ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্রাজিলকে হারানোর পর কী করেছিলেন হালান্ড, জানালেন প্রেমিকা


ব্রাজিলকে হারানোর পর কী করেছিলেন হালান্ড, জানালেন প্রেমিকা

ন্যূনতম প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, নিউ জার্সিতে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে ফুটবল বিশ্বের এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল। ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ে জোড়া গোল করে নায়ক বনে গেছেন আর্লিং হলান্ড।

ম্যানচেস্টার সিটির বেশ জনপ্রিয় এই স্ট্রাইকারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অনুসরণ করে, নরওয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল। ম্যাচ শেষে এই ঐতিহাসিক জয় উদযাপন করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে হলান্ডকে দেখা যাচ্ছে তার প্রেমিকা ইসাবেল হাউগসেং জোহানসেন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে আনন্দের মুহূর্ত উপভোগ করতে।

ম্যাচ পরবর্তী সময়ে ইসাবেল তার ইনস্টাগ অঙ্গিকারে বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেছেন। একটি ছবিতে দেখা যায়, হলান্ড একটি ফোল্ডিং চেয়ারে হাত গুটিয়ে বসে আছেন। আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ইসাবেল সোনার রঙের ভাইকিং হেলমেট পরে রয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে করা পোস্টের ক্যাপশনে ইসাবেল 'গালস্ক্যাপ' লিখেছেন, যার বাংলা অর্থ 'পাগলামি'। নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ম্যাচটি জয়ের পর হলান্ডও উচ্ছ্বাসে ভাসছেন।

আরও পড়ুন: শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!

ম্যাচ শেষে, নরওয়ে জাতীয় ফুটবল দলের পক্ষ থেকে এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে হলান্ড জানিয়েছেন, এই জয় তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তিনি বলেন, পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় পেয়ে তিনি অবিশ্বাস্য অনুভূতি লাভ করেছেন এবং ভাষা খুঁজে পাননি। হলান্ড এই জয়কে নিঃসন্দেহে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় জয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, ম্যাচের আগের দিকটিতে তারা কোনো বাড়তি চাপ অনুভব করেননি। যদিও ব্রাজিল চাপের মধ্যে ছিল, নরওয়ের দল ছিল অনেকটা নির্ভার। জয় বা পরাজয় যাই হোক, তারা এই ম্যাচটিকে উৎসব হিসেবেই দেখতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়ায়, এই বিশেষ মুহূর্তটি সারা জীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এখন ১১ জুলাই মিয়ামিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের জন্য অপেক্ষা করছেন হলান্ডের দল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যোগদানের মাত্র ১৭ দিনেই প্রত্যাহার ‘ক্ষমতাধর’ ওসি শরীফ, নেপথ্যে প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৭ এম


যোগদানের মাত্র ১৭ দিনেই প্রত্যাহার ‘ক্ষমতাধর’ ওসি শরীফ, নেপথ্যে প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটার

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফকে নাটকীয়ভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার হলেও সিএমপিতে তিনি অন্যতম 'ক্ষমতাধর' কর্মকর্তা হিসেবে আলোচিত ছিলেন। তবে যোগদানের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করেই গতকাল রবিবার রাতে সিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী তাকে প্রত্যাহারের আদেশ জারি করেন।

এই আকস্মিক বদলি নিয়ে এখন নগর পুলিশের মধ্যে তোলপাড় চলছে।

নেপথ্যে প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটার ও গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, গুরুতর দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের একটি আধা সরকারি (ডিও) লেটারের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনা দেয়।

গত ১ জুলাই পাঠানো ওই ডিও লেটারের (নম্বর– ৪৭.০০.০০০০.০০১.২৫.২০২৬-৫৬১) সূত্র ধরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ অধিশাখার উপসচিব নাসরিন সুলতানা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে আইজিপি-কে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অফিস আদেশের তথ্য অনুযায়ী: মুহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপসচিব নাসরিন সুলতানা আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সচিব মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী চিঠি তৈরি করে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওসি শরীফের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। যেহেতু কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে, তাই একজন উপকমিশনারকে (ডিসি) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

চট্টগ্রামের একজন ওসির বিরুদ্ধে বগুড়ার সংসদ সদস্য তথা প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটার পাঠানো নিয়ে সিএমপির অভ্যন্তরে নানা কৌতূহল ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং তার সহকারী একান্ত সচিব তৌহিদুল ইসলাম টিটুর মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ তাসনিমুজ্জামান জানান, "নিয়মিত অনেক ডিও লেটারই পাঠানো হয়, নির্দিষ্ট করে এটি এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না।" তিনি প্রতিমন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

মুহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে বিগত সময়েও একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। আওয়ামী লীগ কানেকশন ও গ্রেপ্তার বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কর্ণফুলী থানার ওসি থাকাকালীন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে দহরম-মহরম এবং এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের বিয়েতে অংশ নিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন। এছাড়া আসামি ধরে গাড়ি থেকে ছেড়ে দেওয়ার মতো 'গ্রেপ্তার বাণিজ্যের' অভিযোগও ওঠে।

ডেপুটি কমিশনার হিসেবে মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের নামে অর্থ আদায় ও শিশুর মাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছিলেন। সিআইডিতে কর্মরত থাকাকালীন বিদেশী মুদ্রা উদ্ধারের মামলার আলামত আদালতে জমা না দেওয়ার বিষয়েও তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সিএমপির অন্যান্য কর্মকর্তাদের মতে, কর্ণফুলী থানা থেকে বদলি হওয়ার পরও তিনি প্রভাব খাটাতে থাকতেন। বিভিন্ন থানায় ওসি পদায়নে পর্দার আড়াল থেকে ভূমিকা রাখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে মুহাম্মদ শরীফ বলেছেন, "আমি সামান্য একজন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা। পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। সিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত ডিআইজি) ভুল বুঝে আমার পেছনে লেগেছেন এবং তার ইন্ধনেই প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে দিয়ে এই ডিও লেটারটি দেওয়ানো হয়েছে।"

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরই এই ক্ষমতাধর কর্মকর্তার ভাগ্যে কী আছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পর্তুগালের আক্রমণ সামলে বিশ্বরেকর্ড গড়ল স্পেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৪ এম


পর্তুগালের আক্রমণ সামলে বিশ্বরেকর্ড গড়ল স্পেন

ফুটবল মাঠে ভাগ্য এবং ইতিহাসের মেলবন্ধন কতটা নাটকীয়ভাবে ঘটতে পারে, তা আজ ডালাস স্টেডিয়ামে বিশ্ববাসী দেখেছে। ঘড়ির কাঁটায় তখন ম্যাচের ৪১ মিনিট।

পর্তুগালের নুনো মেন্দেসের একটি বুলেট গতির শট যখন স্পেনের ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর মাথা ছুঁয়ে জালের দিকে ছুটছিল, তখন স্প্যানিশ ভক্তদের মাঝে নিশ্চিত গোলের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। ছোট করে নেওয়া কর্নার থেকে উড়ে আসা বলটি পোরো হেড দিয়ে ক্লিয়ার করতে চেয়েছিল, তবে বলের গতি স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনকেও ফাঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু বলটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসার ফলে স্পেনের কপাল দুর্দিনে বেঁচে যায়।

ঠিক তার পরের মিনিটেই, অর্থাৎ ৪২তম মিনিটে ইতিহাস নতুন করে রচনা করেছিল ‘লা রোহা’রা। সুইজারল্যান্ডের টাইমের ১৬ বছর পুরনো রেকর্ডটি ভেঙে এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের দীর্ঘতম সময় জাল অক্ষত রাখার অনন্য বিশ্বরেকর্ডটি স্পেনের দখলে।

অবশ্য, পর্তুগালের বিপক্ষে এই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে নামার আগেই স্পেনের রক্ষণভাগের ঝুলিতে যুক্ত ছিল টানা ৫১৯ মিনিট গোল না খাওয়ার একটি কীর্তি। রেকর্ড স্পর্শ করার জন্য দরকার ছিল আরো ৪০ মিনিট। ম্যাচে নুনো মেন্দেসের ওই শটটি ক্রসবারে প্রতিহত হওয়ার পর ঠিক ৬০ সেকেন্ড পরে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।

৪২ মিনিটে পা রাখার সাথে সাথে স্পেনের জাল অক্ষত থাকার সময়কাল দাঁড়ায় ৫৬০ মিনিটে, যা ভেঙে দেয় সুইজারল্যান্ডের ৫৫৯ মিনিটের পুরোনো বিশ্বরেকর্ড। প্রথমার্ধের বাঁশি বাজানোর আগ পর্যন্ত স্পেনের এই ‘ক্লিন শিট’ রেকর্ডটি গিয়ে দাঁড়ায় ৫৬১ মিনিটে।

বিশ্বকাপে টানা সবচেয়ে বেশি সময় কোন গোল না খাওয়ার আগের রেকর্ডটি এককভাবে ছিল সুইজারল্যান্ডের। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০১০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা তিনটি আসরে মিলিয়ে ৫৫৯ মিনিট নিজেদের জালে বল ঢুকতে দেয়নি সুইসরা।

স্পেনের এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের শেষ ভাগে। সেখানেই মরক্কোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়সহ ১২০ মিনিট গোলহীন থাকার পর, চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ (২৭০ মিনিট) এবং নকআউট পর্বের পূর্ববর্তী ম্যাচেও প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোনালদোর বিশ্বকাপ যাত্রার ইতি টেনে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১২ এম


রোনালদোর বিশ্বকাপ যাত্রার ইতি টেনে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন

আক্রমণ ও প্রত্যাঘাতে ভরপুর প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধ ছিল কিছুটা নিষ্প্রাণ। এ সময় এ রকম মনে হচ্ছিল যে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছে।

কিন্তু ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা মিকেল মেরিনোর অসাধারণ ফিনিশিংয়ে পালটে যায় ম্যাচের হিসাব-নিকাশ। শেষ মুহূর্তের এই গোলের মাধ্যমে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। আর এই হারের মাধ্যমে হয়তো বিশ্বকাপ শিরোপার আশা নিয়েই বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে।

মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের এই মহারণে শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে গোলের জন্য হতাশা ছিল।

তবে দুই দলের গোলরক্ষকদের অসাধারণ প্রতিভা আর আক্রমণভাগের ব্যর্থতার কারণে প্রথমার্ধটি গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের পর ইনজুরি টাইমে রদ্রির দারুণ ডিফেন্সচেরা পাস ধরে বিপুল আনন্দে ফিনিশিং করেন মেরিনো, যা স্প্যানিশদের জন্য জয়ের কারণ হিসেবে কাজ করে। শেষ আটের লড়াইয়ে স্পেন এবার মোকাবিলা করবে যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যকার বিজয়ী দলের সঙ্গে।

এই জয়ের মাধ্যমে ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জেতার পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে এসেছে স্পেন।

অপরদিকে, গত বছর উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে পর্তুগালের কাছে হারের প্রতিশোধও নিল ‘লা রোহা’রা। দ্বিতীয়দিকে, গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা পর্তুগাল এবার শেষ ষোলোতেই বিদায় নিতে হলো।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের ফরোয়ার্ডদের হতাশা এবং গোলরক্ষকদের নৈপুণ্য ছিল দৃশ্যমান। ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও ক্যান্সেলোর শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবাল গোলরক্ষককে একা পেয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন।

১২ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের পাসে রোনালদোর জোরালো শট ফিরিয়ে দেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোন। পরপর দুই মিনিটে পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা দারুণ সেভ করেন। লামিনে ইয়ামাল ও আলেক্স বায়েনার শট রুখে দিয়ে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন তিনি। ৩১ মিনিটে কস্তার আরেকটি দুর্দান্ত সেভে গোলবঞ্চিত হয় স্পেন। এরপর ৩৭ মিনিটে উনাই সিমোনও নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেন। জোয়াও ফেলিক্স ও রোনালদোর দুটি শট আটকে দেন তিনি।

ম্যাচের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত আসে ৪১ মিনিটে। পর্তুগালের নুনো মেন্দেসের বুলেট শট স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে ক্রসবারে আটকে যায়। কপাল জোরে বেঁচে যাওয়া স্পেন ঠিক তার পরবর্তী মিনিটেই ইতিহাস গড়ে। ২০২২ বিশ্বকাপ ও চলতি আসর মিলিয়ে টানা ৫৬১ মিনিট গোল না খেয়ে সুইজারল্যান্ডের ১৬ বছর পুরোনো বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দেয় স্পেন।

পুরো ম্যাচে ইয়ামালকে দারুণভাবে সামলানো মেন্দেস ৫৬ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ালে তার জায়গায় নামেন নেলসন সেমেদো। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই কিছু সুযোগ তৈরি করলেও জালের দেখা পাচ্ছিল না। ৭৩ মিনিটে ইয়ামালের বিপজ্জনক ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন কস্তা।

ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠেন মেরিনো। তার শেষ মুহূর্তের গোলের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় স্পেনের জয় এবং বাজে বিদায় ঘণ্টা বেজে যায় পর্তুগিজদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩০ দিনের নির্দেশনা থাকলেও সাত মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি বেরোবি ছাত্রদলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ এম


৩০ দিনের নির্দেশনা থাকলেও সাত মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি বেরোবি ছাত্রদলের

কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসারে ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কথা থাকলেও, সাত মাস অতিবাহিত হলেও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ফলে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ফিরে এসেছে।

গত বছরের ২৭ নভেম্বর রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বেরোবি শাখা ছাত্রদলের ৯ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এই কমিটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইয়ামিনকে সভাপতি এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. জহির রায়হানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়।

এছাড়া, কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে মো. মাইদুল ইসলাম বাপ্পি, সহসভাপতি হিসেবে মো. তুহিন রানা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. রিফাত হোসেন রাফি, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে সজিব গাজী, দপ্তর সম্পাদক হিসেবে মো. সুমন হোসাইন, প্রচার সম্পাদক হিসেবে মো. মাসুদ রানা এবং ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মোছা. আসমা আক্তার খুশির নাম ঘোষণা করা হয়।

কমিটি ঘোষণার সময় কেন্দ্রীয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। তবে, নির্ধারিত সময় অতিক্রম করে সোমবার (৬ জুলাই) পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়নি।

এবং এই বিষয়ে পদপ্রত্যাশী কয়েকজন নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়ায় সংগঠনটির কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করতে থাকায় অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েছেন এবং দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দাবি জানাচ্ছেন।

পদপ্রত্যাশী তানভীর আহমেদ দিদার মন্তব্য করেন, একটি ছাত্র সংগঠনের প্রাণশক্তি হলো তার সাধারণ কর্মী এবং তৃণমূল পর্যায়। দীর্ঘ সাত মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়া সংগঠনের ভেতরের এবং বাইরের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করছেন এবং আন্দোলনে অবদান রাখছেন, তারা পদ পাওয়ার আশা করছেন। কমিটি পূর্ণাঙ্গ হতে বিলম্ব হলে ত্যাগী এবং যোগ্য কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও নিষ্ক্রিয়তা তৈরি হয়। বেশ কয়েকজন পদধারী নেতা দিয়ে একটি বৃহৎ ছাত্র সংগঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো সম্ভব নয়।

কমিটি পূর্ণাঙ্গ হলে কর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন হয়। এই অচলাবস্থা নিরসনে এবং সংগঠনকে গতিশীল করতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পদপ্রত্যাশী জাকির জিস জানান, দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলে সংগঠনে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়। এই অস্থিরতা কাটাতে পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রয়োজন। একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ (যেমন: শিক্ষা ও পাঠচক্র, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, প্রচার ইত্যাদি) থাকে। এর ফলে সাধারণ কর্মীরা তাদের মেধা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব পান। যা ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতির জন্য দক্ষ এবং শিক্ষিত নেতৃত্ব তৈরিতে সাহায্য করে।

আংশিক বা আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বড় কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা কঠিন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকলে দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট থাকে, ফলে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কেন্দ্রের নির্দেশনাসমূহ ক্যাম্পাসে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। মূলত বেরোবিতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করা, সাধারণ শিক্ষার্থীগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে শক্তিশালী করা এবং ক্যাম্পাসে একটি সুস্থ বহুমাত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রয়োজনীয়তার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আরেক পদপত্যাশী মো. ইসমাঈল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলে সংগঠনের মধ্যে একটি স্থবিরতা তৈরি হয়। এই অস্থিরতা কাটাতে পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ (যেমন: শিক্ষা ও পাঠচক্র, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, প্রচার ইত্যাদি) থাকে। এর ফলে সাধারণ কর্মীরা তাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব পান, যা ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতির জন্য দক্ষ ও শিক্ষিত নেতৃত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখে। আংশিক বা আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বড় কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা কঠিন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকলে দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট থাকে, ফলে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কেন্দ্রের নির্দেশনাসমূহ ক্যাম্পাসে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। মূলত বেরোবিতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে বেগবান করা এবং ক্যাম্পাসে একটি সুস্থ বহুমাত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইলে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সাধারণ সম্পাদক মো. জহির রায়হানের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেনি।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিষয়ে জানার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি এস এম মুসা বলেন, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে কিছুটা সময় লেগেছে। আমরা যারা কমিটির দায়িত্বে ছিলাম, তারা যাচাই-বাছাই শেষে কমিটির তালিকা কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জমা দিয়েছি। বর্তমানে বিষয়টি দপ্তরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দপ্তর থেকে কমিটি প্রকাশের আগে কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন। তারা তালিকাটি আরো যাচাই-বাছাই করছেন। আমাদের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তারা অনুমোদন দিলেই কমিটি ঘোষণা করা হবে। কমিটির কাজের আর কোনো অংশ বাকি নেই। এটি আজও হতে পারে, কালও হতে পারে। আশা করছি, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই কমিটি ঘোষণা করা হবে। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২১ সালের ১৬ জুন বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সর্বশেষ আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%