প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় গ্রেনেড হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে আদালত রায় প্রদান করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৯ জন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন, হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ। তার আবাস সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুরে অবস্থিত। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টার মামলার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন বোমা হামলা ও জঙ্গি হামলার মামলার আসামি।
এসব মামলায় তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে জেলে বন্দি রয়েছেন। আদালতে ১৪৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে সুরঞ্জিত সেন হত্যা মামলার দায়ও স্বীকার করেছেন তিনি।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি আবুল হোসেন এই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামলার রায়ে আজিজ নাঈম নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের খালাস দেওয়া হয়েছে।’ আসামীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন জানান, ‘মামলায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছিল। এর মধ্যে তিনজনের আগেই অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। বাকি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। শুধু আসামি হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ ওরফে নিমুর বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। পরে আদালত ৩০২ ধারায় তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন।’
মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এরপর গত ৭ এপ্রিল, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। সেই সময় তারা আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আজিজ নাঈমের ভাই সৈয়দ মারুফ আহমদ বলেন, ‘আমার ভাইকে ফাঁসানো হয়েছে। সে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। আমরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।’ রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বর থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় আসামি আজিজ নাঈম ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। তবে রায় নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন খালাস পাওয়া বিএনপির তিন নেতা।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, ‘রাজনৈতিক হয়রানির জন্য গত ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের এ মামলায় আসামি করেছে। মামলার এজাহারে আমাদের নাম ছিল না। পরে সম্পূরক চার্জশিটে নাম ঢুকানো হয়। আজকের রায়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যে সাক্ষী না দেওয়ায় আমাকে একের পর এক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলাম। যারা আমাকে হয়রানি ও নির্যাতন করেছে তারা পালিয়েছে। আমরা খালাস পেয়েছি।’
হুইপ জিকে গৌছ মন্তব্য করেন, ‘এই মামলায় আমাকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে দীর্ঘদিন বন্দি থাকতে হয়। আজকের রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।’ এর আগে সকালে জামিনে থাকা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং বর্তমান সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ আদালতে হাজির হন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় স্থানীয় যুবলীগের একজন কর্মী নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও আহত হন, কিন্তু প্রাণে বেঁচে যান।
ঘটনার পর দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গউছসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার বিচারকালে ১২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় চলার পর বৃহস্পতিবার এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন