সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:২৭ পি.এম
বর্ণাঢ্য আয়োজন, উৎসবমুখর পরিবেশ ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় নানা কর্মসূচি। বেলুন ও ফেস্টুন উড্ডয়ন, পায়রা অবমুক্তকরণ, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, কেক কাটা এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন ঘিরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি সহকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বিএমপির দীর্ঘ পথচলা, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির সূচনা হয় বেলুন ও ফেস্টুন উড্ডয়নের মধ্য দিয়ে। পরে পায়রা অবমুক্তকরণ এবং বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে কেক কাটা ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উদযাপনে যোগ হয় ভিন্ন মাত্রা।
এ ধরনের আয়োজন একটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা, অর্জন ও অভিজ্ঞতা স্মরণ করার পাশাপাশি কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং পেশাগত ঐক্য জোরদারের সুযোগ তৈরি করে। বিএমপির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানেও প্রতিষ্ঠানের অতীত কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পথচলাকে কেন্দ্র করে এ উপলক্ষের তাৎপর্য ফুটে ওঠে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পেশাদারত্ব, জনসেবা এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের অঙ্গীকারকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনসাধারণের সঙ্গে পুলিশের আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক সুদৃঢ় করা একটি মহানগর পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ ও সমস্যার প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাব, আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে পেশাদার আচরণ জনবান্ধব পুলিশিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এ ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির চর্চা পুলিশের প্রতি জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো আয়োজন একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জন পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য নির্ধারণের সুযোগ সৃষ্টি করে। বিএমপির দুই দশকের পথচলাও মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকসেবার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও প্রত্যাশাকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দার, বরিশাল রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. আব্দুস সালাম রিমন এবং বরিশাল ১০ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. শাহাব উদ্দীন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) মো. আব্দুল হান্নান, বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, পিপিএম, বরিশাল এসআরবি-৮-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ জাকিউল করিম (জি), বিএন এবং বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন খন্দকার। অনুষ্ঠানে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন।
বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনকে আনুষ্ঠানিক ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং সহযোগিতার গুরুত্বও এ ধরনের আয়োজনে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। গণমাধ্যম জনসাধারণের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পুলিশ ও গণমাধ্যমের মধ্যে দায়িত্বশীল যোগাযোগ এবং তথ্যের আদান-প্রদান জনসাধারণের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দিতে সহায়ক হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পেশাগত দায়িত্ববোধ, তথ্যের নির্ভুলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেবল একটি বার্ষিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি প্রতিষ্ঠানের অতীত অর্জন, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ দায়িত্বের দিকে ফিরে তাকানোর একটি উপলক্ষ। সময়ের সঙ্গে মহানগরীর নাগরিক চাহিদা, নিরাপত্তাবিষয়ক প্রত্যাশা এবং জনসেবার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসে। এসব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সেবার মান উন্নয়নের প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ।
নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনসাধারণের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে একটি পুলিশ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও জনমুখী হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে আইনানুগ দায়িত্ব পালন, পেশাদার আচরণ ও জবাবদিহি বজায় রাখা জনআস্থা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিএমপির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রতিষ্ঠানের দুই দশকের পথচলাকে স্মরণীয় করে তুলেছে। ভবিষ্যতে আরও পেশাদার, জনবান্ধব ও জনসেবামূলক পুলিশিং কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল সদর উপজেলার ৭ নম্বর চরকাউয়া ইউনিয়নের নয়ানী এলাকার চৌমুখী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম নুর উদ্দিন নিরবকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, ঝাড়ফুঁক, তাবিজ প্রদান ও সুদের লেনদেনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে কটুক্তির একটি অডিও রেকর্ড ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৩ বছর আগে মেহেন্দীগঞ্জ থেকে এসে মসজিদে ইমামতি শুরু করেন নুর উদ্দিন নিরব। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি নিজেকে চরকাউয়া ইউনিয়ন ওলামা লীগের সভাপতি পরিচয় দিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেন। সেই প্রভাব ব্যবহার করে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও মারামারিতে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি স্থানীয় বিএনপির এক নেতার আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ওলামা দলে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন।
মুসল্লিদের অভিযোগ, ইমামের কেরাত ও কোরআন তেলাওয়াতের শুদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। রমজানে তারাবির নামাজ পড়াতে আসা কয়েকজন হাফেজও এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে ইমাম পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছিলেন।
তাছাড়া অর্থের বিনিময়ে তদবির, ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, মসজিদ প্রাঙ্গণে বরাদ্দকৃত ব্যক্তিগত কক্ষে নারীদের প্রবেশ করিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ ছাড়া নয়ানী এলাকার আরিফ ব্রিক ফিল্ডে তাঁর লাখ লাখ টাকা সুদে বিনিয়োগ রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি উপাসনালয়ের ইমাম, পুরোহিত ও খাদেমদের জন্য সরকারি ভাতা কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে চরকাউয়ার কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় এসব অভিযোগ উঠে আসে। এ নিয়ে আগে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট ইমাম ও মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন দাবি করে প্রতিবাদলিপি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে চৌমুখী জামে মসজিদের সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম বলেন, ইমাম নুর উদ্দিন নিরব একটু তাবিজ-তুমার দেয়। পাশে তার কক্ষে নারীরাও আসে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এগুলো পছন্দ করিনা। শুনেছি এক সময় সে ওলামালীগের ইউনিয়ন সেক্রেটারি ছিল। তবে বর্তমানে সে কোন রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। একটি গ্রুপ তার পেছনে লেগেছে মনে হচ্ছে।
চৌমুখী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম নুর উদ্দিন নিরব বলেন, আরিফ ব্রিক ফিল্ডে আমার ও আমার বোনের প্রায় নয় লক্ষ টাকা দেওয়া আছে। সেখান থেকে মাঝে মাঝে লভ্যাংশ পাই। আমি ওলামা লীগ করিনি। তবে সরকারী দলের সাথে ইমাম হিসেবে সব সময়ই তাল মিলিয়ে চলতে হয়। তাই চলেছি এবং এখনো চলছি। অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের সাথে ভুলবোঝাবুঝি হয়েছিল কিন্ত এখন তার সাথে আমার অনেক ভালো সম্পর্ক। একটি গ্রুপ আমার সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে অবস্থিত ‘নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেড’-এর প্রকল্পের বিরুদ্ধে ভাঙচুর, লুটপাট এবং চুরির অভিযোগে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মো. মিজানুর রহমান জামিন লাভ করেছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এই জামিনের আদেশ প্রদান করেন।
এ বিষয়ে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মারুফ রহমান নিশ্চিত করেছেন।
এই শুনানির দিন আসামির পক্ষে আইনজীবী সৈকত হোসেন জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে বাদীপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষে কোন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত দুই হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে ডিবি গুলশান বিভাগের একটি দল পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালত গত ১ অক্টোবর তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে, গত ৭ অক্টোবর রিমান্ড শেষ হওয়ার পর তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অর্থনৈতিক সংকট, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা, বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পাকিস্তান বর্তমানে চাপে রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও ভারতের সঙ্গে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা দেশটির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই অবস্থায় পাকিস্তানকে ছোট ছোট প্রদেশে ভাগ করার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খবর ফার্স্টপোস্ট
গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানে ক্ষুধা ও অপুষ্টির পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। দেশটির প্রায় ৩৩ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতির এবং জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহে মানুষের সীমিত সামর্থ্য এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
পাকিস্তানের সংকট খাদ্যনিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যুৎ খাতের বিপুল দেনা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এসব সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হচ্ছে।
পাকিস্তানে পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ৩০০ রুপি ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশটির বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের অদক্ষতাকেও এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া দেনার পরিমাণ ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্রমবর্ধমান লোকসান এবং বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইপিপি) সক্ষমতা বাবদ উচ্চ ব্যয়।
দেশটির বৃহত্তম শহর করাচিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কে-ইলেকট্রিক সম্প্রতি নতুন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বিদ্যুৎ সমস্যায় ভুগতে থাকা শহরটিতে এ সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। তুলনামূলক ভালো বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পরিচিত রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হচ্ছে এবং এসব কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলগুলোও নেতৃত্ব দিচ্ছে।
অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতাও বেড়ে যাচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আটক রাখা এবং তার শারীরিক অবস্থার উদ্বেগের কারণে তার সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অসুস্থ ইমরান খান পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগেরও সীমিত সুযোগ পাচ্ছেন।
গত ১১ অক্টোবর, ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নিয়ন্ত্রণে থাকা খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে প্রদেশটিতে হাজার হাজার সমর্থক মিছিল করেছেন। তারা সরকারের সমালোচনা করেছেন এবং কঠোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মানুষের ক্ষোভ বেড়েছে।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় রাজধানী ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। এক হাজারের বেশি পণ্যবাহী কনটেইনার দিয়ে বিভিন্ন সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। সেতুতে বালুর বস্তা রাখা হয় এবং রাজধানীতে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি রাজধানীতে ২২ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। কর্তৃপক্ষের এসব পদক্ষেপের কারণে বিক্ষোভ প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাপকতা পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জরুরি ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর খাইবার পাখতুনখাওয়ায় বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারদের দলে ভেড়াতে ডমেষ্টিক থ্রি (ডি-থ্রি) ট্রফির নিলামে টুর্নামেন্টের ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি রীতিমতো কাড়াকাড়ি করেছে।
ঢাকার একটি হোটেলে সোমবার ডি-থ্রি ট্রফির নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নিলামে অংশগ্রহণ করেছে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি।
অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে তীব্র প্রতিযোগিতার পর ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্টে জাতীয় দলের বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলামকে দলে নিয়েছে সিটিজেন ব্যাংক।
নিলামটি পয়েন্ট ভিত্তিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে উল্লেখিত পয়েন্ট বা সংখ্যা খেলোয়াড়দের প্রকৃত বেতন বা পারিশ্রমিক নয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্তৃক নির্ধারিত ঘরোয়া ম্যাচ ফি পাবেন ক্রিকেটাররা।
প্রতিটি দলের জন্য স্কোয়াড সাজাতে সর্বোচ্চ ১০ কোটি পয়েন্ট বরাদ্দ করা হয়েছে।
খেলোয়াড়দের পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পয়েন্ট ভিত্তিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের ভিত্তিমূল্য ৪০ লাখ পয়েন্ট। ‘বি’ ক্যাটাগরির জন্য ৩০ লাখ, ‘সি’ ক্যাটাগরির জন্য ২০ লাখ, ‘ডি’ ক্যাটাগরির জন্য ১০ লাখ এবং ‘ই’ ক্যাটাগরির জন্য ৫ লাখ পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।
শরিফুল ‘এ’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড় হওয়ায়, তার দল যত পয়েন্টই খরচ করুক না কেন, তিনি ৪০ লাখ টাকাই পাবেন।
ওয়ালটন গ্রুপ ২ কোটি ১০ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে পেসার তাসকিন আহমেদকে। এছাড়া ২ কোটি পয়েন্টে জাতীয় দলের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে দলে নিয়েছে ফরচুন গ্রুপ।
আরেক ওপেনার সাইফ হাসানকে দলে নিয়েছে সেভেন রিংস সিমেন্ট। এজন্য তারা খরচ করেছে ১ কোটি ৯৫ লাখ পয়েন্ট।
১ কোটি ৭০ লাখ পয়েন্টে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জাকের আলী অনিককে দলে নিয়েছে সিটিজেন ব্যাংক।
নিলামের জন্য মোট ২৭৫ জন ক্রিকেটারকে তালিকায় রাখা হয়েছে। তিন ফরম্যাট নিয়ে আয়োজিত ‘ডি-থ্রি’ ট্রফি চলতি বছরের ডিসেম্বরে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ