প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাঁচ বছর আগে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পাবনা সুগার মিল পুনরায় চালুর উদ্দেশ্যে গত বছর শিল্প মন্ত্রণালয় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছিল। দ্বিতীয় ধাপে মিল চালুর ঘোষণার পর এক বছর অতিবাহিত হলেও এখনও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বন্ধ অবস্থায় পড়ে গিয়ে প্রায় ৮০ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে মিলের উপর ৫৫৩ কোটি টাকার ঋণ চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মরতদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে হচ্ছে। ফলে মিল দ্রুত চালুর জন্য সংশ্লিষ্টরা সরব হয়ে উঠেছে।
১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় পাবনা সুগার মিল, যা ১২৫ কোটি টাকায় নির্মিত হয়েছিল। পরীক্ষামূলক উৎপাদন ১৯৯৭ ও ১৯৯৮ সালে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পরের বছর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা হয়। সচল কার্যক্রম বজায় রাখতে বিভিন্ন ব্যাংক ও সংস্থা থেকে নেওয়া ঋণের সুদ সময়ক্রমে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অলাভজনক কার্যক্রমের জন্য ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর মিলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
হিসাবরক্ষণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন বন্ধের বছরেও মিলটি প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টন চিনি উৎপাদন করেছিল। কিন্তু উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতি বছর প্রায় ৪৫ কোটি টাকা সুদ ঋণের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এর পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতায় মিলকে ভারী ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।
বর্তমানে মিলের যন্ত্রপাতি রক্ষার জন্য ৩০ জন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত আছেন, যাদের প্রত্যেকের মাসিক বেতনব্যয় হচ্ছে পাঁচ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রশাসন, হিসাব, কারখানা, ইক্ষু বিভাগ এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সঙ্গে ২৩ জন নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ এই মিলেই স্বাভাবিক সময়ে ১,২০০ শ্রমিক কর্মচারী কাজ করতেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এক সময়ের ব্যস্ত কারখানা এখন পরিত্যক্ত এবং জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আখবাহী ট্রাক ও ট্রলি এখন আগাছায় ঢাকা পড়ে রয়েছে এবং বেশির ভাগ যানবাহন মরিচা ধরে অকেজো হয়ে গেছে।
গোডাউন ও টিনশেডের ছাউনি ঝুলে পড়েছে এবং দেওয়ালে ব্যাপক ফাটল দেখা দিয়েছে। বয়লার হাউজ, ক্রাশার, ডোঙ্গা, রুলার, বিয়ারিংসহ প্রধান উৎপাদন যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এক কর্মচারী জানান, "এখন যে মাঠে ঝোপঝাড় দেখা যাচ্ছে, এক সময় এসব জায়গা আখবাহী গাড়ি এবং মানুষের পদচারণায় জমজমাট ছিল। চাষিরা হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পারতেন। কিন্তু মিল বন্ধের পর সেই দৃশ্য আর নেই।"
মিলের অধীনে ঈশ্বরদীসহ পাবনা অঞ্চলে ৮টি আখ জোন ছিল, যেখানে ৫-৫.৫ হাজার কৃষক ৬ হাজার একর জমিতে আখ চাষ করতেন। মিল বন্ধের পর অধিকাংশ কৃষক আখ চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। মিলের চালুর ঘোষণার পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে তাদের মধ্যে।
পাবনা সুগার মিল আখচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও জাতীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কৃষক শাহজাহান আলী পেঁপে বাদশা জানান, "চাষীদের পক্ষ থেকে আমরা শিল্প উপদেষ্টার কাছে একটি চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি। ঘোষণার এক বছর পার হয়ে গেলেও কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা আখ চাষীদের পক্ষ থেকে দ্রুত মিল চালুর দাবি জানাচ্ছি।"
মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান জানান, উৎপাদন বন্ধের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে তাদের অফিসিয়ালি কিছু জানানো হয়নি। তিনি বলেন, "তিন ধাপে দেশের চিনিকলগুলো চালুর কথা শোনা গেলেও পাবনা সুগার মিল কবে চালু হবে—এ বিষয়ে তারা কোনো নির্দেশনা পাননি।"
তিনি আরো জানান, "মিল চালুর ঘোষণা দিলেও প্রস্তুতি নিতে কমপক্ষে দুই বছর লাগবে। আখের সাপ্লাই চেইন গড়ে তুলতে হবে। তবে আমরা এখনও চাষীদের আখ চাষ বন্ধ না করতে উৎসাহিত করছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন