বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৫:১৬ পি.এম
বাংলাদেশের বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে। প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের চলমান চীন সফর এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
রিজভী আরও জানান, চীনের শিল্প অবকাঠামো ও সেবা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার। এর কারণেই প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরো কার্যকর পদ্ধতিতে শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, চীনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিশ্বনেতাদের কাছে খুবই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তার বক্তব্য এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদ্যোগ যথেষ্ট প্রশংসিত হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ওপর কর-সুবিধা প্রদান জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় একটি বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ করেন রিজভী।
চীন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, অতীতে একমুখী পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তে এখন বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন দৃশ্যমান। জিয়াউর রহমান যে বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির সূচনা করেছিলেন, তারেক রহমান সে ধারাকেই অনুসরণ করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অটুট রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, বর্তমান কূটনৈতিক কার্যক্রমে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, বর্তমান সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করবে।
সংবাদ সম্মেলনে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিষয় নিয়েও কথা বলেন তিনি। রিজভী বলেন, এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যাতে সাধারণ, গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের ভরণপোষণ সঠিকভাবে নিশ্চিত হয়।
মুদির দোকানকে ভ্যাটের আওতায় আনার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট ছোট মুদির দোকানের আয় খুবই সীমিত। তাই তাদের ভ্যাটের আওতায় আনা উচিত হবে না। তবে যারা কর দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন কিন্তু বিভিন্ন কারণে করের বাইরে থেকে যাচ্ছেন, তাদের করের আওতায় আনার পক্ষে মত দেন তিনি।
রিজভী বলেন, জনগণের সুখ-দুঃখ ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই সরকার পরিচালিত হবে। নানা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের পরও বিএনপিকে ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি এবং দলের জনপ্রিয়তায়ও ধস নামানো সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, কলকাতায় অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের জাতীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর নামে একটি সড়ক ছিল। সেই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি উল্লেখ করে রিজভী বলেন, উপমহাদেশের একজন খ্যাতিমান নেতার নামে থাকা একটি সড়কের নাম পরিবর্তন করা রুচিবিরোধী কাজ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভারতের বিভিন্ন নেতার নামে প্রতিষ্ঠানের নাম এখনো বহাল রয়েছে এবং বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে শিষ্টাচারের পরিচয় দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার অনুপম রায় এবং তাঁর ব্যান্ডের বহুল প্রতীক্ষিত কনসার্টটি শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র একদিন আগে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ইয়ামাহা মিউজিক বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
আগামীকাল শুক্রবার (২৬ জুন) ঢাকার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে ‘ওয়ান ট্রু সাউন্ড’ শিরোনামের কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। যদিও সরকারি অনুমোদন ছিল, তারপরও সরকার থেকেই শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানটি আয়োজন না করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ইয়ামাহা মিউজিক বাংলাদেশ জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কনসার্টের প্রস্তুতি এবং আনুষ্ঠানিকতার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আপাতত অনুষ্ঠানটি স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। এ নির্দেশনার ভিত্তিতেই কনসার্টটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকরা আরও জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কনসার্টের নতুন তারিখ ঘোষণার চেষ্টা করা হবে। যদি নতুন তারিখ নির্ধারণ করা সম্ভব না হয় তবে টিকিটধারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। পাশাপাশি যেসব দর্শক টিকিটের মূল্য ফেরত নিতে চান, তাদের জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হবে।
সংগীতপ্রেমীদের উদ্দেশ্যে আয়োজকরা জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য সকল দর্শক, শুভানুধ্যায়ী, অংশীদার, স্পন্সর এবং সহযোগীদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা আশাবাদী, যে খুব শিগগিরই আরও অনুকূল সময়ে আপনাদের সঙ্গে আবারও সংগীতের এক অবিস্মরণীয় সন্ধ্যায় মিলিত হতে পারবো।
সিলট টির পৃষ্ঠপোষকতায় ইয়ামাহা মিউজিক বাংলাদেশ এবং ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশনসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কনসার্ট ‘ওয়ান ট্রু সাউন্ড’। রাজধানীর ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ কনসার্টে অনুপম রায় এবং তাঁর ব্যান্ডের সঙ্গে দেশের জনপ্রিয় সংগীতদল বেঙ্গল সিম্ফনিরও গান পরিবেশনায় অংশগ্রহণের কথা ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় গ্রেনেড হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে আদালত রায় প্রদান করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৯ জন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন, হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ। তার আবাস সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুরে অবস্থিত। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টার মামলার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন বোমা হামলা ও জঙ্গি হামলার মামলার আসামি।
এসব মামলায় তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে জেলে বন্দি রয়েছেন। আদালতে ১৪৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে সুরঞ্জিত সেন হত্যা মামলার দায়ও স্বীকার করেছেন তিনি।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি আবুল হোসেন এই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামলার রায়ে আজিজ নাঈম নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের খালাস দেওয়া হয়েছে।’ আসামীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন জানান, ‘মামলায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছিল। এর মধ্যে তিনজনের আগেই অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। বাকি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। শুধু আসামি হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ ওরফে নিমুর বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। পরে আদালত ৩০২ ধারায় তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন।’
মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এরপর গত ৭ এপ্রিল, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। সেই সময় তারা আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আজিজ নাঈমের ভাই সৈয়দ মারুফ আহমদ বলেন, ‘আমার ভাইকে ফাঁসানো হয়েছে। সে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। আমরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।’ রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বর থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় আসামি আজিজ নাঈম ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। তবে রায় নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন খালাস পাওয়া বিএনপির তিন নেতা।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, ‘রাজনৈতিক হয়রানির জন্য গত ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের এ মামলায় আসামি করেছে। মামলার এজাহারে আমাদের নাম ছিল না। পরে সম্পূরক চার্জশিটে নাম ঢুকানো হয়। আজকের রায়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যে সাক্ষী না দেওয়ায় আমাকে একের পর এক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলাম। যারা আমাকে হয়রানি ও নির্যাতন করেছে তারা পালিয়েছে। আমরা খালাস পেয়েছি।’
হুইপ জিকে গৌছ মন্তব্য করেন, ‘এই মামলায় আমাকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে দীর্ঘদিন বন্দি থাকতে হয়। আজকের রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।’ এর আগে সকালে জামিনে থাকা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং বর্তমান সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ আদালতে হাজির হন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় স্থানীয় যুবলীগের একজন কর্মী নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও আহত হন, কিন্তু প্রাণে বেঁচে যান।
ঘটনার পর দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গউছসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার বিচারকালে ১২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় চলার পর বৃহস্পতিবার এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলার ১ লাখ ৮৬ হাজার ১৯৪ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
এটি জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে সিভিল সার্জনের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আজ জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাহ উদ্দিন।
এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাগেরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহাবুব উল আলম।
মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের দৃষ্টিশক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বাভাবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে রাতকানা, অপুষ্টি, ডায়রিয়া, রক্তস্বল্পতা ও বিভিন্ন সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। প্রত্যেক অভিভাবককে তাদের সন্তানদের নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি ভিটামিন ‘এ’-এর চাহিদা পূরণে শিশুদের নিয়মিত খাদ্য তালিকায় দুধ, মাছ, ডিম, কলিজা, মাংস, গাজর, মিষ্টি আলু, লাল শাক, পাকা আম, কাঁঠাল ও পাকা পেঁপেসহ ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার রাখার পরামর্শ দেন।
সিভিল সার্জন ডা. মাহাবুব উল আলম জানান, আগামী ২৮ জুন, রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার ৯টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভার ১ হাজার ৮৫৮টি কেন্দ্রে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার ১৯৪ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক রাশেদুল বশির খান, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শুনু, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’র বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি আজাদ রুহুল আমিন এবং সাংবাদিক মোল্লা আব্দুর রব।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রায় ৩০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নতুন হিজরি বর্ষের সূচনা ঘটেছে। মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ নতুন বছরের প্রথম মাস মুহাররম অতিক্রম করছে। তবে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে হিজরি নববর্ষ হলো কোনো উৎসব বা উদযাপনের সময় নয়; বরং এটি আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং সময়ের মূল্য উপলব্ধি করার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
ক্যালেন্ডারের পাতা পাল্টানো কেবল সংখ্যার পরিবর্তন নয়; বরং মানুষের জীবনের একটি বছর কমে যাওয়ার বাস্তবতা। নতুন বছর আমাদের মনে করে দেয়, জীবনদৃষ্টিতে আমরা পরকালের দিকে আরেক ধাপ এগিয়ে গেছি। অতএব একজন মুমিনের কাছে নতুন বছরের প্রকৃত তাৎপর্য হলো নিজের আমল, দায়িত্ব এবং জীবনযাত্রার হিসাব-নিকাশ করা।
মুহাররম হলো ইসলামের চারটি সম্মানিত মাসের একটি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি। এর মধ্যে চারটি হলো সম্মানিত মাস।" (সুরা তাওবা : ৩৬)
মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেছেন, সম্মানিত চার মাস হলো জিলকদ, জিলহজ, মুহাররম এবং রজব। এই মাসগুলোতে নেক আমলের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী মুহাররম একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। মুসলিম ঐতিহ্যে এ মাসকে কেন্দ্র করে বহু ঐতিহাসিক ঘটনার আলোচনা পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে প্রচলিত বহু বর্ণনা দুর্বল বা অপ্রমাণিত হওয়ায় মুসলমানদের উচিত নির্ভরযোগ্য সূত্রের ওপর নির্ভর করা এবং ভিত্তিহীন গল্প ও কুসংস্কার থেকে দূরে থাকা।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে মুসলিম সমাজের কিছু অংশের মধ্যে মুহাররমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার, অতিরঞ্জন ও শরিয়তবহির্ভূত আচরণের চর্চা দেখা যায়। অথচ ইসলামের শিক্ষা হলো ধর্মীয় বিষয়ে আবেগ নয়, বরং কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনাই হবে চূড়ান্ত মানদণ্ড।
মুহাররম মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণিত আমল হলো আশুরার রোজা। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ দিনের রোজার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। হাদিসে জানা গেছে, রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা মুসলমানদের জন্য আবশ্যক ছিল। পরে রমজানের রোজা ফরজ হলে আশুরার রোজা নফল হিসেবে অবশিষ্ট থাকে।
হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন এবং এর প্রতি উৎসাহিত করতেন। পরে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর এ বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরও কমে যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১২৮)
আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৬২)
হাদিসে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু ১০ মুহাররম নয়; বরং ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মুহাররম মিলিয়ে দুই দিন রোজা রাখা উত্তম। এর মাধ্যমে মুসলমানদের আমল অন্য ধর্মাবলম্বীদের আমল থেকে স্বতন্ত্র হয়।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আশুরার রোজা এবং রমজানের রোজা ছাড়া অন্য কোনো রোজার প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এত গুরুত্ব দিতে দেখিনি। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০০৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৩২)
নতুন হিজরি বর্ষ আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে, গত এক বছরে আমরা কী অর্জন করেছি? আমাদের ঈমান, আমল, চরিত্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ কতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে? একজন মুমিনের জন্য এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা নতুন বছরের সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি।
আজকের দিনে প্রয়োজন হিজরি সনের ইতিহাস ও এর গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করা। কারণ একটি জাতি যদি তার ইতিহাস ভুলে যায়, তবে তার পরিচয়ও দুর্বল হয়ে পড়ে। হিজরি সন হলো কেবল একটি তারিখ নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং আত্মপরিচয়ের একটি অপরিহার্য অংশ।
তাহলে নতুন হিজরি বর্ষকে উৎসবের ধরনের না দেখে, বরং আত্মজিজ্ঞাসা, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের উপলক্ষ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত সচেতন মুমিনের দায়িত্ব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ