ঢাকা সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৫ই সফর, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ইং ০৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩বাং

ইতালির নীল জলরাশিতে দুয়া লিপার মধুচন্দ্রিমা, কেন এই দেশ বেছে নিলেন গায়িকা?


ইতালির নীল জলরাশিতে দুয়া লিপার মধুচন্দ্রিমা, কেন এই দেশ বেছে নিলেন গায়িকা?

পপ সংগীতের বিশিষ্ট তারকা দুয়া লিপা এবং ‘মাস্টার্স অব দ্য এয়ার’ খ্যাত অভিনেতা ক্যালাম টার্নার বর্তমানে তাঁদের জীবনের এক নতুন অধ্যায় উপভোগ করছেন ইতালির মনোরম পরিবেশে। গত ৩১ মে, লন্ডনের ওল্ড ম্যারিলিবোন টাউন হলে একটি ঘরোয়া ও অন্তরঙ্গ পরিবেশে আইনি বিয়ে সম্পন্ন করেন দুয়া লিপা, যিনি ৩০ বছর বয়সী এবং ক্যালাম টার্নার, যিনি ৩৬ বছর বয়সী।

এর ঠিক কয়েক দিন পর, অর্থাৎ গত ৬ জুন, ইতালির সিসিলির ঐতিহাসিক ‘ভিলা ভালগুয়ারনেরা’-তে তাঁদের জমকালো দ্বিতীয় বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর, এই নবদম্পতি এখন রোমান্টিক মধুচন্দ্রিমায় মেতে আছেন, যেখানে আমালফি উপকূলের সালার্নোতে তাদের রোদ পোহানোর এবং ভালোবাসায় জড়ানো মুহূর্তগুলো পাপারাজ্জিদের ক্যামেরার মাধ্যমে বন্দি হয়ে গেছে।

পিপল ম্যাগাজিনের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, হানিমুনের জন্য ইতালির মতো সুন্দর ও ছবির মতো উপকূলীয় অঞ্চলকে বেছে নেওয়ার পিছনে এই জুটির একটি বিশেষ এবং আবেগঘন কারণ রয়েছে। এই দম্পতির একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, ইতালি হচ্ছে দুয়া লিপা ও ক্যালামের সবচেয়ে প্রিয় স্থান। অতীতে এই দেশটিতে দুজনে একসাথে অসংখ্য মধুর এবং আনন্দদায়ক সময় অতিবাহিত করেছেন। তাই নিজেদের বিয়ের মহোৎসব উদযাপনের জন্য সিসিলিতে ফিরে আসা এবং সেখানে নতুন কিছু স্মৃতি নির্মাণ করা তাদের কাছে বিশেষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই কারণেই হানিমুনের জন্য ইতালিকে বেছে নেওয়া ছিল তাদের স্বাভাবিক এবং প্রথম পছন্দ।

আরও পড়ুন: পেরুতে ৫.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৫

অন্য একটি সূত্র জানাচ্ছে, এই তারকাজুটির হানিমুন একাধিক ভাবে অত্যন্ত রোমান্টিক এবং বেশ আরামদায়ক কাটছে। সমুদ্রের নীল জলরাশির সৌন্দর্য উপভোগ করার সাথে সাথে, তাঁরা নিজেদের মধ্যে গল্প-গুজব, হাসি-ঠাট্টা এবং রোদের উষ্ণতা উপভোগ করছেন। ক্যামেরার কাঠামোর মধ্যে তারা ভীষণ সুখী প্রতিপন্ন হয়েছে, যেখানে প্রায়শই একটি অপরের হাত ধরে সমুদ্রসৈকত এবং ইতালির তাওরনমিনার মতো উপকূলীয় শহরগুলো ঘুরে দুরন্ত সময় কাটাতে দেখা গেছে।

এর আগে, লন্ডনে তাঁদের প্রথম বিয়ের পর, দুয়া লিপার এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি জানিয়েছিলেন যে, গায়িকা এখন নিজের জীবন নিয়ে সবচেয়ে বেশি খুশি। লন্ডনের সেই আয়োজনটি ছিল তারা চেয়েছিল তেমন অর্থপূর্ণ ও ব্যক্তিগত, যেখানে কেবল দুই পরিবারের সদস্য এবং প্রিয়জনেরা উপস্থিত ছিলেন। আর ইতালিতে দ্বিতীয়বার বড় পরিসরে বিয়ের সিদ্ধান্তটি স্বীকার করে সেই সূত্রটি বলেন, এর মাধ্যমে দুয়া ও ক্যালাম দুটি ধরনের স্বাদ উপভোগ করতে চেয়েছেন— একদিকে নিজেদের একান্ত কিছু ব্যক্তিগত মুহূর্ত এবং অন্যদিকে ইতালি ও আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সঙ্গে একটি বিশাল উৎসব।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে গত বছরের জুন মাসে ক্যালাম টার্নারের সঙ্গে নিজের বাগদানের খবরটিও নিশ্চিত করেছিলেন ‘লেভিটেটিং’ খ্যাত গায়িকা দুয়া লিপা। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে তাদের প্রেমের গুঞ্জন শুরু হয় এবং একই বছরের জুলাই মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তাদের সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন এই পপ তারকা। এখন, সেই প্রেমকে তাঁরা রূপকথার মতো এক দাম্পত্যজীবনে পরিণত করেছেন।

সূত্র: পিপল ডট কম

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কয়েক দিন পর তেহরান সফরে যাচ্ছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:২০ এম


ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী

হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।

তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক।

মফিজুর রহমান আশিক জানান, সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৩টার দিকে রাষ্ট্রদূত হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন। পরে দ্রুততম সময়ে সিএমএইচের জরুরি বিভাগে যান। সেখানে তার প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মাইল্ড কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের লক্ষণ শনাক্ত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বর্তমানে তিনি চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. সাইয়েদা আলেয়া সোলতানার তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চিকিৎসকদের মতে, তার শারীরিক অবস্থার আরো বিস্তারিত মূল্যায়নের জন্য মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে একটি সিটি এনজিওগ্রাম করা হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর অবগত হলে তিনি রাষ্ট্রদূতের অসুস্থতার বিষয়ে তার ব্যক্তিগত সহকারী চিকিৎসক আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটুকে হাসপাতালে পাঠিয়ে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজ-খবর নেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী চিকিৎসক আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু জানান, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন ইনশাআল্লাহ।

রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী তার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, কিছুদিন আগে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর একটি ছোট অপারেশন হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের বেপরোয়া তৎপরতা, আতঙ্কে নগরবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৩৩ এম


রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের বেপরোয়া তৎপরতা, আতঙ্কে নগরবাসী

রাজধানীতে ছিনতাইকারীরা লাগামহীনভাবে অপরাধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত নানা অভিযানে সেটা নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বরং দিনের পর দিন ওই অপরাধীরা আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। পুলিশ বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা নিতে অনীহা দেখানোর অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। এমনই একটি পরিস্থিতিতে ছিনতাইয়ের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে রাজধানীবাসী। সুযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব ছিনিয়ে নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা। আপনি যদি বাধা দেন, তবে অপরাধীরা গুলি করতেও দ্বিধা করছে না। বর্তমান সময়ে রাজধানীতে ৩ শতাধিক ছিনতাই স্পট রয়েছে। তবে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৫৫টি স্থানে। সেসব হটস্পটে একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। গত তিন মাসে রাজধানীতে ৮৩টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে মে মাসে মার্চ ও এপ্রিলের তুলনায় ছিনতাইয়ের সংখ্যা বেড়েছে। ভুক্তভোগী এবং পুলিশ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রের মাধ্যমে এসব তথ্য জানা যায়।

যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজধানীতে পুলিশের কার্যক্রমের মধ্যেও জ্যামিতিক হারে বাড়ছে ছিনতাইকারী ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। পুলিশ গ্রেফতার করলেও অপরাধীরা সহজেই জামিনে মুক্ত হয়ে আবারো ছিনতাইয়ের কার্যক্রমে লিপ্ত হচ্ছে। বর্তমানে ছিনতাইকারীরা আগ্নেয়াস্ত্রের সাহায্যে মানুষের সকল সম্পদ ডাকাতি করে চলেছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মামলা ও জামিনের প্রক্রিয়াগত জটিলতা দূর না করা যায়, তবে ছিনতাইকারীদের দমনে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। সম্প্রতি মতিঝিলের শাপলা চত্বরে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় গুলি করে এক ব্যবসায়ীর টাকা ও ডলার ছিনিয়ে নেওয়া ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ এখনও পর্যন্ত ওই ঘটনার কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। তবে পুলিশের তরফ থেকে মতিঝিলের ঘটনার পর তারবার্তায় রাজধানীর প্রতিটি থানায় কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। উক্ত নির্দেশনায় গোয়েন্দা নজরদারি, টহল, চেকপোস্ট বৃদ্ধির পাশাপাশি তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছে। জামিনে থাকা দাগি আসামিদের তথ্য সংগ্রহ করেও, কেউ নতুন অপরাধে জড়ালে তাদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তারপরও সূত্র জানাচ্ছে, বর্তমানে রাজধানীতে তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৩৮৭ ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে। তাদের মধ্যে রমনা বিভাগে ১৫২ জন, লালবাগে ১৫৯ জন, ওয়ারীতে ৩০৮ জন, মতিঝিলে ১৬৮ জন, তেজগাঁওয়ে ২৪০ জন, মিরপুরে ৫৩ জন, গুলশানে ৬৭ জন ও উত্তরায় ২৪০ জন দুর্দান্ত ছিনতাইকারী রয়েছে। তাদের ৮০ শতাংশই এক থেকে সাতটি মামলার আসামি এবং একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে যায় এবং পুনরায় ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ে। নতুন নতুন মুখ প্রতিদিন ছিনতাইয়ে যুক্ত হচ্ছে। তারা সুযোগ পেলেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বহুদিন আগে, রাজধানীতে ছিল ৯৮৯ জন তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী, কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরে ছিনতাইকারীর সংখ্যা প্রায় দেড় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ছিনতাইয়ে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারও। গোয়েন্দা তথ্যানুসারে, রাজধানীতে তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীদের বাইরেও হাজারের বেশি ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশই ভাসমান কিশোর ও মাদকাসক্ত। তারা সুযোগ পেলে ছুরি, চাপাতি অথবা সামুরাই নিয়ে ছিনতাই করছে।

এছাড়া, সূত্র আরো জানাচ্ছে, রাজধানীতে অনেক ছিনতাই ঘটনা প্রকাশ পাচ্ছে না। কারণ অসংখ্য মানুষ মোবাইল ও মানিব্যাগ হারালে তারা সাধারণত হারানো জিডি দায়ের করে। যেকারণে ছিনতাইয়ের মামলা নিতে পুলিশও অনীহা দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রাজধানীতে ২৫টি ছিনতাই এবং এসব ঘটনার মধ্যে তেজগাঁওয়ে ৯টি, মতিঝিল, গুলশান ও ওয়ারীতে ৪টি করে এবং রমনা ও লালবাগে ২টি করে ঘটনার কথা জানা যায়। ছিনতাইয়ের হটস্পট হিসেবে তেজগাঁওয়ে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটছে, পরের দিকে মতিঝিল ও ওয়ারী রয়েছে। রাজধানীতে ছিনতাইয়ের হটস্পট চিহ্নিত করে পুলিশ তিল তিল করে অভিযান চালানো সত্ত্বেও ছিনতাইয়ে রোধ করতে পারছে না। পুলিশের শীর্ষ মহল থেকে বার বার সহজে মামলা নিতে বলা হলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না।

এদিকে, রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের ব্যাপক তৎপরতা সম্পর্কে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম জানান, 'ছিনতাইসহ যেকোনো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সবসময় পুলিশের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। অপরাধীদের নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কিন্তু শতভাগ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। সুতরাং গ্রেপ্তারের বাহিরে থাকা অপরাধীরা ঘটনা ঘটিয়ে ফেলছে। আবার যারা গ্রেপ্তার হয়, তারাও কিছুদিন পর জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। তবে পুলিশ বাহিনী যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ডিএমপির সব থানায় কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সক্রিয় ছিনতাইকারীদের আইনশৃঙ্খলার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি জামিনে থাকা অপরাধীদের বর্তমান পরিস্থিতি জানতেও কাজ চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশ সদস্য বেড়েছে, বাড়েনি আবাসন সুবিধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৩৭ এম


পুলিশ সদস্য বেড়েছে, বাড়েনি আবাসন সুবিধা

ছবি: সংগৃহীত

দেশের পুলিশ বাহিনীতে বিগত দেড় দশকে সদস্য সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, তবুও আবাসন সুবিধা তেমন বাড়েনি। ফলে পুলিশ বাহিনীকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে আবাসন সুবিধা ছাড়াই। বর্তমানে আড়াই লাখ সদস্যের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ সদস্য আবাসন সুবিধা পায়। বাকি ৯০ শতাংশ পুলিশ সদস্যকেই বাসস্থানের মৌলিক চাহিদা মেটাতে ভাড়া বাসায় কিংবা অন্য কোনো উপায় অবলম্বন করতে হচ্ছে। আবাসনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তৈরি না করেই সদস্য সংখ্যা বাড়ানোয় পুলিশ বাহিনীর ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এইভাবে সমস্যাগুলো পুলিশ সদস্যদের মধ্যে নৈতিকতার চর্চা কঠিন করে তুলছে। মূলত পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না বাড়িয়েই পুলিশে পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য সংখ্যা বিগত ২০১০ সালে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ছিল। বর্তমানে ওই সংখ্যা আড়াই লাখে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে সদস্য সংখ্যা দেড় দশকের ব্যবধানে ১ লাখ ৩৩ হাজার বেড়েছে। এই সময়ে বাহিনীটিতে ৬টি নতুন ইউনিট সৃষ্টি করা হয়েছে। ইউনিটগুলো হল- পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ), বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি)। বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে মোট ১ লাখ ৭৩ হাজারের মতো কনস্টেবল রয়েছে, যারা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ থানায় যুক্ত থাকে, আবার কেউ রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বাহিনীর মোট সদস্যের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ সদস্য আবাসন সুবিধা পায়। বাকি সদস্যরা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় অবস্থান করছেন।

সূত্র জানায়, পুলিশ সদস্যদের আবাসনের জন্য রাজধানীতে রয়েছে মিরপুর স্টাফ কোয়ার্টার, তিনতলা অফিসার্স কোয়ার্টার্স, সৈনিক ব্যারাক, অফিসার্স মেস, ইস্কাটনে পুলিশ অফিসার্স মেস, ডেমরা পুলিশ অফিসার্স কোয়ার্টার্স ও নীলক্ষেতে ১৫ তলা একটি অফিসার্স কোয়ার্টার। নীলক্ষেতের ভবনটিতে ৬০০ বর্গফুটের বাসায় পরিদর্শক ও উপপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা অবস্থান করেন। উত্তরা এলাকায় এসপিবিএনসহ বিভিন্ন ইউনিটের জন্য বেশ কিছু কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া পুরনো রমনা থানা ভবনের পাশেও পাঁচতলা একটি অফিসার্স কোয়ার্টার রয়েছে। রাজারবাগে সাতটি ব্যারাক আছে, যেখানে পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কনস্টেবলরাও অবস্থান করছেন। রাজারবাগ হাসপাতালের পাশে মধুমিতা নামে ১৬ তলা একটি অফিসার্স কোয়ার্টার রয়েছে, যা সম্প্রতি ২০ তলায় উন্নীত করা হচ্ছে। ভবনটির সব ফ্ল্যাট ১ হাজার ১০০ বর্গফুটের। পাশেই তিতাস নামে পাঁচতলা একটি অফিসার্স কোয়ার্টারও অফিসারদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া রাজারবাগে পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা নামে আরো তিনটি চার-পাঁচ তলা বিশিষ্ট অফিসার্স কোয়ার্টার রয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, ব্যারাকে থাকা পুলিশ সদস্যদের আবাসন সীমিত হওয়ায় তা স্বাস্থ্যকর নয়। বরং ৩০ হাজার সদস্যের আবাসন ব্যবস্থায় দ্বিগুণের বেশি সদস্যকেই থাকতে হচ্ছে। ডিএমপির প্রটেকশন অ্যান্ড প্রটোকল বিভাগের সদস্যদের আবাসনের জন্য দুটি ভবন বরাদ্দ রয়েছে, যেখানে ১ হাজার ০৫১ জন থাকার সক্ষমতা রয়েছে; কিন্তু সেখানে ২ হাজার ১২২ জনকে থাকতে হচ্ছে। অধিক অবস্থানের কারণে অনেক পুলিশ সদস্যকে সিঁড়ির নিচে বিছানা পেতে থাকতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত জায়গা না পাওয়া গেলে অনেককে ভবনের বাইরে খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টাঙিয়ে অবস্থান করতে হচ্ছে। পুলিশদের কাছ থেকে ভালো সেবা পেতে হলে তাদের স্বাস্থ্যকর আবাসনসহ মৌলিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ দীর্ঘ ডিউটির পর ভালো বিশ্রাম না পেলে তা পুলিশের কার্য প্রভাবিত করে। এই কারণে পুলিশ বিভাগের উভয় সেবাগুলো নিশ্চিত করাই প্রথমPriority। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা না করে লোকবল বাড়ালে পুলিশের বাহিনীতে একটি ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়।

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য সাধারণভাবে জনপ্রতি ১০০-৪০০ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন। ক্ষেত্রবিশেষে তা কিছু কমবেশি হলেও ৭০ বর্গফুটের কম হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ, অতিরিক্ত মানুষের সংমিশ্রণ ঘটলে বহু ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে জনঘনত্ব বেশি হলে ছোঁয়াচে রোগের দ্রুত বিস্তার ঘটাতে সুবিধা তৈরি হয়। এ ছাড়া দীর্ঘ ডিউটির পরে গাদাগাদি অবস্থায় থাকার ফলে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মানসিক অবসাদেরও সৃষ্টি হতে পারে। কেননা একাধিক মানুষের জন্য নির্দিষ্ট স্থানের ধারণক্ষমতা অতিক্রম হলে অভ্যন্তরীণ বাতাসের মান দুর্বল হয়ে যায়। এটি শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অবশিষ্ট থাকলে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার কারণে স্ক্যাবিস ও ইউরিনারি ইনফেকশনের মতো রোগ ছড়ানোর পরিবর্তন দেখা দেয়। অন্যদিকে বিগত ১৬ বছরে পুলিশে দফায় দফায় নিয়োগ কার্যক্রম চলছে। কিছু বছরে দুবারও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে সদস্স সংখ্যা দ্বিগুণ করার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনী রয়েছে। তবে সে অনুযায়ী আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধাগুলো গড়ে তোলা হয়নি এবং পুলিশ সদস্যদের দক্ষতাও বাড়ানো যায়নি। যানবাহন সংকটের কারণে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না অনেক থানা পুলিশ, যদিও লোকবলের ঘাটতি নেই। এর ফলে পুলিশ বাহিনী, যা আড়াই লাখ সদস্য নিয়ে গঠিত, তা একইভাবে সীমিত সেবা কার্যক্রম বজায় রেখেছে।

পুলিশের আবাসন সঙ্কট প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানান, পুলিশের আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে একটি পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে। সরকার পুলিশের আবাসন সংকট নিরসনে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শনির আখড়ায় সড়কে ঝরে গেল একজন যুবকের প্রাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪১ এম


শনির আখড়ায় সড়কে ঝরে গেল একজন যুবকের প্রাণ

ছবি: সংগৃহীত

 

সোমবার (১৫ জুন) রাতের আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। যখন তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, চিকিৎসক রাত ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত বিনোদের ভাই বিধান বিশ্বাস বলেন, তাদের বাড়ি চাঁদপুর মতলব উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে অবস্থিত। বিনোদ রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় বাস করতেন। তিনি চিটাগং রোডে ফুপুর বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। রাতের দিকে সেখান থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে ফেরার সময় শনির আখড়া এলাকায় কোনো একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয় এবং চলে যায়। এই ঘটনায় সে গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানায়, মরদেহটি বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই সফর, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৩:৫৭
জোহর ১২:০৬
আসর ০৪:৪৪
মাগরিব ০৬:৪৭
ইশা ০৮:০৭
সূর্যোদয় : ০৫:২২ সূর্যাস্ত : ০৬:৪৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%