ে রাখতে হলে সাংবাদিকদের নিজেদেরও জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে।

পেশাগত ব্যস্ততার বাইরেও তার রয়েছে কিছু ভিন্ন আগ্রহ। তিনি ছবি আঁকতে ভালোবাসেন, কবিতা আবৃত্তি করতে পছন্দ করেন এবং সুযোগ পেলেই নতুন নতুন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। প্রকৃতি, গ্রামবাংলার জীবন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকতেই যেন তিনি সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

ব্যক্তিজীবনে তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে। চাকচিক্যপূর্ণ পোশাক বা বিলাসী জীবন তাকে আকর্ষণ করে না। একটি সাধারণ টি-শার্ট ও ট্রাউজার পরেই তাকে অধিকাংশ সময় দেখা যায়। স্ত্রী রাকিবা আক্তারী পরিবার পরিকল্পনা সহকারী হিসেবে কর্মরত। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার ছোট্ট সংসার। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে চলেছেন তিনি।

মজার বিষয় হলো, নিজের সম্পর্কে লেখা বা প্রচার তিনি একেবারেই পছন্দ করেন না। পরিচিতদের ভাষ্য, নিজের কাজের চেয়ে কাজের ফলাফলকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। এমনকি তাকে নিয়ে এই ধরনের লেখা প্রস্তুতের সময়ও তিনি বারবার লেখকের ফোন সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যাতে নিজের বিষয়ে কিছু লেখা না হয়। নিজের ছবি তুলতেও অনীহা প্রকাশ করেন। অনেক অনুরোধের পর একটি ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে।

এই অনীহা হয়তো তার ব্যক্তিত্বেরই একটি অংশ। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, একজন সাংবাদিকের কাজ নিজেকে নয়, সমাজকে সামনে নিয়ে আসা। সংবাদে যেন মানুষ থাকে, সাংবাদিক নয়—এমন একটি দর্শন তিনি ধারণ করেন।

বাংলাদেশের গ্রামীণ সাংবাদিকতার ইতিহাসে অসংখ্য মানুষ আছেন, যারা আলোচনার বাইরে থেকেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মিজান বাবুও সেই সারির একজন। জাতীয় পর্যায়ে খুব বেশি পরিচিত না হলেও স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখ, অন্যায়-অনিয়ম, সম্ভাবনা ও সংকটের গল্প বছরের পর বছর ধরে তুলে ধরেছেন তিনি।

সাংবাদিকতার পেশায় সাফল্যকে অনেকেই পদ-পদবি, খ্যাতি কিংবা আর্থিক অবস্থান দিয়ে মাপেন। কিন্তু আরেক ধরনের সাফল্যও আছে—যেখানে একজন মানুষ নিজের নীতি, সততা ও বিবেককে অক্ষুণ্ন রেখে পথ চলেন। সেই পথ হয়তো সহজ নয়, অনেক সময় নিঃসঙ্গও। তবু সেই পথই সমাজে কিছু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে।

মিজান বাবুর জীবনগল্প হয়তো কোনো রূপকথা নয়। এতে নেই বড় কোনো ক্ষমতার গল্প কিংবা বিত্তের ঝলকানি। আছে সংগ্রাম, সততা, দায়িত্ববোধ এবং সত্যের প্রতি এক ধরনের অবিচল আস্থা। সেই কারণেই তিনি হয়তো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নন, কিন্তু নীরবে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাওয়া একজন গ্রামীণ সাংবাদিক হিসেবে অনেকের কাছে সম্মানের নাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক বছরেও চালু হয়নি পাবনা সুগার মিল, দুশ্চিন্তায় আখচাষিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ পি.এম


এক বছরেও চালু হয়নি পাবনা সুগার মিল, দুশ্চিন্তায় আখচাষিরা

 

পাঁচ বছর আগে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পাবনা সুগার মিল পুনরায় চালুর উদ্দেশ্যে গত বছর শিল্প মন্ত্রণালয় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছিল। দ্বিতীয় ধাপে মিল চালুর ঘোষণার পর এক বছর অতিবাহিত হলেও এখনও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বন্ধ অবস্থায় পড়ে গিয়ে প্রায় ৮০ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে মিলের উপর ৫৫৩ কোটি টাকার ঋণ চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মরতদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে হচ্ছে। ফলে মিল দ্রুত চালুর জন্য সংশ্লিষ্টরা সরব হয়ে উঠেছে।

১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় পাবনা সুগার মিল, যা ১২৫ কোটি টাকায় নির্মিত হয়েছিল। পরীক্ষামূলক উৎপাদন ১৯৯৭ ও ১৯৯৮ সালে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পরের বছর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা হয়। সচল কার্যক্রম বজায় রাখতে বিভিন্ন ব্যাংক ও সংস্থা থেকে নেওয়া ঋণের সুদ সময়ক্রমে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অলাভজনক কার্যক্রমের জন্য ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর মিলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

হিসাবরক্ষণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন বন্ধের বছরেও মিলটি প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টন চিনি উৎপাদন করেছিল। কিন্তু উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতি বছর প্রায় ৪৫ কোটি টাকা সুদ ঋণের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এর পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতায় মিলকে ভারী ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

বর্তমানে মিলের যন্ত্রপাতি রক্ষার জন্য ৩০ জন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত আছেন, যাদের প্রত্যেকের মাসিক বেতনব্যয় হচ্ছে পাঁচ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রশাসন, হিসাব, কারখানা, ইক্ষু বিভাগ এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সঙ্গে ২৩ জন নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ এই মিলেই স্বাভাবিক সময়ে ১,২০০ শ্রমিক কর্মচারী কাজ করতেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এক সময়ের ব্যস্ত কারখানা এখন পরিত্যক্ত এবং জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আখবাহী ট্রাক ও ট্রলি এখন আগাছায় ঢাকা পড়ে রয়েছে এবং বেশির ভাগ যানবাহন মরিচা ধরে অকেজো হয়ে গেছে।

গোডাউন ও টিনশেডের ছাউনি ঝুলে পড়েছে এবং দেওয়ালে ব্যাপক ফাটল দেখা দিয়েছে। বয়লার হাউজ, ক্রাশার, ডোঙ্গা, রুলার, বিয়ারিংসহ প্রধান উৎপাদন যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এক কর্মচারী জানান, "এখন যে মাঠে ঝোপঝাড় দেখা যাচ্ছে, এক সময় এসব জায়গা আখবাহী গাড়ি এবং মানুষের পদচারণায় জমজমাট ছিল। চাষিরা হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পারতেন। কিন্তু মিল বন্ধের পর সেই দৃশ্য আর নেই।"

মিলের অধীনে ঈশ্বরদীসহ পাবনা অঞ্চলে ৮টি আখ জোন ছিল, যেখানে ৫-৫.৫ হাজার কৃষক ৬ হাজার একর জমিতে আখ চাষ করতেন। মিল বন্ধের পর অধিকাংশ কৃষক আখ চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। মিলের চালুর ঘোষণার পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে তাদের মধ্যে।

পাবনা সুগার মিল আখচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও জাতীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কৃষক শাহজাহান আলী পেঁপে বাদশা জানান, "চাষীদের পক্ষ থেকে আমরা শিল্প উপদেষ্টার কাছে একটি চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি। ঘোষণার এক বছর পার হয়ে গেলেও কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা আখ চাষীদের পক্ষ থেকে দ্রুত মিল চালুর দাবি জানাচ্ছি।"

মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান জানান, উৎপাদন বন্ধের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে তাদের অফিসিয়ালি কিছু জানানো হয়নি। তিনি বলেন, "তিন ধাপে দেশের চিনিকলগুলো চালুর কথা শোনা গেলেও পাবনা সুগার মিল কবে চালু হবে—এ বিষয়ে তারা কোনো নির্দেশনা পাননি।"

তিনি আরো জানান, "মিল চালুর ঘোষণা দিলেও প্রস্তুতি নিতে কমপক্ষে দুই বছর লাগবে। আখের সাপ্লাই চেইন গড়ে তুলতে হবে। তবে আমরা এখনও চাষীদের আখ চাষ বন্ধ না করতে উৎসাহিত করছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%