ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এক বছরেও চালু হয়নি পাবনা সুগার মিল, দুশ্চিন্তায় আখচাষিরা


এক বছরেও চালু হয়নি পাবনা সুগার মিল, দুশ্চিন্তায় আখচাষিরা

 

পাঁচ বছর আগে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পাবনা সুগার মিল পুনরায় চালুর উদ্দেশ্যে গত বছর শিল্প মন্ত্রণালয় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছিল। দ্বিতীয় ধাপে মিল চালুর ঘোষণার পর এক বছর অতিবাহিত হলেও এখনও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বন্ধ অবস্থায় পড়ে গিয়ে প্রায় ৮০ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে মিলের উপর ৫৫৩ কোটি টাকার ঋণ চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মরতদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে হচ্ছে। ফলে মিল দ্রুত চালুর জন্য সংশ্লিষ্টরা সরব হয়ে উঠেছে।

১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় পাবনা সুগার মিল, যা ১২৫ কোটি টাকায় নির্মিত হয়েছিল। পরীক্ষামূলক উৎপাদন ১৯৯৭ ও ১৯৯৮ সালে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পরের বছর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা হয়। সচল কার্যক্রম বজায় রাখতে বিভিন্ন ব্যাংক ও সংস্থা থেকে নেওয়া ঋণের সুদ সময়ক্রমে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অলাভজনক কার্যক্রমের জন্য ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর মিলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন: শ্বশুরের মৃত্যুর এক দিন পর মারা গেলেন পুত্রবধূ

হিসাবরক্ষণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন বন্ধের বছরেও মিলটি প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টন চিনি উৎপাদন করেছিল। কিন্তু উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতি বছর প্রায় ৪৫ কোটি টাকা সুদ ঋণের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এর পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতায় মিলকে ভারী ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

বর্তমানে মিলের যন্ত্রপাতি রক্ষার জন্য ৩০ জন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত আছেন, যাদের প্রত্যেকের মাসিক বেতনব্যয় হচ্ছে পাঁচ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রশাসন, হিসাব, কারখানা, ইক্ষু বিভাগ এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সঙ্গে ২৩ জন নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ এই মিলেই স্বাভাবিক সময়ে ১,২০০ শ্রমিক কর্মচারী কাজ করতেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এক সময়ের ব্যস্ত কারখানা এখন পরিত্যক্ত এবং জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আখবাহী ট্রাক ও ট্রলি এখন আগাছায় ঢাকা পড়ে রয়েছে এবং বেশির ভাগ যানবাহন মরিচা ধরে অকেজো হয়ে গেছে।

গোডাউন ও টিনশেডের ছাউনি ঝুলে পড়েছে এবং দেওয়ালে ব্যাপক ফাটল দেখা দিয়েছে। বয়লার হাউজ, ক্রাশার, ডোঙ্গা, রুলার, বিয়ারিংসহ প্রধান উৎপাদন যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: নেছারাবাদে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় দুজন

এক কর্মচারী জানান, "এখন যে মাঠে ঝোপঝাড় দেখা যাচ্ছে, এক সময় এসব জায়গা আখবাহী গাড়ি এবং মানুষের পদচারণায় জমজমাট ছিল। চাষিরা হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পারতেন। কিন্তু মিল বন্ধের পর সেই দৃশ্য আর নেই।"

মিলের অধীনে ঈশ্বরদীসহ পাবনা অঞ্চলে ৮টি আখ জোন ছিল, যেখানে ৫-৫.৫ হাজার কৃষক ৬ হাজার একর জমিতে আখ চাষ করতেন। মিল বন্ধের পর অধিকাংশ কৃষক আখ চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। মিলের চালুর ঘোষণার পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে তাদের মধ্যে।

পাবনা সুগার মিল আখচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও জাতীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কৃষক শাহজাহান আলী পেঁপে বাদশা জানান, "চাষীদের পক্ষ থেকে আমরা শিল্প উপদেষ্টার কাছে একটি চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি। ঘোষণার এক বছর পার হয়ে গেলেও কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা আখ চাষীদের পক্ষ থেকে দ্রুত মিল চালুর দাবি জানাচ্ছি।"

মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান জানান, উৎপাদন বন্ধের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে তাদের অফিসিয়ালি কিছু জানানো হয়নি। তিনি বলেন, "তিন ধাপে দেশের চিনিকলগুলো চালুর কথা শোনা গেলেও পাবনা সুগার মিল কবে চালু হবে—এ বিষয়ে তারা কোনো নির্দেশনা পাননি।"

আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে নারীকে পিটিয়ে দুই দাঁত ভাঙার অভিযোগ, স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের দাবি; পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

তিনি আরো জানান, "মিল চালুর ঘোষণা দিলেও প্রস্তুতি নিতে কমপক্ষে দুই বছর লাগবে। আখের সাপ্লাই চেইন গড়ে তুলতে হবে। তবে আমরা এখনও চাষীদের আখ চাষ বন্ধ না করতে উৎসাহিত করছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আম ব্যবসায়ী সেজে ডাকাতির প্রস্তুতি, রহনপুরে অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সদস্য গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৯ পি.এম


আম ব্যবসায়ী সেজে ডাকাতির প্রস্তুতি, রহনপুরে অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সদস্য গ্রেফতার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ০৬/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখ বিকেল আনুমানিক ১৯.৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, গোমস্তাপুর থানাধীন রহনপুর পৌরসভার নুনিগোলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জনৈক মো: আনিসুজ্জামান চিন্টু (৫৫) এর বাড়িতে কতিপয় ব্যক্তি গত ০৫/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখ থেকে আম ব্যবসায়ীর পরিচয়ে ঘর ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছে। সেখানে তারা দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এবং রহনপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক নিরঞ্জন, এ কে এম আতিকুর রহমান) এর সহযোগিতায় পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে রওনা করেন। সন্ধ্যা ১৯.৫০ ঘটিকায় পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় ৬ জন ডাকাতকে দেশীয় অস্ত্রসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তবে কয়েকজন ডাকাত কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পরবর্তীতে আসামিদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে রাত ২২:০০ ঘটিকায় রহনপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন নিমতলা নামক স্থানে রাস্তার উপর থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি নাম্বারপ্লেট বিহীন পিকআপ ভ্যান উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামিরা বিভিন্ন ডাকাত গ্রুপের সক্রিয় সদস্য এবং গ্রুপ প্রধান। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাইসহ অন্যান্য মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়:
১. মো: ইমরান হোসেন (২২), পিতা- মো: বুলবুল হোসেন, সাং- বেতবাড়িয়া, ইউপি- যাদবপুর, থানা- মহেশপুর, জেলা- ঝিনাইদহ।
২. মো: সাইফুল মন্ডল (৪০), পিতা- মো: সেকেন্দার মন্ডল, সাং- জুনিয়াদহ, ইউপি- দৌলতপুর, থানা- ভেড়ামারা, জেলা- কুষ্টিয়া।
৩. মো: মুন্না হাসান (১৯), পিতা- মো: আব্দুল জলিল, সাং- মাইজদিয়া নতুনপাড়া, থানা- ঈশ্বরদী, জেলা- পাবনা।
৪. মো: আসিফ হোসেন (২১), পিতা- শওকত আলী, সাং- থানাপাড়া, ইউনিয়ন- সারাই, থানা- ঈশ্বরদী, জেলা- পাবনা।
৫. মো: শান্ত (২৭), পিতা- মো: আব্দুর রকিব, সাং- মাইজদিয়া নতুনপাড়া, থানা- ঈশ্বরদী, জেলা- পাবনা।
৬. মো: রতন আলী (৩৫), পিতা- মো: আবু তালেব, সাং- বড়ইচারা, থানা- ঈশ্বরদী, জেলা- পাবনা।

অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে ২৪ ইঞ্চি বোল্ট কাটার (১টি), ২৯ ইঞ্চি লোহার রড (১টি), ১২ ইঞ্চি লোহার হাতুড়ি (১টি), ৩০ ইঞ্চি লোহার পাইপের তৈরি দুফলা (১টি), ১৯ ইঞ্চি কাঠের বাটসহ লোহার হাসুয়া (২টি) এবং ১টি নাম্বার প্লেট বিহীন নীল ও হলুদ রঙের পিকআপ গাড়ি জব্দ করা হয়।

এই ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে গোমস্তাপুর থানায় মামলা নং-২৪, তারিখ-০৭/০৭/২০২৬ খ্রি., ধারা- ৩৯৯/৪০২ পেনাল কোড-১৮৬০ রুজু করা হয়েছে এবং আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: অফিসার ইনচার্জ, গোমস্তাপুর থানা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনের লক্ষ্যে খুলনায় মঙ্গলবার একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২১ পি.এম


জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনের লক্ষ্যে খুলনায় মঙ্গলবার একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

যথাযোগ্য মর্যাদায় আগামী ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আজ মঙ্গলবার একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল।

সভায় জানানো হয়, দিবসটি উপলক্ষে ৫ আগস্ট সকাল নয়টায় নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সুবিধাজনক সময়ে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

সুবিধাজনক সময়ে নগরীসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যেমন শিববাড়ি মোড়, শহিদ হাদিস পার্ক, ময়লাপোতা মোড়, জোড়াগেট, গল্লামারী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, জিরোপয়েন্ট, কুয়েট সংলগ্ন এলাকা, রূপসা মোড়, নতুন রাস্তাসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হবে। দুপুরের সময় হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, ডে-কেয়ার, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, শিশু পরিবার, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

এছাড়া বেলা ১১টায় খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে নিহত শহিদ পরিবারের সদস্য, আহত ছাত্র-জনতা ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা, জুলাই স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ ইমরান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মমিনুর রহমান, অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মন, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (রুটিন দায়িত্ব) মো. মেহেদী হাসান এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাই যোদ্ধা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় রাতের ঢাকায় কমেছে ছিনতাই-ডাকাতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


বিশ্বকাপ উন্মাদনায় রাতের ঢাকায় কমেছে ছিনতাই-ডাকাতি

ঢাকায় গভীর রাত একসময় ছিল ছিনতাই, চুরি অথবা হামলার আতঙ্ক। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর, আদাবর, মিরপুর ও কামরাঙ্গীরচরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চলাচল কমে যেত, এবং অপরাধের শঙ্কা বাড়ত। তবে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে রাজধানীতে দেখা গেছে এক নতুন দৃশ্য। রাতের খেলা দেখতে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে, আর এর ফলে রাস্তার অপরাধও কমেছে।

পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি, হামলা এবং ডাকাতির অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কিছু থানার কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, জুন মাসে তাদের এলাকায় ছিনতাই কিংবা ডাকাতির কোনো মামলা হয়নি।

বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অধিকাংশ সময় গভীর রাতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা বিভিন্ন এলাকার মধ্যে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছে। এসব স্থানে রাতভর মানুষের ভিড় রয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও টহল জোরদার করেছে। ফলে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে রাত ১২টার পর বের হতে ভয় লাগত। এখন দেখি ভোর ৪টা পর্যন্ত মানুষ চায়ের দোকানে, মাঠে বা বড় পর্দার সামনে খেলা দেখছে। রাস্তাও অনেক বেশি সচল মনে হয়।”

আদাবরের এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের সময় এলাকায় মানুষের আনাগোনা এত বেশি যে অপরাধীদের জন্য সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “অপরাধীরা সাধারণত নির্জন জায়গা খোঁজে। এখন রাতেও তেমন নির্জনতা নেই।”

আরো অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে শুধু দর্শকের ভিড়ই নয়, বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি নজরদারিও বৃদ্ধি পেয়েছে। খেলা দেখার ভেন্যুগুলোতে এবং আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বেচ্ছায় নিরাপত্তা নজরদারিতে যুক্ত হচ্ছেন।

তবে এই পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতাও রয়েছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে অপরাধ কমার চিত্রটি বিশ্বকাপ-নির্ভর একটি সাময়িক প্রবণতা হয়ে থাকতে পারে। কারণ, সংঘবদ্ধ অপরাধীরা পরিস্থিতি বুঝে তাদের কার্যক্রমের সময় ও কৌশল পরিবর্তন করতে পারে।

একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “মানুষের উপস্থিতি এবং পুলিশের দৃশ্যমান টহল অপরাধ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিশ্বকাপ সেটি প্রমাণ করেছে। কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর যদি একই মাত্রার নজরদারি ও জনসম্পৃক্ততা না থাকে, তাহলে পুরোনো অবস্থায় ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।”

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিশ্বকাপ চলাকালে পাওয়া অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। জনসমাগম, কমিউনিটি নজরদারি এবং নিয়মিত টহল একসঙ্গে কাজ করলে নগর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভালো ফলাফল হতে পারে।

বিশ্বকাপের উন্মাদনা শেষ হলে অপরাধের চিত্র কেমন দাঁড়াবে, সেটি এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে আপাতত ফুটবলের রাতগুলো রাজধানীর অনেক বাসিন্দার কাছে শুধুমাত্র বিনোদনের নয়, বরং নিরাপত্তার নতুন এক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের

ব্রাজিলের দুটি বড় অপরাধী চক্রকে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় দেশটিতে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি বেড়েছে বলে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েইরা সতর্ক করেছেন। সোমবার এএফপি’র হাতে আসা কংগ্রেসে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

গত মে মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র 'রেড কমান্ড' (সিভি) এবং 'ফার্স্ট ক্যাপিটাল কমান্ড' (পিসিসি)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে নেওয়া এ পদক্ষেপের কারণে বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সরকার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

ব্রাসিলিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে। গত বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েইরা চিঠিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা এ তালিকাভুক্তিকে ব্রাজিলের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে, বিশেষ করে আর্থিক, অভিবাসন এবং অপরাধ দমন সংক্রান্ত ক্ষেত্রে, দেশের সীমানার বাইরে পদক্ষেপ নেওয়ার যৌক্তিকতা হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এ ছাড়া ব্রাজিলের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্তির ঘোষণা দেওয়ার সময় সিভি ও পিসিসিকে ‘ব্রাজিলের সবচেয়ে সহিংস দুটি অপরাধী সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তাদের প্রভাব ও অবৈধ নেটওয়ার্ক শুধু ব্রাজিলেই সীমাবদ্ধ নয়। তা পুরো অঞ্চলজুড়ে ও আমাদের দেশেও বিস্তৃত।’

ব্রাজিলে ডানপন্থি বিরোধীরা ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারকে অপরাধ দমনে নমনীয় থাকার অভিযোগ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ওয়াশিংটন মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংগঠনকেও সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

শুল্ক ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কথিত অন্যায্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অভিযোগে তদন্তের পর ট্রাম্প প্রশাসন আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রাজিলের বিভিন্ন পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে কি না, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেবে। তবে ব্রাজিল সরকার আনীত এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%