প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে। প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের চলমান চীন সফর এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
রিজভী আরও জানান, চীনের শিল্প অবকাঠামো ও সেবা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার। এর কারণেই প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরো কার্যকর পদ্ধতিতে শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, চীনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিশ্বনেতাদের কাছে খুবই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তার বক্তব্য এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদ্যোগ যথেষ্ট প্রশংসিত হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ওপর কর-সুবিধা প্রদান জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় একটি বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ করেন রিজভী।
চীন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, অতীতে একমুখী পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তে এখন বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন দৃশ্যমান। জিয়াউর রহমান যে বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির সূচনা করেছিলেন, তারেক রহমান সে ধারাকেই অনুসরণ করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অটুট রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, বর্তমান কূটনৈতিক কার্যক্রমে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, বর্তমান সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করবে।
সংবাদ সম্মেলনে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিষয় নিয়েও কথা বলেন তিনি। রিজভী বলেন, এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যাতে সাধারণ, গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের ভরণপোষণ সঠিকভাবে নিশ্চিত হয়।
মুদির দোকানকে ভ্যাটের আওতায় আনার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট ছোট মুদির দোকানের আয় খুবই সীমিত। তাই তাদের ভ্যাটের আওতায় আনা উচিত হবে না। তবে যারা কর দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন কিন্তু বিভিন্ন কারণে করের বাইরে থেকে যাচ্ছেন, তাদের করের আওতায় আনার পক্ষে মত দেন তিনি।
রিজভী বলেন, জনগণের সুখ-দুঃখ ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই সরকার পরিচালিত হবে। নানা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের পরও বিএনপিকে ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি এবং দলের জনপ্রিয়তায়ও ধস নামানো সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, কলকাতায় অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের জাতীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর নামে একটি সড়ক ছিল। সেই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি উল্লেখ করে রিজভী বলেন, উপমহাদেশের একজন খ্যাতিমান নেতার নামে থাকা একটি সড়কের নাম পরিবর্তন করা রুচিবিরোধী কাজ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভারতের বিভিন্ন নেতার নামে প্রতিষ্ঠানের নাম এখনো বহাল রয়েছে এবং বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে শিষ্টাচারের পরিচয় দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন