০৪:১৪ পি.এম
যশোরের মনিরামপুরে আরিফুর রহমান (৮০) নামে এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছোট স্ত্রী শেফালি বেগমের বিরুদ্ধে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে পারিবারিক কলহের পর তাকে হত্যা করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
শোনা যাচ্ছে, খবর পেয়ে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার সময় মনিরামপুর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের ছোট স্ত্রী শেফালি বেগমকে (৫৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।
নিহত বৃদ্ধ উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের মৃত লাল চাঁদ গাজীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি পাঠাগারের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে, অংশ নেবেন সরকারি কর্মসূচিতে
আরিফুর রহমানের ডান পা পঙ্গু ছিল, যার কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারতেন না। তিনি দুই মেয়ে রেখে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ৩০-৪০ বছর আগে শেফালিকে বিয়ে করেছিলেন। এরপর তার দুই ছেলের জন্ম হয় এবং বর্তমানে তারা বিদেশে কর্মরত।
নিহতের বড় মেয়ের স্বামী আইয়ুব আলী এই ঘটনার বিষয়ে বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আমি শ্বশুরের সাথে কথা বলি। এরপর রাত ১১টার দিকে শুনি শ্বশুর মারা গেছেন। রাতেই এসে দেখি শ্বশুরের মরদেহ বারান্দায় খাটের ওপর পড়ে আছে।’
তিনি আরও জানান, ‘শ্বশুরের ঘরের সামনে রাস্তার অপরপাশে চায়ের দোকান রয়েছে। দোকানের লোকজন বলাবলি করছিল, রাতে শ্বশুর চিৎকার করে বলছিল, “আমারে বাঁচাও।” তবে বাড়ির গেটে তালা দেওয়া থাকায় দোকানের লোকজন এগিয়ে আসতে পারেনি। শ্বশুরের কপালের ওপরে কাটা ক্ষত ছিল। রাতেই আমি বলেছি, আমার শ্বশুরকে মেরে ফেলা হয়েছে। কারণ কিছুক্ষণ আগে যে সুস্থ ব্যক্তি ফোনে কথা বলেছে, তার মৃত্যু হওয়ার কারণ ছাড়া তা সম্ভব নয়। মরদেহের ময়নাতদন্তে হত্যা প্রমাণিত হলে আমরা খুনির উপযুক্ত শাস্তি চাই।’
স্থানীয় মদনপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুনসুর আলী বলেন, ‘আরিফুরের এক ছেলের স্ত্রী বাড়িতে থাকতো এবং সে শ্বশুরের দেখাশোনা করত। তবে সোমবার দুপুরে শাশুড়ির ওপর রেগে সে বাবার বাড়িতে চলে যায়। এরপর আরিফুর তার ছেলের বউকে বাড়িতে থাকতে বলেছেন। এই বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার কারণে তিনি মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন শেফালি।’
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় ৩ লাখ টাকার ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ, গ্রেপ্তার ২
তিনি আরও জানান, ‘বিকেলে ঘটনার তিন থেকে চার ঘণ্টা পরে শেফালি বেগম নিহতের এক চাচাতো ভাইকে বিষয়টি জানায়। এরপর ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়। আরিফুর পঙ্গু হওয়ায় তাকে তার স্ত্রী নির্যাতন করতো। কয়েক দিন আগে তার স্ত্রীকে নিয়ে এলাকায় খারাপ কথা ছড়ায়, এরপর থেকেই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।’
মনিরামপুর থানার ওসি আবু সাঈদ এই বিষয়ে বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির কপালে কাটা দাগ রয়েছে। এই আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে কিনা বলা যাচ্ছে না। আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন