মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
০৪:১৯ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ০৬/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখ বিকেল আনুমানিক ১৯.৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, গোমস্তাপুর থানাধীন রহনপুর পৌরসভার নুনিগোলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জনৈক মো: আনিসুজ্জামান চিন্টু (৫৫) এর বাড়িতে কতিপয় ব্যক্তি গত ০৫/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখ থেকে আম ব্যবসায়ীর পরিচয়ে ঘর ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছে। সেখানে তারা দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এবং রহনপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক নিরঞ্জন, এ কে এম আতিকুর রহমান) এর সহযোগিতায় পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে রওনা করেন। সন্ধ্যা ১৯.৫০ ঘটিকায় পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় ৬ জন ডাকাতকে দেশীয় অস্ত্রসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তবে কয়েকজন ডাকাত কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে আসামিদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে রাত ২২:০০ ঘটিকায় রহনপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন নিমতলা নামক স্থানে রাস্তার উপর থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি নাম্বারপ্লেট বিহীন পিকআপ ভ্যান উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামিরা বিভিন্ন ডাকাত গ্রুপের সক্রিয় সদস্য এবং গ্রুপ প্রধান। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাইসহ অন্যান্য মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়:
১. মো: ইমরান হোসেন (২২), পিতা- মো: বুলবুল হোসেন, সাং- বেতবাড়িয়া, ইউপি- যাদবপুর, থানা- মহেশপুর, জেলা- ঝিনাইদহ।
২. মো: সাইফুল মন্ডল (৪০), পিতা- মো: সেকেন্দার মন্ডল, সাং- জুনিয়াদহ, ইউপি- দৌলতপুর, থানা- ভেড়ামারা, জেলা- কুষ্টিয়া।
৩. মো: মুন্না হাসান (১৯), পিতা- মো: আব্দুল জলিল, সাং- মাইজদিয়া নতুনপাড়া, থানা- ঈশ্বরদী, জেলা- পাবনা।
৪. মো: আসিফ হোসেন (২১), পিতা- শওকত আলী, সাং- থানাপাড়া, ইউনিয়ন- সারাই, থানা- ঈশ্বরদী, জেলা- পাবনা।
৫. মো: শান্ত (২৭), পিতা- মো: আব্দুর রকিব, সাং- মাইজদিয়া নতুনপাড়া, থানা- ঈশ্বরদী, জেলা- পাবনা।
৬. মো: রতন আলী (৩৫), পিতা- মো: আবু তালেব, সাং- বড়ইচারা, থানা- ঈশ্বরদী, জেলা- পাবনা।
অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে ২৪ ইঞ্চি বোল্ট কাটার (১টি), ২৯ ইঞ্চি লোহার রড (১টি), ১২ ইঞ্চি লোহার হাতুড়ি (১টি), ৩০ ইঞ্চি লোহার পাইপের তৈরি দুফলা (১টি), ১৯ ইঞ্চি কাঠের বাটসহ লোহার হাসুয়া (২টি) এবং ১টি নাম্বার প্লেট বিহীন নীল ও হলুদ রঙের পিকআপ গাড়ি জব্দ করা হয়।
এই ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে গোমস্তাপুর থানায় মামলা নং-২৪, তারিখ-০৭/০৭/২০২৬ খ্রি., ধারা- ৩৯৯/৪০২ পেনাল কোড-১৮৬০ রুজু করা হয়েছে এবং আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: অফিসার ইনচার্জ, গোমস্তাপুর থানা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যথাযোগ্য মর্যাদায় আগামী ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আজ মঙ্গলবার একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল।
সভায় জানানো হয়, দিবসটি উপলক্ষে ৫ আগস্ট সকাল নয়টায় নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সুবিধাজনক সময়ে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
সুবিধাজনক সময়ে নগরীসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যেমন শিববাড়ি মোড়, শহিদ হাদিস পার্ক, ময়লাপোতা মোড়, জোড়াগেট, গল্লামারী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, জিরোপয়েন্ট, কুয়েট সংলগ্ন এলাকা, রূপসা মোড়, নতুন রাস্তাসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হবে। দুপুরের সময় হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, ডে-কেয়ার, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, শিশু পরিবার, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
এছাড়া বেলা ১১টায় খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে নিহত শহিদ পরিবারের সদস্য, আহত ছাত্র-জনতা ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা, জুলাই স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ ইমরান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মমিনুর রহমান, অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মন, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (রুটিন দায়িত্ব) মো. মেহেদী হাসান এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাই যোদ্ধা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় গভীর রাত একসময় ছিল ছিনতাই, চুরি অথবা হামলার আতঙ্ক। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর, আদাবর, মিরপুর ও কামরাঙ্গীরচরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চলাচল কমে যেত, এবং অপরাধের শঙ্কা বাড়ত। তবে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে রাজধানীতে দেখা গেছে এক নতুন দৃশ্য। রাতের খেলা দেখতে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে, আর এর ফলে রাস্তার অপরাধও কমেছে।
পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি, হামলা এবং ডাকাতির অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কিছু থানার কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, জুন মাসে তাদের এলাকায় ছিনতাই কিংবা ডাকাতির কোনো মামলা হয়নি।
বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অধিকাংশ সময় গভীর রাতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা বিভিন্ন এলাকার মধ্যে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছে। এসব স্থানে রাতভর মানুষের ভিড় রয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও টহল জোরদার করেছে। ফলে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে রাত ১২টার পর বের হতে ভয় লাগত। এখন দেখি ভোর ৪টা পর্যন্ত মানুষ চায়ের দোকানে, মাঠে বা বড় পর্দার সামনে খেলা দেখছে। রাস্তাও অনেক বেশি সচল মনে হয়।”
আদাবরের এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের সময় এলাকায় মানুষের আনাগোনা এত বেশি যে অপরাধীদের জন্য সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “অপরাধীরা সাধারণত নির্জন জায়গা খোঁজে। এখন রাতেও তেমন নির্জনতা নেই।”
আরো অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে শুধু দর্শকের ভিড়ই নয়, বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি নজরদারিও বৃদ্ধি পেয়েছে। খেলা দেখার ভেন্যুগুলোতে এবং আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বেচ্ছায় নিরাপত্তা নজরদারিতে যুক্ত হচ্ছেন।
তবে এই পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতাও রয়েছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে অপরাধ কমার চিত্রটি বিশ্বকাপ-নির্ভর একটি সাময়িক প্রবণতা হয়ে থাকতে পারে। কারণ, সংঘবদ্ধ অপরাধীরা পরিস্থিতি বুঝে তাদের কার্যক্রমের সময় ও কৌশল পরিবর্তন করতে পারে।
একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “মানুষের উপস্থিতি এবং পুলিশের দৃশ্যমান টহল অপরাধ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিশ্বকাপ সেটি প্রমাণ করেছে। কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর যদি একই মাত্রার নজরদারি ও জনসম্পৃক্ততা না থাকে, তাহলে পুরোনো অবস্থায় ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।”
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিশ্বকাপ চলাকালে পাওয়া অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। জনসমাগম, কমিউনিটি নজরদারি এবং নিয়মিত টহল একসঙ্গে কাজ করলে নগর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভালো ফলাফল হতে পারে।
বিশ্বকাপের উন্মাদনা শেষ হলে অপরাধের চিত্র কেমন দাঁড়াবে, সেটি এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে আপাতত ফুটবলের রাতগুলো রাজধানীর অনেক বাসিন্দার কাছে শুধুমাত্র বিনোদনের নয়, বরং নিরাপত্তার নতুন এক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাজিলের দুটি বড় অপরাধী চক্রকে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় দেশটিতে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি বেড়েছে বলে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েইরা সতর্ক করেছেন। সোমবার এএফপি’র হাতে আসা কংগ্রেসে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
গত মে মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র 'রেড কমান্ড' (সিভি) এবং 'ফার্স্ট ক্যাপিটাল কমান্ড' (পিসিসি)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে নেওয়া এ পদক্ষেপের কারণে বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সরকার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
ব্রাসিলিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে। গত বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েইরা চিঠিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা এ তালিকাভুক্তিকে ব্রাজিলের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে, বিশেষ করে আর্থিক, অভিবাসন এবং অপরাধ দমন সংক্রান্ত ক্ষেত্রে, দেশের সীমানার বাইরে পদক্ষেপ নেওয়ার যৌক্তিকতা হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এ ছাড়া ব্রাজিলের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্তির ঘোষণা দেওয়ার সময় সিভি ও পিসিসিকে ‘ব্রাজিলের সবচেয়ে সহিংস দুটি অপরাধী সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তাদের প্রভাব ও অবৈধ নেটওয়ার্ক শুধু ব্রাজিলেই সীমাবদ্ধ নয়। তা পুরো অঞ্চলজুড়ে ও আমাদের দেশেও বিস্তৃত।’
ব্রাজিলে ডানপন্থি বিরোধীরা ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারকে অপরাধ দমনে নমনীয় থাকার অভিযোগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ওয়াশিংটন মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংগঠনকেও সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
শুল্ক ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কথিত অন্যায্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অভিযোগে তদন্তের পর ট্রাম্প প্রশাসন আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রাজিলের বিভিন্ন পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে কি না, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেবে। তবে ব্রাজিল সরকার আনীত এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার প্রস্তুতির খবর আসার পর কুয়াকাটা উপকূলের সাধারন মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে মহিপুরকে উপজেলা ঘোষণা করার বিষয়ে কথা বলেছেন।
নির্বাচনের পর, ৫ জুন, স্থানীয় সাংসদ প্রধানমন্ত্রী বরাবর মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার জন্য আবেদন করেন। এরপর, ৭ জুন, প্রধানমন্ত্রীর এসাইনমেন্ট অফিসার-১ মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল স্বাক্ষরিত একটি পত্রে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এর ফলস্বরূপ, কলাপাড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে প্রশাসনিক মহিপুর উপজেলা।
প্রসঙ্গত, মহিপুর দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। ২০১৬ সালে থানা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকার প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে দেশের অন্যতম বৃহত্তম মৎস্য বন্দর, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, ব্যাংক, বীমা, কারখানা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন রয়েছে।
এছাড়া, কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের মহিপুর থানা এলাকায়। কুয়াকাটায় খাসজমি নেই বললে চলে, যা কিছু আছে তাহার সরকারি রেট অনেক বেশি। কিন্তু মহিপুর প্রচুর খাসজমি রয়েছে, যেখানে উপজেলার সকল সরকারি দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।
যদি প্রয়োজন হয়, তাহলেও সরকারি রেট অনেক কম। পর্যটন কেন্দ্র ও মৎস্য বন্দর কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় মহিপুরকে প্রশাসনিক উপজেলা ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি।
মহিপুর থানা পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত একটি প্রশাসনিক থানা। ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি মূলত কলাপাড়া উপজেলার দক্ষিণাংশে অবস্থিত কুয়াকাটা পর্যটন এলাকা এবং তৎসংলগ্ন ইউনিয়নগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত।
ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো হেদায়েত উল্লাহ বলেন, মহিপুর উপজেলা হলে আমাদের ইউনিয়নের বহু উন্নয়ন হবে। এই স্থানটি সকল ইউনিয়ন ও কুয়াকাটা পৌরসভার মাঝখানে, আমাদের ইউনিয়নের কাছে। সকল ইউনিয়নের দাপ্তরিক কাজ সারতে অনেক সুবিধা হবে।
ধুলাসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফেজ আ: রহিম বলেন, কলাপাড়া উপজেলা আমাদের ইউনিয়ন থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরত্ব আর মহিপুর ৫ কিলোমিটার। গ্রামের মানুষ হেটে গিয়েও সরকারি দাপ্তরিক কাজ সারতে পারবে। মহিপুর উপজেলা হলে আমাদের ইউনিয়নের অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হবে।
লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান মো মিজানুর রহমান বলেন, মহিপুর-আলিপুর (লতাচাপলী ইউপি) নদীর এপার ওপার, এই দুটি মৎস্য বন্দর। আমাদের জনগণের বেশি সুবিধা হবে মহিপুরকে উপজেলা করা হলে। আমরা ব্রিজ পার হলেই উপজেলা পরিষদ। কুয়াকাটা একটি সাইডে, দেশের দক্ষিণের শেষ সীমায় এবং আলিপুর থেকে অনেক দূরত্বে।
সদর মহিপুর ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, মহিপুর বন্দর ভৌগোলিক সীমানায় এই থানার মধ্যে রয়েছে। এটি অনেক পুরনো মৎস্য বন্দর। এই স্থানটি কুয়াকাটা পৌরসভা, ধুলাসার ইউনিয়ন, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন, লতাচাপলী ইউনিয়নের মধ্যিখানে মহিপুর থানা। মহিপুর থানাকে উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হলে এলাকার মানুষ অনেক উপকৃত হবে।
মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড, শাহজাহান পারভেজ বলেন, মহিপুর থানাটি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা আমাদের জাতীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি সাহেবের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। জনগণ আমাদের সেইভাবেই ভোট দিয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা শহর মহিপুর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরত্বে। তাই মহিপুর থানার সকল ইউনিয়ন ও পৌরসভার জনস্বার্থে মহিপুরকে উপজেলায় বাস্তবায়ন করা খুবই জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ