বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৬:২৯ পি.এম
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ফর্মুলা স্টুডেন্ট এবং অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং সামিট ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছেন প্রায় ২ হাজার ৫০০-এর বেশি অতিথি ও দর্শনার্থী।
বৃহস্পতিবার (২৫জুন) এমআইএসটির প্রাঙ্গণে, যা মিরপুর সেনানিবাসস্থ মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। আয়োজকরা ছিলেন এমআইএসটির শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত স্টুডেন্ট ফর্মুলা দল এমআইএসটি ব্লিটজ এবং বাংলাদেশ ফর্মুলা স্টুডেন্ট কমিউনিটি।
ইভেন্টটি বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের ইভেন্ট হিসেবে পরিচিত, যেখানে শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী, অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি প্রফেশনাল এবং পলিসিমেকাররা একত্রিত হন। এটি বাংলাদেশের অটোমোবাইল কমিউনিটির বন্ধনকে আরো মজবুত করবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।
শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী, গবেষক, অটোমোবাইল শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নীতিনির্ধারকদের একই মঞ্চে নিয়ে আসার মাধ্যমে দেশের অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত করা এবং একাডেমিয়া ও শিল্পের মধ্যে টেকসই সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলাই এই সামিটের প্রধান লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিলেন মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান। আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এমআইএসটির মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞদের পরিচালনায় অটোমোটিভ ও ফর্মুলা স্টুডেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের অটোমোটিভ ও ওইএম খাতের উন্নয়ন সংক্রান্ত আলোচনা হয় ফর্মুলা স্টুডেন্ট কমিউনিটি, ইন্ডাস্ট্রি প্রফেশনাল ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশেষভাবে ফর্মুলা ফিউচার বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা, আইসি ইঞ্জিন মাস্টারক্লাস, কুইজ, ফর্মুলা স্টুডেন্ট কনসেপ্ট কার চ্যালেঞ্জ, ক্যাড ডিজাইন প্রতিযোগিতা এবং পোস্টার প্রেজেন্টেশন আয়োজন করা হয়।
এছাড়া দর্শনার্থীদের জন্যে ইভেন্টে আকর্ষণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল কার শো, গো-কার্ট রেসিং এবং সিমুলেটর রেসিং। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ ছিল 'কার শো', যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি ফর্মুলা স্টুডেন্ট রেসিং কারের পাশাপাশি স্বনামধন্য ব্র্যান্ড ও সংগ্রাহকদের হাই-পারফরম্যান্স গাড়ি প্রদর্শিত হয়।
মূল আয়োজনের পূর্বে ‘ট্র্যাকটক ২০২৬’ শীর্ষক একটি অনলাইন ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে দেশি-বিদেশি অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি প্রফেশনালরা ফর্মুলা স্টুডেন্ট, ফর্মুলা ওয়ান এবং হাই-পারফরম্যান্স গাড়ি উন্নয়নে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
এমআইএসটি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই ইভেন্ট বাংলাদেশে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ও ফর্মুলা স্টুডেন্ট প্রতিযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে বিপর্যয়ের মধ্যে পড়া মানুষের জন্য দ্রুত আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। এই সংস্থাটির অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) মহাপরিচালক অ্যামি পোপ জানিয়ে দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষের প্রয়োজন নিরূপণ এবং জরুরি সহায়তা সমন্বয়ে কাজ শুরু করেছে তাদের সংস্থা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় অ্যামি পোপ বলেছেন, “ভেনেজুয়েলা থেকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক খবর আসছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে, অনেকে আহত হয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত আন্তর্জাতিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।”
আইওএম জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি চাহিদা, আশ্রয়, চিকিৎসা এবং মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়নে সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
উল্লেখ্য, লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পের কারণে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৯৭১ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোর্স: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার একজন যুবককে ইতালি নেওয়ার প্রলোভনে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা দীর্ঘ ২ বছর ধরে জিম্মি রেখেছিল। অবশেষে বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘ প্রচেষ্টার মাধ্যমে তার দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার, ইন্টারপোল এবং লিবিয়া পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)-এর যৌথ উদ্যোগে ভুক্তভোগী যুবক পরিবারে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন।
ফেরত আসা যুবক নাবিদুল ইসলাম ফাহিম, যিনি বাপ্পু নামে পরিচিত, তার বয়স ২৩ বছর। তিনি নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার বাংলাপাড়া এলাকার নাছির উদ্দীন সিকদার ও রাজিয়া সুলতানা (কল্পনা) দম্পতির পুত্র।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৪ জুন) ভোরে নাবিদুল ইসলাম ফাহিম, অর্থাৎ বাপ্পু, দেশে পৌঁছান। সকাল ৬টার সময় ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পেকুয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা তাকে গ্রহণ করেন।
স্বজনরা জানান, গত ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই সংগঠিত মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে বাপ্পুকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখানো হয়। উন্নত জীবনের আশ্বাস দিয়ে প্রথমে তাকে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর এই চক্রটি তাকে জিম্মি করে এবং পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করতে থাকে। তাদের দাবির মুখে পরিবার তিন দফায় মোট ৩৬ লাখ টাকা পরিশোধ করে, কিন্তু এরপরও চক্রটি আরও অর্থ দাবি করে। এই কারণে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়। সেই দীর্ঘ সময় ধরে বাপ্পু মানবপাচারকারী চক্রের হাতে নির্যাতিত হন এবং মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়েছিলেন।
এ বিষয়ে বাপ্পুর মা বাদী হয়ে গত ২০২৫ সালে নভেম্বর মাসে মানবপাচারকারী চক্রের ১২ সদস্যের নাম উল্লেখ করে পেকুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্য এবং তদন্তের সূত্র ধরে ভিকটিমকে উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শেষে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এনসিবি (ইন্টারপোল বাংলাদেশ) বিষয়টি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লিবিয়া পুলিশের এনসিবির কাছে উপস্থাপন করে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার, ইন্টারপোল এবং লিবিয়া পুলিশের এনসিবির সমন্বিত উদ্যোগে বাপ্পুর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কূটনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তিনি নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
পেকুয়া থানার ওসি মেহেদী হাসান এই ব্যাপারটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মানবপাচার মামলাটি রুজুর পর বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার, ইন্টারপোল-বাংলাদেশ এবং লিবিয়া পুলিশ এনসিবির সমন্বিত উদ্যোগে মাত্র সাত মাসের মধ্যে ভিকটিমকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এটি মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতার একটি সফল উদাহরণ।’
ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জনারদন্দি এলাকায় সমাজসেবা ও মানবিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রবাসী জনসেবা সংগঠন-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক অফিস উদ্বোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে, সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত এক অসহায় নারীর চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল বেলায় দক্ষিণ জনারদন্দি বাজারে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী জনসেবা সংগঠন-২০২৬ বর্তমানে ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবীর সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৫০ জন প্রবাসে অবস্থান করে আর্থিক ও নানাবিধ সহযোগিতা প্রদান করছেন, এবং ১০ জন যুবক দেশে থেকে সংগঠনের বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন।
সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও মানবিক সহায়তা নিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠানে দক্ষিণ জনারদন্দি এলাকার ক্যান্সারে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সী রিনা বেগমের হাতে চিকিৎসার ব্যয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় সংগঠনের প্রবাসী সদস্যরা বলেছেন, মানবসেবাই তাদের মূল লক্ষ্য। তারা জানিয়েছেন, রিনা বেগমের চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, এলাকার অসহায় মানুষের কল্যাণে সংগঠনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা।
অনুষ্ঠানের শেষে দেশ, জাতি ও সংগঠনের সফলতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা প্রবাসী জনসেবা সংগঠনের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে মা ও দুই মেয়ের মৃত্যুর পর ঢাকায় নেয়ার পথেই মারা গেছেন মেজো মেয়ে। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতা সন্দেহভাজন ঘাতক যুবককে গণপিটুনি দেয়। এভাবে, এই নৃশংস ঘটনাটির মৃতের সংখ্যা পাঁচে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোডের ধানহাটা সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন: মা শাহীনুর বেগম (৩৫), বড় মেয়ে সায়মা (২১), মেজো মেয়ে ইকরা (১৭) এবং ছোট মেয়ে সিফা (১৩)। গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার সন্দেহভাজন অভিযুক্ত যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (২৮)। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে এবং ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা ছিলেন। নিহতদের যারা আগে থেকেই চিনতেন। পুলিশ ও স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, শাহীনুর বেগমের আদি বাড়ি কুমিল্লার হোমনা থানার লটিয়া গ্রামে। ২০১৯ সালের দিকে তার স্বামী, যিনি হাঁড়ি-পাতিল ব্যবসায়ী ছিলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে শাহীনুর তার তিন মেয়ে ও ছেলে সিফাতকে (১৬) নিয়ে ওই ভবনে ভাড়া থাকতেন। সন্দেহভাজন ঘাতক অন্তর মজুমদারও বছরখানেক আগে একই ভবনে নীলেজ বাস করেছিলেন। ঘটনায়, শাহীনুরের ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। তারা জানালার মাধ্যমে ঘরের ভেতরে সবাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তখন অন্তর মজুমদার নামে ওই যুবক পালাতে চাইলে, তার শরীরের রক্তের দাগ দেখে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়রা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় অন্তরকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। এদিকে, পুলিশ সহযোগিতায় স্থানীয়রা শাহীনুর বেগম এবং তার বড় ও ছোট মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। গুরুতর আহত মেজো মেয়ে ইকরাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তবে, ঢাকায় নেয়ার পথে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় ইকরার মৃত্যু হয়। এই নৃশংস ঘটনায় পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১৬ বছর বয়সী কিশোর সিফাত। সিফাত পাশের একটি দোকানের কর্মচারী। সে জানায়, ঘটনার সময় সে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গিয়েছিল। ঘটনার পর জেলা পুলিশ সুপার, ডিবি এবং সিআইডি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেছেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে এ হত্যাকাণ্ড কেন ঘটেছে সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ