প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালীর মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার প্রস্তুতির খবর আসার পর কুয়াকাটা উপকূলের সাধারন মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে মহিপুরকে উপজেলা ঘোষণা করার বিষয়ে কথা বলেছেন।
নির্বাচনের পর, ৫ জুন, স্থানীয় সাংসদ প্রধানমন্ত্রী বরাবর মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার জন্য আবেদন করেন। এরপর, ৭ জুন, প্রধানমন্ত্রীর এসাইনমেন্ট অফিসার-১ মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল স্বাক্ষরিত একটি পত্রে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এর ফলস্বরূপ, কলাপাড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে প্রশাসনিক মহিপুর উপজেলা।
প্রসঙ্গত, মহিপুর দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। ২০১৬ সালে থানা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকার প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে দেশের অন্যতম বৃহত্তম মৎস্য বন্দর, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, ব্যাংক, বীমা, কারখানা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন রয়েছে।
এছাড়া, কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের মহিপুর থানা এলাকায়। কুয়াকাটায় খাসজমি নেই বললে চলে, যা কিছু আছে তাহার সরকারি রেট অনেক বেশি। কিন্তু মহিপুর প্রচুর খাসজমি রয়েছে, যেখানে উপজেলার সকল সরকারি দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।
যদি প্রয়োজন হয়, তাহলেও সরকারি রেট অনেক কম। পর্যটন কেন্দ্র ও মৎস্য বন্দর কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় মহিপুরকে প্রশাসনিক উপজেলা ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি।
মহিপুর থানা পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত একটি প্রশাসনিক থানা। ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি মূলত কলাপাড়া উপজেলার দক্ষিণাংশে অবস্থিত কুয়াকাটা পর্যটন এলাকা এবং তৎসংলগ্ন ইউনিয়নগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত।
ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো হেদায়েত উল্লাহ বলেন, মহিপুর উপজেলা হলে আমাদের ইউনিয়নের বহু উন্নয়ন হবে। এই স্থানটি সকল ইউনিয়ন ও কুয়াকাটা পৌরসভার মাঝখানে, আমাদের ইউনিয়নের কাছে। সকল ইউনিয়নের দাপ্তরিক কাজ সারতে অনেক সুবিধা হবে।
ধুলাসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফেজ আ: রহিম বলেন, কলাপাড়া উপজেলা আমাদের ইউনিয়ন থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরত্ব আর মহিপুর ৫ কিলোমিটার। গ্রামের মানুষ হেটে গিয়েও সরকারি দাপ্তরিক কাজ সারতে পারবে। মহিপুর উপজেলা হলে আমাদের ইউনিয়নের অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হবে।
লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান মো মিজানুর রহমান বলেন, মহিপুর-আলিপুর (লতাচাপলী ইউপি) নদীর এপার ওপার, এই দুটি মৎস্য বন্দর। আমাদের জনগণের বেশি সুবিধা হবে মহিপুরকে উপজেলা করা হলে। আমরা ব্রিজ পার হলেই উপজেলা পরিষদ। কুয়াকাটা একটি সাইডে, দেশের দক্ষিণের শেষ সীমায় এবং আলিপুর থেকে অনেক দূরত্বে।
সদর মহিপুর ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, মহিপুর বন্দর ভৌগোলিক সীমানায় এই থানার মধ্যে রয়েছে। এটি অনেক পুরনো মৎস্য বন্দর। এই স্থানটি কুয়াকাটা পৌরসভা, ধুলাসার ইউনিয়ন, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন, লতাচাপলী ইউনিয়নের মধ্যিখানে মহিপুর থানা। মহিপুর থানাকে উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হলে এলাকার মানুষ অনেক উপকৃত হবে।
মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড, শাহজাহান পারভেজ বলেন, মহিপুর থানাটি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা আমাদের জাতীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি সাহেবের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। জনগণ আমাদের সেইভাবেই ভোট দিয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা শহর মহিপুর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরত্বে। তাই মহিপুর থানার সকল ইউনিয়ন ও পৌরসভার জনস্বার্থে মহিপুরকে উপজেলায় বাস্তবায়ন করা খুবই জরুরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন