ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
রয়টার্স এক্সক্লুসিভ

ইরানকে টেক্কা দিতে সৌদির গোপন প্রস্তুতি, স্যাটেলাইট ছবিতে মিলল চাঞ্চল্যকর দৃশ্য


ইরানকে টেক্কা দিতে সৌদির গোপন প্রস্তুতি, স্যাটেলাইট ছবিতে মিলল চাঞ্চল্যকর দৃশ্য

সৌদি আরব তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটি আরও বড় আকারের কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হবে, যা দীর্ঘ দূরত্বে আঘাত হানতে কিংবা অধিক ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম হবে। যুক্তরাষ্ট্রের দুই গবেষক এক বছরের বেশি সময় ধরে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন একটি ধারণা প্রকাশ করেছেন।

আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবকে ইরানের সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে এবং সামরিক সক্ষমতায় স্বনির্ভরতা বাড়াতে পারে। পাশাপাশি, ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে চলমান সংঘাতে দেশটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

তবে, এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিযোগিতাকে ত্বরান্বিত করতে পারে। একই সঙ্গে, সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে বিরোধিতা আরও জোরালো হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চুক্তিটি নিয়ে আগেই পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলন ভুসিসকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেট ল্যাবস ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিয়াদের প্রায় ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত আল-দাওয়াদিমি ক্ষেপণাস্ত্র কমপ্লেক্সের ছবি সংগ্রহ করে।

ছবিগুলো বিশ্লেষণ করেছেন ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এফপিআরআই) গবেষক স্যাম লেয়ার ও মাইকেল ডুইটসম্যান। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, সেখানে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্রের কঠিন জ্বালানি তৈরির জন্য কাস্টিং পিট থাকতে পারে। এসব গর্তে জ্বালানির উপাদানের মিশ্রণ ক্ষেপণাস্ত্রের মোটরের আবরণে ঢেলে শক্ত করা হয়।

গবেষকদের ভাষ্য, নতুন ভবনটির পাশে বিস্ফোরণের কারণে আশপাশের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে দেয়াল তৈরি করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ভবনটি কারখানার বিদ্যমান কাস্টিং পিট রয়েছে বলে ধারণা করা স্থাপনার অন্তত দ্বিগুণ বড়। এ ছাড়া, আরেকটি নতুন ভবন জ্বালানির উপাদান কিংবা তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।

গবেষকেরা লিখেছেন, স্যাটেলাইট চিত্র থেকে ধারণা পাওয়া যায়, সৌদি আরব ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কমপ্লেক্সের অবকাঠামো সম্প্রসারণ করছে। এর লক্ষ্য হতে পারে বেশি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম অথবা আরও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি।

আরও পড়ুন: টানা ৭ দিন বন্ধের পর পুনরায় চালু হলো ইরান-পাকিস্তান সীমান্তপথ

কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক বাহিনীগুলোর কাছে বিশেষভাবে পছন্দের। কারণ, এগুলো দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায় এবং তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় দ্রুত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব।

চীনা প্রযুক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত

লেয়ার ও ডুইটসম্যান এবং লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস) ও গবেষণা সংস্থা সিএনএর বিশেষজ্ঞরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্রভান্ডারের ধরন থেকে ধারণা করা যায়, আল-দাওয়াদিমি কমপ্লেক্সে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষকদের মতে, স্থাপনাটির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র কারখানারও মিল রয়েছে।

১৯৯১ সালে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) একটি অবমুক্ত মূল্যায়ন অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালে চীনের কাছ থেকে গোপনে প্রায় ৪০টি তরল জ্বালানিচালিত ডিএফ-৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করেছিল সৌদি আরব। ২০১৪ সালের এপ্রিলে একটি সামরিক কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো এর দুটি প্রদর্শন করে দেশটি। ওই অনুষ্ঠানের ভিডিও ও ছবি ইউটিউবেও প্রকাশিত হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ব্রিসবেনে বন্দুকধারীদের গুলিতে ১৯ বছর বয়সী তরুণীসহ চারজন আহত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে এফপিআরআইয়ের গবেষকেরা ইয়েমেনে সৌদি আরবের ছোড়া চীনা নকশার ডিএফ-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করেছেন।

লেয়ারের ধারণা, সৌদি আরব এখন কঠিন জ্বালানিচালিত ডিএফ-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে। আর আল-দাওয়াদিমি কমপ্লেক্স সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য হতে পারে আরও দূরপাল্লার ডিএফ-২১ কিংবা একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে আসায় সৌদি আরব চীনের দিকে ঝুঁকেছে বলে ধারণা করা হয়।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চীনের দূতাবাস ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তারা কোনো জবাব দেয়নি। সিআইএ মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসও রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।

আরও পড়ুন: ‘স্কুলে বোমা আছে’ জানিয়ে হঠাৎ ছাত্রীর ইমেইল, অতঃপর পুলিশ আটক করল

বদলে যেতে পারে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য

আইআইএসএসের গবেষক সাশা ব্রুখম্যান বলেন, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা এফ-১৫ যুদ্ধবিমানকে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ঝুঁকিতে না ফেলেই দেশটিতে হামলার সক্ষমতা দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি জিপিএস-নির্দেশিত বোমার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘তেহরানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো লক্ষ্যবস্তুকে হুমকির মুখে ফেলতে এমন একটি ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে—যদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে তেহরানের আকাশে যাওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকে।’

ব্রুখম্যানের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে সৌদি আরবের যেকোনো স্থানে আঘাত হানার সক্ষমতায় ইরান এগিয়ে রয়েছে। আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবকে সেই ব্যবধান কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটের লড়াই এখন এআই ও বটের দখলে

রয়টার্সের অনুরোধে এফপিআরআইয়ের বিশ্লেষণ পর্যালোচনা করে ব্রুখম্যানও একমত হয়েছেন যে, আল-দাওয়াদিমি কমপ্লেক্সের সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য আরও শক্তিশালী কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হতে পারে।

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা জেনসও বিশ্লেষণটি পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, নতুন ভবনগুলো উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর অথবা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে সহায়তার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিতে পারে।

সিএনএর বিশ্লেষক ডেকার ইভেলেথও বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে আল-দাওয়াদিমির নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি এফপিআরআইয়ের মূল্যায়নের সঙ্গে একমত। তার ভাষ্য, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য শক্তিগুলোও আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সামরিক অস্ত্রভান্ডার বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

ইভেলেথ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও একই ধরনের কার্যক্রম চলছে। তুরস্কেও ঠিক একই ঘটনা ঘটছে। এখন সবাই এটা করছে।’

আরও পড়ুন: ইলন মাস্কের দাবি, ইউক্রেন ড্রোন হামলায় স্টারলিংক ব্যবহার করে শর্ত ভেঙেছে

সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে প্রস্তাবিত একটি চুক্তির আওতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সহায়তা করার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সম্প্রসারণ চুক্তিটির বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসে দ্বিদলীয় বিরোধিতা আরও বাড়াতে পারে।

চুক্তির বিরোধীদের আশঙ্কা, সৌদি আরব গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করলে তা ঠেকানোর জন্য এতে পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা নেই। তবে সৌদি আরব এমন কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে।

গত বছর শুরু হয় নির্মাণকাজ

এফপিআরআইয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে আল-দাওয়াদিমি কমপ্লেক্সের সম্প্রসারণকাজ শুরু হয়। ওই সময় সম্ভাব্য সংরক্ষণ ভবনের জন্য জমি পরিষ্কার ও খননকাজ চালানো হয়। একই মাসের শেষ দিকে অথবা মে মাসের শুরুর দিকে ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি তৈরির কাস্টিং পিট থাকতে পারে—এমন ভবনের কাজ শুরু হয়।

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বরের একটি ছবিতে ভবনটির ভেতরে দুটি গভীর গর্ত দেখা যায় বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। তখনো ভবনটির ছাদ নির্মাণ করা হয়নি।

২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের ছবিতে দেখা যায়, ছাদের কিছু অংশ তখনো অসম্পূর্ণ। ভবনটির দুই পাশে বিস্ফোরণের ধাক্কা অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার উপযোগী শক্তিশালী দেয়াল রয়েছে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণে পাশের স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতেই এসব দেয়াল তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে।

গবেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কারখানার স্যাটেলাইট চিত্রেও একই ধরনের দেয়াল দেখা যায়। এটি ভবনটি কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রের মোটর তৈরির কাজে ব্যবহৃত হওয়ার ধারণাকে আরও জোরালো করে।

এফপিআরআইয়ের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ছাদ নির্মাণ শেষ করতে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। তবে কাস্টিংয়ের যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থাপনাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নীলফামারীতে জেলা জামায়াতের রোকন সম্মেলনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি রায়হান আলী

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


নীলফামারীতে জেলা জামায়াতের রোকন সম্মেলনে

জাতীয় নির্বাচনে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে এই সরকার জাতির সাথে প্রতারনা করছে। গণভোট তারা মানছে না। তাদের যেগুলো সুবিধা সেগুলো মানছেন। অসুবিধাগুলো মানছেন না প্রধান অতিথি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন,জুলাই সনদ ও গণভোট না মেনে এই সরকার চরমভাবে ওয়াদা ভঙ্গ করেছে ।তিনি রোকনদের উদ্দেশ্যে বলেন, এমপি নির্বাচন আর স্থানীয় নির্বাচন এক জিনিস নয়। স্থানীয় নির্বাচনে ভালো ফলাফল করার জন্য আজকে থেকে ব্যাপকভাবে গন সংযোগ করতে হবে । নীলফামারীতে চারজন এমপি স্থানীয় নির্বাচনে ভালো ফলাফলের মাধ্যমে এটা আবারো প্রমাণ করতে হবে। আমার কাজগুলো যেন জান্নাতে যাওয়ার উপযোগী হয়। সে চেষ্টা জোরদার করতে হবে। এখলাসের সাথে কাজ করতে হবে। সীমালংঘনমূলক কোন কাজ করা যাবে না। আখেরাতের জবাবদিহি নিয়ে কাজ করতে হবে। তামিমুল কোরআন অধ্যায়ন বাড়াতে হবে। সকলের নিকট তাফহীমূল কোরআনের ফুলসেট থাকতে হবে একথা বলে প্রধান অতিথি তার বক্তব্য শেষ করেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা শাখার আয়োজনে নীলফামারী আলহেলাল একাডেমি মাঠে শুক্রবার বিকালে এক রোকন সম্মেলন অনুস্ঠিত হয়।

জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলামের পরিচালনায় অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার এর সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টীম সদস্য আব্দুর রশীদ। সভায আরও বক্তব্য রাখেন নীলফামারি-৪ আসনের এমপি আব্দুল মুনতাকিম , নীলফামারী-৩ আসনের এমপি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি, নীলফামারী-২ আসনের এমপি আল ফারুক আবদুল লতিফ। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপান সফরে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


জাপান সফরে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সফরে জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে চারটির অধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সফরের সময় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অর্জন এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।

প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকগুলোতে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাবেন।

সফরকে সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে প্রায় আটটি দলিল চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে। তবে আলোচনা শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করবে কতটি দলিল সই হবে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, ‘আমরা আশা করছি, সফরকালে এসব সমঝোতা স্মারকের অনেকগুলোই সই হবে।’

প্রত্যাশিত যৌথ বিবৃতিতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলাফল এবং বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারি এগিয়ে নেওয়ার অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী মন্তব্য করেন, প্রস্তাবিত চুক্তিগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে জাপানের শিল্প-অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার সংযোগ ঘটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর জাপানের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারিতে নতুন গতি সঞ্চারের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকগুলো উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত খাতগুলোতে সহযোগিতার আরো শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে পারে।’

অধ্যাপক চৌধুরী আরও বলেন, কৃষি ও মৎস্য খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং গুণগত মান ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়োগদাতাদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, কর্মীদের জন্য উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা।’

জাপানি বিনিয়োগ উদ্যোগে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এতে দেশীয় সরবরাহকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও সুফল পাবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি জাপানের মাঝারি আকারের কম্পানি ও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে অংশীদারি উৎসাহিত করা উচিত। এ ধরনের সহযোগিতা আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎপাদন পদ্ধতি, মান নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে।’

সাবেক উপাচার্য সফর শেষে একটি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের পরামর্শ দেন। এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, সময়সীমা এবং অগ্রগতি পর্যালোচনার ব্যবস্থা নির্ধারণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক সই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। এর দীর্ঘমেয়াদি মূল্য নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, দক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা কতটা বাড়ে, তার ওপর।’

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। দুই নেতা নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।

তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। এ ছাড়া তিনি জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিনিয়োগের সুযোগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারি নিয়ে আলোচনা করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কর্মসূচিতে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের প্রতিনিধি এবং জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকও রয়েছে।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।

সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

প্রস্তাবিত সফরসূচিতে চিবা অঞ্চলের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নাগোয়ার একটি টয়োটা কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্য সফর করবেন। প্রতিনিধিদল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে জাপান যাবে।

সমঝোতা স্মারক সইয়ের বাইরেও এ সফরে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি সই হওয়া অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়া এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম বলেন, আলোচনায় চুক্তি বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

ঢাকার এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ৮৩ শতাংশ এবং এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের ব্যয় ১১৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও অর্থায়নের শর্তও আলোচনায় আসবে।

ব্যয় বৃদ্ধি এবং জাপানি ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সিয়াম বলেন, বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অবকাঠামো সহযোগিতার এসব বিষয় অবশ্যই আলোচনায় আসবে।’ তিনি জানান, আলোচনা শুধু মেট্রো রেল প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

সিয়াম বলেন, ‘আমরা সব দেশ থেকেই কম সুদে ঋণ পেতে চাই।’ তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থায়নব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশভিত্তিক বিভিন্ন বিষয় আলোচনার ফলাফলকে প্রভাবিত করবে।

জাপান বাংলাদেশে মেট্রো রেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী অবকাঠামো উন্নয়নসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে সহায়তা করছে।

২০১৪ সালে চালু হওয়া ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ অবকাঠামো, শিল্প ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।

অধ্যাপক চৌধুরী বলেন, মাতারবাড়ী ও আড়াইহাজারে অবকাঠামো বিনিয়োগের সঙ্গে শিল্প উৎপাদন, স্থানীয় সরবরাহকারী এবং কর্মসংস্থানের সংযোগ ঘটানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রস্তুত জমি, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, পরিবহন যোগাযোগ এবং অনুমোদন পাওয়ার পূর্বানুমেয় প্রক্রিয়া বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে কার্যকর ব্যবসায় রূপ দিতে সহায়তা করবে।’

পররাষ্ট্র সচিব জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নও আলোচনায় স্থান পাবে।

দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি দুই দেশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিয়ে আলোচনা করবে।

দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতা কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের অংশীদারিকে আরো এগিয়ে নেওয়াই এ সফরের লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্ত্রাস, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির আতঙ্ক থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীকে মুক্ত করতে হবে- এবিএম সিরাজুল মামুন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ নাজির খান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২৬ পি.এম


সন্ত্রাস, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির আতঙ্ক থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীকে মুক্ত করতে হবে- এবিএম সিরাজুল মামুন।

নারায়ণগঞ্জে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড, অহরহ ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন।

তিনি বলেন, মানুষ যদি নিজের কর্মস্থলে যেতে, ব্যবসা পরিচালনা করতে কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাস্তায় চলাচল করতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তাহলে তা স্বাভাবিক জনজীবনের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। ছিনতাই ও চাঁদাবাজির আতঙ্ক থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করতে হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাদের হত্যাকাণ্ড এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক শীতলক্ষ্যার সম্পাদক আরিফ আলম দিপুর ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার ঘটনা নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।

এবিএম সিরাজুল মামুন বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের কারণে ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ নাগরিকেরা যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় বা প্রভাবের কারণে যেন আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত না হয়। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে নিয়ে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিয়মিত টহল বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদার, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত এবং অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৯টায় নগর পাঠাগার মিলনায়তনে খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার বাছাইকৃত অগ্রসর দায়িত্বশীলদের নিয়ে আয়োজিত তরবিয়তী সভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি হাফেজ কবির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দারসুল কোরআন, বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, প্র্যাকটিক্যাল ওয়ার্কসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত ছিলো।

সভায় দারসুল কোরআন পেশ করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শায়খুল হাদীস আল্লামা শেখ সালাহউদ্দীন এবং বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক সিরাজুল হক, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর সহ-সভাপতি ডাঃ শামীম ভূঁইয়া।

মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতী শেখ শাব্বীর আহমাদের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা আহমদ আলী, মহানগর সহ-সভাপতি অধ্যাপক শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ, জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মিজানুর রহমান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি নুর মোহাম্মদ খান, সদর থানা সভাপতি খন্দকার হাফেজ আওলাদ, জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতী আব্দুল গনী ও মুহাম্মদ শরীফ মিয়াজী, বন্দর থানা পশ্চিম সভাপতি হাফেজ মাওলানা ফরিদুজ্জামান, ফতুল্লা থানা সভাপতি আবুবকর সিদ্দীক, ইসলামী যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মাইদুল ইসলাম, জেলা সভাপতি রিফাত আহমদ সাজিদ এবং ইসলামী ছাত্র মজলিসের মহানগর সেক্রেটারি কামরুল হাসান মিরাজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডাসারে গৃহবধূ হত্যা মামলায় পলাতক স্বামী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


ডাসারে গৃহবধূ হত্যা মামলায় পলাতক স্বামী গ্রেপ্তার

মাদারীপুরের ডাসারে গৃহবধূ পুতুল সমাদ্দার (৫২) হত্যা মামলায় তাঁর স্বামী অরুণ সমাদ্দারকে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২২ অক্টোবর উপজেলার ধামুসা গ্রামে নিজ বসতবাড়ি থেকে পুতুল সমাদ্দারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তাঁর স্বামী পলাতক ছিলেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মাদারীপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, পুতুল সমাদ্দারকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্বামী অরুণ সমাদ্দারকে প্রধান আসামি করে তিনজনের বিরুদ্ধে ডাসার থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহতের ছোট ভাই রতন নাগ। স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

মামলার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনার নেতৃত্বে এবং ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান মাহমুদের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অরুণ সমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%