বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৫:২০ পি.এম
সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় গ্রেনেড হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে আদালত রায় প্রদান করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৯ জন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন, হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ। তার আবাস সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুরে অবস্থিত। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টার মামলার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন বোমা হামলা ও জঙ্গি হামলার মামলার আসামি।
এসব মামলায় তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে জেলে বন্দি রয়েছেন। আদালতে ১৪৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে সুরঞ্জিত সেন হত্যা মামলার দায়ও স্বীকার করেছেন তিনি।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি আবুল হোসেন এই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামলার রায়ে আজিজ নাঈম নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের খালাস দেওয়া হয়েছে।’ আসামীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন জানান, ‘মামলায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছিল। এর মধ্যে তিনজনের আগেই অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। বাকি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। শুধু আসামি হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ ওরফে নিমুর বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। পরে আদালত ৩০২ ধারায় তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন।’
মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এরপর গত ৭ এপ্রিল, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। সেই সময় তারা আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আজিজ নাঈমের ভাই সৈয়দ মারুফ আহমদ বলেন, ‘আমার ভাইকে ফাঁসানো হয়েছে। সে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। আমরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।’ রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বর থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় আসামি আজিজ নাঈম ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। তবে রায় নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন খালাস পাওয়া বিএনপির তিন নেতা।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, ‘রাজনৈতিক হয়রানির জন্য গত ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের এ মামলায় আসামি করেছে। মামলার এজাহারে আমাদের নাম ছিল না। পরে সম্পূরক চার্জশিটে নাম ঢুকানো হয়। আজকের রায়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যে সাক্ষী না দেওয়ায় আমাকে একের পর এক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলাম। যারা আমাকে হয়রানি ও নির্যাতন করেছে তারা পালিয়েছে। আমরা খালাস পেয়েছি।’
হুইপ জিকে গৌছ মন্তব্য করেন, ‘এই মামলায় আমাকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে দীর্ঘদিন বন্দি থাকতে হয়। আজকের রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।’ এর আগে সকালে জামিনে থাকা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং বর্তমান সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ আদালতে হাজির হন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় স্থানীয় যুবলীগের একজন কর্মী নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও আহত হন, কিন্তু প্রাণে বেঁচে যান।
ঘটনার পর দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গউছসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার বিচারকালে ১২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় চলার পর বৃহস্পতিবার এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলার ১ লাখ ৮৬ হাজার ১৯৪ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
এটি জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে সিভিল সার্জনের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আজ জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাহ উদ্দিন।
এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাগেরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহাবুব উল আলম।
মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের দৃষ্টিশক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বাভাবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে রাতকানা, অপুষ্টি, ডায়রিয়া, রক্তস্বল্পতা ও বিভিন্ন সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। প্রত্যেক অভিভাবককে তাদের সন্তানদের নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি ভিটামিন ‘এ’-এর চাহিদা পূরণে শিশুদের নিয়মিত খাদ্য তালিকায় দুধ, মাছ, ডিম, কলিজা, মাংস, গাজর, মিষ্টি আলু, লাল শাক, পাকা আম, কাঁঠাল ও পাকা পেঁপেসহ ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার রাখার পরামর্শ দেন।
সিভিল সার্জন ডা. মাহাবুব উল আলম জানান, আগামী ২৮ জুন, রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার ৯টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভার ১ হাজার ৮৫৮টি কেন্দ্রে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার ১৯৪ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক রাশেদুল বশির খান, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শুনু, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’র বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি আজাদ রুহুল আমিন এবং সাংবাদিক মোল্লা আব্দুর রব।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রায় ৩০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নতুন হিজরি বর্ষের সূচনা ঘটেছে। মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ নতুন বছরের প্রথম মাস মুহাররম অতিক্রম করছে। তবে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে হিজরি নববর্ষ হলো কোনো উৎসব বা উদযাপনের সময় নয়; বরং এটি আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং সময়ের মূল্য উপলব্ধি করার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
ক্যালেন্ডারের পাতা পাল্টানো কেবল সংখ্যার পরিবর্তন নয়; বরং মানুষের জীবনের একটি বছর কমে যাওয়ার বাস্তবতা। নতুন বছর আমাদের মনে করে দেয়, জীবনদৃষ্টিতে আমরা পরকালের দিকে আরেক ধাপ এগিয়ে গেছি। অতএব একজন মুমিনের কাছে নতুন বছরের প্রকৃত তাৎপর্য হলো নিজের আমল, দায়িত্ব এবং জীবনযাত্রার হিসাব-নিকাশ করা।
মুহাররম হলো ইসলামের চারটি সম্মানিত মাসের একটি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি। এর মধ্যে চারটি হলো সম্মানিত মাস।" (সুরা তাওবা : ৩৬)
মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেছেন, সম্মানিত চার মাস হলো জিলকদ, জিলহজ, মুহাররম এবং রজব। এই মাসগুলোতে নেক আমলের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী মুহাররম একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। মুসলিম ঐতিহ্যে এ মাসকে কেন্দ্র করে বহু ঐতিহাসিক ঘটনার আলোচনা পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে প্রচলিত বহু বর্ণনা দুর্বল বা অপ্রমাণিত হওয়ায় মুসলমানদের উচিত নির্ভরযোগ্য সূত্রের ওপর নির্ভর করা এবং ভিত্তিহীন গল্প ও কুসংস্কার থেকে দূরে থাকা।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে মুসলিম সমাজের কিছু অংশের মধ্যে মুহাররমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার, অতিরঞ্জন ও শরিয়তবহির্ভূত আচরণের চর্চা দেখা যায়। অথচ ইসলামের শিক্ষা হলো ধর্মীয় বিষয়ে আবেগ নয়, বরং কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনাই হবে চূড়ান্ত মানদণ্ড।
মুহাররম মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণিত আমল হলো আশুরার রোজা। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ দিনের রোজার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। হাদিসে জানা গেছে, রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা মুসলমানদের জন্য আবশ্যক ছিল। পরে রমজানের রোজা ফরজ হলে আশুরার রোজা নফল হিসেবে অবশিষ্ট থাকে।
হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন এবং এর প্রতি উৎসাহিত করতেন। পরে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর এ বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরও কমে যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১২৮)
আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৬২)
হাদিসে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু ১০ মুহাররম নয়; বরং ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মুহাররম মিলিয়ে দুই দিন রোজা রাখা উত্তম। এর মাধ্যমে মুসলমানদের আমল অন্য ধর্মাবলম্বীদের আমল থেকে স্বতন্ত্র হয়।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আশুরার রোজা এবং রমজানের রোজা ছাড়া অন্য কোনো রোজার প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এত গুরুত্ব দিতে দেখিনি। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০০৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৩২)
নতুন হিজরি বর্ষ আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে, গত এক বছরে আমরা কী অর্জন করেছি? আমাদের ঈমান, আমল, চরিত্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ কতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে? একজন মুমিনের জন্য এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা নতুন বছরের সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি।
আজকের দিনে প্রয়োজন হিজরি সনের ইতিহাস ও এর গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করা। কারণ একটি জাতি যদি তার ইতিহাস ভুলে যায়, তবে তার পরিচয়ও দুর্বল হয়ে পড়ে। হিজরি সন হলো কেবল একটি তারিখ নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং আত্মপরিচয়ের একটি অপরিহার্য অংশ।
তাহলে নতুন হিজরি বর্ষকে উৎসবের ধরনের না দেখে, বরং আত্মজিজ্ঞাসা, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের উপলক্ষ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত সচেতন মুমিনের দায়িত্ব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী ২৮ জুন সারাদেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঐ দিন সারাদেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে স্থায়ী এবং অস্থায়ী কেন্দ্রে ৬-১১ মাস বয়সী সকল শিশুকে নীল রঙের ১টি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (এক লাখ আইইউ) প্রদান করা হবে। এছাড়া ১২-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ১২-৫৯ মাস বয়সী ১টি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (দুই লাখ আইইউ) খাওয়ানো হবে। এর সাথে শিশুর বয়স ছয় মাস পার হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানোর বিষয়ে পুষ্টির বার্তা প্রচার করা হবে।
ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে পালনের লক্ষ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার খুলনা সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা সিভিল সার্জন অফিসের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
আজ বেলা ১১ টায় নগরীর শেরে বাংলা রোডের নগর স্বাস্থ্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক অবহিতকরণ ও সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং রাতকানা প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে এবং এ ক্যাম্পেইনকে সফল করার আহ্বান জানান।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. মেহেদী হাসান, খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইলসাম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলামসহ প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
সম্মেলনে জানানো হয়েছে যে, মহানগরীতে মোট ১,০৮,৯৫২ জন শিশুকে ১টি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (এক লাখ আইইউ) খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী শিশু রয়েছে ১২,৩৩৭ জন এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশু রয়েছে ৯৬,৬৫৫ জন।
এবছর সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে মোট ১,৪২০ জন স্বেচ্ছাসেবক, ৫৮০টি ওয়ার্ডভিত্তিক কেন্দ্র, মোট ৭১০টি কেন্দ্র, ৮০টি মোবাইল কেন্দ্র, ৫০টি এনজিও পরিচালিত কেন্দ্র এবং ৬২ জন সুপারভাইজার আসন্ন ক্যাম্পেইনে কাজ করবেন।
অন্যদিকে খুলনা জেলার ৯টি উপজেলাতেও জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে পালনের লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার নগরীর স্কুল হেলথ ক্লিনিকের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের অ্যাডভোকেসি ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন সভাপতিত্ব করেন।
সভাপতি强调 করেছেন যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে, বিশেষ করে অভিভাবকদের শিশুদের ক্যাপসুল গ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তিনি জানান, জেলার সকল সরকারি দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
এ লক্ষ্যে সকলকে নিজ নিজ সীমার মধ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে জনগণকে সচেতন করার আহ্বান করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত চার মাসের মধ্যে অথবা তার আগের সময় যারা ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ করেছেন, তাদের এবার নতুন করে ক্যাপসুল দেওয়া হবে না। শিশুকে অবশ্যই ভরা পেটে ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।
সভায় সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম গাজী, পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের উপপরিচালক মো. আকিব উদ্দিন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়েছে, জেলার ৯টি উপজেলার এবং ২টি পৌরসভায় মোট ৩,২৩,৮৫৭ জন শিশুকে ১টি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ (দুই লাখ আইইউ) ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী শিশু সংখ্যা ৩৯,৩৮৯ এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুর সংখ্যা ২,৮৪,৪৬৮ জন। মোট ১,৭৬২টি স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ ২২ বছর পরে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলার রায় আদালত ঘোষণা করেছেন। রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ নয়জনকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। একই মামলায় সৈয়দ নাঈম আহমেদ ওরফে নিমু নামের একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার বহুল আলোচিত এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার সময় পলাতক আসামি ছাড়া অন্য সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতে হাজির হন আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জি কে গউছ কড়া নিরাপত্তায়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের পর আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, খালাসপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। রায়ের পর খালাসপ্রাপ্ত নেতারা বলেছেন, 'মামলাটি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।' একই সঙ্গে অন্যান্য আলোচিত রাজনৈতিক মামলাগুলোতেও তারা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, মামলায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছিল। এর মধ্যে অন্য মামলায় আগেই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে মারা যাওয়ায় মাওলানা শেখ আবদুস সালামসহ তিনজনকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি ১০ জনের মধ্যে নয়জনকে খালাস এবং একজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।
দণ্ডিত সৈয়দ নাঈম আহমেদ ওরফে নিমুর বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দিয়েছেন। নিমুর বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর পশ্চিমপাড়া লম্বাহাটি গ্রামে।
মামলায় খালাস পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন: মুহিব উল্লা ওরফে মফিজুর রহমান, মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল, আবদুল মাজেদ বাট, নাজিউর রহমান ওরফে নাজমুল হক নাজু এবং মাওলানা তাজ উদ্দিন। তাদের মধ্যে তাজ উদ্দিন শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশের সময় গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় স্থানীয় যুবলীগের এক কর্মী নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হামলায় আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনার পর দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গউছসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় অভিযোগপত্রে থাকা ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রায় দুই দশক ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আজ এই রায় ঘোষণা করা হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ