বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৬:৩২ পি.এম
মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জনারদন্দি এলাকায় সমাজসেবা ও মানবিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রবাসী জনসেবা সংগঠন-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক অফিস উদ্বোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে, সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত এক অসহায় নারীর চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল বেলায় দক্ষিণ জনারদন্দি বাজারে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী জনসেবা সংগঠন-২০২৬ বর্তমানে ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবীর সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৫০ জন প্রবাসে অবস্থান করে আর্থিক ও নানাবিধ সহযোগিতা প্রদান করছেন, এবং ১০ জন যুবক দেশে থেকে সংগঠনের বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন।
সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও মানবিক সহায়তা নিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠানে দক্ষিণ জনারদন্দি এলাকার ক্যান্সারে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সী রিনা বেগমের হাতে চিকিৎসার ব্যয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় সংগঠনের প্রবাসী সদস্যরা বলেছেন, মানবসেবাই তাদের মূল লক্ষ্য। তারা জানিয়েছেন, রিনা বেগমের চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, এলাকার অসহায় মানুষের কল্যাণে সংগঠনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা।
অনুষ্ঠানের শেষে দেশ, জাতি ও সংগঠনের সফলতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা প্রবাসী জনসেবা সংগঠনের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে মা ও দুই মেয়ের মৃত্যুর পর ঢাকায় নেয়ার পথেই মারা গেছেন মেজো মেয়ে। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতা সন্দেহভাজন ঘাতক যুবককে গণপিটুনি দেয়। এভাবে, এই নৃশংস ঘটনাটির মৃতের সংখ্যা পাঁচে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোডের ধানহাটা সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন: মা শাহীনুর বেগম (৩৫), বড় মেয়ে সায়মা (২১), মেজো মেয়ে ইকরা (১৭) এবং ছোট মেয়ে সিফা (১৩)। গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার সন্দেহভাজন অভিযুক্ত যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (২৮)। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে এবং ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা ছিলেন। নিহতদের যারা আগে থেকেই চিনতেন। পুলিশ ও স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, শাহীনুর বেগমের আদি বাড়ি কুমিল্লার হোমনা থানার লটিয়া গ্রামে। ২০১৯ সালের দিকে তার স্বামী, যিনি হাঁড়ি-পাতিল ব্যবসায়ী ছিলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে শাহীনুর তার তিন মেয়ে ও ছেলে সিফাতকে (১৬) নিয়ে ওই ভবনে ভাড়া থাকতেন। সন্দেহভাজন ঘাতক অন্তর মজুমদারও বছরখানেক আগে একই ভবনে নীলেজ বাস করেছিলেন। ঘটনায়, শাহীনুরের ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। তারা জানালার মাধ্যমে ঘরের ভেতরে সবাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তখন অন্তর মজুমদার নামে ওই যুবক পালাতে চাইলে, তার শরীরের রক্তের দাগ দেখে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়রা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় অন্তরকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। এদিকে, পুলিশ সহযোগিতায় স্থানীয়রা শাহীনুর বেগম এবং তার বড় ও ছোট মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। গুরুতর আহত মেজো মেয়ে ইকরাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তবে, ঢাকায় নেয়ার পথে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় ইকরার মৃত্যু হয়। এই নৃশংস ঘটনায় পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১৬ বছর বয়সী কিশোর সিফাত। সিফাত পাশের একটি দোকানের কর্মচারী। সে জানায়, ঘটনার সময় সে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গিয়েছিল। ঘটনার পর জেলা পুলিশ সুপার, ডিবি এবং সিআইডি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেছেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে এ হত্যাকাণ্ড কেন ঘটেছে সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হলো ‘বাংলাদেশ ফর্মুলা স্টুডেন্ট অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং সামিট ২০২৬’। আজ বৃহস্পতিবার মিরপুর সেনানিবাসস্থ মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
এমআইএসটির শিক্ষার্থীভিত্তিক ফর্মুলা স্টুডেন্ট দল ‘এমআইএসটি ব্লিটজ’ এবং বাংলাদেশ ফর্মুলা স্টুডেন্ট কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।
এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের এ ধরনের ইভেন্ট, যেখানে শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী, অটোমোবাইল শিল্পের পেশাজীবী এবং নীতিনির্ধারকেরা একসঙ্গে অংশ নেন। আয়োজকরা আশা করেন, এই আয়োজন দেশের অটোমোবাইল কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংযোগ আরও শক্তিশালী করবে।
শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী, গবেষক, শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং নীতিনির্ধারকদের একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে দেশের অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং একাডেমিয়া ও শিল্পের মধ্যে টেকসই সহযোগিতা গড়ে তোলাই সামিটের মূল উদ্দেশ্য। আয়োজনে প্রায় ২,৫০০-এর বেশি অতিথি ও দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান। অনুষ্ঠানটির আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞদের পরিচালনায় অটোমোটিভ ও ফর্মুলা স্টুডেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর টেকনিক্যাল সেশন এবং দেশের অটোমোটিভ ও ওইএম (OEM) খাতের উন্নয়ন সংক্রান্ত ফর্মুলা স্টুডেন্ট কমিউনিটি, ইন্ডাস্ট্রী প্রফেশনাল ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশেষভাবে ফর্মুলা ফিউচার বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা, আইসি ইঞ্জিন মাস্টারক্লাস ও কুইজ, ফর্মুলা স্টুডেন্ট কনসেপ্ট কার চ্যালেঞ্জ, ক্যাড ডিজাইন প্রতিযোগিতা এবং পোস্টার প্রেজেন্টেশন আয়োজন করা হয়।
এছাড়া দর্শনার্থীদের জন্যে ইভেন্টে আকর্ষণ হিসেবে ছিল কার শো, গো-কার্ট রেসিং, সিমুলেটর রেসিং। এর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ ছিল 'কার শো', যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি ফর্মুলা স্টুডেন্ট রেসিং কারের পাশাপাশি স্বনামধন্য ব্র্যান্ড ও সংগ্রাহকদের হাই-পারফরম্যান্স গাড়ি প্রদর্শিত হবে।
মূল আয়োজনের পূর্বে 'ট্র্যাকটক ২০২৬' শীর্ষক একটি অনলাইন ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফর্মুলা স্টুডেন্ট, ফর্মুলা ওয়ান ও হাই-পারফরম্যান্স গাড়ি উন্নয়নে অভিজ্ঞ দেশি-বিদেশি অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রী প্রফেশনালরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
এমআইএসটি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই ইভেন্ট বাংলাদেশের অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এবং বাংলাদেশে ফর্মুলা স্টুডেন্ট প্রতিযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের মাস্টারবাড়ী এলাকায় অবস্থিত এসকিউ কারখানার ঝুট (ওয়েস্টেজ) ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে কয়েকশত লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় মিছিল ও মহড়া দেন। এই সময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়। এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এসকিউ কারখানার ঝুট সংগ্রহ ও বিক্রির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের ফলস্বরূপ সাম্প্রতিক উত্তেজনার উৎপত্তি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের কারণে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এর আগে একই বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম বাসান উল্লেখ করেছেন, "আওয়ামী লীগের কিছু লোক ও মামলার আসামিরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছিল। তাদের প্রতিহত করতেই মিছিল বের করা হয়।" অন্যদিকে, এসকিউ কারখানার ঝুট ব্যবসার কার্যাদেশ দাবিদার উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোহাম্মদ মুর্শেদ আলম দাবি করেছেন, "আমি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ওই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একটি পক্ষ তাঁর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।" তিনি জানান, বৃহস্পতিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কারখানা থেকে ঝুট বের করতে পারেননি।
এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, "মাস্টারবাড়ি এলাকায় গোলযোগের কোনো ঘটনার বিষয়ে আমার কাছে তথ্য নেই।" উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন জানিয়েছেন, ঝুট ব্যবসা নিয়ে এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ হয়েছিল। তিনি বলেন, "কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে মালামাল বের না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নেই।" স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু জানিয়েছেন, "ফ্যাসিবাদপন্থী লোকজন একত্রিত হওয়ার খবর পেয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করেছেন। তবে এই ঘটনায় কারখানার ব্যবসা-সংক্রান্ত কোনো বিষয় সম্পর্কে আমার জানা নেই।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে দেওয়ার পর টানা দুই জয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল ইতোমধ্যে পরবর্তী স্তরে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী রোববার ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায়, এই ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য অনেকটা নিয়মরক্ষার লড়াই হয়ে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে, প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি সম্ভাব্যতার দিকে নজর রেখে তার মূল স্টার খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়ে বেঞ্চের শক্তিকে যাচাই করতে পারেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার সাত ফুটবলারের বিশ্বকাপ অভিষেক ঘটানোর সুযোগ রয়েছে।
গোলরক্ষক পজিশনে পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যদি নিয়মিত গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে বিশ্রাম দেওয়া হয়, তাহলে তার পরিবর্তে জেরোনিমো রুল্লি অথবা হুয়ান মুসোর সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বকাপজয়ী দলের একজন সদস্য হলেও, রুল্লি পুরো টুর্নামেন্টটাই বেঞ্চে কাটিয়েছিলেন। অপরদিকে, মুসোর জন্য এটি হবে বিশ্বকাপে তার প্রথম অভিজ্ঞতা।
রক্ষণভাগেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসার আশা করা হচ্ছে। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো চোটের কারণে জর্ডানের বিপক্ষে অংশ নিতে পারবেন না। অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গে সেন্টার-ব্যাকে দেখা যেতে পারে মার্কোস সেনেসিকে। এটি হতে পারে সেনেসির বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ।
মিডফিল্ডে জিওভান্নি লো সেলসো এবং ভ্যালেন্তিন বার্কোর দিকে তাকানো হচ্ছে। স্কালোনির আস্থাভাজন লো সেলসো চোটের কারণে কাতার বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেননি। রাশিয়া বিশ্বকাপের দলে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ তার হয়নি। ফলে, এখনও তার বিশ্বকাপ অভিষেক হয়নি।
অন্যদিকে, তরুণ মিডফিল্ডার বার্কো ক্লাব ফুটবলে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন এবং জাতীয় দলের হয়ে সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে তার খেলা নজর কেড়েছে। জর্ডানের বিরুদ্ধে মাঠে নামার সম্ভাবনা তার কাছে যথেষ্ট প্রবল বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছে দুই আক্রমণভাগের ফুটবলার জুলিয়ানো সিমিওনে এবং হোসে মানুয়েল লোপেস। তবে আক্রমণভাগে জুলিয়ান আলভারেজের উপস্থিতির কারণে সিমিওনের জন্য সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
উল্লেখ্য, কাতার বিশ্বকাপেও স্কালোনি অতীতের মতো একই পরিস্থিতিতে কয়েকজন নতুন মুখকে সুযোগ দিয়েছিলেন। পোল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচে হুয়ান ফয়েথ এবং থিয়াগো আলমাদাকে বিশ্বকাপে অভিষেক করার সুযোগ দিয়েছিলেন। এবার জর্ডানের বিরুদ্ধে সেরকম কৌশল অনুসরণ করে বেঞ্চের খেলোয়াড়দের পরীক্ষা করতে পারেন আর্জেন্টাইন কোচ।
আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ হলো: রুল্লি/মার্টিনেজ), গঞ্জালো মন্তিয়েল, ওতামেন্দি, সেনেসি, নিকোলাস তালিয়াফিকো, এক্সেকিয়েল পালাসিওস, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, ভ্যালেন্তিন বার্কো, লিওনেল মেসি/নিকোলাস পাস, জুলিয়ান আলভারেজ এবং নিকোলাস গঞ্জালেস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ